This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label Sex-Philosophy. Show all posts
Showing posts with label Sex-Philosophy. Show all posts

Sunday, July 24, 2011

সেক্স এর সাতকাহন

সেক্স সম্পর্কে নানা মুনির নানা মত। এর কিছু ঠিক কিছু নয়। অনেকের ধারণা, পুরুষরা কেবল যৌনমিলনে উৎসাহী। কিন্তু একজন পুরুষের সেক্স সম্পর্কে আগ্রহ বয়স বা জীবন ধারার পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হয়। পুরুষদেরও হৃদয়ে গভীর অনুভূতি, আবেগ ও ঘনিষ্ঠতার আকাঙ্ক্ষা বিদ্যমান। নারীরাও এর ব্যতিক্রম নয়। তারা যৌন শিহরণ কামনা করেন। একই সঙ্গে চায়-
  • ভালোবাসা
  • আদর-সোহাগ
  • ঘনিষ্ঠতা
  • আন্তরিকতা
নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই চায় নিজের আগের অনুভূতি আর ভাবনার কথা একে অন্যকে জানাতে। এটা অবশ্য ইতিবাচক একটা দিক। কোনো সময় নারী-পুরুষ একটু বাড়াবাড়িও করে ফেলেন। তারা হয়তো সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে প্রভাবিত করতে চান বেশি মাত্রায়। আবার কোনো সময় তারা আবেগ-অনুভূতিবোধ গুলিয়ে ফেলেন। জীবনের প্রথম যৌনমিলন খুব রোমাঞ্চকর-শিহরণদায়ক যেমন হতে পারে আবার ঠিক তেমনি তার উল্টোটাও হতে পারে। অনেক নবদম্পতি বুঝতে পারেন না যে, তারা আসলে এখনো যৌনমিলনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়, হতে পারে যে এটা যৌনমিলনের সঠিক সময় না বা সঠিক পরিবেশ নয়। তারা এখনো একে অন্যকে ভালোভাবে জানেননি কিংবা তারা গর্ভসঞ্চারের ভয় এড়াতে চান। তারা আসলে সেক্স নিয়ে এক রকমের দ্বিধায় ভোগেন। যৌনমিলনের বিকল্পস্বরূপ বা এর সাথে গভীর চুম্বন যা কিনা ঠোঁটের সীমানা ছাড়িয়ে জিহ্বাকে সপর্শ করে শিহরণকে বাড়িয়ে তোলে রোমাঞ্চিত করে। গভীর নিবিষ্টতায় একে অপরকে জড়িয়ে ধরা বা মৃদুভাবে একে অপরের গোপনাঙ্গ সপর্শ করে উদ্দীপিত করে শিহরিত সুখের অপরূপ অনুভূতি লাভ করা যায়। এ ধরনের যৌন আচরণকে বলা হয় আউটারকোর্স বা মিলনবহির্ভূত যৌনক্রিয়া।
পুরুষের যৌনাঙ্গের সবচেয়ে সপষ্ট অংশ হচ্ছে লিঙ্গ। একজন লম্বা বা দীর্ঘাঙ্গী ও মাংসল পুরুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের সাথে লিঙ্গের আকার বা সাইজ মিলতে হবে এমন কোনো কথা নেই। পুরুষাঙ্গ যখন শিথিল ও নরম বা শান্ত থাকে তখন তার সাইজ ক্ষুদ্র থাকে কিন্তু যখন তা উত্তেজিত হয় বা অশান্ত হয়ে পড়ে তখন তার সাইজ ও দৈর্ঘ্য অনেক বৃদ্ধি পায়। তখন নারীদের কাছে তা পছন্দনীয় ও আদরণীয় হয়ে ওঠে। যে কোনো সাইজের পুরুষাঙ্গ দিয়ে স্বাভাবিক যৌনমিলন সম্ভব। তাই লিঙ্গের সাইজ নিয়ে অযথা চিন্তা-ভাবনা করা উচিত নয়। এতে লাভ তো কিছুই হবে না বরং মনোযাতনার সৃষ্টি হবে। পুরুষাঙ্গের সাইজ যাই হোক না কেন মনে রাখার মতো কথা হলো- সবারই প্রায় সমান পরিমাণে বীর্য বা শুক্রকীট থাকে। লিঙ্গের নিচেই থাকে শুক্রাশয়। এই শুক্রাশয় দুটি থাকে ঝোলামতো একটি জিনিসের মধ্যে যার নাম স্ক্রুটাম বা অণ্ডথলি। এর একটা ছোট আর আরেকটা বড় থাকে। কিশোর-পুরুষের বয়ঃসকিালে মনোশারীরিক নানা পরিবর্তন ঘটে।
বালকের শারীরিক পরিবর্তন শুরু হয় ১২ বছরের দিকে এবং তা ২০ বছর বয়স পর্যন্ত চলতে পারে। আবার কারো বয়ঃসকিাল একটু আগে বা একটু পরে শুরু হয়। মনোশারীরিক যে আমূল পরিবর্তন আসে তার মূল কারণ হচ্ছে পুরুষালি হরমোন, যাকে বলা হয় টেস্টোস্টেরন। এ হরমোন শুক্রাশয়ের ভেতরে তৈরি হয়। টেস্টোস্টেরন হরমোনের পরিমাণ যত বাড়ে অণ্ডথলির বর্ণ তত গাঢ় হয়। শুক্রাশয়ে শুক্রাণু উৎপন্ন হতে শুরু করে এবং এটা পরবর্তী পুরো জীবনব্যাপী ঘটতে থাকে। শুক্রকীট বা শুক্রাণু মূলত অবস্থান করে বীর্যে যা কি না এক ধরনের তরল জাতীয় রস। অনেক সময় নিদ্রাকালীন অবস্থায় পুরুষাঙ্গ উত্তেজিত হয়ে যায় এবং তা থেকে বীর্য বেরিয়ে আসে। এটাকে বলা হয় ওয়েট ড্রিম। এটা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় ব্যাপার। মাঝে মাঝে লিঙ্গের উত্থান হঠাৎ করে অপ্রত্যাশিত সময়ে হতে পারে। এটা একটা অস্বস্তিকর ব্যাপার হলেও স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় ব্যাপার।

জীবনের কোনো না কোনো সময় পুরুষের সেক্স নিয়ে নানা দুশ্চিন্তা দেখা দেয়। তারা চিন্তা করে সবসময় কেন উত্থানের ব্যাপারটা একইভাবে হয় না? কামরস কেন এত তাড়াতাড়ি বেরিয়ে আসে? পুরুষের যৌন আচরণ আর যৌন ইচ্ছার সুনির্দিষ্ট কোনো সীমা নেই। একেক জন একেক আসন, ভিন্ন ভিন্ন টেকনিক পছন্দ করে, কেউ হয়তো কোনো টেকনিকই পছন্দ করে না। যৌন জীবনের কোনো এক পর্যায়ে মনে হতে পারে উত্থিত লিঙ্গকে যৌন সুখ না পাওয়া পর্যন্ত কেন ধরে রাখা যাচ্ছে না। এর আসলে অনেক কারণ থাকতে পারে। যেমন- অসুস্থতা, ক্লান্তি, অবসন্নতা, বিষণ্নতা, মনোশারীরিক চাপ বা সঙ্গীকর্তৃক মনঃকষ্ট পাওয়া, মদ আসক্তি, নেশা এগুলোর ফলেও এমনটি হতে পারে। যৌন অসন্তোষ বা অতৃপ্তি এসব সমস্যাকে আরো বাড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে প্রচলিত যৌনাশঙ্কা হলো দ্রুত বীর্যস্খলন। এটা এক প্রকারের অর্জিত বা শিক্ষণীয় যৌন আচরণের সাহায্যে ঠিক করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে পুরুষটিকে জানতে হবে ও শিখতে হবে কীভাবে বীর্যস্খলনের সময়কে বাড়ানো যায় এবং যৌন অনুভূতি বা শিহরণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
নারীর যৌনাঙ্গ দেখতে পাওয়ার সুযোগ যেহেতু কম তাই অনেকেই এসব গঠন সম্পর্কে ঠিকমতো জানেন না। আবার অনেক মেয়েকেই কেউ হয়তো শিখিয়েছে যে এ জিনিসগুলো বিশ্রী, কাজেই এ সম্পর্কে কাউকে কিছু বলতে নেই বা জিজ্ঞাসা করতে নেই, কিন্তু এ জিনিসগুলো আসলেই কি বিশ্রী বা লজ্জার কিছু? শরীরের অন্যান্য অঙ্গগুলোর মতোই এগুলো কিভাবে কাজ করে তা জানা অবশ্যই দরকার- তবে এ জানা হওয়া দরকার বিজ্ঞানসমমতভাবে। নারীর যৌন অঞ্চলটিকে বলা হয় বহিঃজননদ্বার। এখানে দুই জোড়া ঠোঁটের মতো জিনিস দেখতে পাওয়া যাবে, যার নাম ল্যাবিয়া। যৌবনের সূচনায় বা বয়ঃসকিালে বাইরের ল্যাবিয়া ঘিরে চুল গজাতে শুরু করে। আর ভেতরের ল্যাবিয়া দুটোর আকার এবং রঙ বা বর্ণ একটু তারতম্য দেখা দিতে পারে। যেমন একদিকের ল্যাবিয়া আরেকদিকের চেয়ে একটু বড়। এই ঠোঁটের মতো দেখতে ল্যাবিয়ার ভেতরে থাকে ভগাঙ্কুর বা ক্লাইটোরিস। ভেতরের ল্যাবিয়া সামনের দিকে যেখানে মিলিত হয়েছে সেখানেই ভগাঙ্কুরের প্রকৃত অবস্থান। একজন পূর্ণবয়স্ক নারীর ক্লাইটোরিসের আকার হতে পারে পুরুষের লিঙ্গের পেছনের যে রাবারের মতো থাকে প্রায় তার সমান। কিছু কিছু নারীর ভগাঙ্গুর চামড়া দিয়ে ঢাকা থাকে।
ক্লাইটোরিস অত্যন্ত সপর্শকাতর, সংবেদনশীল আর যৌন আনন্দদায়ক। কিছু কিছু নারী এটাকে সপর্শ করাকে দারুণ পছন্দ করে। উপভোগ করে। তবে কিছু কিছু নারীর কাছে আবার ক্লাইটোরিসের সাথে সরাসরি ঘর্ষণ অসহ্য হতে পারে। তারা বরং ক্লাইটোরিসের চারদিকের অঞ্চলেই সপর্শ সুখ পেয়ে থাকে। নারীর যোনির ভেতরের দিকে একটি পাতলা পর্দা বিদ্যমান যা থেকে কোষ তৈরি হয়, তাকে বলে হাইমেন। টেম্পুন ব্যবহারে এবং প্রথমবার যৌনমিলনের সময় হাইমেন ছিঁড়ে যেতে পারে। কতক নারীর জন্য এটা খুব অস্বস্তিকর ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এতে কিছু রক্তপাতও হতে পারে। বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েরা অন্তর্বাসে তরল পদার্থ বা মিউকাস লক্ষ করে থাকে। এটা সম্পূর্ণ সুস্থ শারীরবৃত্তীয় ব্যাপার। এটা হলুদ বা দুধের মতো সাদা। অনেক নারী যৌনতা নিয়ে এক ধরনের চিন্তা বা অস্বাচ্ছন্দ্যতায় ভোগেন। তারা স্বাভাবিক শরীরের অধিকারী হলেও যৌনাঙ্গ নিয়ে অনেক বেশি অস্থির থাকেন। অবশ্য নারীরা চরমপুলক বা যৌন শিহরণমূলক অনুভূতি অথবা অন্যদের মতো যৌনতা তারা কেন করতে পারেন না এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন। হঠাৎ করে কোনো যৌন সঙ্গম একটু ব্যথাদায়ক হলে তাদের ভয়ের সীমা থাকে না। আসলে এ অবস্থাটা সব সময় থাকে না। এক সময় এ ধরনের কষ্টদায়ক অনুভূতি দূর হয়ে যায়। যৌন সঙ্গমের সময় নারী ঠিক যেভাবে বা যেরকম সপর্শ তার ভগাঙ্কুরে কামনা করে সে রকম হয় না। তাই সঙ্গমের সময় এমন একটা পথ বা আসন বেছে নিতে হবে যাতে কি না ক্লাইটোরিসের সাথে মৃদু বা মাঝারি ধরনের ঘর্ষণ নিশ্চিত হয়।
আরিফ মাহমুদ সাহাবুল
http://www.sunagro.info

Thursday, July 21, 2011

সেক্স এডুকেশনঃ১৫টি প্রশ্নোত্তর


মা, রুমির বোন হয়েছে। রুমি বলল বোনটাকে ওরা চাঁদমামার কাছ থেকে এনেছে। আমাকেও ওখান থেকে একটা বোন এনে দাও না মা!।
রুমির মা যেমন করে বাচ্চা হওয়ার কথা ব্যখ্যা করেছেন, আমাদের দেশে বেশিরভাগ অভিভাবকই বাচ্চাদের বোঝানোর সময় একইভাবে বলেন। কিন্তু বহু আধুনিক মা-বাবা আবার এটা করতে রাজি হন না। তারা সত্যি কথাটা বলতে চান, তবে বাচ্চা বুঝতে পারবে এমন করে। এরকমই হওয়া উচিত। যে দেশ ২০১০-এর শেষে বিশ্বের সব থেকে বেশি এইডস রোগগ্রস্ত মানুষের বাসস্থান হবে, সেই দেশের শিশুদের এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল না করলে বিপদ যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা সহজে অনুমান করা সম্ভব নয়।
অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, অনেক বাবা-মা বাচ্চাদের সঙ্গে অনেক কথাই আলোচনা করতে চান, কিন্তু বুঝে উঠতে পারেন না কোত্থেকে শুরু করবেন, কীভাবেই বা আলোচনা করবেন! সে ক্ষেত্রে আমরা চেষ্টা করেছি বাচ্চাদের কয়েকটি সাধারণ জিজ্ঞাস্যের (যা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে যে কোনো জায়গার বাচ্চারাই করে) কীভাবে অভিভাবকরা তাদের মতো করে সদুত্তর জোগাবেন।
শরীর নিয়ে বাচ্চাদের কৌতূহল চিরকালীন। প্রতিনিয়ত তারা আবিষকার করতে থাকে চোখ, নাক, দাঁত, হাত... গোপনাঙ্গ। একটি ছেলে শিশু যখন প্রথম একটি নগ্ন মেয়েকে দেখে, প্রথমেই তার মনে প্রশ্ন জাগে ‘সুসু করে কী করে?’ মেয়েশিশু একই রকমভাবে ‘আব্বা, ছেলেটা সামনে দিয়ে পটি করে!’ আমরা বেশিরভাগ বাবা-মা-ই সাধারণত এসব বিস্ময়ের সমাধান করি না। কিন্তু সেটা অনুচিত।
  • বিব্রত না হয়ে উত্তর দিতে শুরু করুন। মনে কৌতূহল জাগলে বাচ্চারা যেমন করে হোক মেটাতে চেষ্টা করে। সে ক্ষেত্রে ভুল তথ্য পেলে সাংঘাতিক বিপদ হতে পারে। তাই যার-তার কাছ থেকে ভুলভাল তথ্য থেকে বাঁচাতে নিজেই বাচ্চার সঙ্গে খোলামেলা কথা বলতে শুরু করুন।
  • কখনো ‘এই বিষয়গুলো নিষিদ্ধ, আরোচনা করার যোগ্য নয়’ বলে ধামাচাপা দেবেন না।
  • কখনো কোনো প্রশ্ন শুনে বিরক্ত হয়ে মারধর বা বকাবকি করবেন না। শান্ত মনে শুনে মজা করে উত্তর দিন।
  • যতটা সম্ভব বোঝান, তবে তা বাচ্চার বয়স বুঝে। আপনার বাচ্চা কতটা নিতে পারবে তা আপনিই সব থেকে ভালো বুঝবেন।
  • বাচ্চাদের সঙ্গে আলোচনার সময় আগে জেনে নিতে হবে সে কতটা জানে। অর্থাৎ আপনি প্রসঙ্গ তুলে কৌশলে তাকে আবার প্রশ্ন করে জেনে নেবেন যে সেই তথ্যের কতটুকু কী জানে (তা সে যত অকিঞ্চিৎকর প্রসঙ্গই হোক না কেন), আর ঠিক জানে কি না। কথার খেই ধরে বাকিটা জানিয়ে দিন কিংবা ভুল জানলে শুধরে দিন।
  • যতটা সম্ভব নিজের ও পরিবারের আর পাঁচজনের কথা টেনে উদাহরণ দিলে ওদের পক্ষে বোঝা আরো সোজা হয়ে যায় এবং সংকোচও কাটিয়ে উঠতে পারে।
যে পনেরোটি প্রশ্ন আপনাকে বিব্রত করে-
(১) রনির বোন হয়েছে, কিন্তু ওর সুসু করার জায়গা নেই মা!
মাঃ হ্যাঁ সোনা আছে, আছে। কিন্তু সেটা তোমার আর রনির মতো নয়। তোমরা ছেলে- ছেলেদের সুসুর জায়গাটা বাইরে থেকে দেখা যায়। তাই না?
ছেলেঃ হ্যাঁ মা, আমরা তো ধরতেও পারি।
মাঃ ঠিক তাই। কিন্তু রনির বোনের, রনির মায়ের, আমার-সব মেয়েদের এই জায়গাটা শরীরের মধ্যে থাকে, তাই দেখা যায় না।
(২) তুমি যে বললে ঠোঁটে কিসি করতে নেই, সপাইডারম্যান যে মেয়েটাকে ঠোঁটে কিসি করল?
বাবাঃ তুমি তো জানো হাত না ধুয়ে খেতে নেই। কেন বলো তো?
মেয়েঃ হাতে ময়লা থাকলে তা পেটে গেলে অসুখ করে।
বাবাঃ রাইট। কিসি করার সময়েও অন্যের মুখে থাকা কোনো ময়লা বা জার্ম তোমার পেটে চলে গেলে তোমার অসুখ করতে পারে। সপাইডারম্যান তো তার পাওয়ার দিয়ে সব কিছু জানতে পারে তাই ও জানত যে ওই মেয়েটার কোনো প্রবলেম নেই, সেই জন্যই ওর বন্ধুকে কিসি করেছিল। কিন্তু আমরা তো সপাইডারম্যানের মতো ম্যাজিক জানি না, তাই বুঝতে পারব না কোথায় জার্ম আছে। তাই আমরা গালেই কিসি করব। এই যেমন আমি তোমাকে কিসি দিই...।
মেয়েঃ যেমন আমিও তোমায় কিসি দিই, মাকে, মাসিমণিকে...
(বাচ্চার বয়স যদি এগারো-বারো হয় তাহলে বড় হয়ে ঠোঁটে চুমু খাওয়াটা যে অপরাধ নয় তা বুঝিয়ে বলতে পারেন। কেবল মুখের কথায় নয়, আচরণের মধ্য দিয়ে কিছু বক্তব্য বুঝিয়ে দেয়া দরকার। কখনো আপনারা স্বামী-স্ত্রী খুব স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে পরসপরকে সপর্শ করে, ঘনিষ্ঠ হয়ে শারীরিক সম্পর্কটা যে খুবই স্বাভাবিক, সিনেমা বা টেলিভিশনে আবদ্ধ নয়, সেটা বুঝিয়ে দিন।)
(৩) বাবা, এফএম-এ বলল কনডম ব্যবহার করুন! ওটা কী বাবা?
বাবাঃ কনডম এক ধরনের ওষুধ যা ছেলেরা বড় হলে ব্যবহার করতে হয়। ছোটদের কোনো কাজেই লাগে না। তাও জেনে রাখ-তুমি যখন বড় হবে, তোমার যখন ফ্যামিলি হবে...
ছেলেঃ ফ্যামিলি কেন হবে?
বাবাঃ সবারই হয়। ঠিক যেমন বড় একটা গাছের থেকে নতুন ডাল হয়, তাতে পাতা-ফল-ফুল সবই থাকে। তেমনই তুমি বড় হলেও তোমার আলাদা ফ্যামিলি হবে। আর এই ফ্যামিলি হলেই তোমার কাজে লাগবে কনডম। যখন বেবি চাইবে না তখনই কনডম ব্যবহার করতে হবে। তবে কনডম তোমাকে অনেক অসুখ থেকেও বাঁচাবে।
ছেলেঃ অসুখ থেকে বাঁচাবে মানে কী? অসুখ হলে তো ওষুধ লাগে।
বাবাঃ অসুখ হলে ওষুধ লাগে ঠিকই। তবে আবার চেষ্টা করলে অসুখ হওয়ার আগেই অনেক অসুখের হাত থেকে বাঁচা যায়। যেমন আমি আর তোমার মা মর্নিং ওয়াকে যাই, ব্লাড প্রেশার আর হার্টের অসুখ যেন না ধরে তার জন্য।
(বড় বাচ্চারা আরো গভীর প্রশ্ন করলে কনডমের ব্যবহার ও সুবিধাটা ধীরে ধীরে ব্যাখ্যা করতে পারেন।)
(৪) তোমার পেটে আমি কেন হলাম? বাবার পেটে হলাম না কেন মা?
মাঃ বেবি মায়ের পেটেই হয়। বেবি যে ঘরে হয় সেটা মায়ের পেটেই আছে। বাবার পেটে তেমন ঘর নেই...
মেয়েঃ কেন নেই মা?
মাঃ সব কিছুরই একটা নিয়ম আছে। যেমন বাবার দাড়ি আছে আমার নেই, আবার আমার এতটা লম্বা চুল আছে, বাবার নেই...।
(৫) বেবি কী করে হয় মা?
মাঃ মা আর বাবা দুজনে মিলে বেবি চাইলে তবেই বেবি হয়। মায়ের পেটে ছোট একটা ডিম থাকে...
ছেলেঃ আমরা যে ডিম খাই, সেই ডিম?
মাঃ সেই রকমই, তবে তা চোখে দেখা যায় না। আর বাবার পেটে থাকে ছোট ছোট সুতার মতো...।
ছেলেঃ ওগুলো দেখা যায়?
মাঃ না বাবা, ওগুলোও চোখে দেখা যায় না। মা আর বাবা বেবি চাইলে তবেই বাবার কাছ থেকে ওগুলো মায়ের পেটে ওই ঘরে যায় আর বেবি তৈরি হতে থাকে।
(৬) ভাইয়ের মতো তুমিও কেন ডায়াপার পরো মা?
মাঃ ভাই ডায়াপার কেন পরে বলো তো?
ছেলেঃ সুসু করে ফেললে জামা-কাপড় ভিজে যাবে না বলে।
মাঃ ঠিক তাই, সুসু করে ফেলে। ও খুব ছোট বলতে পারে না তাই। আমি তো তাই নই-আমি যেটা পরি সেটা ডায়াপার নয়, ওরকমই আর এক ধরনের ন্যাপকিন। মেয়েরা বড় হলে তাদের শরীর থেকে কিছু রক্ত বেরিয়ে যায়...
ছেলেঃ কী করে বেরোয়? কেটে যায়?
মাঃ না, সুসুর মতোই বেরোয়। সেই জন্যই ন্যাপকিন পরতে হয়।
ছেলেঃ রোজ রক্ত বেরোয় মা?
মাঃ না বাবা, তা হলে মরে যাব। প্রতি মাসে একবার, চার-পাঁচদিনের জন্য এটা হয়।
(আপনার যদি মেয়ে সন্তান থাকে তা হলে আট-নয় বছর বয়স হলে এই ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলা উচিত। কারণ অচিরেই তারা এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাবে। ছোট ছেলেদেরও ব্যাপারটার স্বাভাবিকত্ব ব্যাখ্যা করা দরকার।)
(৭) ভাইয়া তোমার থেকে দুধু খায় কেন? বাবার থেকে খায় না কেন?
উত্তরঃ ভাইয়া যখন পেটে বড় হচ্ছিল তখনই বেবিকে খাওয়ানোর জন্য দুধু তৈরি হওয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল। বেবি পেট থেকে বেরোনোর পর দুধুধু বেরোতে শুরু করে। ভাইয়া তো বাবার পেটে ছিল না, তাই ওখানে দুধু তৈরিও হয়নি। (বাচ্চা যদি প্রশ্ন করে বেবি কেন বাবার পেটে হয় না তা হলে চার নং প্রশ্নের উত্তরটা দিতে পারেন।)
(৮)  ‘সেক্স অ্যান্ড দ্য সিটি’র-সিটি মানে জানি মা, সেক্স মানে কী?
মাঃ আমি যখন কলেজে পড়ি তখন তোমার বাবার সঙ্গে আমার একটা বিয়ে বাড়িতে দেখা হয়। খুব ভালো লেগেছিল। বাবাও তখন বলেছিল ও আমাকে খুব ভালোবাসে।
মেয়েঃ আমি কোথায় ছিলাম?
মাঃ তুমি তখনো জন্মাওনি সোনা।
মেয়েঃ কেন?
মাঃ আমাদের তো তখনো বিয়ে হয়নি।
মেয়েঃ বিয়ে হলেই বেবি হয়?
মাঃ বাবা-মা চাইলেই বেবি হয়।
মেয়েঃ সেক্স মানেটা তাড়াতাড়ি বল।
মাঃ সেটাই তো বলছি। আমরা যখন দুজন-দুজনকে খুব ভালোবাসলাম তখন বাবা আমাকে কত আদর করল, আমি বাবাকে কিসি করলাম...
মেয়েঃ সে তো এখনো করো।
মাঃ করিই তো, এখনো যে ভালোবাসি! আর ভালোবেসে বাবা-মা নিজেদের আদর করে, কিসি করে একসঙ্গে থাকলে, বেবি চাইলে সেটাকে সেক্স বলে।
(আপনি কীভাবে এটা বোঝাবেন তা আপনার সন্তানের বয়সের ওপর নির্ভর করে। দশ-এগারো বছরের বেশি হলে ওকে সন্তান হওয়ার ব্যাপারটাও বুঝিয়ে বলতে পারেন।)

(৯) হিজড়ারা ছেলে না মেয়ে?
বাবাঃ কোনোটাই নয়। আসলে আমি বা তুমি যেমন ছেলে, মা বা বোনু যেমন মেয়ে তেমনভাবে ওরা ছেলে বা মেয়ে নয়। আসলে আমরা তো সুসু জায়গা দেখেই বুঝি যে বেবিটা ছেলে না মেয়ে, হিজড়াদের ক্ষেত্রে অনেক সময় সেটা বোঝা যায় না। মায়ের পেটে থাকার সময়েই কোনো সমস্যা হলে এই রকমের গণ্ডগোল দেখা দেয়। তাই বড় হওয়ার পরও ওরা কখনো ছেলেদের মতো কিছু কাজ করে, কখনোবা মেয়ে-মেয়ে হয়ে থাকে।
(১০) এইডস কী অসুখ বাবা?
বাবাঃ এইডস খুব খারাপ একটা অসুখ।
ছেলেঃ খুব রক্ত পড়ে?
বাবাঃ না শরীরের মধ্যে হয়, প্রথমদিকে তেমন বোঝাও যায় না।
ছেলেঃ তা হলে খারাপ কেন?
বাবাঃ বুঝতে পারার আগেই অনেকটা বেড়ে যায়। অসুখ আটকে রাখার যে স্বাভাবিক ক্ষমতা থাকে সেটাই নষ্ট হয়ে যায়। তাই সব সময় সর্দি-কাশি-পেট খারাপ হতে থাকে...
ছেলেঃ চ্যাবনপ্রাশ খায় না কেন?
বাবাঃ ওই যে বললাম খারাপ অসুখ। চ্যাবনপ্রাশ বা অন্য কোনো ওষুধেও সারে না।
ছেলেঃ কী করে এমন খারাপ অসুখটা হয়?
বাবাঃ অনেক রকমভাবে হতে পারে- মায়ের থাকলে বেবির হতে পারে, অনেক সময়েই আমাদের ব্লাড নিতে হয়...
ছেলেঃ সুমিত কাকার অ্যাক্সিডেন্টের সময় যেমন তুমি রক্ত দিয়েছিলে?
বাবাঃ হ্যাঁ, ঠিক ধরেছ। আমাদের যদি এইডস থাকত, তা হলে রক্ত নেয়ার পর সুমিত কাকারও হয়ে যেত।
ছেলেঃ আর?
বাবাঃ এইডস আছে এমন মানুষ যদি কেউ বিয়ে করে, এক সঙ্গে থাকে, বেবি হয় তা হলে তারও এইডস হতে পারে।
(১১) বাবা জানো, আজ স্কুলের টয়লেটে দুটো দাদা খুব নিজেদের আদর করছিল...
বাবাঃ তা তো করতেই পারে। আমি তোমাকে করি না?
ছেলেঃ না বাবা ওরকম আদর নয়...
বাবাঃ তা হলে কেমন আদর?
ছেলেঃ যেমন সিনেমায় গার্লফ্রেন্ড-বয়ফ্রেন্ডরা করে।
বাবাঃ ওই দাদা দুটোও হয়তো ফ্রেন্ড।
ছেলেঃ আমারও তো অনেক ছেলেফ্রেন্ড আছে বাবা, আমরা কিন্তু ওই রকম করি না।
বাবাঃ তোমাদের ইচ্ছা হয় না হয়তো, কিন্তু কারো কারো এই রকমের ইচ্ছা হতে পারে। ওটা নিয়ে একদম চিন্তা করবে না!
(প্রসঙ্গত জানাই, গার্লফ্রেন্ড-বয়ফ্রেন্ড ব্যাপারটা খুব ছোটবেলা থেকেই সাধারণভাবে মজা করে কথা প্রসঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। নিজেদের নিয়ে কিংবা কোনো কাছের মানুষরা আগে প্রেমিক ছিলেন, পরে বিয়ে করেছেন-এই উদাহরণ দিয়ে বোঝালে ওদের সংকোচও কেটে যাবে)।
(১২) রেপ কী করে করতে হয় মা?
মাঃ সেটা আমি ঠিক জানি না। আর কখনো এই কাজটা করতে যাওয়া উচিত নয়। খুব খারাপ কাজ এটা-
মেয়েঃ খারাপ কেন?
মাঃ পৃথিবীতে অনেক কাজই খারাপ- মারামারি করা, কাউকে গালাগালি দেয়া, চুরি করা, রেপ করা...। তাই ওগুলো নিয়ে একদম ভেবো না।
(১৩) এইচআইভি স্কুলের কত উঁচু ক্লাস বাবা?
বাবাঃ ফাইভ-সিক্সের মতো এটা কোনো ক্লাস নয়। এটা একটা ভাইরাসের নাম।
মেয়েঃ ভাইরাস কী বাবা?
বাবাঃ যে কোনো অসুখ ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া এই সব থেকে হয়?
মেয়েঃ এগুলো কী পোকা?
বাবাঃ পোকার মতো, তবে খুব ছোট, চোখে দেখা যায় না এমন কিছু জিনিস, যা শরীরের মধ্যে ঢুকে অসুখ বাধায়।
মেয়েঃ ঢোকার আগে ধরে ফেলতে পারি না?
বাবাঃ না, কারণ চোখে দেখা যায় না এগুলোকে। তবে নিজেরা সাবধানে থাকলে অনেক অসুখই আটকানো যায়।
(১৪) বোনু কী করে পেট থেকে বেরোল, মা? তোমার পেটে তো কাটা নেই!
মাঃ বোনু পেটে ছিল, তবে পেট কেটে বেরোয়নি। টমির বেবি কি পেট কেটে হয়েছে।
ছেলেঃ এ মা ডগির তো পটি করার জায়গা দিয়ে বেরিয়েছিল...!
মাঃ না বাবা, তা নয়। দেখে মনে হয় যদিও তাই, আসলে ওটা বেবি হওয়ারই জায়গা। মায়েদেরও ওইরকম একটা বেবি হওয়ার জায়গা আছে।
ছেলেঃ সুসু করার জায়গা দিয়ে?
মাঃ না, সুসু আর পটির মাঝে আর একটা রাস্তা আছে যেখান দিয়ে সময় হলে বেবি বেরোয়।
ছেলেঃ খুব লাগে?
মাঃ একটু লাগে। তবে বোনুকে তো পাওয়া যায়!
(মেয়ে সন্তান হলে ধীরে ধীরে তাকে এই প্রসঙ্গে ঋতুচত্রের কথাটাও বলে নিতে পারেন। তা হলে ঋতু কীভাবে হয় সেটাও ওরা সহজে বুঝে যাবে।)
(১৫) অর্পণা, সুদীপ্ত সবারই বোন আছে বাবা, আমার কেন ভাই?
বাবাঃ ভাই বা বোন হওয়াটা আমাদের ইচ্ছার ওপর নয় সোনা। তোমায় তো আগে বুঝিয়েছি বেবি কী করে হয় (আপনি না বলে থাকলে ৫নং প্রশ্ন ও উত্তর পড়ে নিতে পারেন)। এবারে বলি, মায়ের পেটে যে ডিম থাকে সেটার নাম x ক্রোরোমোজম, বাবার পেটের মধ্যে থাকা জিনিসগুলোতে x+y-এই দু ধরনের ক্রোমোজমই থাকে। মায়ের ডিমের x ক্রোরোমোজমের সঙ্গে বাবার  x ক্রোরোমোজমটা মিশলে হবে মেয়ে আর বাবার y ক্রোমোজম মিশলে হবে ছেলে।
ছেলেঃ এটা কী অংক?
বাবাঃ একদম সোজা। x+x মেয়ে আর x+y ছেলে।
যা করতেই হবে
বাচ্চা, তা সে ছেলেই হোক কিংবা মেয়ে যতটা সম্ভব চোখে-চোখে রাখবেন। অনেকে ভাবেন মেয়ে সন্তান হলেই বুঝি বিপদ বেশি। এই ধারণা একেবারেই ভুল! ছোট ছেলেরাও কোথাও কোথাও খুব কঠিন পরিস্থিতির শিকার হয়।
বাচ্চাকে কখনোই কোনো অচেনা পরিস্থিতিতে ছাড়বেন না। যেমন সদ্য পরিচিত স্কুলের বন্ধুর জন্মদিনের পার্টি। যেতে হলে নিজে সেখানে উপস্থিত থাকবেন।
স্বল্প পরিচিত ড্রাইভার বা কাজের লোক, এমনকি পড়শি বা স্বল্প পরিচিত মানুষের সঙ্গে বাচ্চাকে ছাড়বেন না।
বাচ্চাকে বোঝান যে কোনো অস্বাভাবিক, অসংযত আচরণ (যে আচরণে তার অস্বস্তি হয়) কেউ করলে যেন সঙ্গে সঙ্গে এসে বলে। কেউ ভয় দেখালেও ভয় পেয়ে যেন চুপ করে না থাকে।
বাচ্চাকে যখন বোঝাবেন তখন ওকে ভয় পাইয়ে দেবেন না। এমন যেন সে না ভেবে বসে যে পৃথিবীর সব বড় মানুষই এক-একটা পিশাচ। এমনভাবে বোঝাতে হবে যাতে সে ভালো-খারাপ সপর্শের বা আচরণের সূক্ষ্ম তফাৎটা ধরতে পারে এবং এই কঠিন কাজটা আপনাকে করে ফেলতেই হবে।
সব সময়ই পজিটিভভাবে সব প্রসঙ্গ আলোচনা করবেন। বারবার বুঝিয়ে দিতে হবে যে কোনো প্রসঙ্গেই লুকিয়ে রাখার মতো কিছু নেই। তবে অন্য কাউকে না বলে খোলামেলা আলোচনা মা-বাবার সঙ্গে যেন তারা সব সময় করে নেয়।
আপনাকে যে কোনোভাবে সন্তানের একান্ত বিশ্বাসের জায়গাটা অর্জন করতে হবে এবং সেটা করতে হবে মজা করে, গল্প করে, আলোচনা করে।
বাচ্চার সঙ্গে আচরণের সময় তাকে একজন প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে গণ্য করলে তাতে তাদের অনেক আত্মবিশ্বাস বাড়ে। সব সময় ‘ও বাচ্চা, কিছু বুঝবে না’ গোছের আচরণ করা উচিত নয়।
সাবর্ণী দাস
http://www.sunagro.info/

দি আর্ট অব সেক্সুয়াল এক্সটাসি-1


উন্নত যৌনতা এই স্বীকৃতি দেয় যে, আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে একটা প্রবল মেরুপ্রবণতা রয়েছে এবং তা আছে গোপন অবস্থায়। একজন পুরুষের প্রধান দিকটি হচ্ছে পুরুষ জাতীয় এবং তার অধীনে হচ্ছে নারী জাতীয়। একজন নারীর মধ্যে প্রধান হচ্ছে নারী জাতীয় ও গোপন হচ্ছে পুরুষ জাতীয় সত্তা। এই পরিপ্রেক্ষিত থেকে নারী ও পুরুষের মধ্যে একটা স্থায়ী ও সুখী বন্ধনের জন্য প্রয়োজন একটা সমঝোতা যার মাধ্যমে একটা ভারসাম্য অন্তরের আত্মীয়তা অবশ্যই গড়ে উঠতে হবে যেটা হবে নারী ও পুরুষের আত্মস্থিত পৌরুষ ও নারীত্বের প্রকৃতির সাথের মিলন। আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে একটা ভেতরের পুরুষ মানুষ আছে যেটা একটা প্রাণবন্ত ও ক্রিয়াশীল গতির সাথে জড়িত, সেটা লক্ষ্যবস্তুকে নির্ধারণ করেও লক্ষ্যে পৌঁছায় এবং জিনিসকে সঠিকভাবে চালায়। এটাকেই টাওয়িস্টগণ আমাদের চরিত্রের ইয়াং আকৃতি বলে অভিহিত করে থাকেন। এটা হচ্ছে অচিন্তনীয়ভাবে সংযুক্ত একটি সত্তা এবং আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে একজন ভেতরের নারী-মানুষ আছে, যা একটা প্রাকৃতিক শক্তি, যার দ্বারা সব জিনিস ঘটে যায়, জীবনের লক্ষ্যবস্তু ঠিক করা ছাড়াই জীবন প্রবাহের সাথে চলতে থাকে, যার দ্বারা শিথিল ও আনন্দময় জীবন চলে।
এটাই যা তাকে টাওয়িস্টগণ  প্রকৃতির ইইন আকৃতি বলে অভিহিত করে থাকেন। আর এটা হচ্ছে- ধ্যানপরায়ণতা, স্বতঃস্ফূর্ততা ও সংক্রমিত হওয়ার সত্তা। একই ব্যক্তিত্বের মধ্যে একজন নারী ও একজন নরের শক্তি একসাথে থাকার ধারণটার একটা জৈবিক ভিত্তিমূল আছে। বৈজ্ঞানিকগণ এর সত্যতা স্বীকার করেছেন যে, প্রত্যেকটি নর ও নারীর প্রকৃতির মধ্যে কতগুলো পুরুষ ও নারী হরমোনের উপস্থিতি আছে আর সেটা হচ্ছে Essential bypolarity of nature বা প্রকৃতির দ্বিমেরুকরণতা হরমোন দেহের ও লিঙ্গের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে এবং আমাদের যৌনশক্তি বর্ধনে সাহায্য করে। তন্ত্রীয় ধারণানুযায়ী পুরুষ দিচ্ছে সম্ভাবনা তার মধ্যস্থিত নারী হরমোনের উপস্থিতির কারণে এবং তাদের নিয়ে নিজের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষার অভিজ্ঞতা লাভের মধ্য দিয়ে একইভাবে নারীর মধ্যে পুরুষ হরমোনের উপস্থিতির কারণে নারীকে তার পৌরুষ জাহির করার বা পুরুষত্বের অভিজ্ঞতা প্রকাশের সম্ভাবনা এনে দিয়েছে। এই জৈবিক সত্যতার নিজস্ব আত্মিক প্রতিরূপী আছে।
C. g. jung এই ধরনের ভিন্ন ভিন্ন অনেক লোকের মনের মধ্যে মেল ও ফিমেল হরমোনের ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া নিয়ে গবেষণা চালিয়েছেন। তিনি পুরুষের মধ্যে একটা স্ত্রী উপাদান দেখতে পেয়েছেন আর তার নাম দিয়েছেন Animal- এটা একটা ল্যাটিন শব্দ যার অর্থ হচ্ছে Soul বা আত্মা। তিনি লক্ষ্য করেছেন যে, এই এনিমা প্রায় সব সময়ই অবচেতন, বেহুঁশ বা অজ্ঞান অবস্থায় থাকে। তিনি আরো ধারণা করেছেন যে, যেভাবেই হোক না কেন, পুরুষ মানুষের প্রায় বেশিরভাগ সৃষ্টিশীল কাজ তার এই এনিমা থেকেই উৎপত্তি লাভ করে, যেটা তার স্বপ্ন, তার লক্ষ্য, তার অন্তর্দৃষ্টি, অনুপ্রেরণা এবং স্বতঃস্ফূর্ত উপলব্ধি। একইভাবে Jung স্বতঃসিদ্ধভাবে ধরে নিয়েছেন যে, একটা পুরুষ আত্মা বা এনিমাস একজন নারীর মধ্যে অবস্থান করছে এবং তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন যে, স্ত্রী-পুরুষ উভয়ই এই বিপরীতমুখী মেরুকরণের উন্নতি দ্বারা উপকৃত হতে পারে।
অন্তর্নিহিত স্ত্রী ও পুরুষের একত্রীকরণ
যা  Jung কল্পনা করেছিলেন আজ তা সত্যে পরিণত হতে যাচ্ছে। নারী-পুরুষ উভয়ই একটা বড় ধরনের জাগরণের মাধ্যমে এই দুটো অন্তঃমেরুকে একত্রীকরণের জন্যে কঠোরভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এটা করার জন্য স্ত্রীকে সেই এনিমাস বা পুরুষ সত্তার কার্যকারিতাকে স্বীকৃতি দিতে হবে- যখন তিনি দৃঢ়তায়, উচ্চাশায়, বুদ্ধিবৃত্তি সংক্রান্ত কঠোর চেষ্টায় এবং জিজ্ঞাসায় নিজেকে প্রকাশ করতে যান। তার ভেতরস্থ পুরুষকে আত্মস্থ বা একত্রীভূত করতে হলে তাকে তার পৌরুষ গুণাবলীকে নিয়ে অনুশীলন করতে হবে, যে গুণগুলো নারীর মধ্যে থাকাটাকে পরিবারের পুরুষকর্তা ও পুরুষশাসিত সমাজ দ্বারা অবদমিত হয়ে এসেছে। একইভাবে  পুরুষ মানুষকে তার ভেতরের নারীত্বের গুণাবলীকে জাগিয়ে তুলতে হবে। যেমন আদর-যত্ন নেয়া, সেবা শুশ্রূষা করা, ইন্দ্রিয় সুখ ত্যাগ এবং গ্রহণযোগ্যতা যেগুলো পূর্বেও অমানবিক বিবেচনা করে অবদমিত করা হয়েছে। একটা প্রেমময় বন্ধনের মাধ্যমে যখন এই স্ত্রীত্বের এবং পৌরুষের গুণাবলীকে উন্নত করা এবং বুঝতে পারা যায় তখন একই মানুষের মধ্যে দুটো মেরুর মিলন ঘটতে পারে। এটাই যাকে তন্তু মতে উৎফুল্লজনক জাগরণ মনে করা হয়। এটা চৈতন্যময় ধারণার একটা অবস্থা, আত্মোপলব্ধির অন্যতম অবস্থা যার দ্বারা উভয় লিঙ্গকেই (পুংলিঙ্গ ও স্ত্রী লিঙ্গ) একই অঙ্গে আলিঙ্গন দেয়া যায় এবং তারপরই ভেতরের দ্বৈধতা কাটিয়ে উঠে একটা একক সত্তায় পরিণত হওয়া যায়। এই অবস্থায় এসে আপনি এই বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে পারেন এটা শুনতে তো আশ্চর্য লাগে, কিন্তু আমি সেখানে পৌঁছাব কি করে? আনন্দের সাথে আমি একটা পথের নক্সা তৈরি করেছি এবং আপনার প্রথম পদক্ষেপই হচ্ছে নিজের ভেতরের পুরুষ ও ভেতরের নারী চরিত্রগুলোর ওপর আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কি সেটাকে ভালো করে উপলব্ধি করা বা ভালো করে চেনা।
দুটি মনোভাবের পার্থক্য
এখানে কয়েকটি উদাহরণ দেয়া হলো যখন একজন নারীর ভেতরস্থ পুরুষ মানুষটির জাগরণ ঘটেনি তখনকার তার মনোভাব, আর যখন তার মধ্যে দুটো মেরুই জাগ্রত হয়েছে তখনকার মনোভাবের পার্থক্য কি?
অজাগ্রত অবস্থায়
সে কখনোই ‘না’ বলে ফিরিয়ে দেয় না অথবা খুব কম ‘না’ বলে। সে হ্যাঁ বলতে বাধ্য হয়, কারণ সে ভয় করে যে, যদি সে না বলে তার প্রকৃত মনের অবস্থা ব্যক্তি করে তাহলে সে হয়তো পরিত্যক্ত হবে।
জাগ্রত অবস্থায়
সে যখন ইচ্ছা মনে করে তখন ‘না’ বলে দেয়ার ঝুঁকি নেয়। কারণ তখন সে নিজেকে সমমান দেয়। নিজের সীমাবদ্ধতা জানে এবং তাদেরকে প্রকাশ করতে ভয় পায় না।
অজাগ্রত অবস্থায়
সে ভালোবাসার সময় কখনো কখনো কৃত্রিম চরমপুলক দেখায়। এটা শুধু তার সঙ্গীর আত্মবিশ্বাস রক্ষা করার জন্য।
জাগ্রত অবস্থায়
সে তার সঙ্গীকে বলে যে সে এখনো শীর্ষপুলকে পৌঁছায়নি কেন? তার ব্যাখ্যা দেয় এবং সঙ্গীকে পরামর্শ দেয় যে, তারা যৌথভাবে কোনো পন্থায় তাদের আনন্দ বাড়াতে পারে।
অজাগ্রত অবস্থায়
সে একজন খুবসুরত রাজপুত্রের কল্পনা করে অথবা একজন বাকপটু কবির স্বপ্ন দেখে, যিনি তার জীবনটাকে হাতের মুঠোয় তুলে নেবেন। উভয়ের জন্য চিন্তা করবেন এবং দরকারি সব সিদ্ধান্ত নিজেই গ্রহণ করবেন।
জাগ্রত অবস্থায়
সে নিজেকে একজন সুন্দরী রাজকন্যা হিসেবে দেখে, যেন একজন সুন্দর রাজপুত্রের পাশাপাশি ঘোড়ায় চড়ে ভ্রমণ করছে। নিজের জীবন নিজের হাতেই ধরে আছে। তার কাছে জীবনটা হচ্ছে সমান দুজন সঙ্গীর মধ্যের সহসৃষ্টি। এখানে আরো কয়েকটি সদৃশ্য উদাহরণ যেখানে একজন পুরুষ তার ভেতরের নারীর সাথে বিপরীত মনোভাব পোষণ করেন।
অজাগ্রত অবস্থায়
ভালোবাসার সময় সে কোনো কথা বলে না। নারীটি যদি কিছু বলতে চায়, সে উত্তর করে ‘চুপ থাকো’ তুমি জিনিসটাকে খারাপ করে দিচ্ছ।
অধ্যাপক ডাঃ এ এইচ মোহামমদ ফিরোজ
এমবিবিএস এফসিপিএস এমআরসিপি এফআরসিপি
E-mail : professorfiroz@yahoo.com
ফোন ঃ ০১৭১১-৫২১২২২, ০১৯৯-৫২১২২২

http://www.sunagro.info/

প্রাচীন গ্রিসে প্রেম ও যৌনজীবন

বিবাহ বিচ্ছেদ
আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু
কোনো গ্রিক স্বামীর জন্য বিয়েতে ব্যভিচার বলে কোনো কিছুর স্থান ছিল না। বিয়ের কারণে তাকে যাবতীয় নান্দনিক ও যৌন উপভোগ থেকে বঞ্চিত হতে হবে এমন কোনো যুক্তি কারো চিন্তারও বাইরে ছিল। তখনকার গ্রিক সমাজ ও নৈতিকতা পুরুষের বহুগামিতাকে অনুমোদন করত এবং গ্রিক পুরুষরা সেভাবে জীবন কাটাতে অভ্যস্ত ছিল।
কিন্তু এ পরিস্থিতি সত্ত্বেও সংখ্যায় স্বল্প হলেও কিছু কিছু কণ্ঠ, যারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে নৈতিকতা বজায় রাখার দিকটিকে গুরুত্ব দিতেন তাদের মধ্যে অ্যারিস্টটল, আইসোক্রেটস, প্লটাস উল্লেখযোগ্য।
কিন্তু মেয়েদের ব্যভিচার যদি কখনো ধরা পড়ত তাহলে গ্রিক সমাজ কী করত? এর নিশ্চিত সমাধান ছিল বিবাহ বিচ্ছেদ। যার অনিবার্য পরিণতি স্বামীর গৃহ থেকে সংশ্লিষ্ট স্ত্রীকে বহিষকার। কারণ, ব্যভিচারী নারীর গর্ভে জন্মগ্রহণকারী সন্তানের বৈধতা নিশ্চিত করা সম্ভব ছিল না। তাছাড়া স্ত্রীর ব্যভিচারকে স্বামীর মর্যাদার ওপর চরম আঘাত হিসেবে বিবেচনা করা হতো এবং সম্পত্তির মালিকানার অধিকারের ওপর হুমকিস্বরূপ ছিল। আমাদের বিস্মৃত হলে চলবে না যে, ট্রোজান যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল শুধু মেনেলাসের মর্যাদা রক্ষার জন্য।
প্রাচীন গ্রিক সমাজে ‘মর্যাদা’ এবং ‘অসমমান’ এমন দুটি ধারণা অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করত। স্বামীর মর্যাদা এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীতে এথেন্সের আইনপ্রণেতা ড্রাকোনের (ড্রাকোন ঃ খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীর এথেনীয় আইনপ্রণেতা, যিনি সর্বপ্রথম লিখিত আইন তৈরি করেন। এই আইন এত কঠোর ছিল যে, আইনের শব্দগুলো লিখিত হয়েছিল রক্ত দ্বারা) আইন অনুসারে পরিচালিত এক মামলার বিবরণীতে দেখা যায় যে, স্ত্রী ব্যভিচারে লিপ্ত থাকা অবস্থায় স্ত্রীর প্রেমিকাকে স্বামী ধরে ফেলে এবং হত্যা করে। কিন্তু বিচারে স্বামীকে নির্দোষ সাব্যস্ত করা হয়। ক্লাসিক্যাল যুগেও একই আইন কার্যকর ছিল বলে প্রতীয়মান হয়। কারণ ইউফেলিটাসের মামলায়ও সেই আইনের উল্লেখ আছে। জনৈক ইউফেলিটাসকে তার স্ত্রীর ব্যভিচার সম্পর্কে জানানো হলে সে স্ত্রীকে চোখে চোখে রাখে এবং স্ত্রীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত অবস্থায় স্ত্রীর প্রেমিক ইরাটোসথেনিসকে ধরে হত্যা করে। বিচারে আইনজীবী ঘাতক স্বামীর পক্ষেই যুক্তি প্রদর্শন করেন। তাছাড়া অ্যারিস্টটল তার ‘এথেনীয় রাষ্ট্র’ গ্রন্থে আমাদের অবহিত করেছেন যে, একই আইন তার সময়েও কার্যকর ছিল।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যভিচারী নিষকৃতি পেতে পারত জরিমানা দিয়ে। কিন্তু তার কপাল মন্দ হলে শাস্তি হিসেবে তার গুহ্যদ্বার দিয়ে একটি মুলা ঢুকিয়ে দেয়া হতো। এসবের মধ্যেও যারা প্রভাবশালী ছিল ও ফন্দিফিকির জানত, তারা বিনা শাস্তিতেই পার পেয়ে যেত। জনৈক অ্যালসিবিয়াডেসের ঘটনাটি ছিল এরকম-তিনি সপার্টায় নির্বাসিত জীবন কাটানোর সময় রাজা অ্যাগিসের স্ত্রী তিমাইয়ার সাথে যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং তিমাইয়ার গর্ভজাত সন্তানে অ্যালসিবিয়াডেসের সন্তান বলে পরবর্তীতে ধারণা করা হয়। তার স্ত্রী হিপারেটি যখন তাকে পরিত্যাগ করে এবং আইনানুগভাবে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘোষণা দেয় তখন অ্যালসিবিয়াডেস সমাজপতিদের সিদ্ধান্ত অগ্রাহ্য করে জোর করে তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় এবং শাস্তি থেকে নিজেকে রক্ষা করে।
আইনপ্রণেতা সলোনের মতে, ‘কোনো মহিলা যদি ব্যভিচারে লিপ্ত অবস্থায় ধরা পড়ে তাহলে সে অলংকার পরতে পারবে না এবং কোনো মন্দিরেও তার গমন করা উচিত নয়। তাহলে সে অন্য মহিলাদের ব্যভিচারে প্ররোচিত করতে পারে। কিন্তু সে যদি তা করে অথবা নিজেকে সাজায় তাহলে তার সাথে যে পুরুষের সাক্ষাৎ হবে তার উচিত তার পরিধেয় বস্ত্র ছিঁড়ে ফেলা, অলংকার খুলে নেয়া এবং তাকে প্রহার করা। কিন্তু তাকে হত্যা করা অথবা পঙ্গু করে দেয়া উচিত হবে না।’
ব্যভিচারী স্ত্রীকে গৃহ থেকে বহিষকার ও পরে বিবাহ বিচ্ছেদের অর্থ দাঁড়াবে, স্ত্রীর পরিবার যে উপহারসামগ্রী প্রদান করেছিল তা আবার তাদের ফিরিয়ে দেয়া, যা এক ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির শামিল। এ পরিস্থিতিতে অনেক স্বামী-স্ত্রীর ব্যভিচারের অপমান হজম করে স্ত্রীর অনুশোচনাকে অনুমোদন করে তাকে গ্রহণ করত।
অবশ্য বিবাহ বিচ্ছেদের একমাত্র কারণ যে শুধু ব্যভিচার ছিল তা নয়। অনেক কারণেই কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে পরিত্যাগ করতে পারত। যেমন- স্ত্রীর বন্ধ্যাত্ব। বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ দুজন সাক্ষীর সামনে বর্ণনা করতে হতো। কিন্তু কোনো স্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বামীকে পরিত্যাগ করার প্রক্রিয়া কঠিন ছিল। কারণ আইনগত দিক থেকে মহিলাদের সারাক্ষণ প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে কাটাতে হতো। ফলে তাদের পক্ষে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হতো না। তাকে আরকনের (Archon) কাছে লিখিতভাবে জানাতে হতো যে, সে কেন বিবাহ বিচ্ছেদ চাচ্ছে। আরকন অন্যান্য দায়িত্বের মধ্যে নাগরিক অধিকারবঞ্চিতদের বিষয়ে দায়িত্বশীল ছিলেন। যা হোক লিখিত বিবৃতি পাওয়ার পর আরকন সেই বিবৃতির সত্যতা যাচাই করে তার সিদ্ধান্ত প্রদান করতেন।
ইতিমধ্যে বলা হয়েছে যে, কোনো মহিলা তার স্বামীর ব্যভিচারের বিষয় উল্লেখ করতে পারত না, যদিও বিবাহ বিচ্ছেদের প্রকাশ্য কারণ তাই থাকত। এছাড়াও স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে শারীরিক যাতনা ও প্রহারের ঘটনা প্রমাণিত হলেও তা বিবাহ বিচ্ছেদে গড়াত। বিবাহ বিচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট মহিলার নাম প্রকাশ্যে আলোচিত হতো এবং এটা সবচেয়ে অবাঞ্ছিত একটি ব্যাপার ছিল। তালাকপ্রাপ্তা মহিলাদের পুনঃবিবাহে যদিও কোনো বাধা ছিল না, কিন্তু তাদের সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখা হতো।
সপার্টায় যেখানে আইন এবং নৈতিকতা সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের ছিল সেখানে বিদ্যমান পরিস্থিতি সম্পর্কে প্লুটার্ক আমাদের জানিয়েছেন যে, ‘প্রবীণ এক সপার্টান, গেরাডসকে এক বিদেশী প্রশ্ন করেছিল যে সপার্টানরা ব্যভিচারীদের কিভাবে শাস্তি দেয়? তিনি তাকে উত্তর দিয়েছেন- আমাদের মধ্যে কোনো ব্যভিচারী নেই। বিদেশী আবার প্রশ্ন করে, কিন্তু যদি কোনো ব্যভিচারী থাকে? গেরাডসের উত্তর ছিল-তাহলে শাস্তি হিসেবে ব্যভিচারীকে নির্দেশ দেয়া হয় যে, তাকে টেগেটাস পর্বতের ওপর দিয়ে মাথা দেখা যাবে, এমন একটি বড় ষাঁড় দিতে হবে। বিদেশীর তৃতীয় প্রশ্ন ছিল পৃথিবীর কোথায় পাওয়া যাবে এত বিরাট একটি ষাঁড়? এবং গেরাডস উত্তর দেন ঃ অতএব সপার্টায় কোনো ব্যভিচারীর সাক্ষাৎ পাওয়া সম্ভব নয়।’
এছাড়া আরেকটি পদ্ধতি অনুসরণ করতে দেখা যায়, লাইকারগাসের আইন অনুসারে কোনো বয়স্ক অনুর্বর স্বামী তার স্ত্রীর সাথে কোনো যুবকের পরিচয় করিয়ে দিতে পারত, যাতে সেই যুবকের বীর্যে সুন্দর ও বলবান সন্তানের জন্ম ঘটে। এই প্রক্রিয়ায় বিবাহের কোনো ক্ষতি হতো না। অভিজাত বংশোদ্ভূত কোনো পুরুষ বিবাহিত রমণীর গুণে বিমুগ্ধ হয়ে তার স্বামীর অনুমতি চাইতে পারত তার সাথে যৌনমিলনের জন্য, যাতে সে উত্তম বংশের শক্তিশালী সন্তান নগরীকে উপহার দিতে পারে।
এই আইনটি সম্ভবত সুপ্রজননতত্ত্ব হতে উদ্ভূত, যা প্রাচীন গ্রিসে প্রচলিত ছিল এবং এর দ্বারাই নির্ধারিত হতো বিয়ে এবং সন্তানের জন্মদান। এর ফলে দম্পতির মধ্যে ঈর্ষার অনুপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়। তাছাড়া কোনো সপার্টান পুরুষ যদি মনে করত যে, স্ত্রী তাকে যথেষ্ট সন্তান দিয়েছে তাহলে তার জন্য এটা অতি সাধারণ ব্যাপার ছিল স্ত্রীকে তার বন্ধুর কাছে ন্যস্ত করা, যাতে বন্ধুটি তার স্ত্রীর সাথে মিলনের সুখ উপভোগ করতে পারে।
এথেন্স এবং অন্যান্য গ্রিক নগর রাষ্ট্রেও দেখা গেছে যে, কোনো স্বামীর সাথে যদি তার স্ত্রীর গুরুতর বিবাদ উপস্থিত হয় অর্থাৎ স্ত্রী যদি সন্তান ধারণে অক্ষম হয় অথবা পুত্রসন্তান জন্ম দিতে না পারে তাহলে স্বামী সাধারণত স্ত্রীকে তালাক দিতে চায় না, যৌতুক হিসেবে প্রাপ্ত সম্পদ ফিরিয়ে দিতে হবে বলে। বরং সে রক্ষিতার কাছে যায়।
 http://www.sunagro.info

Wednesday, July 13, 2011

শীর্ষ চরমপুলকের ইতিহাস

আমি যৌনপুলকের একটা সংক্ষিপ্ত ইতিহাস আপনাদের দিতে চাই। বিগত দিনে অর্গাজম সম্বন্ধে সীমিত জ্ঞান কার্যকরীভাবে যৌনশক্তিকে সীমিত করে রেখেছিল। আজকের দিনের গবেষণা অনেক বেশি নতুন জ্ঞান এনে দিয়েছে। যার ফলে আমাদের সম্ভাবনাও অনেক বেশি বেড়ে গিয়েছে। আমরা জানি আরও অনেক বেশি সম্ভব। তথাপি, বহু লোক এখনো বিশ্বাস করে যে, পুরুষ শুধু একটি মাত্র যৌনপুলক পেতে পারে, যাকে তারা সংজ্ঞা দেয়- পুংলিঙ্গের যৌনপুলক নামে যেটা শিশ্ন ও অণ্ডকোষের মধ্যে অবস্থান করে এবং নারীদের দুটি স্থানে ভগাঙ্কুরে অথবা যোনিতে। প্রকৃতপক্ষে নারী এবং পুরুষ উভয়েই বহুবিধ যৌনপুলক উপভোগ করতে পারে যেটা সম্ভাবনার বিস্ময়কর সীমানা খুলে দেবে।
আমার এই নির্দিষ্ট বিবেচ্য বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করার জন্য আমাকে কতগুলো যৌনপুলকের প্রতিক্রিয়ার আবিষ্কারের কথা বলতে দিন; যেটা আমি পরে আলোচনা করব-
  • যৌনপুলক লাভের সময় পুরুষের মতো নারীরাও বীর্যস্খলন ঘটাতে পারে।
  • যৌনাঙ্গের শীর্ষপুলক নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যে বীর্যপাত ঘটানো ছাড়াও হতে পারে।
  • ভালোবাসার মধ্যে নারী ও পুরুষ উভয়েই অসংখ্য শীর্ষ যৌনপুলক উপভোগ করতে পারে।
  • যৌনাঙ্গের পূর্ণ শীর্ষপুলক আত্মজ্ঞানের পরিবর্তিত বিকাশ ঘটাতে পারে।
যদিও এসব আবিষ্কার নিয়ে বহু সংখ্যক গবেষণা প্রোগ্রাম লিখিত আকারে এসেছে এবং অনেক দিন থেকেই জানা যাচ্ছে তবু এখনো তারা অনেক লোকের কাছেই বিস্ময়কর হিসেবে ধরা দিচ্ছে। তথাপি আমার ধারণা হচ্ছে এই যে, যদি একজন ওটা করতে সক্ষম হয়, তবে আমরা সকলেই তা করতে সক্ষম হব! যৌন শীর্ষপুলক শব্দটি তার সাথে একটা বিরাট পূর্ণতার ওয়াদা বহন করে। এটা দুটো গ্রিক শব্দ থেকে উদ্ভূত হয়েছে-একটা (Orgasmos) অর্গাজমস-এর পূর্ণ অর্থ হচ্ছে-পাকা হওয়া বা পূর্ণতাপ্রাপ্তি, ফুলে ওঠা এবং কামাসক্ত হওয়া এবং (Orge) অরজি-এর অর্থ হচ্ছে আবেগ বা তাড়না। এটার মূল সংস্কৃত ভাষার ‘Urj’ শব্দটির মধ্যেও পাওয়া যায়। যার অর্থ হচ্ছে পুষ্টি, শক্তি এবং দৈহিক বা মানসিক সমর্থ। এসব সংজ্ঞার সাথে আমরা যদি দৃঢ়সংলগ্ন থাকতাম নিঃসন্দেহে আমরা অনেকগুলো সমস্যা থেকে দূরে থাকতে পারতাম। যেগুলো এই সীমিত ব্যাখ্যার দ্বারা দীর্ঘদিন বছরের পর বছর যৌন শীর্ষপুলকের উপভোগ সম্বন্ধে আমাদের দেয়া হয়েছে।
ইদানীংকালে নারী ও পুরুষের যৌনপুলক সম্বন্ধে কঠোর স্বাতন্ত্র্য দেখানো হচ্ছে। বিভিন্ন নারীর ক্ষেত্রেও বিভিন্ন প্রকৃতি ও তাদের যৌনপুলকের পার্থক্য দেখানো হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ সিগমন্ড ফ্রয়েড দাবি করেছেন যে কোনো নারী যদি তার বয়ঃসন্ধিকালে ভগাঙ্কুরের পুলক থেকে গভীর যোনির ভেতরস্থ যৌনপুলকের অভিজ্ঞতা লাভ না করে থাকে, তাহলে সে যৌনতার ও মনস্তাত্ত্বিক দিক দিয়ে অপরিণত থেকে যায়। তিনি ভগাঙ্কুরকেও ক্ষয়প্রাপ্ত শিশ্ন বলে বিবেচনা করেছেন এবং এই বিশ্বাস দিয়েছেন যে, নারীর যৌনাঙ্গসমূহ প্রকৃতিগতভাবে পুরুষাঙ্গের একটা ন্বিম্নতর প্রতিলিপি। ১৯২০ সালে ফ্রয়েড তার A general introduction to Psychoanalysis নামক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন-
Of little girls we know that they feel themselves heavily handicapped by the absence of a large visible penis and envy the boys possession of it; from this swore primarily springs the wish to be a man. The clitoris in the girl, more over, is a region of especial excitability in which auto-erotic satisfaction is achieved. The rendition to woman hood very much depends upon the early and complete relegation of this sensitivity from the clitoris over to the vaginal orifice.
ফ্রয়েডের ধারণা যৌনাঙ্গসমূহকে মেরু মুখীকরণ তীব্রতর করেছিল, সম্ভবত সেটাই সেসব হাজার হাজার নারীর অবর্ণনীয় দুঃখের কারণ হয়েছিল, যারা নিজেদের অসম্পূর্ণ এবং অপ্রাপ্ত মনে করত। যখন তারা পূর্ণ যোনির পুলক, শিহরণ লাভে ব্যর্থ হতো। এটা ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত ছিল, যখন পর্যন্ত না আলফ্রেড সি কনসে ভগাঙ্কুর ও যোনির মধ্যে যৌনপুলক সম্বন্ধে অতিকথা বা মিথ্য প্রচারের পরিসমাপ্তি ঘটান। তিনি তার প্রকাশিত গ্রন্থে Sexual behavior in the Human female-এ বলেন, তিনি যে ২৭০০ আমেরিকান নারীকে নিয়ে গবেষণা চালিয়েছেন, তাদের মধ্যে অর্ধেকের মতো মেয়েলোকই বলেছেন যে, তারা ভগাঙ্কুরের মধ্য দিয়ে শীর্ষপুলক লাভ করেছেন এবং সেখানে এমন কোনো প্রমাণ নেই যে সেই নারীগণ তাদের চেয়ে কোনোক্রমে কম পরিপক্ব ছিল যারা যোনির শীর্ষপুলক পেয়েছেন। কিনসে ঘোষণা করলেন যে, ভগাঙ্কুর থেকে সংবেদনশীলতা যোনির মধ্যে বদলি করার কল্পনা করা হচ্ছে একটা জৈবিক অসম্ভাব্যতা বা biological impossibility.
১৯৪৮-এর প্রারম্ভে কিনসে আরও আবিষ্কার করলেন যে, পুরুষের মধ্যে শীর্ষ যৌনপুলক ও বীর্যস্খলন দুটো নির্দিষ্ট এবং আলাদা ঘটনা হতে পারে- যেটা উন্নত যৌনতার ক্ষেত্রে একটা অতীব প্রয়োজনীয় বা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর এবং প্রাচ্যের তন্ত্রীয় দর্শনের একটা অখণ্ড দিক। কিনসে লিখেছেন শীর্ষপুলক বীর্যস্খলন ব্যতীতও হতে পারে। এটা ওইসব পরিপক্ব পুরুষের মধ্যে হয়ে থাকে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের যৌনাঙ্গের পেশিগুলোকে সংকোচন করতে পারে- এই টেকনিকটাকে কয়েটাস রিজার্ভেটাস বলা হয়ে থাকে। এসব পুরুষ প্রকৃত শীর্ষপুলকের অভিজ্ঞতা লাভ করে যাকে প্রত্যক্ষ করতেও তাদের কোনো কষ্ট হয় না, যদিও সেটা হয়ে থাকে বীর্যপাতহীন। ইতিমধ্যে উইলহেমরিচ (Wilhelm reich) তার ভিত্তি হেলানো পুস্তকthe function of the orgasm-এ যেটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়। শীর্ষপুলকের সংজ্ঞাকে আরও স্পষ্ট ও বিস্তারিত বর্ণনা করে যিনি প্রথম যৌন বিজ্ঞান বিশারদ হন, তিনি সেটাকে এমন একটা ঘটনা বলে বর্ণনা দেন যা শুধু যৌনাঙ্গসমূহকে ছাড়িয়ে সমস- দেহকে সমাচ্ছন্ন করে। রিচ বিশ্বাস করতেন যে একজনের আবেগ উত্তেজনাজনিত স্বান্থ্য, তার (স্ত্রী বা পুরুষ) যৌন কার্যকালে সম্পূর্ণ শরীরের শীর্ষপুলক ছেড়ে দেয়ার অভিজ্ঞতার সামর্থ্যের সাথে সম্পৃক্ত। তিনি অনুভব করেছিলেন পূর্ণ যৌনপুলকজনিত বীর্যপাত হচ্ছে উপশমকারী অভিজ্ঞতার অন্যতম। যেটা একজন লোক দৈহিক ও মানসিকভাবে লাভ করতে পারে। তিনিই ছিলেন প্রথম পশ্চিমা যৌনবিজ্ঞানবিশারদ যিনি দেখিয়েছিলেন যে, স্বাস্থ্যপ্রদ যৌন ক্রিয়াকর্ম উচ্চস্তরের সজ্ঞানতার অভিজ্ঞতা লাভের সাথে সম্পৃক্ত।
অপরদিকে রিচের সমস- দেহের কাছে যাওয়ার বিপরীতে উইলিয়াম মাস্টারস এবং ভার্জিনিয়া জনসন মানুষের শীর্ষপুলক প্রতিক্রিয়াকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন। এখানে- দেখিয়েছিলেন একটা পরিমেয় এবং পরিমাপক পদ্ধতি হিসেবে। তারাই ছিলেন গবেষকদ্বয় যারা সর্বপ্রথম সেক্সকে একটা পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণনির্ভর বিজ্ঞান হিসেবে প্রত্যক্ষ করেছেন। তারা ১৯৫৪ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত পরীক্ষাগারে অতি যত্নের সাথে ৭০০ লোকের ওপর একের পর এক গবেষণা করে দেখেছেন, শীর্ষপুলকের সময় তাদের মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল। মাস্টারস এবং জনসন নারী ও পুরুষের যৌন প্রতিক্রিয়ার বিভেদগুলোকে অপসারিত করার জন্য সাহায্য করেছেন। তারা পেনিস ও যোনির সূক্ষ্ম অনুভবগুলোর মধ্যে একটা সমতায় সংঘর্ষে আসার মতো সামঞ্জস্যতার কথা বলেছেন। তারা দেখেছেন যৌনতার প্ল্যাটো স্তরে নারী ও পুরুষের বুকের ধুঁকধুঁকানি এক হয়ে যায় এবং শীর্ষপুলককালে অভিন্ন ছান্দিক সমতায় তাদের পায়ুর পেশিগুলো সংকুচিত হয়। তারা আরও নিশ্চিত করে বলেছেন যে নারীদের যৌন অনুভূতিসমূহ প্রথমত তাদের ভগাঙ্কুরের উত্তেজনার মধ্য দিয়ে আসে, যোনির মধ্য দিয়ে নয়।
১৯৮২ সালে Alice lades, Beverly whipped and john Perry যৌন শীর্ষপুলকের একটা নতুন পরিপ্রেক্ষিত উপস্থাপন করেন, তাদের the G spot নামের পুস্তকে। তারা নিশ্চিতভাবে এটা সংক্ষেপে উপস্থাপন করেন যে নারী ও পুরুষের যৌন-প্রতিক্রিয়া প্রায় সকল ক্ষেত্রেই সমকক্ষ। তাদের আগমন দুটি লিঙ্গের মধ্যস্থি'ত দূরত্বের হাত থেকে আমাদের বাঁচালো এবং ফ্রয়েড প্রদত্ত যৌনাঙ্গের মেরুকরণের হাত থেকেও নিষ্কৃতি দিল। তারা এনে দিলেন নারী ও পুরুষের একে অন্যের জন্য শ্রদ্ধার সাথে যৌন প্রতিক্রিয়ার অনুভব। সবচেয়ে বেশি উত্তেজনাকর ও ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিল তাদের যৌন সম্বন্ধীয় গবেষণা। তাদের আবিষ্কার ছিল যোনির শীর্ষপুলক হয়ে থাকে ‘জি স্পট’-এর মধ্য দিয়ে যেটি হচ্ছে যোনিনালির প্রায় দু ইঞ্চি গভীরের উপরি অংশে ছোট একটা আনন্দ কেন্দ্র। সঠিকভাবে উত্তেজিত হলে স্থানটি ফুলে ওঠে, শক্ত হয়, যোনির অন্যান্য অংশ থেকে বিশেষভাবে আলাদা হয় এবং অনেক নারীর দেহে শীর্ষ যৌনপুলক এনে দেয়। একইভাবে তাদের এই আবিষ্কার ছিল অত্যন্ত প্রয়োজনীয় যে শীর্ষপুলক অনুভবকালে নারীরা একটা স্বচ্ছ তরল পদার্থ নিঃসৃত হওয়ার অভিজ্ঞতা পেতে পারেন, যেটা প্রস্রাব থেকে আলাদা, যোনির পিচ্ছিল পদার্থ থেকে আলাদা এবং একটা অভ্যন্তরীণ বীর্যপাতের সমমানের হয়ে থাকে। ‘জি স্পট’ এবং নারীর বীর্যপাত নিয়ে যথেষ্ট তর্কাতর্কি হয়েছে। অনেক ডাক্তার দুটোকেই অস্বীকার করেছেন। আমার ধারণায় এই মনোভাব হচ্ছে পুরুষের আধিপত্যবাদের প্রতীকী যেটা ধীরে ধীরে অপ্রচলিত হয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে ‘জি স্পট’ আছে, গবেষণায় ‘জি স্পট’ পাওয়া গেছে এবং পরবর্তীতে Eves secrets নামক একটা নারীর যৌনতার নতুন থিওরি 'A new theory of female sexuality' নু জোসেফাইন লাউন্ডার্স সিভলি Josephine lowndes sevely তে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দিয়েছে।
আমার অভিজ্ঞতায় বলে সিভলির সংজ্ঞা সঠিক এবং সঠিক উপদেশ হচ্ছে সর্বসাকল্যে শীর্ষপুলক একটা বেষ্টনকারী ঘটনা যা মন ও শরীরের মস্তিষ্ক ও যৌনাঙ্গের মধ্যস্থিত বহুবিধ চলন- প্রতিক্রিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে। শীর্ষপুলকের একটা দিক আছে, কী করে আপনি সেখানে পৌঁছবেন এটা সে দিকের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয় না বরং এটার একমুখ খোলা যেটা ব্যক্তিত্বের অনুপমতা ও পার্থক্যের প্রতিক্রিয়ার সামর্থ্যের প্রতি শ্রদ্ধাবান।
মানুষের শীর্ষ যৌনপুলক সম্বন্ধে গবেষণা দ্বারা পরবর্তীতে যা পৃথক করা হয়েছে তা আমাদের উন্নত যৌনতা পরিপ্রেক্ষিতের সন্নিকটে নিয়ে এসেছে। তাদের অভিনন্দিত পুস্তক ESO (Extended sexual Orgasm)-এ ডাক্তার অ্যালেন ব্রায়ার ও তার স্ত্রী ডোনা স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করে দেখিয়েছেন যে, যৌন শীর্ষপুলক শুধু এক গুচ্ছ প্রতিক্রিয়া সাধক জিনিস নয় যা সচরাচর ১২ সেকেন্ড স্থায়ী হয়, বরং ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা লাভ করে তাকে ৩০ মিনিট ও তদূর্ধ্ব সময়ের জন্য বাড়ানো যায়। তারা লক্ষ করেছেন যে, এই বাড়তি যৌন শীর্ষপুলকের সময়ে শরীরের জাগরণের লেভেলটা একটু নিচে নেমে আসে। অন্য কথায় আপনার হৃৎপিণ্ডের বিট ও শ্বাস-প্রশ্বাসের সংখ্যা কমে আসে; আপনার রক্তচাপ নিচে নেমে আসে এবং সাধারণত আপনি ঠান্ডা হয়ে যান। যদিও আপনি বাড়তি মাত্রায় গভীর আনন্দ লাভ করেন। এটা উন্নত যৌনতার অন্যতম গোপন তথ্যকে সমর্থন দেয়। উচ্চতর জাগরণের অবস্থায় শিথিল থাকা যদিও Brayers গণ প্রায়ই যৌনাঙ্গের পুলকের পরেই বীর্যপাত প্রত্যক্ষ করেন এবং তার প্রতি দৃষ্টি প্রদান করেন। তাদের যৌনপুলকের বৈষয়িক আনন্দ উৎফুল্লতার উপাদানকে সজ্ঞানতার পরিবর্তিত অবস্থা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, আধুনিক পশ্চিমা যৌনবিজ্ঞানকে তন্ত্রীয় দর্শনের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। যাই হোক তারা কিন্তু শীর্ষপুলকের ভ্রমণটাকে আনন্দ উৎফুল্লতার দিকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যায় না- যেখানে জাগ্রত শক্তিকে এক ধাক্কায় নির্গত না করে অন্য পথে পুনঃ পরিচালিত করা হয়। এটা এমন যেন Brayers গণ তান্ত্রিকদের দ্বারা প্রস্তুতকৃত বৃহৎ মহাদেশের নকশার একটা সমুদ্রতীরবর্তী সমতল ভূমিকে পুনঃআবিষ্কার করলেন, কিন্তু তীরে অবতরণ করে তাকে ভালোভাবে আবিষ্কার করার আহ্বানকে গ্রহণের অপারগতা প্রকাশ করলেন।
স্ট্যামফোর্ড ভার্সিটির জুলিয়ান ডেভিডসন এই মতবাদ প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিলেন যে, শীর্ষপুলক মন ও শরীরের মধ্যে ঘটে থাকে এবং সেটা সজ্ঞানতার একটা পরিবর্তিত রূপ। তার এই অনুমান, আমেরিকার টুলেন ইউনিভার্সিটির নিওরোলজিস্ট বরার্ট জে থি-এর ধারণার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। তিনি আবিষ্কার করেছিলেন যে, মস্তিষ্কের কিছু অংশ যথাযথ এবং সরাসরি তড়িৎ পরিবাহক দ্বারা উত্তেজিত করা হলে যৌন আনন্দের অনুভূতি সৃষ্টি করে। ডা. গিলবার্ট টরজম্যান একজন ফরাসি যৌনবিশেষজ্ঞ। তিনি যৌনাঙ্গ ও মস্তিষ্কের মধ্যের সম্পর্ককে আরও পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেন। তার ব্যাখ্যা হলো ব্রেইন হচ্ছে আমাদের প্রাথমিক যৌনাঙ্গ এবং যার মধ্য দিয়ে যৌনাঙ্গের শীর্ষপুলক অনুভূতিসমূহকে পুনরায় মস্তিষ্কে প্রেরণ করে
বাংলাদেশের বিশিষ্ট মনোশিক্ষাবিদ, মনোবিজ্ঞানী ও মনোচিকিৎসক
অধ্যাপক ডা. এ এইচ মোহাম্মদ ফিরোজ
মানসিক রোগ শিক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসা ও জনসচেতনতায় পথিকৃৎ
সুনর্গ.ইনফু

Tuesday, July 12, 2011

ছেলে ও মেয়ের দেহের যৌনস্পর্শকাতর অংশগুলির পরিচয়

আগের লেখায় বলেছিলাম যে মেয়েদের দেহে শুধুমাত্র যোনি, স্তন আর নিতম্বই তাদের একমাত্র যৌনস্পর্শকাতর অঙ্গ নয়। ওদের বলতে গেলে প্রায় পুরো দেহটিই স্পর্শকাতর। তার মাঝেও কিছু কিছু স্থান রয়েছে যেগুলোতে আদর পেলে তারা চূড়ান্ত উত্তেজনার দিকে তড়িৎগতিতে অগ্রসর হয়। তবে ছেলেদের দেহেরও শুধুমাত্র লিঙ্গই একমাত্র যৌন অঙ্গ নয়। আজকালকের দিনে এমনকি আমাদের দেশের ১০-১২ বছরের ছেলে-মেয়েরা পর্যন্ত জেনে যাচ্ছে কিভাবে সেক্স করতে হয়। তাই বলা যায় বিয়ে তো বহুদূরের কথা, এখনকার ছেলেমেয়েদের গার্লফ্রেন্ড-বয়ফ্রেন্ড হওয়ার আগেই তারা এ বিষয়ে বহু কিছু জানে। কিন্ত তাদের এ জানাই কি যথেষ্ট? ছোটকালে বাচ্চারা একটা খেলা খেলে, এটাকে ওরা বলে ডক্টর ডক্টর খেলা। বিশেষ করে একটি বাচ্চা ছেলে ও মেয়ে খেলার সাথী থাকলেই তারা লুকিয়ে এই খেলা খেলে থাকে। এতে দুজনেই কাপড়-চোপড় খুলে নিয়ে একজন-আরেকজনের যৌন-অঙ্গগুলো নিয়ে খেলা করে, তাদের মাঝে পার্থক্য আবিস্কার করে। সবার অবশ্য এ অভিজ্ঞতা হয়না। তবে সে যাই হোক মোটকথা আমাদের সঙ্গী-সঙ্গিনীকে পরিপূর্ন যৌনসুখ দিতে হলে তাদের যৌনস্পর্শকাতর অঙ্গগুলো সম্পর্কে আমাদের স্পষ্ট ধারনা থাকা দরকার। অনেকে বলতে পারেন কি দরকার? নিজে মজা পেলেই হল। তাদের জন্য বলছি আমার এ প্রয়াস ভালোবাসার অনুভুতিবিহীন যৌন লালসাময় সেক্সের জন্য নয়। যে তার সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে ভালবাসে সে অবশ্যই চাবে তাকে আনন্দ দিতে এবং এতে সে নিজেও আনন্দ লাভ করে।
মূলত ছেলে ও মেয়ের যৌনকাতর অঙ্গগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই Common রয়েছে এবং তাদের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ছেলে বা মেয়ে ভেদে প্রায় একই হলেও কয়েকটি ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্ন। এসকল কিছু উল্লেখপূর্বক এখানে আমি তাদের এ অঙ্গগুলোর বিবরন ছাড়াও কি কি উপায়ে সেগুলোকে উত্তেজিত করে তোলা যেতে পারে তার উপরেও আলোকপাত করেছি। আশা করি সবার ভালো লাগবে।
মেয়েদের ক্ষেত্রেঃ
মেয়েদের দেহের বেশ কয়েকটি যৌনস্পর্শকাতর অংশ আছে যেগুলো সরাসরি তাদের যৌনত্তেজনার সূচনা ঘটায়। সাধারন অবস্থা থেকে এ অংশগুলোর মাধ্যমেই একটি ছেলে তার মাঝে যৌনাভুতি জাগিয়ে তুলতে পারে। আর কিছু অংশ আছে যেগুলো মেয়েটির যৌনত্তেজনার সূচনা ঘটার পরই উত্তেজিত হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে উঠে, অথচ সাধারন অবস্থায় এগুলো উত্তেজিত করার চেষ্টা করলে মেয়েটি এমনকি ব্যাথা বা অসস্তিও বোধ করতে পারে। মেয়েদের সবচাইতে যৌনস্পর্শকাতর অংশটিও এই দ্বিতীয় শ্রেনীর অন্তর্ভুক্ত। So, read on for details.
১. ঠোট ও জিহবাঃ ঠোট নারীদেহের সবচাইতে যৌনত্তেজক অঙ্গগুলোর মধ্যে একটি। ঠোটের মাধ্যমেই সমগ্র নারীদেহ উত্তেজনার সূচনার সবচেয়ে জোরালো সংকেতটি গ্রহন করে থাকে। এতে একটি ছেলের ঠোটের স্পর্শ (আমি লেসবিয়ানদের কথা আমার লেখায় আনছি না, সেটা আরেক ধরনের অনুভূতি।) মেয়েটির সারা দেহে যেন বিদ্যুতের গতিতে কামনার আগুন ছড়িয়ে দেয়। তবে আরেকটি ঠোটের স্পর্শই যে শুধুমাত্র মেয়েটিকে উত্তেজিত করে তুলবে তা নয়। ছেলেরা অন্য ভাবেও মেয়েটির ঠোটের মাধ্যমে তার দেহের মাঝে ভালোবাসা ছড়িয়ে দিতে পারে। আঙ্গুল দিয়ে মেয়েটির ঠোটে হাত বুলিয়ে দেয়া, ওখানে নিজের নাক ঘষা এভাবেও ছেলেটি ওকে উত্তেজিত করে তুলতে পারে। আর ঠোট দিয়েও একবার মেয়েটির উপরের ঠোট আরেকবার ওর উপরের ঠোট চুষে, ফাকে ফাকে ঠোট থেকে একটু সরে গিয়ে থুতনিতে চুমু খেয়ে ওকে tease (এর ভালো বাংলা প্রতিশব্দ আমার জানা নেই। এর অর্থ হিসেবে বলা যেতে পারে কাউকে যৌন আনন্দ দেয়ার উপক্রম করেও না দিয়ে তাকে সে আনন্দ পাবার জন্য আরো পাগল করে তোলা।)করা যেতে পারে। আর মেয়েরা তাদের জিহবা দিয়ে শুধুই খাদ্যের স্বাদ গ্রহন করে না, সঙ্গীর আদরের স্বাদও এর মাধ্যমেই অনুভব করে। তাদের জিহবা একটি ছেলের মুখের ভেতরের উষ্ঞতা খুজে নেয়। এর মাধ্যমে সে ছেলেটির জিহবা থেকে যে অনুভুতি গ্রহন করে তা তার সারাদেহকে ওর কাছে সপে দেওয়ার জন্য উদগ্রিব করে তোলে। চুমু খাওয়ার সময় ছেলেটি মেয়ের মুখের ভিতরে তার জিহবা ঢুকিয়ে দিয়ে নাড়াচাড়া করে তার মুখের ভিতরেও কাঁপন বইয়ে দিতে পারে। আর মেয়েটির জিহবা চুষলে তো কথাই নেই। এভাবে মেয়েটির জিহবার স্বাদ নিয়ে ছেলেটি ওকে আদর করার জন্য মেয়েটিকে আরো উন্মুখ করে তুলতে পারে। তবে মেয়েদের ঠোট ও জিহবা যে শুধুই পরোক্ষ আদরে উদ্বেল হয় তা নয়। মেয়েটি তার সঙ্গীর গালে, গলায়, বুকে, কান এদের স্পর্শ করলে ছেলেটি যেমন আনন্দ পায় তেমনি মেয়েটিও অন্যরকম এক আনন্দ লাভ করে। অনেক পর্ন মুভিতে দেখা যায় যে সেখানে মেয়েগুলো ছেলেদের লিঙ্গ চুষতে খুব পছন্দ করে। বাস্তবে বিশেষ করে আমাদের দেশের বেশিরভাগ মেয়েই ছেলেদের লিঙ্গে মুখ দেয়াটাকে চরম ঘৃন্য একটা কাজ বলে মনে করে। অথচ, বিদেশে বাস্তবেও অনেক মেয়েই ছেলেদের লিঙ্গ শুধু তাকে আনন্দ দেওয়ার জন্যই চুষে না। সে নিজেও এতে আনন্দ পায়। এর মূল কারনই হল তার ঠোট ও জিহবার স্পর্শকাতরতা। ছেলেটির দেহের অন্যান্য অংশে এ দুটি দিয়ে স্পর্শ করে সে যে আনন্দ লাভ করে, একই কারনে নিজের ছেলেটির লিঙ্গের স্পর্শে তার আনন্দ হয়। এক্ষেত্রে একমাত্র বাধা হয়ে দাঁড়ায় তার ঘেন্না; যেটা কাটিয়ে উঠতে পারলেই সে এক নতুন ধরনের যৌনসুখ আবিস্কার করে। তার জিহবার সাথে উত্তপ্ত লিঙ্গটির স্পর্শ, তার মুখের ভিতরে সেটির অবস্থান তাকে তার যোনির ভিতরে এর অবস্থানের চেয়ে কম আনন্দ দেয় না যদি সে একবার বুঝে যায় এর মজা। যোনির চাইতে তুলনামূলক কম যৌনকাতর হলেও মেয়েদের মুখের সচেতনতা এর চেয়ে বেশি; ফলে সে ওখানে ছেলেটির লিঙ্গের অবস্থানের সময় সে এমনকি লিঙ্গের মাঝে উত্তেজিত রক্তের চলাচল, কাপুনি, উত্তাপ ইত্যাদি অনুভব করতে পারে। ভালোবাসার সময় এ অনুভুতি ছেলেটিকে আদর করার জন্য ওকে আরো উদ্বেল করে তোলে। আর তার মুখের ভিতরে যখন ছেলেটি বীর্যপাত করে তখন ছেলেটির উত্তেজনা মেয়েটির মাঝেও ছড়িয়ে পড়ে, তার জিহবা ও ঠোটের মাধ্যমে। যেসব মেয়েরা লিঙ্গ চোষাকে ঘৃনা করে তারা কি করে এর মজাকে আবিস্কার করতে পারে এ নিয়ে আমি কিছুদিন আগে একটা বিদেশি বইয়ের article পড়ে এ বিষয়ে আমার বেশ কয়েকজন close মেয়ে বন্ধুর মতামত নিয়ে ওদের positive response পেয়েছি। শিঘ্রই এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু লিখব।
২. গাল, কপাল, কানের লতিঃ মেয়েদের এ স্থানগুলো তাদের যৌন উত্তেজনার অন্যতম সূচক হিসেবে কাজ করে। এসকল স্থানে ছেলেটির ঠোট ও জিহবার স্পর্শ মেয়েটির দেহের মাঝে তার ভালোবাসাকে ছড়িয়ে দেয়; মেয়েটি বুঝতে পারে, ছেলেটি তাকে চায়, তার সবকিছুই চায়। মেয়েটির এ স্থানগুলো ছেলেটির দ্বারা অবহেলিত হলে সে পরিপূর্ন ভাবে যৌনসুখ অনুভব করতে পারে না। আমার মতে, সেক্স, সে যার সাথেই করা হোক না কেন, তার মধ্যে সামান্য হলেও ভালোবাসা-আদরের ছোয়া না থাকলে এর আনন্দ অসম্পূর্ন থেকে যায়।
৩. গলাঃ মেয়েদের গলায় স্পর্শ ওদের উত্তেজনায় পথে এগিয়ে নিতে যথেস্ট ভুমিকা রাখে। ছেলেটি মেয়েটির ঠোটে চুমু খেতে খেতে এর ফাকে ফাকেই গলায় ঠোট নামিয়ে এনে ঠোট দিয়ে খেলা করলে ওর দারুন এক অনুভুতি হয়। প্রায় সব মেয়েরই গলার অংশটুকু বেশ সংবেদনশীল। মেয়েটির ঠোটে চুমু খেয়ে তার গলায় নেমে আসলে তার যে সুড়িসুড়ির মত অনুভুতি হয় তাতে ও একই সাথে সুখ ও এক ধরনের অসস্তি লাভ করে। ওর মন চায় ছেলেটি ওর গলায় আরো সোহাগ বুলিয়ে দিক আর ওর ঠোট চায় আবার সেখানে ছেলেটির ঠোটের স্বাদ। এভাবে tease করে ছেলেটি মেয়েটিকে উত্তেজনায় পাগলপ্রায় করে তুলতে পারে।
৪. স্তনঃ প্রায় সব ছেলেরই মেয়েদের দেহের সবচাইতে প্রিয় স্থান তার দুটি স্তন। মেয়েদের দেহের সবচাইতে যৌনকাতর অঙ্গগুলির মাঝে যে এটি যে এক বিশেষ ভুমিকা পালন করে থাকে তা বলাই বাহুল্য। ছেলেদের ওদের প্রতি আকৃষ্ট করায় এর জুড়ি নেই। মেয়েভেদে স্তনের আকার যে ছোট বড় হয় সে হিসেবে তাদের স্পর্শকাতরতারও কিছুটা রকমফের হয়। মেয়েদের স্তনের বেশিরভাগটাই চর্বি দিয়ে তৈরী। দেহের চর্বিবহুল অংশগুলোতে এমনিতেই স্পর্শকাতরতা কম হয়। সে কারনেই যে মেয়েদের স্তন বেশি বড় থাকে স্বভাবতই তাদের স্তনের সংবেদনশীলতা তুলনামূলক ছোট স্তনের মেয়েদের থেকে সামান্য হলেও কম থাকে। এজন্যই বেশিরভাগ বড় স্তনের মেয়েরা বেশ জোরে জোরে ছেলেদের হাতে চাপ খেতে পছন্দ করে; তাদের উত্তেজিত করে তুলতে ছেলেদের একটু রুক্ষ ভাবে তৎপর হতে হয়। অবশ্য ছেলেদেরও এক্ষেত্রে কোন আপত্তি আছে বলে মনে হয়না। তাদের স্তনে জোরে জোরে হাত দিয়ে টিপা ছাড়াও ওগুলো চুষার সময় হাল্কা হাল্কা কামড় দিলে তারা দ্রুত উত্তেজিত হয় তবে কামড়টা হতে হবে বোটার আশেপাশে কিন্ত সরাসরি বোটায় নয়। অন্যদিকে মাঝারি ও ছোট স্তনের মেয়েদের স্তনের সংবেদনশীলতা তুলনামূলক বেশি হয়ে থাকে। তাই তাদের স্তন টিপার সময় শুরুতে একটু ধীরে ধীরেই করতে হবে। আর কামড় দেয়ার ব্যাপারেও সাবধান থাকতে হবে কারন বেশি সংবেদনশীলতার জন্য তারা এক্ষেত্রে বেশ ব্যথাও পেতে পারে। তবে ছোট বড় যে স্তনই হোক না কেন, সেগুলো টিপা বা চুষার সময় ছেলেদের সবসময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন দুটি স্তনেই যেন তাদের হাতের ছোয়া থাকে। একটি চুষার সময় অন্যটি হাত দিয়ে টিপতে থাকতে হবে। আর মেয়েদের স্তনে আনন্দ দেয়ার আরো একটি পদ্ধতি হলো ছোট হলে পুরোটাই আর বড় হলে যতটুকু সম্ভব স্তনটি মুখের ভিতরে ভরে নিতে হবে। তারপর জিহবা দিয়ে বোটার উপরে বুলাতে থাকতে হবে। এতে মেয়েরা দারুন মজা পায়। আর মেয়েদের স্তনের মধ্যেও সবচেয়ে স্পর্শকাতর হল তাদের বোটা। তবে বোটায় আদর করার ব্যাপারে ছেলেদের একটু সাবধান হতে হবে। এ প্রসঙ্গে আগের পোস্টে বলেছি। বোটায় আদর করার জন্য প্রথমে মেয়েটির স্তনের অন্যান্য অংশ টিপে তাকে উত্তেজিত করে নিতে হবে। তারপর এভাবে শুরু করা যেতে পারে; ওর স্তনের বোটার উপর হাতের তালু রেখে পিঠা বানানোর জন্য বেলার মত করে হাত বুলাতে থাকতে হবে। এর আগে ওর স্তনে একটু চুষে নিলে আপনার মুখের লালা সেখানে লেগে থাকলে এভাবে তালু দিয়ে বোটাটি ম্যাসাজ করা অত্যন্ত উপভোগ্য হয়ে উঠবে। তারপর মুখ নামিয়ে দুটি ঠোট দিয়ে শুধু ওর বোটাটি চেপে ধরেও চুষা যায়। ও উত্তেজিত হয়ে উঠলে মুখের আরো ভিতরে নিয়ে বোটায় হাল্কা করে দাঁত বুলিয়ে দিলে ওর উত্তেজনা চরমে পৌছাবে।
৫. দুই স্তনের মাঝের ফাকা স্থান (Cleavage): মেয়েদের দুই স্তনের মাঝের এই যৌনত্তেজক ভাজটি তাদের প্রতি ছেলেদের আকৃষ্ট করতে যথেস্ট ভুমিকা পালন করে, কিন্ত বেশিরভাগ ছেলেই এর দ্বারা প্রলুব্ধ হয়ে অবশেষে যখন ওদের নগ্ন স্তনযুগলের দেখা পায় তখন যে এদের মাঝে ওদের যে একটা বেশ স্পর্শকাতর স্থান রয়েছে তা বেমালুম ভুলে যায়। মেয়েরা তাদের স্তনে ছেলেদের মুখ আশা করার পূর্বে অবচেতন মনে তার দেহের যে অংশটি তার সৌন্দর্যকে অপরূপভাবে ফুটিয়ে তুলেছে সেই স্তনের ভাজে ছেলেটির আদর চায়। আমার কাছে আবেগময় সেক্স এর সূচনা কোনপ্রকার Foreplay (এর অর্থ যে সেক্সের আগে এর জন্য মেয়েটিকে প্রস্তুত করে তোলার আদর তা আশা করি ব্যাখ্যা করতে হবে না।) ছাড়া হতেই পারে না। তাই মেয়েটির গলায় চুমু খেতে খেতে ওর দুই স্তনের ফাকা স্থানে ছেলেটিকে মুখ নামিয়ে এনে, এখানে চুমু খেয়ে, জিহবা বুলিয়ে, আদর করলে এমন অবস্থা হবে যে সে নিজেই আপনার মুখ তার স্তনের দিকে টেনে নিয়ে যাবে।
৬. বগলের নিচঃ এটা হয়তবা আপনাদের কাছে নতুন লাগছে। কিন্ত বাস্তবিকই, মেয়েদের বগলের নিচে যে তাদের যৌনস্পর্শকাতর একটি স্থান রয়েছে তা অনেকেরই অজানা। তবে শুরুতেই বলেছিলাম, মেয়েদের কিছু স্পর্শকাতর অঙ্গ রয়েছে যেগুলোতে আদর করে, মেয়েটি যৌনত্তেজিত অবস্থায় না থাকলে, তাকে যৌনসুখ দেয়া যায় না বরং তার ব্যাথা বা অসস্তি হয়। ওদের বগলের নিচ তেমনই এক স্থান। উত্তেজিত অবস্থা মেয়েটির বগলের নিচে চুমু খাওয়া, জিহবা দিয়ে চেটে দেয়া ওর জন্য বেশ যৌনান্দদায়ক।
৭. নাভীঃ মেয়েদের নাভী ও এর আশেপাশের স্থানগুলো মোটামুটি সংবেদী। ওখানে চুমু খাওয়া, আঙ্গুল দিয়ে চাপ দেয়া, জিহবা বুলিয়ে দেওয়া, চোষা ইত্যাদি করা ওকে tease করার এক অনন্য উপায়।
৮. নিতম্বঃ মেয়েদের দেহের সবচেয়ে চর্বিবৎসল অংশ; দেহের যেকোন স্থানের চেয়ে এর সংবেদনশীলতা তুলনামূলক কম (স্কুলে থাকতে যারা নিতম্ব আর ধরুন হাত দুই স্থানেই শিক্ষকের উত্তম মধ্যম খেয়েছেন তারা আশা করি এখনো ভুলেননি কোন যায়গার ব্যথা সামান্য হলেও সহনীয় ছিল?) তাই বলে মেয়েদের সেক্স উত্তেজনায় এর ভুমিকাকে কোনভাবেই খাটো করে দেখা যাবে না। ছেলেদের আকৃষ্ট করায় এর অবদান অনস্বীকার্য। তাই ছেলেরাও চায় একে নিজ হাতে আকড়ে ধরে তার চোখ তার মনে যে তৃষ্ঞা সৃষ্টি করেছিল তা মিটিয়ে নিতে। আর মেয়েরাও তো তাই চায়। ছেলেরা যতই পাগলের মত তার এ ‘গোপন হয়েও উন্মুক্ত’ অঙ্গটি ধরে ধরে আদর করে তারা ততই উত্তেজিত হয়ে উঠে। উম্মাদ-মাতাল সেক্সের বেলায় মেয়েদের নিতম্বে হাত দিয়ে জোরে জোরে চাপর দিয়ে তাদের বেশ উত্তেজিত করে তোলা যায়। তবে রোমান্টিক সেক্সের সময় (বিভিন্ন রকম Mood এর sex যেমন, Rough, Sensual, forced, surprise, fetish, bondage ইত্যাদি সম্পর্কে পরবর্তী কোন লেখায় বিস্তারিত আলোচনা করবো।) সবচেয়ে ভালো উপায় হল মেয়েটির নিতম্বে হাত দিয়ে ম্যাসাজ করে দেওয়া। তবে একেবারে মোলায়েম ভাবে নয়, একটু জোর দিয়ে করতে হবে।
৯. হাটুঃ মেয়েদের হাটু একটি মোটামুটি স্পর্শকাতর অঙ্গ। সরাসরি সেক্সের সময় এর ভুমিকা তেমন একটা নেই তবে সেক্সের সূচনায় এটি বেশ কিছুটা অবদান রাখে। কোন প্রেমিকযুগল একসাথে বসে পড়াশোনা, খাওয়া এসব করার সময়, ছেলেটি টেবিলের নিচে তার নগ্ন পা মেয়েটির নগ্ন পায়ের সাথে স্পর্শ করিয়ে হাটুতে বুলিয়ে দিতে পারে। মেয়েরা এই জিনিস খুব উপভোগ করে। এই ধরনের আদরকে বলা হয় Footsie. এ আদর মেয়েটিও ছেলের পায়ে করতে পারে, ছেলেদের হাটু এক্ষেত্রে মেয়েদের মত অতটা সংবেদী না হলেও মেয়েটির নরম পায়ের স্পর্শ ওর কাছে দারুন লাগে (এটা আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলা!)। সেক্সের মুড তৈরী করতে এর জুড়ি মেলা ভার।
১০. উরু ও পায়ের পাতাঃ মেয়েদের আরো একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর অংশ হল তাদের উরুদ্বয়। বিশেষ করে হাটুর উপরিভাগ থেকে এর স্পর্শকাতরতা বাড়তে বাড়তে উরুসন্ধি, তথা তাদের যোনির আশেপাশে গিয়ে চূড়ান্ত অবস্থায় পৌছে। এটিও সেসব অংশের অন্তর্ভুক্ত যেগুলো দ্বারা সরাসরি মেয়েটির উত্তেজনার সূচনা ঘটিয়ে তাকে যৌন আনন্দ দেয়া যায়। যোনির কাছাকাছি বলে এর মাধ্যমে মূলত মেয়েটিকে যোনিতে স্পর্শ পাবার জন্য উন্মুখ করে তোলা যায়। মেয়েটি যদি স্কার্ট বা নিচ উন্মুক্ত, এমন কোন কাপড় পড়ে থাকে তবে, তাকে চুমু খেতে খেতে যৌনমিলনের শুরুর দিকে তার হাটু থেকে হাত উঠানামা করে উরুসন্ধির কাছে এনে আবার নামিয়ে ম্যাসাজ করলে সে বেশ দ্রুত উত্তেজিত হয়ে উঠে। আর কিছু মেয়ের ক্ষেত্রে শোনা যায় যে তাদের পায়ের পাতা এতটাই স্পর্শকাতর থাকে যে শুধুমাত্র সেখানে আদর পেয়েই অনেকসময় তারা চরম সুখের কাছাকাছি চলে যায়। তবে কমবেশি সব মেয়েরই পায়ের পাতা বেশ যৌনকাতর থাকে। কোন মেয়েকে সারাজীবন আপনার যৌন আদরের পাগল করে রাখার জন্য আমার আগের আর্টিকেলে ওর যোনির প্রতি যে অতিরিক্ত আসক্তি পরিহার করার কথা বলেছিলাম তা অবশ্য পালনীয়। মেয়েটির উপরাংশ উত্তেজিত করেই সহজে তার যোনিতে যাওয়া চলবে না; কারনটি একটু পরে বলছি। তাই মেয়েটির উপরিভাগ উত্তেজিত করে (উপরে সে অংশগুলোর কথা বলা হয়েছে।) সেখান থেকে সরাসরি তার পায়ে চলে যাওয়া যেতে পারে। মেয়েটির পায়ের পাতার নিচ চেটে দেওয়া, তার আঙ্গুলগুলো, বিশেষ করে বুড়ো আঙ্গুল মুখে নিয়ে চুষা, পাতার উপরিভাগে জিহবা বুলিয়ে হাটু থেকে উঠে আসা এসবই তার পা কে উত্তেজিত করে তোলার উপায়। এরপর ওর উরুতে আস্তে আস্তে উঠে সেখানে চুমু দেয়া জিহবা বু্লানো যায়। তবে স্তনের মতই দুই উরুর কোন একটি অবহেলা করে ফেলে রাখা যাবে না। একটিতে আপনার মুখ থাকলে অন্যটিতে একটি হাত থাকতেই হবে। আর এভাবে মেয়েটির নিম্নাংশে, বিশেষ করে উরুতে আদর করার সময় অবশ্যই একটি হাত দিয়ে হলেও সেটি দিয়ে হাত যতখানি যায় মেয়েটির দেহের উপরিভাগের সাথেও স্পর্শ রাখতে হবে। উরুতে জিহবা বুলিয়ে দেয়ার শুরুতে ওর যোনির আশেপাশে জিহবা নিয়ে সেটা স্পর্শ না করেই আবার উরুতে ফিরিয়ে আনবেন, তবে ফাকে ফাকে যোনিতে আঙ্গুলের সামান্য ছোয়া লাগিয়েই আবার সরিয়ে উরুতে নিয়ে যেতে হবে, মেয়েটি আপনার হাত টেনে সেখানে নিয়ে যেতে চাবে। কিন্ত আপনি কিছুতেই নেবেন না। ওর উরুতে জিহবা বুলিয়ে, ফাকে ফাকে উপরে উঠে ওর স্তনে একটু টিপে দিয়ে ওকে আরো উত্তেজিত করে তুলবেন। যতক্ষন পর্যন্ত না ও আপনার মনোযোগ ওর যোনিতে নেওয়ার জন্য বলতে গেলে ধস্তাধস্তি শুরু করে দেয়। এ অবস্থায় ওর অবহেলিত যোনিতে আপনার হাতের স্পর্শ পেলে ও সেখানে আদর পাওয়ার জন্য ও রাক্ষুসী হয়ে উঠে আপনাকেও আদর করতে থাকবে, আর ঠোটের স্পর্শ পেলে কি হবে সেটা আর নাই বা বললাম…আপনি নিজেই দেখে নিন!!
১১. যোনি ও তার আশেপাশের অঞ্চলঃ আহা! এবার সবাই আশা করি একটু নড়েচড়ে বসেছেন? হুম, বসারই কথা। এখন আমরা মেয়েদের সবচাইতে যৌনসংবেদী অঞ্চল সম্পর্কে জানব। এর মাঝে অনেককিছুই হয়তো আপনার জানা আছে এবং অনেককিছুই নেই। সেই না জানা অংশগুলোই হয়তোবা আপনার জানা সবচেয়ে জরুরী। So, read carefully.
মুলত যোনি বলতে আমরা অনেকেই মেয়েদের উরুসন্ধির সমগ্র অঞ্চলটাই বুঝি; কিন্ত প্রকৃতপক্ষে মেয়েদের যে ছিদ্রটি দিয়ে ছেলেদের লিঙ্গ ঢুকে শুধু সেটাকেই যোনি বলে। এর আশেপাশে যে অঞ্চলগুলো রয়েছে, সেগুলোকে বেশ কয়েকটি অংশে ভাগ করা যায়। সংবেদনশীলতায় এদের একটি আরেকটি হতে তুলনামূলক ভিন্ন রকমের। তবে স্পর্শকাতরতায় এ স্থানসমূহ নারীদেহের অন্য যেকোন স্থান হতে বেশি। এতক্ষন পর্যন্ত মেয়েদের দেহের অন্যান্য যৌনকাতর অংশসমূহের কথা আলোচনার সময় আপনারা হয়ত ভেবে বিরক্ত হয়েছেন কেন আমি বারবার বলেছি যে, মেয়েটির অন্যান্য অঙ্গে আদর করে তাকে পাগলের মত উত্তেজিত করার আগ পর্যন্ত তার যোনি ও এর আশেপাশের অঞ্চলে যেতে। এর মূল কারন হচ্ছে যোনির অতিরিক্ত স্পর্শকাতরতা। এর ল্যাবিয়া মাইনরা ও ম্যাজরা অঞ্চল সরাসরি স্পর্শের মাধ্যমে উত্তেজিত করা গেলেও অর্থাৎ মেয়েটিকে উত্তেজিত করে তুলতে যাওয়ার প্রথম দিকে এগুলো নিয়ে খেলা করলে মেয়েটি মজা পায় ঠিকই কিন্ত ওর দেহের সবচেয়ে বেশি যৌনকাতর অঙ্গ, যেটার অন্য নামই হল আনন্দের সুইচ (Pleasure button), সেই ভগাঙ্কুরের (Clitoris) স্পর্শকাতরতা হেলাফেলা করার নয়। মেয়েটি উত্তেজিত না হওয়া অবস্থায় এ স্থানে ছেলেরা তাদের আঙ্গুল ঘষলে বা চুষতে গেলে মেয়েটি আনন্দ তো দুরের কথা বরং হাল্কা অসস্তি থেকে শুরু করে বেশ ব্যথাও পেতে পারে। এর ফলে ওর পুরো সেক্সের মুডটাই নস্ট হয়ে যেতে পারে। আমার ফেসবুকের এক কানাডিয়ান বন্ধুর সাথে একবার এই বিষয় নিয়ে Chat করছিলাম। ও প্রথমবারের মত ওর গার্লফ্রেন্ডের যোনি চুষার সময় হঠাৎ করে ওর গার্লফ্রেন্ড চিৎকার করে ওকে সরিয়ে দিয়েছিল, তার নাকি এতে বেশ ব্যথা লাগছিল। এই ঘটনার পর আমার হতভম্ব ফ্রেন্ড কোনভাবেই ওকে তার যোনি চুষতে দিতে রাজি করাতে পারেনি। আমি ওকে জিজ্ঞাসা করলাম যে ও কিভাবে শুরু করেছিল। ও আমাকে বলল যে সে নিজে সেদিন খুব হর্নি হয়ে ছিল, তাই ওদের Dorm এর রুমে গিয়েই ও পাগলের মত ওর গার্লফ্রেন্ডের জামাকাপড় খুলে তাকে উত্তেজিত করার চেস্টা শুরু করে দিয়েছিল। ওকে সামান্য একটু কিস করেই সে সরাসরি তার যোনিতে গিয়ে আঙ্গুল দিয়ে জোরে জোরে ভগাঙ্কুরটা ঘষে ঘষে সেখানে জিহবা চালাচ্ছিল। আমি তার এ ভুল ধরিয়ে তাকে তার গার্লফ্রেন্ডের বিশ্বাস আবার অর্জন করে তাকে ধীরে ধীরে ভালোবাসার সাথে আদর করার দিকে এগিয়ে যেতে বলি; এ বিষয়ে কিছু টিপস দেই। কিছুদিনের মাঝেই ওদের সম্পর্ক স্বাভাবিক ও আগের চেয়েও বেশি যৌনত্তেজনাপুর্ন হয়ে উঠে। আশা করি আপনাদের এই ছোট্ট ঘটনাটির মাধ্যমে বুঝাতে সক্ষম হয়েছি, কেন মেয়েদের যোনিতে আদর করার পূর্বে তাদেরকে পর্যাপ্ত পরিমান উত্তেজিত করে নেওয়া উচিত। আর হ্যা অনেক ছেলে আছে যারা নোংরা মনে করে ঘেন্নায় যোনিতে মুখ দিতে চায় না। তাদের জন্য বলছি, মেয়েটি যদি সুস্থ-সবল হয়ে থাকে তবে তার যোনিতে কোন ক্ষতিকর কিছু থাকার সম্ভাবনা নেই। ওদের যোনিরসে (যা মেয়েটি যৌনত্তেজিত না হলেও সাধারন অবস্থায় প্রায়ই কিছুটা নির্গত হয়।) ব্যক্টেরিয়া ও ক্ষতিকর জীবানু নিরুদক পদার্থ থাকে যা যোনিকে জীবানুমুক্ত রাখে। নিচে আলাদা আলাদা করে মেয়েদের যোনি অঞ্চলের অংশগুলোর কথা বলা হল।
ক) মোনস পিউবিসঃ যোনির একেবারে উপরিভাগে যে ফোলা ফোলা অংশ থাকে তাকে মোনস পিউবিস বলে। এ অঞ্চলেই মূলত মেয়েদের যৌনকেশ সবচেয়ে বেশি থাকে। অনেকে এ অঞ্চলটিতে যৌনকেশ পছন্দ করেন আবার অনেকে সেভ করা পছন্দ করেন। তবে যেভাবেই হোক এ স্থানটি বেশ সংবেদী। মূলত যোনিতে মুখ দেয়ার আগে, অন্য কোথাও মেয়েটিকে আদর করার সময় ফাকে ফাকে এখানে চুমু খেয়ে ওকে ছেলেরা tease করে থাকে। এই স্থানে যৌনকেশ থাকলে অনেক ছেলে নিচে যোনি চোষার সময় নিজের ঠোটের উপরের স্থানে ও নাকে এই চুলগুলোর সুরসুরি খেতে পছন্দ করে। শুনেছি এটা নাকি এক দারুন অভিজ্ঞতা। আপনারাও চেষ্টা করে দেখতে পারেন।
খ) ল্যাবিয়া মেজরাঃ মোনস পিউবিসের নিচেই সমগ্র যোনি অঞ্চলকে ঘিরে থাকা বড় নিম্ন ঠোট হিসেবে পরিচিত পাতলা চামড়ার অংশটিই এটি। ছেলেদের অন্ডথলির চামড়ার মত একই Embryonic tissue দিয়ে এটি তৈরী। মেয়েটি উত্তেজিত হলে এটি প্রসারিত হয়ে যায়। এটি যথেষ্ট স্পর্শকাতর হলেও, যোনির অন্যান্য অঞ্চল থেক তুলনামূলক কম সংবেদী। এর চারপাশে জিহবার আগা লাগিয়ে লাইনের মত টেনে টেনে, ঠোট দিয়ে চেপে ধরে উত্তেজিত করা যেতে পারে।
গ) ল্যাবিয়া মাইনোরাঃ ল্যাবিয়া মেজরার ভিতরে ভাজে থাকে ল্যাবিয়া মাইনোরা (ছোট নিম্ন ঠোট)।এই চামড়ার স্তরটি ভগাঙ্কুর, মুত্রপথ ও যোনিকে ঘিরে থাকে। অনুত্তেজিত অবস্থায় এটি মেয়েটির যোনিমুখ ঢেকে রাখে। এর ভিতরের স্তরে অসংখ্য ছোট ছোট তেল গ্রন্থি রয়েছে। প্রচূর স্নায়ুকোষ সমৃদ্ধ এ অঞ্চলটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং মেয়েটির যোনি অঞ্চলের উত্তেজনায় গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা রাখে। মূলত যোনি চোষা বলতে এই অংশটুকু চোষাকেই বোঝায়। ভগাঙ্কুরের নিচে যোনিদ্বার ও মুত্রপথের আশেপাশের প্রায় ফুটন্ত গোলাপের মত দেখতে এই অংশটিতে আঙ্গুল দিয়ে নাড়াচাড়া করে, জিহবা দিয়ে চেটে, আইসক্রিম চোষার মত করে চুষে ক্লাইটোরাল বা জি-স্পট অর্গাজমের (এ বিষয়ে বিস্তারিত একটু পরেই বলছি।) জন্য মেয়েটিকে পর্যাপ্ত উত্তেজিত করে তোলা হয়।
ঘ) যোনিঃ নারীদেহের প্রজনন অংগের প্রধান অংশ। ম্যাবিয়া মাইনোরার ভেতরে ক্লাইটোরিস গ্ল্যনড ও মূত্রছিদ্রের নিচেই এর মুখ অবস্থিত। যোনির কথা বলার পূর্বে কুমারী মেয়েদের যোনিপর্দা (Hymen) নিয়ে একটা সাধারন ভুল ধারনা সম্পর্কে বলে নিই। যৌন বিষয়ে অনভিজ্ঞ কিছু লেখকের চটি পড়ে যারা কখনো সেক্স করেননি তাদের অনেকেরই ভুল ধারনা এই যে যোনির সামান্য একটু ভিতরে যোনিপর্দা অবস্থিত, এ ধারনা একসময় আমারও হয়েছিল। কিন্ত প্রকৃত পক্ষে যোনির প্রবেশ মুখেই যোনি পর্দা অবস্থিত। তবে এ পর্দা যোনিকে আংশিক ঢেকে রাখে; এর মাঝে একটা ফুটো থাকে, যার মাধ্যমে মেয়েদের রজঃস্রাব নিসৃত হয়। বেশিরভাগ কুমারী মেয়ের পর্দার এ ফুটো দিয়ে ইচ্ছে করলে আঙ্গুল প্রবেশ করিয়ে হস্তমৈথুন করার মত বড় হলেও, একটি ছেলের লিঙ্গ প্রবেশ করার জন্য এটি যথেষ্ট বড় থাকে না। তাই প্রথম বারের মত কোন ছেলের লিঙ্গ প্রবেশ করার সময় পাতলা এ পর্দাটির মূল অংশটি ছিড়ে যায়। অবশ্য যোনিমুখের আশেপাশে এর অংশবিশেষ থেকে যায়। তবে এটা কিন্ত কুমারীত্বের একেবারে নির্ভরযোগ্য চিহ্ন নয়, অনেক কুমারী মেয়ের জন্মলগ্ন থেকেই পর্দার ফুটো এতই বড় থাকে যে পর্দার অস্তিত্বই খুজে পাওয়া যায় না। সে যাই হোক এবার মূল কথায় আসি। যোনি নারীদেহের অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি অংশ। ছেলেটি মেয়েটিকে আদর করার সময় ওর যোনি উত্তেজিত হয়ে আকারে স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে বেড়ে যায়। এ প্রসারনের ফলে যোনিনলের ভেতরের দেয়ালের মিউকাস মেমব্রেন ও যোনিমুখের কাছাকাছি বার্থোলিন গ্লান্ড বা ছোট ভেস্টিবুলার গ্ল্যান্ড হতে কিছু পরিমান তরল নির্গত হয়ে যোনিমুখ ও পথকে পিচ্ছিল করে তোলে। মূলত এই তরলই আমরা যোনিরস হিসেবে চিনি। এটি কিছুটা অম্লধর্মী, তবে এটি গলধঃকরন করলে কোন ক্ষতির আশঙ্কা নেই। যোনির ভেতরের দেয়ালে রয়েছে বহু স্নায়ুপ্রান্ত যা প্রকৃতপক্ষে ক্লাইটোরিসের শাখা। তাই এখানে কোনকিছু প্রবেশ করলে মেয়েটি দারুন আনন্দ লাভ করে। যোনিতে লিঙ্গ দিয়ে মৈথুন করা ছাড়াও জিহবা ঢুকিয়ে, আঙ্গুল দিয়ে যে মেয়েটিকে মজা দেওয়া যায় সেটা তো সবারই জানা। আর মৈথুন শুরুর পূর্বে কি কি কাজ করতে হবে তা তো এতক্ষন ধরে বলছিই তাইনা? যোনিতে মোটামুটিভাবে ১০-৩০ মিনিট ধরে মৈথুন করলে মেয়েদের অর্গাজম হয়ে থাকে। তবে মৈথুনের পূর্বে পরিপূর্ন উত্তেজনার অভাবে বহু মেয়ে তার সারা জীবনেও এ অর্গাজম লাভ করতে পারে না। এরকম যাতে না হয় সেজন্যই যে আমার এসব লেখা তা তো আগেই বলেছি। আর একটা কথা, অনেকেরই ধারনা ভ্যাজিনাল অর্গাজমের (যোনিতে মৈথুনের ফলে অর্গাজম) সময় মেয়েদের যোনি থেকে গলগল করে রস বেরিয়ে আসে। এটা আংশিক ভুল ধারনা। মেয়েটিকে উত্তেজিত করার সময়ই ওর যোনি দিয়ে যে রস চুইয়ে চুইয়ে বের হয়ে আসে তার মাত্রা সামান্য বেড়ে যায় মাত্র। মেয়েদের প্রকৃত এজাকুলেশন (Ejaculation এর বাংলা ছেলেদের ক্ষেত্রে বীর্যপাত, মেয়েদের ক্ষেত্রে কি বলব?) ঘটে থাকে ওর জি-স্পট অর্গাজমের সময়। সে প্রসঙ্গে একটু পরেই আসছি।
ঙ) ক্লাইটোরিস (Clitoris): নারী দেহের সবচাইতে স্পর্শকাতর অংশ। এটি মূলত কয়েকটি স্পর্শকাতর স্থানের একটি সমন্বয় যা সমগ্র যোনি অঞ্চলের উপরে দৃশ্যমান ও ভিতরের অংশে ছড়িয়ে আছে। অনেকে মনে করে, ল্যাবিয়া মাইনরায় মুত্রছিদ্রের উপরে অবস্থিত সামান্য ফোলা স্থানটিই ক্লাইটোরিস। কিন্ত আসলে সেটি হল সমগ্র ক্লাইটোরিসের অংশসমূহের কেন্দ্রবিন্দু, ক্লাইটোরাল গ্ল্যান্স বা ভগাঙ্কুর। এর একটু উপরে মোনস পিউবিস অঞ্চলের ঠিক নিচেই সামান্য একটু স্থান জুড়ে যে যৌনকেশবিহীন অঞ্চল রয়েছে সেটির চামড়ার নিচে আছে ক্লাইটোরাল শ্যাফট। মেয়েটির ক্লাইটোরাল অঞ্চল উত্তেজিত হলে নলাকার এই অংশটি রক্ত এসে স্ফিত হয়ে যাওয়ায় তা হাত দিয়ে অনুভব করা যায়। এই স্থানে জোরে চাপ না দিয়ে আঙ্গুল বুলিয়ে দেয়া বেশ আরামদায়ক। ক্লাইটোরিসের মূল কেন্দ্র ভগাঙ্কুরে মোটামুটিভাবে প্রায় ৮ হাজারের উপর স্নায়ুকেন্দ্র রয়েছে যা ছেলেদের লিঙ্গের মুন্ডির স্নায়ুকেন্দ্রের তুলনায় প্রায় দ্বিগুন এবং মানবদেহের অন্য যেকোন অংশ থেকে বেশি। এর অত্যধিক স্পর্শকাতরতার জন্য একে উত্তেজিত করে তোলার পূর্বে অবশ্যই মেয়েটিকে চরম উত্তেজনার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে হবে। কারন অনুত্তেজিত অবস্থায় এই টুপির মত অংশটিতে আঙ্গুল ঘষা বা জিহবা বুলানো মেয়েটির জন্য দারুন অসস্তির হতে পারে। ভগাঙ্কুরে আদর মূলত আলতোভাবে আঙ্গুলের স্পর্শ দিয়েই শুরু করা ভালো। সেক্ষেত্রে ভগাঙ্কুরের নিচে মেয়েটির ল্যাবিয়া মাইনোরায় জিহবা দিয়ে চাটতে চাটতে ভগাঙ্কুরে আঙ্গুলি করা যেতে পারে; আস্তে আস্তে আঙ্গুলের গতি বাড়াতে হবে। এভাবে মেয়েটিকে বেশ কিছুক্ষন আদর করার পর আস্তে আস্তে মুখ উপরে এনে জিহবা দিয়ে ভগাঙ্কুরে লাগিয়ে চাটা শুরু করতে হবে। এই সময় মেয়েটির যোনির ভেতরে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিলে সে আরো উত্তেজিত হতে পারে। যোনির ভেতরে প্রথমে একটা তারপর দুটো আঙ্গুল নিয়ে যতটা সম্ভব গভীরে নিয়ে আবার বের করে আনতে হবে, এসময় যোনির দেয়ালে তেমন একটা চাপ না দিলেই ভালো। এরকম কিছুক্ষন করে আবার মুখ নামিয়ে যোনি মুখ জিহবা দিয়ে চাটতে চাটতে ভগাঙ্কুর আঙ্গুল দিয়ে ঘষা শুরু করা যায়। এসময় যোনির ভেতরে একই সাথে আঙ্গুল ও জিহবা ঢুকিয়ে আবার বের করা যেতে পারে। মূলত এভাবেই যতক্ষন পর্যন্ত মেয়েটির অর্গাজম না হয় চালিয়ে যেতে হবে। আর এই পুরো সময়টাতেই অবশ্যই যে হাতটি খালি থাকবে সে হাত দিয়ে মেয়েটির দেহের উপরাংশে যতটুক পারা যায় একটু হাত বুলিয়ে বা একটু চেপে ধরে সংযোগ রক্ষা করতে হবে। এই ভাবে যে অর্গাজম হয় তাকে বলা হয় ক্লাইটোরাল অর্গাজম।
চ) জি-স্পটঃ মেয়েদের যোনির অংশসমুহের মধ্যে সবচাইতে আলোচিত অংশ এটি। আবিস্কারকের নামানুসারে একে গ্রাফেনবার্গ স্পট বা সংক্ষেপে জি-স্পট বলে। এটি মেয়েদের দেহের সবচাইতে স্পর্শকাতর ও আনন্দদায়ক অংশ হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক গবেষনায় জানা গিয়েছে, যে জি-স্পট মূলত ক্লাইটোরিসেরই একটি আংশিক বিচ্ছিন্ন অংশ। অত্যন্ত সংবেদনশীল এ অঙ্গটির অবস্থান হল যোনিপথের সম্মুখ দেয়ালের প্রায় দুই ইঞ্চি মতন ভেতরে, মেয়েদের মূত্রথলির (Bludder) নিচে। যোনির ভেতরটা আঙ্গুল দিয়ে অনুভব করলে, এর প্রবেশপথ থেকে কিছুদুর পর্যন্ত সম্মুখ দেয়ালে (যেদিকে পায়ু আছে তার বিপরীত দিকের দেয়ালে) একটু অমসৃন যায়গার আভাস পাওয়া যাবে (অনেকটা আমাদের মুখের ভেতরে জিহবার বিপরীত দিকে উপরে যে অমসৃন অংশটি আছে তার মত)। এ যায়গাটি ফুরিয়ে গেলেই একটি অগভীর গর্তের মত অংশ পাওয়া যাবে। এই গর্তের মত অংশেই জি-স্পট অবস্থিত। কিন্ত আঙ্গুল ঢুকাতে ঢুকাতে যোনির সম্মুখ দেয়ালের অমসৃন যায়গা পার হয়েও জি স্পট না পেয়ে মসৃন কোন অংশে পৌছে গেলে বুঝবেন আপনি জি-স্পট পার করে এসেছেন, তাই আবার আঙ্গুল নিচে নামিয়ে এনে খুজতে হবে। আঙ্গুলের ডগা দিয়ে জি-স্পট টিপে টিপে মেয়েদের সাধারন ক্লাইটোরাল অর্গাজমের থেকেও বেশি আনন্দদায়ক জি-স্পট অর্গাজম করানো যায়। যে মেয়ে সহজে শীৎকার করে না সেও এই অর্গাজমের সময় পাগলের মত শীৎকার করে উঠবে। এই অর্গাজমেই মূলত মেয়েদের এজাকুলেশন হয়। যারা জানেননা তারা অবাক হবেন একথা শুনে যে মেয়েদের এ এজকুলেটরী রস যোনি দিয়ে নয়, ওদের মূত্রছিদ্র দিয়ে বের হয়ে আসে। অনেক মেয়ে এই অর্গাজম লাভ করেও মূত্রছিদ্র দিয়ে মূত্র বের হয়ে এসেছে মনে করে চরম লজ্জিত হয়ে পরে। কিন্ত পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে এই মূত্র নয়। এতে ক্রিয়েটিনিন, Prostatic acid phosphatase, গ্লুকোজ ফ্রুক্টোজ ইত্যাদি রয়েছে। যা অনেকটা ছেলেদের প্রস্টেট থেকে নিসৃত বীর্যের উপাদান গুলোর মত। এই রসের উৎস Para-urethral tissue মতান্তরে Skene’s glands. কিন্ত জি-স্পট অর্গাজমের জন্যও মেয়েটিকে জন্য উপযুক্ত উত্তেজিত করে তোলা ক্লাইটোরাল অর্গাজমের চেয়েও বেশি দরকার। কারন জি-স্পট ক্লাইটোরাল গ্ল্যান্ড বা ভগাঙ্কুর থেকেও স্পর্শকাতর। তাই অনুত্তেজিত অবস্থা সেটা স্পর্শ করা মেয়েটির জন্য চরম অসস্তির। জি-স্পট অর্গাজমের জন্য মেয়েটিকে প্রস্তুত করে তোলা একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া বলে আপাতত এ বিষয়ে আর কিছু বলছি না। পরে এ নিয়ে আলাদা ভাবে বিস্তারিত কিছু লিখব।
মোটামুটিভাবে এই কয়টি অংশ নিয়েই মেয়েদের যোনি।
১২. পেরিনিয়াম অঞ্চলঃ পায়ুছিদ্রের উপরে ও যোনির নিচে উভয়ের মধ্যকার ফাকা স্থানটিকেই পেরিনিয়াম বলে। মেয়েদের ক্ষেত্রে এ ফাকা স্থান অনেক ছোট হয়। পেরিনিয়ামের চামড়ার নিচে রয়েছে বেশ কয়েকটি রক্তনালী ও Bulbospongiosus muscle যা পিউডেনডাল নার্ভের (এই নার্ভের বর্ননা নিচে দেওয়া হল।) একটি শাখার সাথে যুক্ত। তাই স্পর্শকাতর এই অঞ্চলে আদর পাওয়া মেয়েদের জন্য যথেস্ট উত্তেজনাকর। যোনিতে আঙ্গুলি করার সময় এ স্থানে অন্য হাতের তর্জনী ও বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে আলতো করে চিমটি দেওয়ার মত ধরে টিপে দেওয়া যেতে পারে।
১৩. পায়ুঃ মেয়েদের দেহের কোন অংশে আদর, যেমন স্তন টিপা বা চুষা, যোনিতে আঙ্গুলি বা চূষা ইত্যাদি করার সময় পায়ুছিদ্রের ভিতরে আঙ্গুলি করা তাদের জন্য বেশ আনন্দদায়ক হতে পারে (কেন তা নিচে পিউডেনডাল নার্ভের বর্ননায় বলা হবে)। কিন্ত সে স্থানে লিঙ্গের প্রবেশ তাদের জন্য অত্যন্ত যন্ত্রনাদায়ক হতে পারে। কারন যোনির মত পায়ুনালী লিঙ্গকে যায়গা দেয়ার মত তেমন মোটা ও ফ্লেক্সিবল না। তবে কিছু কিছু মেয়ের পায়ুছিদ্র তুলনামূলক বড় থাকে, তাদের মধ্যে অনেকে এমনকি পায়ুতে লিঙ্গ প্রবেশ বেশ উপভোগ্যও বলেছেন। তবে সাধারনত পায়ুতে আঙ্গুলি করলেও লিঙ্গ প্রবেশ না করানোই ভালো।
মোটামুটিভাবে এগুলোই মেয়েদের দেহের যৌনস্পর্শকাতর অংশ সমূহ। তবে মেয়েদের ঘাড়, পিঠ, পেট এসকল অংশও মেয়েটিকে যৌনত্তেজিত করে তোলার সহায়ক। তাই ওকে আদর করার সময় এগুলোও অবহেলা করলে চলবে না। প্রবন্ধটির এই পার্টে মেয়েদের যৌনস্পর্শকাতর অঙ্গগুলি নিয়েই আলোচনা করলাম। ছেলেদের যৌনস্পর্শকাতর অঙ্গ নিয়ে পার্ট-২ লেখা চলছে। আশা করছি আমার ক্লাস যেদিন থেকে শুরু তার আগেই শেষ করে ফেলতে পারব। সে পর্যন্ত ধৈর্য ধরার জন্য পাঠকের কাছে অনুরোধ রইল। আর প্রবন্ধটি কেমন হল জানাতে ভুলবেন না কিন্ত!
পিউডেনডাল নার্ভঃ আমার আগের পোস্টে Liyele নামের এক পাঠক এর নিচের কমেন্টটি পড়ে মানবদেহের নিম্নাঙ্গের এই স্নায়ুটি সম্পর্কে কিছু লিখতে বাধ্য হলামঃ
“anal penetration to any male is orgasmic due to pudendal nerve innervation which has common supply to glans penis and anus, not that prostrate gland.prostrate is responsible for semen.Reaz chapa maro kom”
তবে এটি প্রবন্ধের বিষয়ের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ন নয়। তো সন্মানিত পাঠক Liyele, আপনি আপনার কমেন্টে বলতে চেয়েছেন যে ছেলেদের পায়ুপথ দিয়ে কোন কিছু প্রবেশ করলে যে অর্গাজমের (সামান্য ভালোলাগার অনুভুতিকে কি অর্গাজম বলা যেতে পারে?) অনুভুতি হয় তার কারন পিউডেনডাল নার্ভের স্নায়ু উদ্দিপনা যা লিঙ্গ ও পায়ু উভয় স্থানে ছড়িয়ে আছে এবং ছেলেদের অর্গাজমের সাথে প্রোস্টেটের কোন সম্পর্কই নেই। এইতো? এই বিষয়ে যদি সত্যিই আপনার বিস্তৃত জ্ঞান থেকে থাকে তবে ব্যাপারটা আরো একটু ব্যাখ্যা করে বলার দরকার ছিল নয় কি? অন্যান্য পাঠকের জন্য বলছি, মূলত পিউডেনডাল নার্ভ হল মানুষের পুরো নিম্নাঙ্গ তথা পেলভিক অংশ জুড়ে ছড়িয়ে থাকা একটি স্নায়ু যা ছেলে মেয়ে সবারই আছে। এটি স্পাইনাল কর্ড (Sacral area) থেকে শুরু হয়ে তিনটি শাখায় বিভক্ত হয়ে যায়। একটি শাখা যায় পায়ু ও রেচন অঙ্গের দিকে, একটি যায় পেরিনিয়াম অঞ্চলে আর একটি যায় সরাসরি লিঙ্গ বা ক্লাইটোরিসে। একারনে ছেলে মেয়ে উভয়ের অর্গাজম ঘটানোতে ও মুত্র বা মলত্যাগের অনুভুতি সৃষ্টি করতে এটি গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রাখে। মলত্যগ করার সময় (স্বাভাবিক মলত্যাগ) আমাদের যে একটু আরামের অনুভুতি হয় এর কারন হল, মলত্যাগের সময় আমাদের মলদ্বারের স্ফিঙ্কটার (Sphincter) নামক রিং আকৃতির যে পেশি মলদ্বারকে মলত্যাগের সময় ছাড়া অন্যসময় বন্ধ করে রাখে, সে পেশির প্রসারন ঘটে এবং এ অনুভুতি পিউডেনডাল নার্ভের মাধ্যমে বাহিত হয়। এভাবে অন্যকিছু মলদ্বারদিয়ে প্রবেশ করলেও এ অনুভুতি হয়। তাই ছেলে মেয়ে উভয়ের চিকন মলদ্বার দিয়ে আঙ্গুল প্রবেশ করালে তা কিছুটা আরামদায়ক এবং অনেকটা যৌনানুভুতির মত, অথচ উক্ত কমেন্টের লেখক বলেছেন এ অনুভুতি অর্গাজমিক বা চরম উত্তেজনাপূর্ন। অথচ অনেক্ষন ধরে তাতে আঙ্গুল দিয়ে মৈথুন করলেও প্রথমদিকে যে অনুভুতি হয় কিছুক্ষন পরেও একই অনুভুতি হয়, এর তীব্রতা বাড়ে না। আর অনেক্ষন ধরে মলত্যাগের অনুভুতি কি খুব বেশি সুখকর, পাঠক মহোদয়? সে যাই হোক, কিন্ত যখন এ মলদ্বার দিয়ে লিঙ্গের মত মোটা কিছু প্রবেশ করে তখন তা যে ব্যথার সৃষ্টি করে, তা বিশেষ করে মেয়েরা সামান্য মলত্যাগের অনুভুতির জন্য সহ্য করতে রাজি হবেই বা কেন? এর ব্যতিক্রম হওয়ার কারন একটু আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। তাছাড়াও শুধু আঙ্গুল দিয়েও মেয়েদের মলদ্বারে প্রবেশ করানো তাদের জন্য বারবার চাওয়ার মত কিছু নয়। ছেলেদেরও তাই হওয়া উচিত ছিল। কিন্ত তা নয় কেন? এর মূল কারনই হল ওদের প্রোস্টেট গ্রন্থি, যেটির মধ্যেও পিউডেনডাল নার্ভের শাখা রয়েছে। ছেলেদের প্রস্টেট গ্রন্থি শুধুই বীর্যের কিছু তরল উপাদান সরবরাহ করে না। এটি অত্যন্ত যৌনকাতর একটি অঙ্গও বটে। লিঙ্গের এজাকুলেশন ছাড়াই ছেলেদের আরেক প্রকার অর্গাজমে যে প্রস্টেট প্রত্যক্ষ ভুমিকা রাখে এ নিয়ে অগনিত গবেষনাপত্র রয়েছে। নেটে একটু সার্চ করলেই আপনারা বুঝতে পারবেন। এছাড়াও ছেলেদের যৌনতা সম্পর্কে যার কিছুটা হলেও ধারনা আছে সেও আপনাকে বলতে পারবে একথা। আমি আপাতত এ নিয়ে আর কথা বাড়াচ্ছি না। প্রোস্টেট নিয়ে বিস্তারিত ছেলেদের দেহের যৌনস্পর্শকাতর অংশগুলো নিয়ে লেখা, এই প্রবন্ধের পার্ট-২ তে আলোচনা করা হবে।
This entry was posted in erotic education. Bookmark the permalink.

নারী পুরুষের কামলিলা দুনিয়া

বাৎসায়ন কামসূত্র

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More