This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label ‍ History. Show all posts
Showing posts with label ‍ History. Show all posts

Thursday, July 21, 2011

প্রাচীন গ্রিসে প্রেম ও যৌনজীবন

বিবাহ বিচ্ছেদ
আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু
কোনো গ্রিক স্বামীর জন্য বিয়েতে ব্যভিচার বলে কোনো কিছুর স্থান ছিল না। বিয়ের কারণে তাকে যাবতীয় নান্দনিক ও যৌন উপভোগ থেকে বঞ্চিত হতে হবে এমন কোনো যুক্তি কারো চিন্তারও বাইরে ছিল। তখনকার গ্রিক সমাজ ও নৈতিকতা পুরুষের বহুগামিতাকে অনুমোদন করত এবং গ্রিক পুরুষরা সেভাবে জীবন কাটাতে অভ্যস্ত ছিল।
কিন্তু এ পরিস্থিতি সত্ত্বেও সংখ্যায় স্বল্প হলেও কিছু কিছু কণ্ঠ, যারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে নৈতিকতা বজায় রাখার দিকটিকে গুরুত্ব দিতেন তাদের মধ্যে অ্যারিস্টটল, আইসোক্রেটস, প্লটাস উল্লেখযোগ্য।
কিন্তু মেয়েদের ব্যভিচার যদি কখনো ধরা পড়ত তাহলে গ্রিক সমাজ কী করত? এর নিশ্চিত সমাধান ছিল বিবাহ বিচ্ছেদ। যার অনিবার্য পরিণতি স্বামীর গৃহ থেকে সংশ্লিষ্ট স্ত্রীকে বহিষকার। কারণ, ব্যভিচারী নারীর গর্ভে জন্মগ্রহণকারী সন্তানের বৈধতা নিশ্চিত করা সম্ভব ছিল না। তাছাড়া স্ত্রীর ব্যভিচারকে স্বামীর মর্যাদার ওপর চরম আঘাত হিসেবে বিবেচনা করা হতো এবং সম্পত্তির মালিকানার অধিকারের ওপর হুমকিস্বরূপ ছিল। আমাদের বিস্মৃত হলে চলবে না যে, ট্রোজান যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল শুধু মেনেলাসের মর্যাদা রক্ষার জন্য।
প্রাচীন গ্রিক সমাজে ‘মর্যাদা’ এবং ‘অসমমান’ এমন দুটি ধারণা অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করত। স্বামীর মর্যাদা এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীতে এথেন্সের আইনপ্রণেতা ড্রাকোনের (ড্রাকোন ঃ খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীর এথেনীয় আইনপ্রণেতা, যিনি সর্বপ্রথম লিখিত আইন তৈরি করেন। এই আইন এত কঠোর ছিল যে, আইনের শব্দগুলো লিখিত হয়েছিল রক্ত দ্বারা) আইন অনুসারে পরিচালিত এক মামলার বিবরণীতে দেখা যায় যে, স্ত্রী ব্যভিচারে লিপ্ত থাকা অবস্থায় স্ত্রীর প্রেমিকাকে স্বামী ধরে ফেলে এবং হত্যা করে। কিন্তু বিচারে স্বামীকে নির্দোষ সাব্যস্ত করা হয়। ক্লাসিক্যাল যুগেও একই আইন কার্যকর ছিল বলে প্রতীয়মান হয়। কারণ ইউফেলিটাসের মামলায়ও সেই আইনের উল্লেখ আছে। জনৈক ইউফেলিটাসকে তার স্ত্রীর ব্যভিচার সম্পর্কে জানানো হলে সে স্ত্রীকে চোখে চোখে রাখে এবং স্ত্রীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত অবস্থায় স্ত্রীর প্রেমিক ইরাটোসথেনিসকে ধরে হত্যা করে। বিচারে আইনজীবী ঘাতক স্বামীর পক্ষেই যুক্তি প্রদর্শন করেন। তাছাড়া অ্যারিস্টটল তার ‘এথেনীয় রাষ্ট্র’ গ্রন্থে আমাদের অবহিত করেছেন যে, একই আইন তার সময়েও কার্যকর ছিল।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যভিচারী নিষকৃতি পেতে পারত জরিমানা দিয়ে। কিন্তু তার কপাল মন্দ হলে শাস্তি হিসেবে তার গুহ্যদ্বার দিয়ে একটি মুলা ঢুকিয়ে দেয়া হতো। এসবের মধ্যেও যারা প্রভাবশালী ছিল ও ফন্দিফিকির জানত, তারা বিনা শাস্তিতেই পার পেয়ে যেত। জনৈক অ্যালসিবিয়াডেসের ঘটনাটি ছিল এরকম-তিনি সপার্টায় নির্বাসিত জীবন কাটানোর সময় রাজা অ্যাগিসের স্ত্রী তিমাইয়ার সাথে যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং তিমাইয়ার গর্ভজাত সন্তানে অ্যালসিবিয়াডেসের সন্তান বলে পরবর্তীতে ধারণা করা হয়। তার স্ত্রী হিপারেটি যখন তাকে পরিত্যাগ করে এবং আইনানুগভাবে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘোষণা দেয় তখন অ্যালসিবিয়াডেস সমাজপতিদের সিদ্ধান্ত অগ্রাহ্য করে জোর করে তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় এবং শাস্তি থেকে নিজেকে রক্ষা করে।
আইনপ্রণেতা সলোনের মতে, ‘কোনো মহিলা যদি ব্যভিচারে লিপ্ত অবস্থায় ধরা পড়ে তাহলে সে অলংকার পরতে পারবে না এবং কোনো মন্দিরেও তার গমন করা উচিত নয়। তাহলে সে অন্য মহিলাদের ব্যভিচারে প্ররোচিত করতে পারে। কিন্তু সে যদি তা করে অথবা নিজেকে সাজায় তাহলে তার সাথে যে পুরুষের সাক্ষাৎ হবে তার উচিত তার পরিধেয় বস্ত্র ছিঁড়ে ফেলা, অলংকার খুলে নেয়া এবং তাকে প্রহার করা। কিন্তু তাকে হত্যা করা অথবা পঙ্গু করে দেয়া উচিত হবে না।’
ব্যভিচারী স্ত্রীকে গৃহ থেকে বহিষকার ও পরে বিবাহ বিচ্ছেদের অর্থ দাঁড়াবে, স্ত্রীর পরিবার যে উপহারসামগ্রী প্রদান করেছিল তা আবার তাদের ফিরিয়ে দেয়া, যা এক ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির শামিল। এ পরিস্থিতিতে অনেক স্বামী-স্ত্রীর ব্যভিচারের অপমান হজম করে স্ত্রীর অনুশোচনাকে অনুমোদন করে তাকে গ্রহণ করত।
অবশ্য বিবাহ বিচ্ছেদের একমাত্র কারণ যে শুধু ব্যভিচার ছিল তা নয়। অনেক কারণেই কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে পরিত্যাগ করতে পারত। যেমন- স্ত্রীর বন্ধ্যাত্ব। বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ দুজন সাক্ষীর সামনে বর্ণনা করতে হতো। কিন্তু কোনো স্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বামীকে পরিত্যাগ করার প্রক্রিয়া কঠিন ছিল। কারণ আইনগত দিক থেকে মহিলাদের সারাক্ষণ প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে কাটাতে হতো। ফলে তাদের পক্ষে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হতো না। তাকে আরকনের (Archon) কাছে লিখিতভাবে জানাতে হতো যে, সে কেন বিবাহ বিচ্ছেদ চাচ্ছে। আরকন অন্যান্য দায়িত্বের মধ্যে নাগরিক অধিকারবঞ্চিতদের বিষয়ে দায়িত্বশীল ছিলেন। যা হোক লিখিত বিবৃতি পাওয়ার পর আরকন সেই বিবৃতির সত্যতা যাচাই করে তার সিদ্ধান্ত প্রদান করতেন।
ইতিমধ্যে বলা হয়েছে যে, কোনো মহিলা তার স্বামীর ব্যভিচারের বিষয় উল্লেখ করতে পারত না, যদিও বিবাহ বিচ্ছেদের প্রকাশ্য কারণ তাই থাকত। এছাড়াও স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে শারীরিক যাতনা ও প্রহারের ঘটনা প্রমাণিত হলেও তা বিবাহ বিচ্ছেদে গড়াত। বিবাহ বিচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট মহিলার নাম প্রকাশ্যে আলোচিত হতো এবং এটা সবচেয়ে অবাঞ্ছিত একটি ব্যাপার ছিল। তালাকপ্রাপ্তা মহিলাদের পুনঃবিবাহে যদিও কোনো বাধা ছিল না, কিন্তু তাদের সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখা হতো।
সপার্টায় যেখানে আইন এবং নৈতিকতা সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের ছিল সেখানে বিদ্যমান পরিস্থিতি সম্পর্কে প্লুটার্ক আমাদের জানিয়েছেন যে, ‘প্রবীণ এক সপার্টান, গেরাডসকে এক বিদেশী প্রশ্ন করেছিল যে সপার্টানরা ব্যভিচারীদের কিভাবে শাস্তি দেয়? তিনি তাকে উত্তর দিয়েছেন- আমাদের মধ্যে কোনো ব্যভিচারী নেই। বিদেশী আবার প্রশ্ন করে, কিন্তু যদি কোনো ব্যভিচারী থাকে? গেরাডসের উত্তর ছিল-তাহলে শাস্তি হিসেবে ব্যভিচারীকে নির্দেশ দেয়া হয় যে, তাকে টেগেটাস পর্বতের ওপর দিয়ে মাথা দেখা যাবে, এমন একটি বড় ষাঁড় দিতে হবে। বিদেশীর তৃতীয় প্রশ্ন ছিল পৃথিবীর কোথায় পাওয়া যাবে এত বিরাট একটি ষাঁড়? এবং গেরাডস উত্তর দেন ঃ অতএব সপার্টায় কোনো ব্যভিচারীর সাক্ষাৎ পাওয়া সম্ভব নয়।’
এছাড়া আরেকটি পদ্ধতি অনুসরণ করতে দেখা যায়, লাইকারগাসের আইন অনুসারে কোনো বয়স্ক অনুর্বর স্বামী তার স্ত্রীর সাথে কোনো যুবকের পরিচয় করিয়ে দিতে পারত, যাতে সেই যুবকের বীর্যে সুন্দর ও বলবান সন্তানের জন্ম ঘটে। এই প্রক্রিয়ায় বিবাহের কোনো ক্ষতি হতো না। অভিজাত বংশোদ্ভূত কোনো পুরুষ বিবাহিত রমণীর গুণে বিমুগ্ধ হয়ে তার স্বামীর অনুমতি চাইতে পারত তার সাথে যৌনমিলনের জন্য, যাতে সে উত্তম বংশের শক্তিশালী সন্তান নগরীকে উপহার দিতে পারে।
এই আইনটি সম্ভবত সুপ্রজননতত্ত্ব হতে উদ্ভূত, যা প্রাচীন গ্রিসে প্রচলিত ছিল এবং এর দ্বারাই নির্ধারিত হতো বিয়ে এবং সন্তানের জন্মদান। এর ফলে দম্পতির মধ্যে ঈর্ষার অনুপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়। তাছাড়া কোনো সপার্টান পুরুষ যদি মনে করত যে, স্ত্রী তাকে যথেষ্ট সন্তান দিয়েছে তাহলে তার জন্য এটা অতি সাধারণ ব্যাপার ছিল স্ত্রীকে তার বন্ধুর কাছে ন্যস্ত করা, যাতে বন্ধুটি তার স্ত্রীর সাথে মিলনের সুখ উপভোগ করতে পারে।
এথেন্স এবং অন্যান্য গ্রিক নগর রাষ্ট্রেও দেখা গেছে যে, কোনো স্বামীর সাথে যদি তার স্ত্রীর গুরুতর বিবাদ উপস্থিত হয় অর্থাৎ স্ত্রী যদি সন্তান ধারণে অক্ষম হয় অথবা পুত্রসন্তান জন্ম দিতে না পারে তাহলে স্বামী সাধারণত স্ত্রীকে তালাক দিতে চায় না, যৌতুক হিসেবে প্রাপ্ত সম্পদ ফিরিয়ে দিতে হবে বলে। বরং সে রক্ষিতার কাছে যায়।
 http://www.sunagro.info

Saturday, July 9, 2011

চীন: পতিতাবৃত্তি, বাস্তবতা, ভণ্ডামি এবং মানব জীবন

যখন অনলাইন তথ্য মাধ্যম সমূহের পাতায়, অনলাইন টিভিতে, ব্যবসায়িক প্রচারপত্র, বিজ্ঞাপন চিত্রসমূহ এবং সমসাময়িক চীন এর জীবনযাত্রার সকল ভার্চুয়াল ক্ষেত্রেই নারীর যৌন আবেদন ( উদাহরণ স্বরূপ, নিচের উচ্চমানের যৌন আবেদন মূলক চিত্র ধারণ করা হয়েছে কিউকিউ এর নারী বিভাগ হতে) এর উপস্থিতি এবং পরিমাণ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে, তখন সম্প্রতি চীনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ শহরে পতিতাবৃত্তি ও পর্ণগ্রাফিতে ধ্বস নেমেছে ।
সাম্প্রতিক দক্ষিণ আফ্রিকায় ২০১০ বিশ্বকাপের সময়, প্রতিদিন সকল তথ্য মাধ্যমের পাতায় যৌনতাপূর্ণ ও অশ্লীল পোষাক পরিহিত নারীর ইঙ্গিতময় নতুন নতুন চিত্র স্থান পেত যেখানে ‘সুগন্ধি মাংস” ধরনের বর্ণনাও থাকত (香肉) এবং “যৌন আবেদনময়ী ফুটবল রমণীরা” (香肉)) যা নির্দেশ করে নারী যৌন উত্তেজনার উৎস) ।
বাস্তবিক মানব যৌনতা
অবশ্যই, নারী দেহ, নারী যৌনতা এবং মানবজাতির যৌনতা সাধারণ ভাবে বলতে গেলে নেতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করার কথা না। যৌনতা ও কামনা প্রদর্শন মানব স্বভাবের বহু পুরাতন লিপিবদ্ধ ইতিহাসের মতই একটা অংশ এবং চীন অবশ্যই প্রথম কোন দেশ বা সমাজ নয় যেখানে যৌনতা রয়েছে (এমনকি চীনের দীর্ঘ ইতিহাসে এটাই প্রথম নয় যে এমন একটা বিষয় আলোচিত হয়েছে)।
ইউরোপ, আমেরিকা, প্রকৃতপক্ষে পৃথিবীর প্রত্যেক সমাজেই তার নিজস্ব সংস্কৃতি, সমাজ ও ব্যক্তির মধ্যে ওতপ্রোতভাবে যৌনতা থাকার প্রয়োজনীয়তা অত্যাবশ্যক। বিশেষ করে বিস্তৃত তথ্য মাধ্যমের সমসাময়িক ধারনার আলোকে এ প্রশ্ন সেই পুরাতন বিষয়কেই নতুনভাবে চালনা করছে।
পুরাতন পেশা
পতিতাবৃত্তি হলো পৃথিবীর “সবচেয়ে পুরাতন একটা পেশা”, যদিও এখনও অনেক দেশ ও আইন জীবন ধারনের এই পন্থাকে নিষিদ্ধ এবং হীনতা হিসেবেই দেখে।
পতিতাবৃত্তির নৈতিকতার তর্ক সীমাহীন এবং অবশেষে ব্যক্তিগত এবং বিষয়ভিত্তিক হলেও পতিতা/বেশ্যা দের চাহিদা অনস্বীকার্য এবং অবদমনীয়। স্বপ্ন এবং ইচ্ছা পুরণের নিমিত্ত হিসেবে যৌনকামনা চরিতার্থ ও উত্তেজনা প্রশমনের উৎস হিসাবে নারীর (এবং স্বল্প পরিমাণে পুরুষের) চাহিদা ছিল, আছে এবং সব সময় থাকবে।
যৌনতা, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মালিকানা, সংস্কৃতি এবং সমাজ এর চরম কিছু জিজ্ঞাসা এই ক্ষেত্রেই বেশ আলোচনার সুযোগ পায়।
যৌন, যৌনতা, অর্থনীতি এবং অধিকার ভুক্ত
নারীর যৌনতা এবং দেহ কার অধীন? আদর্শগতভাবে বলা যেতে পারে কারও না, যদিও দৃঢ় বাস্তবতায় এর উত্তর হলো: সে যে সর্বোচ্চ শক্তির সহায়তায় তার দাবীর সমর্থন আদায়ের ক্ষমতা নিয়ে দাবী উত্থাপন করে-হয়তো সেটা কখনও বিনিময় মূল্যে কিংবা নারী অসম্মতি স্বত্তেও।
সেটা হতে পারে একটি পরিবার, একজন ছেলে বন্ধু, একজন স্বামী, একটি মডেলিং কিংবা বিজ্ঞাপন সংস্থা, সংগীত/সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি, ধর্ম, কোন দালাল অথবা কোন সরকার নিজেই, যে কেউ বা যে কোন কিছুই প্রায় সর্বদাই একজন নারী, তার দেহ, তার যৌনতা, প্রজনন, মন, সম্পর্কসমূহ এবং পছন্দের উপর আপন কর্তৃত্ব এবং/বা অধিকার দাবী করে- এবং প্রায় সর্বদাই তার (নারীর) একক শক্তি সামর্থ্যের থেকে বেশী শক্তির কেউ বা কিছু হয়ে থাকে।
অর্থনৈতিকভাবে, নারীর দেহ এবং নারীর যৌনতা এক মূল্যবান পণ্য। অর্থনৈতিক পণ্য হিসাবে নারীর এই অবমূল্যায়ন হ্রাস করতে কেউ পছন্দ করুক বা নাই করুক, দুনিয়ার প্রত্যেক সমাজেই এই ব্যবস্থা বাস্তবিক এবং নিত্য তাই তা কোন স্থানের, সমাজের এবং সংস্কৃতির উট, গরু, ভেড়া কিংবা ঘোড়াই হোক না কেনো অথবা অন্যদিকে ডলার, ইউরো, ইয়েন বা ইউয়ান এর চুক্তি।
থালাবাসন ধোয়ার সাবান থেকে গাড়ী, খুশকি নিবারক, বিয়ার সব কিছুই বিক্রয়ের জন্য পুরোমাত্রায় নারীর সৌন্দর্য এবং যৌনতাকে ব্যবহার করা হয়, এমনকি পারিবারিক জীবনে ও তাই। উপযুক্ত যৌনতা এবং সৌন্দর্যের অধিকারী নারীগণ কে তাদের ভাবমূর্তির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিক্রির জন্য উপযোগী হিসাবে খুঁজে বের করা হয় ।
গাড়ী ও বিয়ার এবং খেলাধূলার জন্য ভিন্নতর যৌন আবেদন ও ভাবমূর্তি ব্যবহার করা হয় যা গৃহস্থালী পন্যের জন্য ব্যবহার থেকে ভিন্নতর, কিন্তু এ সবই একটা নির্দিষ্ট স্তরের বা ভিন্নতর যৌনতা ও শারীরিক আবেদনেরই সমষ্টি। প্রায় স্বগোত্রভোগীর মত নারীরা নিজেদের যৌন আবেদন তৈরীতে, নিজেকে উপস্থাপন ও গঠনে এবং বিক্রিতে নিজেরাই উৎসাহিত করে, নারীরা এটা করে অন্য পুরষ, প্রতিষ্ঠান এবং বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের জন্য তাদের নিজেদের আরও বেশী যৌন উত্তেজক ও দৈহিক আবেদনময়ী গঠনের করে তোলার নিমিত্তে।
বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করা হয় নারী, নারীর দেহ, নারীর ভাবমূর্তি এবং তাদের যৌন আবেদন দিয়ে বা এগুলোর ভেতর থেকে, এবং এখান থেকেই পতিতাবৃত্তির অপরাধজনিত বিষয় উত্থাপিত হয়: যদি ব্যবসা ও বাণিজ্যেও প্রসারে, ব্যবহারে এবং আর্থিক লাভের জন্য (এবং সরকার কর্তৃক শেষমেষ কর পক্রিয়ার মাধ্যমেও) নারীর যৌনতা গ্রহণ যোগ্য হয় …তবে কেনো বিছিন্নভাবে একা নারীর জন্য একই কাজ অপরাধ বলে পরিগণিত হবে? যদি কোন নারীর জন্য তার নিজ দেহ ব্যবহার ও প্রদর্শন করে আর্থিক লাভ অর্জন অপরাধ হবে, কোনো তবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে নারীর যৌনতাকে এমনকি কিশোরী মেয়েদেরকেও গোপনে যৌন উত্তেজক ও আপত্তিকর উপায়ে ব্যবহার ও প্রদর্শন করেই মোটা অংকের অর্থ উপার্জন অপরাধ হবে না?
নিষ্পেষণ, অপরাধ প্রবণতা এবং রোধ
সামষ্টিক সাফল্য অর্জনের জন্য ব্যক্তি পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ প্রয়োগের জন্য সমাজ প্রকৃতপক্ষে সংস্থা নির্ভর। কোন সমাজে ব্যক্তিগত পর্যায়ে চরম ব্যক্তিগত স্বাধীনতা প্রদান অথবা কোন কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই চরম স্বাধীনতা ভোগী ব্যক্তিদের নিয়ে কোন সমাজ সংগঠন স্বাভাবিকভাবেই অসম্ভব। তাহলে সমাজের কঠোর প্রচেষ্টাটি কি, স্বাধীনতা এবং বাধ্যবাধকতার মাঝে একটা ভাসমান সামঞ্জস্য রক্ষার যথাযথ ব্যবস্থা প্রনয়ণ করাই সমাজের প্রচেষ্টা- অত্যধিক বাধ্যবাধকতা আবার ব্যক্তির মাঝে বন্দিত্ব ও অনৈতিকতার ভাব নিয়ে আসে, অধিক স্বাধীনতা ও সমাজকে সুষ্ঠুভাবে তার প্রয়োজনীয় কাজ করতে দেয় না।
যৌন এবং যৌনতা বিষয়েও এই একই ব্যাপার সত্য- অত্যধিক যৌন স্বাধীনতায় রোগ ছড়িয়ে পড়ে এবং এই রোগ অনিচ্ছুক ও অপ্রত্যাশিত গর্ভধারণের মাধ্যমে পিতামাতার মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। যাই হোক অন্যদিকে কঠোর দমন (বিশেষভাবে সাংস্কৃতিক বিস্তৃত স্তরে) মানসিক ও অনুভূতিগত ক্ষতিসাধন করে যা আবার শারীরিকভাবে, আত্মীয়তার সম্পর্কে বা আত্ম অপব্যবহারের এবং স্বভাবিক আনন্দে, প্রাকৃতিক মানবীয় সম্পর্কে ও যৌনতায় এমনকি সামাজিক ভাবে স্বীকৃত সম্পর্কের স্বাভাবিকতায় অংশগ্রহণে অক্ষমতার সূচনা ঘটায় এমনকি সামাজিকভাবে স্বীকৃত সম্পর্কের স্বাভাবিকতায়।
তাই, এটা একদিকে কৃত্রিম যৌনতা উদ্রেককারী, অর্থনৈতিক লাভের স্বপ্রণোদিত কর্মের উদ্রেক ও সাধের সাঁড়াশির মত চাপ এবং অন্যদিকে মানবীয় যৌন আচরণের সামাজিক নিষ্পেষণ (অনেক সময় ধর্মীয় ও সরকারী সংস্থা কর্তৃক নিয়ন্ত্রণ করা হয় অথবা উৎসাহিত করা হয়) যা সমাজের ব্যক্তি পর্যায়ের সদস্যদের মানবতাকে যুক্ত করে এই সব মানসিক ও অনুভূতির সঞ্চারণ জনিত চরম সামঞ্জস্যপূর্ণ ফলাফল এর সাথে না জয়ী ব্যবস্থায় যা ভৌত বিশ্বে মানুষের নিজেদের মধ্যে অন্যদের সাথে সম্পর্কের সীমানায়।

Friday, July 8, 2011

যৌনতার বাধানিষেধ


যদিও অনেক প্রাণীর মধ্যে সমকামিতার যৌনখেলা বর্তমান। তাদের যৌনতার পরিচালনা হয় বেশিরভাগই উর্বরতাবৃত্তের সময়ে। সাধারণত নারী পশুরাই তাদের গর্ভধারণের সময়কালে পুরুষ পশুদের সাথে মিলিত হওয়ার আগ্রহ দেখায়। পশুদের এই মিলনপর্বের সময়টাকে অর্থাৎ তাদের উর্বরতাবৃত্তের পিরিয়ডকে প্রায়ই বলা হয়ে থাকে এসট্রুস। নারী পশুর গাত্র থেকে এই সময়ে একটা গন্ধ ছড়ায়, যা পেয়ে পুরুষ পশুরা যৌনভাবে উত্তেজিত হয়। এই গন্ধ ছড়ানো শুরু হলেই বুঝতে হবে মাদী পশু এখন এসট্রুস অবস্থায় আছে। এই ধরনের যৌন উত্তেজনার গন্ধকে বলা হয়ে থাকে ফেরোমোন।
অনেক শ্রেণীর পশুদের মধ্যে মাদী পশু প্রায় একই সময়ে সবগুলোর এসট্রুস হয়ে থাকে। তখন ফেরোমোনসের গন্ধে বাতাস পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে, যার কারণে মর্দ পশুদের যৌন উত্তেজনা বেড়ে যায়, যাকে বলা হয়ে থাকে রুট।
বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি যে, ফেরোমোনস মানুষের যৌনতার ক্ষেত্রে কী ভূমিকা রাখে। আমরা নিশ্চিত করে জানি যে, যদিও নারী ও পুরুষের কোনো এসট্রুস বা রুট পিরিয়ড বলে কিছু নেই। এটাই হলো মানুষ ও পশুদের মধ্যে একটা বড় পার্থক্য­ আমাদের যৌন পরিচালনা শুধু প্রজননের জন্যই সীমিত নয়। আমরা যে কোনো সময়েই যৌন জাগৃতির ইচ্ছা করতে পারি, যৌনাঙ্গ চালনা করতে পারি এবং যৌনানন্দ উপভোগ করতে পারি। তাতে নারী উর্বর হোক বা না হোক তা কোনো ব্যাপার নয়। আমাদের মানুষের যৌন পরিচালনা আরো আমাদের সম্ভব করে তোলে ব্যাপক আকারের বিবিধ প্রক্রিয়ায় যৌন জাগরণ ও আনন্দ উপভোগ করা। এসব মানুষের যৌনখেলা পশুদের মতো এতটাই সীমিত আকারের নয়। যদিও আমাদের রয়েছে অনেক বেশি যৌন আনন্দের ক্ষমতা অন্যান্য বেশিরভাগ পশুর চেয়ে, আমাদের যৌন পরিচালনা অনেক বেশি নিষিদ্ধ হতেও পারে।
যেসব বাধানিষেধ যা মানুষের যৌন পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, তা সাধারণত শারীরিক অপারগতার কারণে নয়, যেভাবে অন্য প্রাণীদের ক্ষেত্রে হয় আমাদের যৌনতার বাধানিষেধগুলো হচ্ছে সাধারণত সামাজিক। তারা সেরিব্রাল করটেক্সের মধ্যে বাণীবদ্ধ হয়ে থাকে। ব্রেনের এই অংশের মধ্যেই আমাদের যৌনতার পরিচিতি ও ভালোবাসার মানচিত্র উন্নতি লাভ করে। তারা গঠিত হয় আমাদের জীবন আরো আমাদের পরিবারের সঙ্গে জীবনের অভিজ্ঞতা এবং আমাদের সম্প্রদায়ের সামাজিক ও যৌনতার আদর্শ দ্বারা। এখানেই আমাদের যৌনতার অনুভব বসবাস করে। এই অনুভবগুলো প্রভাবিত করে যে, কীভাবে আমরা যৌনতায় মিলিত হই, কতটা বৈচিত্রতায় আমাদের যৌনতার আচরণ আমরা উপভোগ করতে পারি এবং কতটা আনন্দ আমরা পেতে পারি।
অনেকগুলো অনুভব যা আমাদের আছে তা হচ্ছে যৌনতা সম্বন্ধে বাধা-নিষেধ। এসব বাধানিষেধের অনেকগুলোই আমাদের নিজেদের ও আমাদের সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে সাহায্য করে। উদাহরণস্বরূপ আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ লোকই অন্যকে আমাদের সাথে জবরদস্তি যৌনমিলনের জন্য বাধা অনুভব করি। অন্যদিকে অনেকগুলো বাধা-নিষেধ আছে যা অনুভব করি তা শুধু নিজেদের যৌনভাবে উপভোগ করায় বাধা দেয়। উদাহরণস্বরূপ আমরা চাইতে পারি যে আমাদের সঙ্গী আমার বিশেষ কোনো অঙ্গ স্পর্শ করুক কিন্তু হয়তো আমরা জানি না সেটা জিজ্ঞেস করা সঠিক কি না।
আমাদের যৌনতার বেশিরভাগ নিষেধ জড়িত রয়েছে আমাদের দেহের কল্পনায়, আমাদের আত্মসম্মানের সাথে, ঈর্ষা, হোমোফোবিয়া এবং আমাদের আন্তরিক হওয়ার সামর্থের সাথে।

আজকের যৌনতা


আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন বিদেশের প্রতি আকর্ষণের ১ টা বড় কারণ ছিল সেখানকার মেয়েদের পোশাক আশাক , তাদের যৌনজীবন । সঠিক যৌন শিক্ষার অভাবে -বন্ধু বান্ধব, সিনেমা , টেলিভিশন ও ব্লু-ফিল্ম এর মাধ্যমে তৈরি হওয়া অসুস্থ ও নোংরা যৌন চেতনা থেকে মনে হত সেক্স এর ওপরে দুনিয়ায় আর কোন কিছু নাই...এত্ত এত্ত সেক্স করাই জীবনের সার্থকতা...বাংলাদেশেও যে কবে OPEN SEX এর দেশ হবে সেই আশায় বসে থাকতাম...
কিন্তু যখন বড় হওয়া শুরু করলাম (ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে)- বাস্তবতা ততই বুঝতে পারলাম। আমার মতো সাধারণ একটা ছেলের তীব্র আকাঙ্ক্ষার পাশ্চাত্যের “উত্তেজনাকর”, “জোস” ব্যাপারগুলোর বেশীরভাগই যে আসলে কিরকম বিকৃত তা দিন দিন বোঝা শুরু করলাম...
মানুষের লিঙ্গ ২টা – পুরুষ আর নারী । দুনিয়ায় মানুষ আগমনের শুরুতে ব্যাপারটা কেমন ছিল তা আমার জানা না থাকলেও পরবর্তীতে কোন এক কারণে নারীকে “কমজোর”,”নির্ভরশীল” মনে করা শুরু হল- ফলে মেয়েদের কাজকর্ম , চিন্তাধারা অনেকটা “কমজোর” ও “নির্ভরশীল” দের মতো হয়ে গেল...ধীরে ধীরে হাজার বছরের বিবর্তনের ধারায় এই ধারনা ছেলে- মেয়ে সবাইকে গ্রাস করল-মেয়েরা প্রকৃতপক্ষেই “কমজোর”,”নির্ভরশীল” তথা দ্বিতীয় লিঙ্গ হয়ে গেল...
কেউ যেন মনে না করে যে এটাই প্রকৃতির নিয়ম- নারীদেরকে এভাবেই পুরুষের চেয়ে “নিম্নমানের” ভাবে তৈরি করা হয়েছে । বরং সকল মানুষ ই জন্মের সময় প্রথমে মেয়ে থাকে । কয়েক সপ্তাহ পরে Y chromosome মেয়েকে ছেলে বানায় । মেয়েই আসে শুরুতে তারপর ছেলে। মেয়ে থেকেই ছেলের উৎপত্তি (*১)। আর আজকের এই দশা ক্রমান্বয়ে এসেছে ক্রমাগত বিবর্তনের এক ধারায়। বিবর্তনের বিপক্ষে প্রচুর সমর্থক আছে পৃথিবীতে – বাংলাদেশে তো ভরপুর । কিন্তু বিবর্তন আজ পরীক্ষিত সত্য। চাইলে ইন্টারনেটে মুক্ত মন নিয়ে সার্চ দিন- বুঝবেন , প্রমাণ পাবেন ।অন্যান্য বিশাল বৈজ্ঞানিক যুক্তি-প্রমাণ বাদ দিয়ে সহজ ২টা উদাহরণ দেই । (আমি বায়োলজির ছাত্র না- তাই সেগুলো ভালমতো বলতেও পারব না , তবে ব্যাপারটা যে সত্য টা আমি খুব ভালোভাবে জানি ।আর বিজ্ঞান বিশ্বাসের ব্যাপার না- জানার ব্যাপার –যুক্তি-তর্কের ব্যাপার)
উদাহরণ ১:
আমরা সবাই জানি সন্তানের জন্ম দিতে মায়েদের কি পরিমাণ কষ্ট হয়। সবচেয়ে বড় কষ্টকর ব্যাপারটা হল সন্তানের মাথা বের হওয়া । যে পথ দিয়ে সন্তান বের হয়- তা এই কাজের জন্য সঠিক মাপের নয় । বিজ্ঞানীরা দেখেছেন আদিম যুগে মানুষের মাথা ছিল ছোট ! তখন প্রসবকালে এতটা কষ্ট হত না। কিন্তু মানুষের মস্তিষ্কের উন্নতি হয়েছে দ্রুত- তাই মাথার আকার বেড়েছে – কিন্তু Vagina তো তার সাথে তাল মিলিয়ে বড় হয়নি । আর তাই দিন দিন মায়েদের প্রসবকালে যন্ত্রণা বাড়ছে। এটা কি মনো-দৈহিক বিবর্তন এর প্রমাণ না?
উদাহরণ ২:
প্রাচীনকালে মানুষের শারীরিক কাঠামো ছিল ভিন্ন- শক্তি ছিল অনেক বেশি । ধীরে ধীরে মানুষ বাহুবলের বদলে নিজেদের প্রজ্ঞা , মেধা , বুদ্ধিকে ব্যবহার করেছে- পেশী শক্তির চেয়ে মাথার পরিশ্রম , ব্যবহার হয়েছে বেশি – ফলশ্রুতিতে আজকের মানুষ আগের দিনের মানুষের চেয়ে অনেক ভিন্ন- শারীরিক ক্ষমতা কম- কিন্তু মস্তিষ্কের ক্ষমতা অনেক বেশি... আদিম যুগের মানুষের বৈজ্ঞানিক নামটা পর্যন্ত আলাদা । বিবর্তনের মাধ্যমে দিন দিন কত নতুন ভাইরাস,ব্যাক্টেরিয়া তৈরি হচ্ছে...(এরা ক্ষুদ্র বলে বিবর্তন-মিউটেশন সহজে হয়) এর পরও যদি কেউ বিবর্তনে বিশ্বাস না করে- তাকে বোঝানোর কোন মানে নেই । মানুষ বিবর্তনের মাঝ দিয়ে এসেছে- এটা নিয়ে হয়ত ধর্মীয় কারণে তর্ক থাকতে পারে। কিন্তু মানুষ আগমনের পর থেকে যে বিবর্তিত হয়েছে- এই সত্যটা আশা করি সবাই মানবেন।
কিছু মানুষ আছে যারা বাঘ-কুকুরের উদাহরণ দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করে যে প্রকৃতির নিয়মই হল মেয়েরা পুরুষের “আনন্দের” জন্য তৈরি । হুমায়ূন আহমেদ টাইপ কিছু লেখকও এই ধরনের চিন্তা আমাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেয়। কিন্তু তাদের মাথায় তখন পিঁপড়া , মৌমাছি , Betta strohi মাছের উদাহরণ মাথায় আসে না। (*৪)বাঘিনী,মেয়ে-কুকুর যেমন বাঘ-কুকুরের ছেড়ে যাওয়া সন্তানকে আগলে বড় করে, ছেলে Betta strohi ও তেমনিভাবে Betta strohi সন্তান মুখে আগলে রেখে বড় করে। এরকম মাছ আরও অনেক আছে । কিছু প্রজাতিতে পুরুষ মুখে ডিম নিয়ে তা দেয় ।এদেরকে Mouthbrooder মাছ বলা হয় ।আর কিছু প্রজাতিতে পিতা সন্তানের সাথে সাথে থাকে- বিপদে পোনারা তাদের বাবার মুখে ঢুঁকে যায়...নিশ্চয়ই টিভিতে দেখেছেন এটা। পিঁপড়া – মৌমাছিদের সমাজে নারী যে পুরুষের ঊর্ধ্বে তা তো সবাই জানে ।আসলে প্রকৃতিতে ২ টাই ঘটে । কোন প্রজাতিতে পুরুষ হয় “নায়ক”, কথাও নারী হয় “নায়ক” (“নায়িকা” না )। তাই “প্রকৃতির নিয়মে নারীরা পুরুষের চেয়ে নিচে” –এই ভাবনা যেন কারও মাঝে না থাকে ......এটা আমাদের সৃষ্টি করা নিয়ম – প্রকৃতির না । কোন এক সময় মেয়েরা পুরুষের চেয়ে “দুর্বল” হয়ে গিয়েছিল সাময়িকভাবে । পরে তারা সেই “দুর্বলতায়” অভ্যস্ত হয়ে যায় । আর হাজার বছরের পরিক্রমায় এই দুর্বলতা তাদের জিন এ গেঁথে গেছে পাকাপাকিভাবে ...
প্রাচীন ধর্ম ও সমাজব্যবস্থাগুলো ও তাই প্রমাণ করে । সেখানে নারীরাই ছিল “নায়ক” । সময়ের সাথে এক বিকৃত বিবর্তনে নারীজাতি আজকের “মেয়ে” তে পরিণত হয়েছে । আর তাই পরবর্তী সময়ে আসা ধর্ম-সমাজ সবকিছুতে “নারীরা দুর্বল” ফুটে উঠেছে ।
আমি আসলে এখনো আমার মূল বিষয়ে আসিনি । আমার লেখার বিষয়বস্তু প্রাচীনকাল বা বিবর্তন না- বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ।
আবার ছোটবেলায় ফিরে যাই-
একটু আধটু জ্ঞান হবার পর থেকে মাথায় ১টা জিনিস কাজ করত –পাশ্চাত্যের “উন্নত” দেশগুলোতে নারী-পুরুষ বৈষম্য অনেক কম । ওখানকার মেয়েরা Freely কাজকর্ম করে – রাস্তায় চলাফেরা করে । তারা ছেলেদের মতই পোশাক আশাক পরে । অযথা নিজেকে অতিরিক্ত ঢেকে ঢুঁকে রাখে না । ওখানে ছেলে মেয়ে হাজারবার সেক্স করলেও কেউ খারাপভাবে তা দেখে না। এটাই তো ন্যাচারাল- এটাই তো হওয়া উচিৎ । আর এ জন্যই ওরা আসলে এত উন্নত ।যত সমস্যা আমাদের এই কনজারভেটিভ দেশগুলোতে ।
কিন্তু ঘটনা কি আসলেই তাই?
আবার মন দিয়ে এখন সেই মুভিগুলো দেখা উচিৎ আমার, যেগুলো দেখে এই ধারনা তৈরি হয়েছিল । তাহলে আমি হয়ত এখন দেখতে পেতাম (যা তখন পাইনি) তা হল মুভিতে নায়কটা পুরো সিনেমাতে সাধারণ কাপড় পরে অভিনয় করেছে। দরকারে ২-১ বার হয়ত জামা খুলেছে কিন্তু এর বেশি কিছু না... আর মুভির নায়িকাটা? সে তো মোটামুটি ৫০ ভাগ দৃশেই তার স্তনের কিয়দংশ বের করে রেখেছে , হাঁটুর নিচে কাপড় যায়ই না। জামার হাতা- সেটা আবার কি????ছেলেরা শৌর্য-বীর্য , “Personality”, পেশা –এসব মানবিক(পেশা মানবিক না হলেও সেটা নিজের মন-মাথা দিয়েই বেছে নিতে হয় ।) দিক দিয়ে আকর্ষণীয় হবে (শারীরিক সৌন্দর্য তো আছেই, কিন্তু ছেলেদের ক্ষেত্রে তা এসব দিয়ে পোষায় নেয়া যায় ),বিপরীত লিঙ্গকে আকর্ষণ করবে । আর মেয়েরা তাদের রূপ-সৌন্দর্য আর শরীরের মতো বস্তুগত জিনিস দিয়ে তা করবে...তাহলে মেয়েদের সাথে বস্তুর কি পার্থক্য?
পাশ্চাত্যে মেয়েদের normal dressup ই হয়ে গেছে শরীর দেখানো মতো। আমাদের কারো চোখে এটা খারাপ, আবার কারও বা HOT, SEXY লাগলেও তাদের কাছে এটা স্বাভাবিক ।
“তাদের কাছে এটা স্বাভাবিক” –এই কথাটা আমরা প্রায়ই বলি এবং পুরো ব্যপারটা পাশ কাটাই Culture এর দোহাই দিয়ে । কিন্তু ১টি বার ভাবুন- ছেলেরা নিজেদের শরীর ঢেকে ঢুকে রাখবে আর মেয়েরা যথাসম্ভব তা দেখিয়ে বেড়াবে , ছেলেরা মানবিক গুন দিয়ে আকর্ষণীয় হবে আর মেয়েরা দেহ দিয়ে হবে – এটা যখন ১টা সমাজের চোখে “NORMAL” লাগে তখন সেই সমাজের আর কি বাকি থাকে?? (যেভাবে চলছে তাতে হয়ত একদিন আমাদেরও এটাই “NORMAL” লাগবে- আর খারাপ মনে হবে না...)
অনেকে নারীদেহকে “অনিন্দ্য সৌন্দর্য”, “দেখার মতো জিনিস”, “সুন্দর সৃষ্টি” ইত্যাদি উপমা দিয়ে সেটাকে “মেলে ধরার” পক্ষপাতী । কিন্তু এই “নারীদেহ” কাদের কাছে “অনিন্দ্য সৌন্দর্য”, “দেখার মতো জিনিস”, “সুন্দর সৃষ্টি” ?? অবশ্যই তা ছেলেদের কাছে ...আর মানেন আর না মানেন এর কারণ যৌনতা ছাড়া আর কিছু না । (কিছু অনবদ্য শিল্পকলায় হয়ত সত্যিকার অর্থেই Neutrally শুধুমাত্র সৌন্দর্যের sense থেকে এর বন্দনা করা হয়েছে- কিন্তু তার সংখ্যা নগণ্য । আর ওগুলো special case- ওগুলো ১ শতাব্দীতে ২-১টা সৃষ্টি হয় )
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে আমরা ধরেই নিয়েছি ছেলেদেরকে আনন্দ দেয়া, যৌন সুড়সুড়ি দেয়াই মেয়েদের কাজ !!! তাই নয় কি ??? নারীরা শো-কেসে সাজানো শো পিস এর মতো – প্রদর্শিত হওয়াই তাদের কাজ । পুতুলের প্রাণ নেই-তাই কেউ তাকে আনন্দ দেয় না । ছেলেরাও মেয়েদেরকে আনন্দ দেয়ার জন্য জননাঙ্গ অর্ধেক বের করে ঘুরে না,জননাঙ্গ চেপে ধরা-ফুলে থাকা পোশাক পরে না । কিন্তু মেয়েরা তাদের জন্য এটা করে...এবং খুব আনন্দের সাথেই করে এবং তারপর “নারী স্বাধীনতা” নিয়ে লাফালাফি করে ...... তারা নিজেরাই নিজেদেরকে ছেলেদের পণ্যে পরিনত করেছে – নিজেদেরকে শুধুই আনন্দের খোরাক বানিয়ে ফেলেছে । কি উন্নত যুগে আমরা বাস করছি!!!...আর আমাদের মনের অজান্তেই (কারণ আমরা মন বন্ধ করে রাখি-ভেবে দেখি না কিছু) এই নোংরা চিন্তাধারা আমাদের মনে গেঁথে যাচ্ছে... অসভ্য বর্বর যুগে আবার ফিরে যাচ্ছি আমরা নতুন আঙ্গিকে ...
পরবর্তী আলোচনায় যাওয়ার আগে একটা জিনিস নিয়ে কথা বলা দরকার –বর্তমান ভারতীয় কালচার ।
ভারত এখন দুনিয়ার সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশগুলোর ১টা । সম্মান করার মতো নানা দৃষ্টান্ত আছে ভারতের । কিন্তু আজ আমি তাদেরকে ঘৃণা করার ২-১ টা কারণ বলব-
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ৫ জন ধনীর ২ জন ভারতের ।আবার সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যেও প্রথম সারিতে আছে ভারত । বৈষম্যের এই তীব্রতা শুধু অর্থনৈতিক না- এটা তাদের দেশের সবখানে । জ্ঞান- বিজ্ঞান , শিক্ষা – এসব দিকে না গিয়ে আজ তাদের কালচার নিয়েই শুধু কথা বলব ।
ভারত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র , কিন্তু তাদের দেশের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সারা বিশ্বে কুখ্যাত । তাদের দেশে সাম্প্রদায়িক দল নির্বাচনে দাঁড়ায়। ভারতে আইন করে সমকামিতা , Live Together সিদ্ধ করা হয়েছে । কিন্তু আজও তাদের দেশে সতীদাহের খবর পাওয়া যায় ...
ভারতের টিভি চ্যানেলগুলোর বাংলাদেশে রমরমা কদর । এসব চ্যানেলে দেখানো হয় ঝকঝকে তকতকে এক কালচার । দেখে মনে হয় ভারত আমেরিকাকেও হার মানিয়েছে । মেক-আপের সাগরে ভাসা সিরিয়ালের পাত্র-পাত্রী(অপূর্ব কাহিনী ও অসাধারণ শব্দশৈলীর কথা এখানে না-ই বললাম...), আলোয় উদ্ভাসিত ঝকঝকে তকতকে প্রাসাদতুল্য ঘরবাড়ি দেখে মাথা ঘুরে যায়। দেশের বাইরে শুটিং হওয়া অধিকাংশ সিনেমা দেখে মনে হয় ভারত আর আমেরিকা তো একই জিনিস ।
কিন্তু ভারত কি আসলে তাই??
ডিডি ন্যাশনাল টাইপের সরকারী ভারতীয় চ্যানেল-এ এখনো প্রাথমিক শিক্ষা , টিকা দান, কন্যা সন্তানকে মানুষের মর্যাদা দেয়া, বাল্যবিবাহ রোধ করা নিয়ে বিজ্ঞাপন দেখানো হয়...
ভারতের “মিডিয়া কালচার” কিন্তু পুরপুরি মিথ্যা না- এটা ভারতের মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের কালচার , যারা পাশ্চাত্যকে অনুকরণ করার ছ্যাঁচড়া পণে ব্রত । এই কালচার আসল ভারতের, ভারতবর্ষের কালচার না । এটা ১ টা বিকৃত ধারা । যে ধারা নোংরামিতে এখন ১ নাম্বার । ইংলিশ মুভিও বাবা-মা সহ দেখা যায়- হিন্দি যায় না । একেকটা হিন্দি গানের ভিডিও তো বিকৃত-মনের মানুষেরও ঘিন্না ধরায় ।আর গানের কথা?”আমার নাম শীলা,শীলার অনেক যৌবন,আমি প্রচণ্ড যৌন আবেদনময়ী-কিন্তু আমি কারও ‘হাতে’ যাই না...” প্রতিটা গানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অর্ধ-নগ্ন মেয়েদের নোংরা নাচ। Hollywood এর ভাল দিকগুলো তারা গ্রহণ করতে পারেনি।পারেনি তাদের নিজ কালচারকে ধারণ করতে । আবার Western এর মতো পুরপুরি নগ্ন ও হতে পারেনি । কিন্তু অনুকরণ তো করতেই হবে... তাই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে তাদেরকে অর্ধ-নগ্ন থাকতে হবে - নইলে তো আর “আধুনিক” হওয়া যাবে না- “স্মার্ট” হওয়া যাবে না... Western Culture এর চেয়েও ভয়াবহ নোংরা কালচার আমাদের পাশে ফণা তুলে বসে আছে আর দংশাচ্ছে পশ্চিমাদের চেয়ে অনেক অনেক বেশি ...
এতক্ষণ ভারত নিয়ে অনেক কথা বললাম- কারণ বিশাল ভারতের পাশে আমরা ছোট্ট ১টা দেশ । সবদিক দিয়ে তাদের দ্বারা আমরা প্রবলভাবে প্রভাবিত। ভারতীয় চ্যানেল , সিনেমা – সবকিছুরই অবাধ বিচরণ বাংলাদেশে । এই অবাধ বিচরণ কিন্তু থামানো যাবে না। চেষ্টা করাও হবে বোকামি । এই যুগে আমরা অবশ্যই সবকিছুর সান্নিধ্যে আসব- আসতেই হবে । কিন্তু সেই সবকিছু থেকে আমরা খারাপটাকে চিনে নিয়ে বর্জন করতে পারব না? এটা তো আমাদেরকেই করতে হবে ।এতটুকু বুদ্ধি-বিবেক-শক্তি আমাদের নেই??
আমাদের দেশের বেশীরভাগ মেয়ের(মেয়ে=মেয়ে,মহিলা সব...) প্রিয় টিভি চ্যানেল হিন্দি সিরিয়ালের চ্যানেলগুলো । সিনেমা ও সিরিয়ালের জগতই তাদের কল্পনার জগত । নাজিয়ার মতো ২-১ টা মেয়ে আছে যারা M.I.T তে গিয়ে বুঝিয়ে দেয় মেয়েরা সবদিক দিয়েই সব পারে ।কিন্তু অন্য মেয়েরা তা বুঝতে চায় না। আর তাই ম্যাথ অলিম্পিয়াডে ১০ টা ছেলের পর ১ টা নাজিয়াকে পাওয়া যায় । কিন্তু সভ্য সমাজের সব মেয়েই তো এখন পড়াশুনা করে- তাহলে সমস্যাটা কী?
সমস্যাটা হল স্কুল-কলেজ-প্রাইভেট-Boyfriend-“JUST FRIEND” এই কয়টা জিনিস ই তাদের জগত ।(ছেলেদেরও তাই) তার সাথে আছে সিনেমা-সিরিয়াল ও তথাকথিত আবেগ এর ভার্চুয়াল জগত । এর বাইরে আর কিছু নাই। আধুনিকতা প্রকাশের জন্য বসুন্ধরা সিটিতে বান্ধবী ,Boyfriend ও “JUST FRIEND” দেরকে নিয়ে ঘোরা যায়, ভ্যালেন্টাইন্স-ডে তে কার্ড-চকলেট কেনা যায় । কিন্তু সাইন্সের স্টুডেন্ট হয়ে “কলেজ বায়োলজি” ছাড়া আর কোন আধুনিক বিজ্ঞানের(আধুনিক শব্দটি না হয় বাদ-ই দিলাম) বই কিনে পড়া হয় না।
বাংলাদেশে মোটামুটি সব মেয়ের ই “স্বপ্ন” থাকে ডাক্তার হওয়া । প্রতি বছর সরকারি মেডিকেলে অর্ধেকের মতো মেয়ে ভর্তি হয়। বের হয় কয়জন তা আমি সঠিকভাবে জানি না , তবে এই বছর বগুড়া মেডিকেল থেকে মেয়ে পাশ করে বের হয়েছে ৫ জন । (ভর্তি হয়েছিল ঠিক অর্ধেক) । পুরো মেডিকেল এর পরিসংখ্যানটাও এরকম ই হবে হয়ত । দেশে ভাল মহিলা ডাক্তার কয়জন আছে তা দেখেও বোঝা যায় যে জাস্ট ১টা রোমান্টিক তথা আবেগী চেতনা থেকে তারা মনে করে তারা “স্বপ্ন” দেখে ,কিন্তু আসলে তা সত্যিকারের স্বপ্ন নয় (অনেক মেয়ে দেখে কিন্তু সমাজের কারণে তারাও আগাতে পারে না-“ডাক্তারির এত লম্বা পড়া শেষ করার পর বুড়ি মেয়েকে বিয়ে করবে কে?”-এই মহান চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তারা পড়াশুনার মাঝেই মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেয় আর ভাবে “বিয়ের পরে পড়বে-সমস্যা কী?” কিন্তু তারা নিজেরাও জানে যে সেটা কত বড় সমস্যা ) সারাদিন কোচিং করে- বই মুখস্থ করে প্রশ্ন কিনে তারা মেডিকেল এ Chance পায় এবং তারপর তাদের “স্বপ্ন” পূরণ হয়ে যায় ...
হিন্দি-ইংলিশ নোংরামি দেখে আমাদের দেশের মানুষও নোংরামিটাকেই স্মার্টনেস ভাবছে । মেয়েরা ভাবছে নিজের শরীরের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার মতো জামা কাপড় পরাটাই স্মার্টনেস ,নারীমুক্তি,আধুনিকতা আর অনেক বেশি Cool.. “প্রথম আলো”র “নকশা”এর মতো ম্যাগাজিনও তাদেরকে এটাই শিখায়।(“প্রথম আলো”র মতো ১টি পত্রিকা কিভাবে এরকম একটি কাজ করতে পারে তা আমি বুঝে পাই না... ) তাই নিজের স্তনের আকৃতি সবাইকে দেখিয়ে চাপা কামিজ, টিশার্ট , ফতুয়া পরে তারা ঘুরে বেড়ায় । জামার গলা হয় স্তনের ক্লিভেজ দেখানোর জন্য যথেষ্ট আর হাতা হয় মাইক্রোস্কপিক । আর ছেলেরাও HOT girlfriend অথবা “JUST FRIEND “ বানানোর জন্য এসব মেয়ের জন্য পাগল হয়ে থাকে । যা দেখে অন্য Normal মেয়েরা হীনমন্যতায় ভোগে ও তারাও একসময় তার বান্ধবীর মতো “HOT” হবার আপ্রাণ চেষ্টা করে । ওদিকে টিভিতে মেয়েদের কসমেটিকস এর বিজ্ঞাপনে আমাদের মেয়েদেরকে দেখানো হয় – “তুমি মেয়ে- তুমি সুন্দর, সেক্সি না হলে তোমার জীবনের কোথাও সফল হতে পারবে না ।” একটা জাতিকে অসুস্থ বানাতে এর চেয়ে বেশি আর কি লাগে? আমাদের সবার এখন ধারনা হয়ে যাচ্ছে মেয়েদের সৌন্দর্যই সব, তারা দেহ-সর্বস্ব । হুমায়ূন তার বইতে লিখছেন “হরিণ সুন্দর চোখে আর ননারী সুন্দর বুকে”!!!!
এখানে ১টা জিনিস Clear করা দরকার – টিশার্ট , ফতুয়া মেয়েরা পরতে পারবে না- আমি কিন্তু তা মনে করি না। ড্রেস ১টা পরলেই হল । কিন্তু টা যেন হয় শালীন ।আর এই শালীনতা যেমন টিশার্ট পরে রক্ষা করা যায়, তেমনি বোরকা পরেও ভঙ্গ করা যায়। Easy Feel করার জন্য, Relaxation এর জন্য টিশার্ট অবশ্যই best । কিন্তু...
এখন মেয়েরা যেসব টিশার্ট পরে সেগুলো কি নরমাল টিশার্ট ?? মেয়েদের জন্য টিশার্ট আলাদা- ওগুলোর হাতা হয় ছোট, গলা হয় বড় আর সাইজ এমন হয় যেন তা লেপটে থাকে গায়ের সাথে- যে পরে তার দিকে তাকালেই যেন তার ফিগার আমাদের চোখকে টেনে ধরে রাখে , তার হাঁটাচলার সাথে সাথে স্তনের স্পষ্ট নড়াচড়া যেন আমাদেরকে পাগল করে দেয়...শরীরের বাঁকগুলো আমাদের বুকে কাঁপন তোলে ,তাকে বিছানায় পাবার জন্য মন ছটফট করে । বন্ধুর কানে ফিসফিস করি- “দোস্ত, মাগীটারে দেখ......উফফফ......দোস্ত...লাগামু......লাগামু...”
এরকম ড্রেস কি Easy Feel করার জন্য, Relaxation এর জন্য পরা হয়?নাকি নিজের দিকে বিপরীত লিঙ্গের কামাতুর দৃষ্টিকে উপভোগ করার জন্য পরা হয়?? যে মানুষ নিজের প্রতি অন্যের এরকম মনোভাব তৈরি করাতে চায়-পছন্দ করে সে কতটা FREAK ?? তাদের যখন এসব এতই মজা লাগে তখন তারা গলায় ১টা “Open For SEX” লেখা signboard ঝুলায় রাস্তায় ঘুরলেই পারে- তারপর রাস্তার সব মানুষের “উত্তপ্ত ভালবাসা” দিয়ে নিজের দেহ-মন ভরিয়ে তারা বাসায় ফেরত যাবে....
যদি তারা ওপরের কাজটাও করত এবং দেহ-মন শান্ত হবার পর নরমাল লাইফ কাটাত – আমার মতে সমাজের এখনকার চেয়ে কম ক্ষতি হত। ১টা অপূর্ণ সহজাত প্রবৃত্তিকে বিকৃতভাবে উস্কে দেয়া হত না...বন্ধুর কানে ফিসফিস করা সেই ছেলেটির অতৃপ্ত, উস্কে যাওয়া যৌনাকাঙ্ক্ষার শিকার অন্য কোন অবলা মেয়ে হত না... সারাদিন যৌন সুড়সুড়িতে থেকে অসুস্থ মানসিকতা নিয়ে বেড়ে উঠত না যুব-সমাজ। যে ক্ষুধা তৈরি করত মেয়েটি-তা আবার সে মিটিয়ে দিত ।
বাংলাদেশে ইভ টিজিং , ধর্ষণ বৃদ্ধির এগুলো ও কি কারণ না?? একদিকে বিবেকহীনতার কারণে, মানুষের মূল্যবোধ এমনিতেই কমে গেছে বহুগুণে । ছোট থেকে সেক্স বিষয়ে সঠিক জ্ঞান না থাকায় বিকৃত জিনিসকেই আমরা সঠিক ভাবছি । আবার ১টি দল আছে যাদের মাঝে ধর্ম-মূল্যবোধের কিছুটা অবশিষ্ট থেকে সেটার সাথে - সাথে নোংরামি মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে ... সেই দলটি পুরপুরি অভদ্রও হতে পারছে না-ভদ্র ও থাকতে পারছে না। সেক্স করছে না ধর্ম ও সতীত্বের ভয়ে– কিন্তু সেক্স এর সুড়সুড়ি দিচ্ছে সব মানুষকে। ২ এর মাঝখানে থেকে আরেক বিকৃত রুচির পাগল মানুষ হয়ে গেছে তারা । ১জন মানুষের সহজাত প্রবৃত্তিকে যদি সুড়সুড়ি দিতে থাকা হয়- সে তো খুব সহজেই বিকৃত কাজে ঝাঁপিয়ে পড়বে...মনোবিজ্ঞান তো তাই বলে...আর তাই নারী-পুরুষের স্বর্গীয় আকর্ষণ, অনুভূতি প্রকাশ পাচ্ছে ইভ টিজিং- ধর্ষণ দিয়ে। এরকম দুঃখ আর কি হতে পারে?
বউ পেটানো,নারী নির্যাতন আগে ছিল অশিক্ষিতের কাজ- এখন তা ভদ্র সমাজে ঢুঁকে গেছে। বুয়েটে পড়া ছেলে তার ৭ বছর প্রেম করে বিয়ে করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালায়- এর মতো হতাশা আর কয়টা আছে??আর এর পেছনে কারণ?? কারণ মেয়েরা আছে দোটানায়। কর্মক্ষেত্রে , বিদ্যাপীঠে মেয়েরা এখন সামাজিকভাবে অনেক সম্মানিত। কিন্তু মেয়েদের ১টা দল তাদের নিজেদের আত্মসম্মান,মনুষ্যত্ব বিসর্জন দিয়ে বিপরীত লিঙ্গের কাছে দিনদিন সেক্স টয় তে রূপান্তরিত হচ্ছে।আর তারাই বোধকরি দিনদিন দলে ভারি হচ্ছে...Western country গুলতে এখন যেকোনো কিছুর “সৌন্দর্য বর্ধনের” জন্য নারী ব্যবহৃত হয় । খেলার উত্তেজনা বাড়াতে, দর্শকদেরকে তুষ্ট করতে তাদেরকে নাচানো হয়...যদি ছেলে মেয়ে সবাই নাচত – একই রকম জামা কাপড় পরে তাহলে না হয় সেটাকে স্বাভাবিকভাবে নেয়ার চেষ্টা করা যেত । কিন্তু তা তো হয় না। Cheerleader হয় মেয়েরা ।অনেক সময় দলে কিছু ছেলেও থাকে, কিন্তু তারা “প্রধান আকর্ষণ” না। তাদের ড্রেস আপ ও থাকে স্বাভাবিক । দিন দিন আমরা যে আদিম যুগে ফিরে যাচ্ছি এটা কি তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ না?
Western ও Indian (Indian টা আসলে Western এরই অপভ্রংশ )এই দুই দিকের সাপের ছোবলে আমাদের দেশও নীল হয়ে যাচ্ছে । গতকাল ফেসবুক থেকে লিঙ্ক পেয়ে বাংলাদেশের ১ ফ্যাশন হাউজের ওয়েবসাইটে গেলাম । সেখানে কিছু বাঙালি মডেল শাড়ী পরে এমন পোজ দিয়েছে যে বিশ্বাস করতে অনেকক্ষণ লাগে যে এটা আসলেই বাংলাদেশি ওয়েবসাইট আর মডেলরা বাঙালি ..... এরপর নেটে সার্চ দিয়ে বাংলাদেশের অনেকগুলো ফ্যাশন হাউজ ও তাদের ফ্যাশন শো এর ছবি দেখলাম ...আমি এই ব্যাপারগুলো সম্পর্কে একদম অজ্ঞ ছিলাম। “নকশা”য় কিছু ছবি দেখে ভাবতাম এটাই বর্তমান “ফ্যাশন” পরিস্থিতি এবং সেটাতেই আমার তীব্র আপত্তি ছিল । কাল হতভম্ব হয়ে গেলাম ।( আমি আর এগুলোর লিঙ্ক দেয়ার দরকার মনে করছি না- আপনারা একটু সার্চ দিয়ে দেখে নিয়েন । ) এখন ১টা জিনিস আবার বলতে চাই; যদিও আগেও তা কয়েকবার বলেছি –এসব সাইটে কিন্তু ১০ টা মেয়ের অর্ধ নগ্ন ছবির পর ১ টা ছেলের ছবি পাওয়া যায় এবং সেই ছেলে কিন্তু অর্ধ-নগ্ন না ... যারা এসব ফ্যাশন শো তে অংশ নেয়, ফ্যাশন হাউজের মডেল হয় তারা কি দেখছে না যে তারা নিজেদেরকে অন্যের উপভোগের “বস্তু” বানিয়ে ফেলেছে ?? পতিতারা আমাদের সমাজে ঘৃণ্য (যদিও শখ করে কেউ পতিতা হয়না) । তারা অন্যের কাছে নিজেকে “সামগ্রী” বানিয়ে ভোক্তাকে তুষ্ট করে দেয় । ভোক্তার বিকৃত যৌনাকাঙ্ক্ষাকে পূরণ করে দেয় । কিন্তু আমাদের সমাজের “লেবেল-হীনা পতিতা”রা তো সেই বিকৃত যৌনাকাঙ্ক্ষা তৈরি করে দিচ্ছে ...আর তার জন্য ভুগছে আমাদের পুরো সমাজ । যৌনতা ব্যাধি হয়ে গ্রাস করে রেখেছে অধিকাংশ মানুষকে । সেক্সকেই জীবনের ১ নাম্বারে নিয়ে এসেছে সবাই ।নতুন প্রজন্ম (ছেলে-মেয়ে সবাই)নিজেকে বিপরীত লিঙ্গের কাছে সুন্দর, আকর্ষণীয় ,সেক্সি করার জন্য নিজেদের সময় পার করে দিচ্ছে । চুলের কাটিংটা কেমন হবে সেটা নিয়ে যতটা চিন্তা করি আমরা, চুল কাটার কাঁচিটা কিভাবে বানানো হয়- সেটা নিয়ে তার এক সহস্রাংশ সময়ও ভাবি না। সেক্স আমাদের জীবনের ১টা পার্ট – হ্যাঁ , খুব মজাদার ১টা পার্ট । কিন্তু তাতে নোংরামি কেন থাকবে? আর এর বাইরে তো আরও অনেক পার্ট আছে- অনেক সুন্দর , আরও বেশি মজাদার, গুরুত্বপূর্ণ ।কিন্তু সেগুলো নিয়ে আমরা ভাবি না।আমাদেরকে ভাবতে দেয়া হয় না। আমাদের মিডিয়া সারাদিন শখ-শারিকার নাচ দেখায়, বুয়েটের জীবন পোদ্দার স্যার এর গবেষণা দেখায় না, বাংলাদেশি ছাত্রের ৪ Frequencyর অ্যান্টেনা আবিষ্কারের খবর তারা দেখায় না। (দেখালে ১ মিনিট দেখায়) তাই সেটার খবর কেউ রাখে না ...
আমরা জীবনে আমেরিকার মুভি দেখি ছোট থেকে , কিন্তু আমেরিকার রেপ এর হার জানি বড় হয়ে । (অনেকে তা জানি-ই না...)আর তাই ওদের সমাজ সম্পর্কে ১টা ভুল ধারনা আমাদের মনে তৈরি হয় ।আমরা মনে করি ওদের ওপেন সেক্স লাইফ ,নগ্নতাই ওদের সমাজের সাথে আমাদের পার্থক্য।আর ওদের এত উন্নতির কারণ ওদের সমাজের সাথে আমাদের সমাজের এইসব পার্থক্য। কিন্তু সত্য হল এই যে এসব নগ্নতা , অশালীনতা, নারীকে পণ্যে রূপান্তর – এসবের জন্য তাদের উন্নতি বরং কমে গেছে । পুঁজিবাদের চরম স্বার্থপরতা, বস্তু-কেন্দ্রিক ও অর্থ-কেন্দ্রিক চেতনা তাদের আমজনতাকে ঘিরে রেখেছে । আমরা তাদের যে উন্নতি দেখি তা তাদের সমাজের খুব ক্ষুদ্র ১টা অংশের সৃষ্টি, অভিবাসীদের সৃষ্টি । বাকিদের অবস্থা পুরা উল্টা ।তাদের জ্ঞান আমাদের চেয়েও কম। পৃথিবীতে যুদ্ধ শুরু হলেও তার খবর তারা রাখে না। গতবার ইসরাইলের ফিলিস্তিন আক্রমণের পর এটা নিয়ে আমেরিকার জনমত নেয়ার চেষ্টা চালান হয় ১ টা টিভি চ্যানেল থেকে। বেশীরভাগের উত্তর ছিল – “তাই??হামলা চালিয়েছে? এ সম্পর্কে তো আমি কিছু জানি না...” তাদের দেশে যারা মানবাধিকার নিয়ে ফাল পারে তাদের সংখ্যা হাজার জনে ১ জন ।এর কারণ??? কারণ ওই সমাজব্যবস্থা । তাদের চিন্তার জগত । ওটা যদি সুন্দর হত , তারা আর বেশি উন্নত হত। তাদের কম উন্নতির কারণকেই আমরা উন্নতির কারণ মনে করে ভুল করি , আর উন্নতির কারণ ; তথা গবেষণা , কর্মঠ চেতনার চর্চা করি না।
পরিশেষে অল্প কিছু কথা বলব । আমাদের চেনা দুনিয়া ৩ টা । পাশ্চাত্য , মধ্যপ্রাচ্য আর প্রাচ্য । ল্যাটিন আমেরিকা, চীন-জাপান এদের খবর আমরা বেশি পাই না। তাই ওদের সমাজের অবস্থা আমরা ঠিকমত বলতে পারি না।এই ৩ দুনিয়ার মাঝে পাশ্চাত্যের যৌন বৈষম্য, নোংরা যৌনতা নিয়ে এতক্ষণ কথা বললাম । মধ্যপ্রাচ্যে মেয়েদের মৌলিক অধিকার পর্যন্ত নাই । শেখরা ৫-৬ টা বিয়ে করে, টাকা উড়ায়, জন্মদিনে ইউরোপের গায়িকার সাথে নাচে । ওখানকার সবচেয়ে উন্নত দেশ ইরানে মেয়েরা ভোট দিতে পারে না। বাকি দেশ গুলোর কথা বাদ-ই দিলাম ।প্রাচ্যের পাকিস্তান তো কোন দেশই না। সেখানে এখনো নিয়মিত ফতোয়া দিয়ে দোররা মারা হয় মেয়েদেরকে। ভারতও পুরাই রসাতলে গেছে । একদিকে সতীদাহ, বাল্যবিবাহ হয় , অন্যদিকে মেয়েদেরকে চিয়ার-লিডিং এ নামানো হয় , “শীলা কি জাওয়ানি” গাইয়ে নাচানো হয় । বাদ থাকে বাংলাদেশ । ৫ বছর আগে হলেও হয়ত বলতাম নারীর ক্ষমতা , মূল্যায়ন , স্বাধীনতা কম থাকলেও বাংলাদেশের মেয়েদেরকে বাজারে পাওয়া যায় না ।কিন্তু আজ বাংলাদেশের মেয়েদেরকে শুধু বাজারে না, রাস্তা ঘাটে পাওয়া যায় ।
তার মানে আজ পৃথিবীর যেদিকে তাকাই , সেক্স ১টা অনেক বড় সমস্যা । সেক্স এর কারণে আমরা কলুষিত । সমাজ অবক্ষয়ের সবচেয়ে বড় কারণগুলোর ১টা এই সেক্স । ১টা সমাজকে কিভাবে ধ্বংস করে দেয়া যায়-এর উত্তরে লেনিন প্রথমেই বলেছিলেন যুব-সমাজকে যৌন-চিন্তায় আক্রান্ত করে দাও ...আজ সবখানেই এই দশা । সাম্য , সুন্দর যে সমাজের কল্পনা আমরা করি তা কি কখনই আনা যাবে না? আগে স্বপ্ন দেখলেও এখন Doubt হয় । হয়ত যদি মানুষের কোন লিঙ্গ না থাকত , অর্থাৎ সবাই এক লিঙ্গের হত – সেটাই হত পারফেক্ট ... সাম্প্রতিক সময়ে বিজ্ঞানীরা মানুষের হাড়ের কোষ থেকে শুক্রাণু তৈরি করে তা দিয়ে ডিম্বাণু নিষিক্ত করে সন্তান জন্ম দেয়ার পদ্ধতি উদ্ভাবক করেছেন।(*২, *৩) ২ লিঙ্গের প্রয়োজন আর নেই...শুধু নারীরাই পারবে সন্তান জন্ম দিতে । হয়ত সমাজের এত ঝামেলা বৈষম্য কমাতে পরে এরকম লিঙ্গ বিহীন কোন পৃথিবীতেই বাস করবে মানুষ !!!! পারফেক্ট পৃথিবী হবে সেটাই ... কেউ আর নিজের দেহের দিকে নজর দিবে না- নজর দিবে সুন্দর কাজে , সৃজনশীলতায় ,জ্ঞান-বিজ্ঞান আর প্রযুক্তিতে , মানবতায়।
যত তথ্য প্রযুক্তি , যোগাযোগের উন্নতি ঘটবে ততই কালচারাল মিশ্রণ ঘটবে । এটাকে থামানোর কোন রাস্তা নেই । হয়ত একসময় পুরো পৃথিবীর কালচার এক হয়ে যাবে । কিন্তু সেই কালচার যে অপ-কালচার-ই হবে সেটা তো না। আমরা নিজের বিবেক আর চেতনাকে জাগ্রত করে, চিন্তার সাথে সব কাজ করে চাইলেই সব নোংরামি বাদ দিয়ে সব কালচার এর সৌন্দর্য ধারণ করে এমন এক বিশ্ব তৈরি করতে পারব যেখানে আমাদের লিঙ্গ, জাতি , ধর্ম এসবের নিরিখে কোন পরিচয় থাকবে না – থাকবে শুধু ১টি পরিচয়-আমরা মানুষ ।
চতুর্মাত্রিক
লিঙ্কঃ

Thursday, July 7, 2011

অজানাকে জানা...

১। পৃথিবীতে প্রতিদিন ১০০মিলিয়ন দৈহিক মিলনের ঘটনা ঘটে ।
২। কনডম প্রথম তৈরী হয় ১৫০০ শতাব্দীতে ।
৩। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কনডম ব্যাবহৃত হত রাইফেলের ব্যারেল এর সুরক্ষার জন্যে সমুদ্রতীরে সাঁতারের সময় যাতে লোনা পানিতে কোন ক্ষতি না হয়।
৪। ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত আমেরিকায় মানসিক চিকিৎসকদের কাছে সমলৈঙ্গিক মিলন মানসিক অসুস্থতা হিসেবে ধরা হত ।
৫। Burlesque costumes বর্তমানে সেক্সসিম্বল কিছু হলেও ১৫০০ শতাব্দীতে সেগুলো একটু ভিন্নভাবে ব্যাবহৃত হত । পিউবিক হেয়ার এর উইগ হিসেবে আর পিউবিক উকুন এবং সিফিলিস এর সংক্রমন ঢাকতে তা সে আমলের পতিতারা ব্যাবহার করত ।
৬। সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের ফ্যান্টাসী হয় ওরাল সেক্স নিয়ে এবং সেখানে ৮ শতাংশ মানুষ এ্যানাল ফ্যান্টাসী করেন ।
৭। বিক্রিত প্রতি ১০ টি কনডমের মধ্যে ৪ টির ক্রেতাই নারী ।
৮। ৫৬ শতাংশ পুরুষ কর্মক্ষেত্রেই মিলনে আগ্রহী এবং তা করেও থাকেন ।
৯। প্রতি ৩ জনের ১ জনেরই আফ্যেয়ার আছে এবং ৬২ শতাংশ মনে করেন এতে কোন দোষ নেই ।
১০। কামনার অনুভূতি এর সর্বোচ্চ গতি থাকে চামড়া থেকে মস্তিষ্ক পর্যন্ত যেতে ১৫৬ মাইল/ ঘন্টা ।
১১। বিবাহের সময় মাত্র ২৯% তথাকথিত কৌমার্য বজায় রাখেন ।
১২। গড়পড়তা সঙ্গম স্থায়ীত্বকাল থাকে ৩৯ মিনিট ।
১৩। ৫৮% মানুষ মিলনকালীন সময়ে Dirty talk পছন্দ করেন ।
১৪। ২২% মানুষ অন্তত একবার পর্ণোমুভি রেন্ট করেন ।
১৫। ব্রিটিশ রাজা এ্যাডওয়ার্ডের ( VII ) একটি বিশেষ টেবিল ছিল মিলনকার্য্যের সুবিধার্থে ।
১৬। প্রতি সাধারন ওয়েবসাইটের বিপরীতে ৫ টি করে এ্যাডাল্ট ওয়েবসাইট আছে ।
১৭। দিনের বেলায় গড়ে পুরুষদের ইরেকশন হয় ১১ বার যেখানে রাত্রে হয় ৯ বার করে ।
১৮। "gymnasium" শব্দটি Greek word "gymnazein" থেকে এসেছে যার মানে "to exercise naked."
১৯। পুরুষ এবং মহিলা ইঁদুর প্রতিদিন গড়ে ২০ বার মিলিত হয়
২০। প্রতি ঘন্টায় 70-120 calories খরচ হয় 130 pound মহিলাদের জন্যে , যেখানে 77-155 calories ব্যাবহৃত হয় 170 pound এর পুরুষদের ক্ষেত্রে ।
২১। ১৯শ শতাব্দীর সময়ে ভাইব্রেটর তৈরী হয় হিস্টিরিয়া আক্রান্ত মহিলাদের জন্যে যা তাদের অর্গাজমের জন্যে ব্যাবহৃত হত এবং চিকিৎসকরা এজন্যে তা ব্যাবহার করতে বলতেন ।
২২। ভ্যালিয়ামের চেয়ে ১০ গুন বেশি শক্তিশালী ট্রাংক্যুইলাইজার এই যৌনমিলন ।
২৩। বীর্য্যের মাঝে প্রায় ৩০টি উপাদান রয়েছে , তার কিছু নিম্নরূপ fructose, ascorbic acid, cholesterol, creatine, citric acid, lactic acid, nitrogen, vitamin B12, and various salts and enzymes ।
২৪। মিলনের সময় মেয়েদের বিপুল পরিমানে এন্ড্রোফিন উৎপন্ন হয় যা মাথাব্যাথার জন্যে অত্যন্ত কার্যকরী ঔষধ , তাই মাথাব্যাথা একটি ভুল অজুহাত মাত্র মিলনের ক্ষেত্রে ।
২৫। মেয়েরা মিলনকালীন সময়ে estrogen নির্গমন করে যা তাদের চামড়া এবং চুলের ঔজ্জ্বল্য বাড়িয়ে দেয় ।
২৬। মাইল্ড ডিপ্রেসনের রোগীদের জন্যে মুহূর্তকালীন নিরাময় এই দৈহিক মিলন যা এন্ড্রোফিন নির্গমন করে এবং রক্তের বেগ বৃদ্ধি করে থাকে অনেক । সাময়িকভাবে তা ভাল হবার আবেশ এনে দেয় ।
২৭। প্লেবয় ম্যাগাজিনের মতে আমেরিকান রা জুন মাসে কৌমার্য বিসর্জন দেয় অন্যান্য মাসের তুলনায় ।
২৮। মশার মিলনের স্থায়ীত্বকাল মাত্র ২ সেকেন্ড ।
২৯। শুকরের মিলনের স্থায়ীত্বকাল ৩০ মিনিট গড়ে ।
৩০। রোমান রাজ্যের রাজা নিরো বালকদের কে মৃতা স্ত্রী এর পোষাক পড়িয়ে মিলনকার্যে ব্যাবহার করতেন

Saturday, June 18, 2011

কত অজানা রে! সেক্স ট্রিভিয়া

জানার কোন শেষ নাই! জ্ঞানী গুণীজনেরা কত কিছুই না বের করেছেন খুঁজে খুঁজে। সেসব থেকে কিছু মনিমানিক্য পরিবেশিত হলো আপনাদের দরবারে .......
******* পিপিলিকার পাখা গজে মরিবার তরে! আপ্তবাক্যটি সর্বাংশে সত্য নয়, বরং বলা চলে "পিপিলিকার পাখা গজে রমনের তরে"।
একটি বিশেষ সময়ে শুধুমাত্র স্ত্রী এবং পুরুষ পিপিলিকার শরীরে পাখা গজায়। এক শুভক্ষনে স্ত্রী পিঁপড়া ডানা মেলে আকাশে, তার অনুগামী হয় পুরুষ পিপিলিকার দল। শূন্যেই মিলন হয় তাদের, তারপর ডানা হারিয়ে মাটিতে পতিত হয় এবং মাটির নিচে বাসায় চলে যায়। তবে দূর্ভার্গের বিষয়, খুব অল্পসংখ্যকই জীবিত অবস্থায় বাসায় ফিরতে পারে, অধিকাংশই পাখিদের আহারে পরিণত হয়।

নারী পুরুষের কামলিলা দুনিয়া

বাৎসায়ন কামসূত্র

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More