This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label ইতিহাস. Show all posts
Showing posts with label ইতিহাস. Show all posts

Wednesday, September 11, 2013

একসময় পুরুষাঙ্গে মেরুদন্ড বা হাড় ছিল

পুরুষাঙ্গের ৭টি আদিম রহস্য
গ্রিসের উলঙ্গ ভাস্বর্য বা বাথরুমের সেটে থাকা পোস্টার আমাদের সবারই নজর কাড়ে। এই গ্রহের সবচেয়ে বিখ্যাত এবং সবচেয়ে বেশি গবেষণা হয়েছে যেই অঙ্গটি নিয়ে তা হলো যৌনাঙ্গ। এই অঙ্গটির আকার আকৃতি নিয়ে যত জল্পনা-কল্পনা করিনা কেন, এই অঙ্গটি সম্পর্কে পুরুষ সঙ্গীদের এখনও অনেক গোপন রহস্য প্রকাশ করার আছে যা আমরা জানিনা। যেমন এর ভেতর থাকা হাড় বা এর আদর্শ আকার। পুরুষের যৌনাঙ্গের এই রকম আদিম সাতটি রহস্য নিয়ে আজকের লেখা।
রহস্য সত্য-৭: লিঙ্গের গড় আকার: ২০১৩ সালের সেক্সচুয়াল মেডিসিন জার্নালের ১৬৬১জনের উপর করা এক জরিপে দেখা গেছে উত্থিত যৌনাঙ্গ গড়ে ৫ দশমিক ৫৬ ইঞ্চি বা ১৪ সেমি পর্যন্ত হয়ে থাকে। কিন্তু ব্যতিক্রম হলো কারো করো ১.৬ ইঞ্চি (৪ সেমি) থেকে ১০.২ ইঞ্চি (২৬ সেমি) পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যৌনাঙ্গের ঋজুতাও সবার সমান নয়। ওরাল সেক্সের পর বা সঙ্গমের পর যারা মেপে দেখেছে যে তাদের ঋজুতা যারা একা যৌন আনন্দ উপভোগ করে তাদের চেয়ে বেশি ঋজু। কারণ লিঙ্গের ঋজুতা নির্ভর করে রক্তচাপের উপর। আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপান লিঙ্গকে গড়ে ০.৪ইঞ্চি (১সেমি) পর্যন্ত ছোট করে দিতে পারে।

রহস্য সত্য-৬ :যৌনাঙ্গের আকার: যৌন সঙ্গমে কোন কোন নারীর জন্য লিঙ্গের আকৃতি বিশেষ ভূমিকা রাখে। ২০১২ সালে সেক্সচুয়াল মেডিসিন জার্নালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব নারী যৌন সঙ্গমে অধিক উত্তেজনা অনুভব করে তাদের জন্য বড় পুরুষাঙ্গ যোনির উত্তেজনায় অধিক আনন্দ দিতে করিৎকর্মা। যদিও এটা পরিস্কার নয় যে, প্রকৃতপক্ষে কেন দীর্ঘ লিঙ্গ নারীদের আনন্দ দেয়-ইউনিভার্সিটি অব দ্য ওয়েস্ট অব স্কটল্যান্ডের মনোবিঞ্জানী ও এই গবেষণাপত্রের সহকারী স্টুয়ার্ট ব্রোডি গবেষণার সময় তথ্য জানান। ২০১৩ সালে ন্যাশনাল অ্যাকাডেমী অব সায়েন্সের এক গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, নারীদের পছন্দের আদর্শ পুরুষাঙ্গ হচ্ছে তার দৈহিক উচ্চতা ও লম্বা পুরুষের জন্য দেহের সাথে সামঞ্জস্য দীর্ঘ লিঙ্গ আকর্ষণীয়।
রহস্য সত্য-৫: ব্যতিক্রম লিঙ্গ: কদাচিৎ কেউ দুইটা লিঙ্গ নিয়ে জন্ম নেয়। ৫ লক্ষ বা ৬ লক্ষে এমন এমন একটা হতে পারে। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনক হচ্ছে এর দ্বারা দ্বিগুণ যৌন আনন্দ লাভ সম্ভব নয়। দুইটি লিঙ্গ একই সাথে কর্মক্ষম থাকতে পারেনা বরং এর ফলে কিছু শারীরিক বৈসাদৃশ্য দেখা দেয় যা ঠিক করতে অস্ত্রপাচারের প্রয়োজন হতে পারে। যেসব পুরুষ দুইটি লিঙ্গ নিয়ে জন্মায় তারা এক ধরনের বিশেষ সমস্যার সম্মুখীন হন। তা হলো তাদের কোন একটি লিঙ্গ উত্থিত হলে তা প্রশমিত হতে চার ঘন্টা পর্যন্ত সময় নিতে পারে। এই অবস্থাকে প্রিয়াপ্রিজম (priapism) বলে। সাধারনত: এটা ঘটে শরীরের রক্ত লিঙ্গ থেকে আবার সারা শরীরে ফিরে যাওয়ার জন্য। যদিও এটা রক্তস্বল্পতায় ভোগা রোগীদের ক্ষেত্রে বেশী পরিলক্ষিত হয়। এটা একটা জরুরী শারীরিক সমস্যা যা লিঙ্গে মাংসপেশীর চাপের কারণে হয়। এর জন্য দ্রুত চিকিৎসা নেয়া প্রয়োজন।
রহস্য সত্য-৪: লিঙ্গের পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন: পুরুষাঙ্গের বিবর্তনের এক ভয়ঙ্কর অতীত আছে। একসময় পুরুষাঙ্গে মেরুদন্ড বা হাড় ছিল। কিন্তু মানুষ জাতির পুর্বপুরুষেরা তাদের এই কন্টকাকীর্ন অঙ্গটি হারায়। ২০১০ সালের নেচার জার্নালের এক গবেষণা মতে, প্রায় ৭০০ হাজার বছর পূর্বে প্রস্তরযুগ ও আধুনিক মানুষের বিবর্তনের কোন এক সময় তারা এই হাড়যুক্ত লিঙ্গটি হারায়। বিজ্ঞানীরা এখনও পরিস্কার নয় আসলে লিঙ্গের এই হাড়ের কাজটা কি ছিল। কেউ কেউ বলছেন তখন তারা যথেচ্ছা যৌনাচার করতো যেমনটা দেখা যায় ইতর প্রাণীদের মধ্যে। যেমন বিড়ালের হাড়ে লিঙ্গ আছে (টমক্যাটের লিঙ্গে ভয়ঙ্কর মেরুদন্ড বিদ্যমান)। বেশির ভাগ প্রাণীরই মেরুদন্ডের হাড়ের সাথে লিঙ্গের সংযোগ থাকে এটাকে হাড় লিঙ্গ বলে। এটা তাদের দৈহিক গঠনগত কারণে তার সঙ্গীর সাথে মিলনে সহায়তা করে। কিন্তু মানুষ তার অঙ্গটি হারায় এবং যৌন সঙ্গমে লিঙ্গদন্ড প্রস্তুত হওয়ার জন্য শরীরের রক্তচাপের উপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু অন্য প্রাণীদের জন্য এই হাড়টি শরীরের ভিতর থাকে ও এবং মিলনের সময় পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে লিঙ্গকে শক্ত রাখে। এটা একটা রহস্য যে মানুষ কেন তার সেই হাড়টি হারাল। কিন্তু জীববিঞ্জানী রিচার্ড ডাউকিনস বলেন, এটা মানুষ জাতির শারীরিক ও মানসিক গঠনগত কারনে হয়েছে।
রহস্য সত্য-৩: রাতে লিঙ্গের স্বকীয়তা : স্বীকার করুন আর না করুন অবিবাহিত পুরুষদের লিঙ্গ দিনের চেয়ে রাতে বেশি সক্রিয় হয়ে উঠে। বেশির ভাগ পুরুষেরই রাতে তিন থেকে পাঁচ বার লিঙ্গ সজাগ হয় যখন সে কোন রোমান্টিক স্বপ্ন দেখে। রাতে লিঙ্গের এই কার্যকারিতা লিঙ্গকে স্থিতিস্থাপকতা ও কুচে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। কারণ এটা একটা শারীরিক কার্যকারিতা এজন্য অনেক ডাক্তার রোগীকে রাতের লিঙ্গের উত্থান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে যে কোন সমস্যা আছে কিনা।
রহস্য সত্য-২: লিঙ্গাগ্রের চামড়া রহস্য: যখন কোন ছেলে শিশু জন্ম নেয় তখন তার লিঙ্গের আগার চামড়া টুকু তার লিঙ্গকে বহিরাঘাত থেকে রক্ষা করে। তার লিঙ্গের অগ্র চামড়াটুকু মায়ের গর্ভে থাকাকালীন তার লিঙ্গের টিস্যু থেকেই আবৃত হয়। লিঙ্গের অগ্রচামড়ার ভিতরের অংশটুকু আমাদের চোখ ও মুখের লালার মত একপ্রকার তরল দিয়ে ভরা থাকে যাতে শুকিয়ে না যায়।
রহস্য সত্য-১: যার জন্য যা প্রযোজ্য: আসলে মানুষ জন্মগতভাবে যেসব অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নিয়ে জন্মায় তা তার শরীরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ছোট লিঙ্গ বা বড় লিঙ্গ কোন বিষয় নয়। এটা পুরোটাই মানসিক বিষয়। তাই জন্মগতভাবে যা নিয়ে জন্মেছি তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা। তবে কখনই যৌন রোগে লজ্জ্বা পাওয়া ঠিক নয়। কেননা এটা অনেক সময় আমাদের শিশুদের জীবনের ঝুঁকিতে ফেলে দিতে পারে। তাই যৌনরোগ থেকে সাবধান থাকা।
ফারুক হোসেন
লাইভ সাইন্স-এর প্রতিবেদন অবলম্বনে
খাসখবর

Thursday, October 6, 2011

পৃথিবীর কোন কোন জায়গায় সমলিঙ্গের সেক্স বৈধ?

পৃথিবীর কোন কোন জায়গায় সমলিঙ্গের সেক্স বৈধ?




পৃথিবীর যে সব জায়গায় সমলিঙ্গের সেক্স বৈধ তার তালিকা:

1. Benin
2. Burkina Faso
3. CapeVerde-2004
4. Côte d'Ivoire
5. Guinea-Bissau
6. Mali
7. Niger
8. Ascension Island
9. Central African Republic
10. Chad-1967
11. Democratic Republic of the Congo (formerly Zaire)
12. Equatorial Guinea
13. Gabon
14. Republic of the Congo
15. Saint Helena
16. Madagascar
17. Mozambique

18. Réunion (Overseas department of France)- 1791
19. Rwanda
20. Bermuda (Overseas territory of the United Kingdom-1994
21. Canada-1969
22. Mexico-1872
23. Saint Pierre et Miquelon (overseas collectivity of France)- 1791
24. United States-2003
25. Costa Rica-1971
26. El Salvador
27. Guatemala
28. Honduras-1899
29. Nicaragua-2008

30. Panama-2008
31. Anguilla (Overseas territory of the United Kingdom-2000
32. Aruba (Autonomous country in the Kingdom of the Netherlands
33. Bahamas-1991
34. British Virgin Islands-2000
35. Cayman Islands-2000
36. Cuba-1979

37. Dominican Republic
38. Guadeloupe (Overseas department of France)- 1791
39. Haiti- 1986
40. Martinique (Overseas department of France)- 1791
41. Montserrat- 2000
42. Puerto Rico (Commonwealth of the United States)- 2003
43. Turks and Caicos Islands- 2000
44. United States Virgin Islands (Insular area of the United States)- 1984
45. Argentina- 1887
46. Bolivia
47. Brazil- 1830
48. Chile- 1999
49. Colombia - 1981
50. Ecuador - 1997
51. Falkland Islands (overseas territory of the UK)
52. French Guiana- 1791
53. Paraguay- 1880
54. Peru- 1836
55. South Georgia and the South Sandwich Islands
56. Suriname- 1869
57. Uruguay- 1934
58. Venezuela
59. Kazakhstan- 1998
60. Kyrgyzstan- 1998
61. Tajikistan-1998
62. Iraq- 2003
63. Israel- 1963
64. Jordan- 1951
65. Palestinian territories (West Bank)- 1951
66. India- 2009
67. Nepal- 2007
68. People's Republic of China- 1997
69. Republic of China
70. Hong Kong- 1991
71. Japan - 1880
72. Macau- 1996
73. Mongolia- 2002
74. North Korea
75. South Korea
76. Cambodia
77. East Timor
78. Indonesia
79. Laos
80. Philippines
81. Thailand- 1956
82. Vietnam
83. Denmark- 1933
84. Estonia- 1992
85. Faroe Islands (constituent country of the Kingdom of Denmark)- 1933
86. Finland- 1971
87. Greenland (constituent country of the Kingdom of Denmark-1933
88. Iceland- 1940
89. Ireland- 1993
90. Isle of Man- 1991
91. Latvia- 1992
92. Lithuania- 1993
93. Norway- 1972
94. Sweden- 1944
95. United Kingdom- 1967
96. Belgium-1795
97. France-1791
98. Guernsey (incl. Alderney, Herm and Sark)- 1983
99. Jersey- 1990
100. Luxembourg- 1795
101. Monaco- 1793
102. Netherlands- 1811
103. Austria- 1971
104. Croatia- 1977
105. Czech Republic- 1962
106. Germany- 1994
107. Hungary- 1962
108. Liechtenstein- 1989
109. Poland- 1932
110. Slovakia- 1962
111. Slovenia- 1977
112. Switzerland- 1798.
113. Albania- 1995
114. Armenia- 2002
115. Azerbaijan- 2000
116. Belarus- 1994
117. Bosnia and Herzegovina-1998
118. Bulgaria-1968
119. Georgia-2000
120. Macedonia- 1996
121. Moldova- 1995
122. Montenegro-1977
123. Romania- 1996
124. Russia (incl. all constituent regions)- 1993.
125. Serbia- 1994
126. Ukraine- 1991
127. Andorra- 1790
128. Cyprus- 1998
129. Gibraltar (overseas territory of the UK)- 1993
130. Greece- 1951
131. Italy- 1890
132. Malta-1973
133. Portugal- 1983
134. San Marino- 2001
135. Spain- 1979
136. Turkey- 1858
137. Vatican City- 1929
138. Kosovo (only partially recognised, claimed by Serbia)- 1994
139. South Africa-1994

# পৃথিবীর যে সব জায়গায় হোমোসেক্সয়াল এক্ট বৈধ:

140. Australia (including territories of Christmas Island, Cocos (Keeling) Islands, Norfolk Island)- 1994
141. New Zealand- 1986
142. East Timor (terminology "Oceania" varies on border defintions- 1975
143. Fiji- 2010
144. New Caledonia (overseas collectivity of France)
145. Vanuatu- 2007
146. Guam (unincorporated territory of the United States)- 1979
147. Federated States of Micronesia
148. Marshall Islands- 2005
149. Northern Mariana Islands- 1983
150. American Samoa (unincorporated territory of the United States)- 1899
151. Easter Island (overseas territory of Chile)- 1998
152. French Polynesia (overseas collectivity of France)
153. Niue (part of the realm of New Zealand- 2007
154. Pitcairn Islands (overseas territory of the United Kingdom)- 1967
155. Tokelau (part of the realm of New Zealand)- 2007
156. Wallis and Futuna (overseas collectivity of France)

# পৃথিবীর যে সব জায়গায় সমলিঙ্গের বিয়ে বৈধ:

1. South Africa- 2006
2. Canada- 2003,
3. Mexico-2010.
4. United States
5. Argentina- 2010.
6. Israel
7. India
8. Iceland- 2010
9. Norway- 2009
10. Sweden- 2009
11. Belgium- 2003
12. Netherlands- 2001.
13. Portugal- 2010
14. Spain- 2005

# পৃথিবীর যে সব জায়গায় সশস্ত্রবাহিনীর মধ্যে সমলিঙ্গের সেক্স বৈধ:

1. Ascension Island
2. Saint Helena
3. Réunion (Overseas department of France)
4. South Africa
5. Bermuda (Overseas territory of the United Kingdom)
6. Canada
7. Mexico
8. Saint Pierre et Miquelon (overseas collectivity of France)
9. United States
10. El Salvador
11. Costa Rica
12. Anguilla (Overseas territory of the United Kingdom)
13. Aruba (Autonomous country in the Kingdom of the Netherlands)
14. Bahamas
15. Cayman Islands
16. British Virgin Islands
17. Guadeloupe (Overseas department of France)
18. Martinique (Overseas department of France)
19. Montserrat
20. Puerto Rico (Commonwealth of the United States
21. Turks and Caicos Islands
22. United States Virgin Islands (Insular area of the United States
23. Argentina
24. Brazil-Gays and lesbians to serve openly in military
25. Chile
26. Colombia
27. Ecuador
28. Falkland Islands (overseas territory of the UK)
29. French Guiana
30. Peru
31. South Georgia and the South Sandwich Islands
32. Uruguay
33. Israel
34. Nepal
35. Republic of China
36. Japan
37. Philippines
38. Singapore
39. Thailand
40. Denmark
41. Estonia
42. Faroe Islands (constituent country of the Kingdom of Denmark)
43. Finland
44. Greenland (constituent country of the Kingdom of Denmark)
45. Iceland
46. Ireland
47. Isle of Man
48. Latvia
49. Lithuania
50. Norway
51. Sweden
52. United Kingdom
53. Belgium
54. France
55. Guernsey (incl. Alderney, Herm and Sark)
56. Jersey
57. Luxembourg
58. Monaco
59. Netherlands
60. Austria
61. Croatia
62. Czech Republic
63. Germany
64. Hungary
65. Liechtenstein
66. Poland
67. Slovakia
68. Slovenia
69. Switzerland
70. Albania
71. Bosnia and Herzegovina
72. Bulgaria
73. Macedonia
74. Moldova
75. Montenegro
76. Romania
77. Russia (incl. all constituent regions)
78. Serbia
79. Ukraine
80. Andorra
81. Cyprus
82. Gibraltar (overseas territory of the UK)
83. Malta
84. Italy
85. Portugal
86. Spain
87. Kosovo (only partially recognised, claimed by Serbia)
88. Australia (including territories of Christmas Island, Cocos (Keeling) Islands, Norfolk Island)
89. New Zealand
90. New Caledonia (overseas collectivity of France)
91. Guam (unincorporated territory of the United States)
92. Federated States of Micronesia
93. Marshall Islands
94. Northern Mariana Islands
95. American Samoa (unincorporated territory of the United States
96. Cook Islands (part of the realm of New Zealand)
97. French Polynesia (overseas collectivity of France)
98. Pitcairn Islands (overseas territory of the United Kingdom)
99. Wallis and Futuna (overseas collectivity of France)

(তথ্যসূত্র)
-http://www.enotes.com/topic/LGBT_rights_by_country_or_territory

Thursday, July 21, 2011

প্রাচীন গ্রিসে প্রেম ও যৌনজীবন

বিবাহ বিচ্ছেদ
আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু
কোনো গ্রিক স্বামীর জন্য বিয়েতে ব্যভিচার বলে কোনো কিছুর স্থান ছিল না। বিয়ের কারণে তাকে যাবতীয় নান্দনিক ও যৌন উপভোগ থেকে বঞ্চিত হতে হবে এমন কোনো যুক্তি কারো চিন্তারও বাইরে ছিল। তখনকার গ্রিক সমাজ ও নৈতিকতা পুরুষের বহুগামিতাকে অনুমোদন করত এবং গ্রিক পুরুষরা সেভাবে জীবন কাটাতে অভ্যস্ত ছিল।
কিন্তু এ পরিস্থিতি সত্ত্বেও সংখ্যায় স্বল্প হলেও কিছু কিছু কণ্ঠ, যারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে নৈতিকতা বজায় রাখার দিকটিকে গুরুত্ব দিতেন তাদের মধ্যে অ্যারিস্টটল, আইসোক্রেটস, প্লটাস উল্লেখযোগ্য।
কিন্তু মেয়েদের ব্যভিচার যদি কখনো ধরা পড়ত তাহলে গ্রিক সমাজ কী করত? এর নিশ্চিত সমাধান ছিল বিবাহ বিচ্ছেদ। যার অনিবার্য পরিণতি স্বামীর গৃহ থেকে সংশ্লিষ্ট স্ত্রীকে বহিষকার। কারণ, ব্যভিচারী নারীর গর্ভে জন্মগ্রহণকারী সন্তানের বৈধতা নিশ্চিত করা সম্ভব ছিল না। তাছাড়া স্ত্রীর ব্যভিচারকে স্বামীর মর্যাদার ওপর চরম আঘাত হিসেবে বিবেচনা করা হতো এবং সম্পত্তির মালিকানার অধিকারের ওপর হুমকিস্বরূপ ছিল। আমাদের বিস্মৃত হলে চলবে না যে, ট্রোজান যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল শুধু মেনেলাসের মর্যাদা রক্ষার জন্য।
প্রাচীন গ্রিক সমাজে ‘মর্যাদা’ এবং ‘অসমমান’ এমন দুটি ধারণা অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করত। স্বামীর মর্যাদা এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীতে এথেন্সের আইনপ্রণেতা ড্রাকোনের (ড্রাকোন ঃ খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীর এথেনীয় আইনপ্রণেতা, যিনি সর্বপ্রথম লিখিত আইন তৈরি করেন। এই আইন এত কঠোর ছিল যে, আইনের শব্দগুলো লিখিত হয়েছিল রক্ত দ্বারা) আইন অনুসারে পরিচালিত এক মামলার বিবরণীতে দেখা যায় যে, স্ত্রী ব্যভিচারে লিপ্ত থাকা অবস্থায় স্ত্রীর প্রেমিকাকে স্বামী ধরে ফেলে এবং হত্যা করে। কিন্তু বিচারে স্বামীকে নির্দোষ সাব্যস্ত করা হয়। ক্লাসিক্যাল যুগেও একই আইন কার্যকর ছিল বলে প্রতীয়মান হয়। কারণ ইউফেলিটাসের মামলায়ও সেই আইনের উল্লেখ আছে। জনৈক ইউফেলিটাসকে তার স্ত্রীর ব্যভিচার সম্পর্কে জানানো হলে সে স্ত্রীকে চোখে চোখে রাখে এবং স্ত্রীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত অবস্থায় স্ত্রীর প্রেমিক ইরাটোসথেনিসকে ধরে হত্যা করে। বিচারে আইনজীবী ঘাতক স্বামীর পক্ষেই যুক্তি প্রদর্শন করেন। তাছাড়া অ্যারিস্টটল তার ‘এথেনীয় রাষ্ট্র’ গ্রন্থে আমাদের অবহিত করেছেন যে, একই আইন তার সময়েও কার্যকর ছিল।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যভিচারী নিষকৃতি পেতে পারত জরিমানা দিয়ে। কিন্তু তার কপাল মন্দ হলে শাস্তি হিসেবে তার গুহ্যদ্বার দিয়ে একটি মুলা ঢুকিয়ে দেয়া হতো। এসবের মধ্যেও যারা প্রভাবশালী ছিল ও ফন্দিফিকির জানত, তারা বিনা শাস্তিতেই পার পেয়ে যেত। জনৈক অ্যালসিবিয়াডেসের ঘটনাটি ছিল এরকম-তিনি সপার্টায় নির্বাসিত জীবন কাটানোর সময় রাজা অ্যাগিসের স্ত্রী তিমাইয়ার সাথে যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং তিমাইয়ার গর্ভজাত সন্তানে অ্যালসিবিয়াডেসের সন্তান বলে পরবর্তীতে ধারণা করা হয়। তার স্ত্রী হিপারেটি যখন তাকে পরিত্যাগ করে এবং আইনানুগভাবে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘোষণা দেয় তখন অ্যালসিবিয়াডেস সমাজপতিদের সিদ্ধান্ত অগ্রাহ্য করে জোর করে তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় এবং শাস্তি থেকে নিজেকে রক্ষা করে।
আইনপ্রণেতা সলোনের মতে, ‘কোনো মহিলা যদি ব্যভিচারে লিপ্ত অবস্থায় ধরা পড়ে তাহলে সে অলংকার পরতে পারবে না এবং কোনো মন্দিরেও তার গমন করা উচিত নয়। তাহলে সে অন্য মহিলাদের ব্যভিচারে প্ররোচিত করতে পারে। কিন্তু সে যদি তা করে অথবা নিজেকে সাজায় তাহলে তার সাথে যে পুরুষের সাক্ষাৎ হবে তার উচিত তার পরিধেয় বস্ত্র ছিঁড়ে ফেলা, অলংকার খুলে নেয়া এবং তাকে প্রহার করা। কিন্তু তাকে হত্যা করা অথবা পঙ্গু করে দেয়া উচিত হবে না।’
ব্যভিচারী স্ত্রীকে গৃহ থেকে বহিষকার ও পরে বিবাহ বিচ্ছেদের অর্থ দাঁড়াবে, স্ত্রীর পরিবার যে উপহারসামগ্রী প্রদান করেছিল তা আবার তাদের ফিরিয়ে দেয়া, যা এক ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির শামিল। এ পরিস্থিতিতে অনেক স্বামী-স্ত্রীর ব্যভিচারের অপমান হজম করে স্ত্রীর অনুশোচনাকে অনুমোদন করে তাকে গ্রহণ করত।
অবশ্য বিবাহ বিচ্ছেদের একমাত্র কারণ যে শুধু ব্যভিচার ছিল তা নয়। অনেক কারণেই কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে পরিত্যাগ করতে পারত। যেমন- স্ত্রীর বন্ধ্যাত্ব। বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ দুজন সাক্ষীর সামনে বর্ণনা করতে হতো। কিন্তু কোনো স্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বামীকে পরিত্যাগ করার প্রক্রিয়া কঠিন ছিল। কারণ আইনগত দিক থেকে মহিলাদের সারাক্ষণ প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে কাটাতে হতো। ফলে তাদের পক্ষে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হতো না। তাকে আরকনের (Archon) কাছে লিখিতভাবে জানাতে হতো যে, সে কেন বিবাহ বিচ্ছেদ চাচ্ছে। আরকন অন্যান্য দায়িত্বের মধ্যে নাগরিক অধিকারবঞ্চিতদের বিষয়ে দায়িত্বশীল ছিলেন। যা হোক লিখিত বিবৃতি পাওয়ার পর আরকন সেই বিবৃতির সত্যতা যাচাই করে তার সিদ্ধান্ত প্রদান করতেন।
ইতিমধ্যে বলা হয়েছে যে, কোনো মহিলা তার স্বামীর ব্যভিচারের বিষয় উল্লেখ করতে পারত না, যদিও বিবাহ বিচ্ছেদের প্রকাশ্য কারণ তাই থাকত। এছাড়াও স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে শারীরিক যাতনা ও প্রহারের ঘটনা প্রমাণিত হলেও তা বিবাহ বিচ্ছেদে গড়াত। বিবাহ বিচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট মহিলার নাম প্রকাশ্যে আলোচিত হতো এবং এটা সবচেয়ে অবাঞ্ছিত একটি ব্যাপার ছিল। তালাকপ্রাপ্তা মহিলাদের পুনঃবিবাহে যদিও কোনো বাধা ছিল না, কিন্তু তাদের সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখা হতো।
সপার্টায় যেখানে আইন এবং নৈতিকতা সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের ছিল সেখানে বিদ্যমান পরিস্থিতি সম্পর্কে প্লুটার্ক আমাদের জানিয়েছেন যে, ‘প্রবীণ এক সপার্টান, গেরাডসকে এক বিদেশী প্রশ্ন করেছিল যে সপার্টানরা ব্যভিচারীদের কিভাবে শাস্তি দেয়? তিনি তাকে উত্তর দিয়েছেন- আমাদের মধ্যে কোনো ব্যভিচারী নেই। বিদেশী আবার প্রশ্ন করে, কিন্তু যদি কোনো ব্যভিচারী থাকে? গেরাডসের উত্তর ছিল-তাহলে শাস্তি হিসেবে ব্যভিচারীকে নির্দেশ দেয়া হয় যে, তাকে টেগেটাস পর্বতের ওপর দিয়ে মাথা দেখা যাবে, এমন একটি বড় ষাঁড় দিতে হবে। বিদেশীর তৃতীয় প্রশ্ন ছিল পৃথিবীর কোথায় পাওয়া যাবে এত বিরাট একটি ষাঁড়? এবং গেরাডস উত্তর দেন ঃ অতএব সপার্টায় কোনো ব্যভিচারীর সাক্ষাৎ পাওয়া সম্ভব নয়।’
এছাড়া আরেকটি পদ্ধতি অনুসরণ করতে দেখা যায়, লাইকারগাসের আইন অনুসারে কোনো বয়স্ক অনুর্বর স্বামী তার স্ত্রীর সাথে কোনো যুবকের পরিচয় করিয়ে দিতে পারত, যাতে সেই যুবকের বীর্যে সুন্দর ও বলবান সন্তানের জন্ম ঘটে। এই প্রক্রিয়ায় বিবাহের কোনো ক্ষতি হতো না। অভিজাত বংশোদ্ভূত কোনো পুরুষ বিবাহিত রমণীর গুণে বিমুগ্ধ হয়ে তার স্বামীর অনুমতি চাইতে পারত তার সাথে যৌনমিলনের জন্য, যাতে সে উত্তম বংশের শক্তিশালী সন্তান নগরীকে উপহার দিতে পারে।
এই আইনটি সম্ভবত সুপ্রজননতত্ত্ব হতে উদ্ভূত, যা প্রাচীন গ্রিসে প্রচলিত ছিল এবং এর দ্বারাই নির্ধারিত হতো বিয়ে এবং সন্তানের জন্মদান। এর ফলে দম্পতির মধ্যে ঈর্ষার অনুপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়। তাছাড়া কোনো সপার্টান পুরুষ যদি মনে করত যে, স্ত্রী তাকে যথেষ্ট সন্তান দিয়েছে তাহলে তার জন্য এটা অতি সাধারণ ব্যাপার ছিল স্ত্রীকে তার বন্ধুর কাছে ন্যস্ত করা, যাতে বন্ধুটি তার স্ত্রীর সাথে মিলনের সুখ উপভোগ করতে পারে।
এথেন্স এবং অন্যান্য গ্রিক নগর রাষ্ট্রেও দেখা গেছে যে, কোনো স্বামীর সাথে যদি তার স্ত্রীর গুরুতর বিবাদ উপস্থিত হয় অর্থাৎ স্ত্রী যদি সন্তান ধারণে অক্ষম হয় অথবা পুত্রসন্তান জন্ম দিতে না পারে তাহলে স্বামী সাধারণত স্ত্রীকে তালাক দিতে চায় না, যৌতুক হিসেবে প্রাপ্ত সম্পদ ফিরিয়ে দিতে হবে বলে। বরং সে রক্ষিতার কাছে যায়।
 http://www.sunagro.info

Friday, July 8, 2011

যৌনতার বাধানিষেধ


যদিও অনেক প্রাণীর মধ্যে সমকামিতার যৌনখেলা বর্তমান। তাদের যৌনতার পরিচালনা হয় বেশিরভাগই উর্বরতাবৃত্তের সময়ে। সাধারণত নারী পশুরাই তাদের গর্ভধারণের সময়কালে পুরুষ পশুদের সাথে মিলিত হওয়ার আগ্রহ দেখায়। পশুদের এই মিলনপর্বের সময়টাকে অর্থাৎ তাদের উর্বরতাবৃত্তের পিরিয়ডকে প্রায়ই বলা হয়ে থাকে এসট্রুস। নারী পশুর গাত্র থেকে এই সময়ে একটা গন্ধ ছড়ায়, যা পেয়ে পুরুষ পশুরা যৌনভাবে উত্তেজিত হয়। এই গন্ধ ছড়ানো শুরু হলেই বুঝতে হবে মাদী পশু এখন এসট্রুস অবস্থায় আছে। এই ধরনের যৌন উত্তেজনার গন্ধকে বলা হয়ে থাকে ফেরোমোন।
অনেক শ্রেণীর পশুদের মধ্যে মাদী পশু প্রায় একই সময়ে সবগুলোর এসট্রুস হয়ে থাকে। তখন ফেরোমোনসের গন্ধে বাতাস পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে, যার কারণে মর্দ পশুদের যৌন উত্তেজনা বেড়ে যায়, যাকে বলা হয়ে থাকে রুট।
বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি যে, ফেরোমোনস মানুষের যৌনতার ক্ষেত্রে কী ভূমিকা রাখে। আমরা নিশ্চিত করে জানি যে, যদিও নারী ও পুরুষের কোনো এসট্রুস বা রুট পিরিয়ড বলে কিছু নেই। এটাই হলো মানুষ ও পশুদের মধ্যে একটা বড় পার্থক্য­ আমাদের যৌন পরিচালনা শুধু প্রজননের জন্যই সীমিত নয়। আমরা যে কোনো সময়েই যৌন জাগৃতির ইচ্ছা করতে পারি, যৌনাঙ্গ চালনা করতে পারি এবং যৌনানন্দ উপভোগ করতে পারি। তাতে নারী উর্বর হোক বা না হোক তা কোনো ব্যাপার নয়। আমাদের মানুষের যৌন পরিচালনা আরো আমাদের সম্ভব করে তোলে ব্যাপক আকারের বিবিধ প্রক্রিয়ায় যৌন জাগরণ ও আনন্দ উপভোগ করা। এসব মানুষের যৌনখেলা পশুদের মতো এতটাই সীমিত আকারের নয়। যদিও আমাদের রয়েছে অনেক বেশি যৌন আনন্দের ক্ষমতা অন্যান্য বেশিরভাগ পশুর চেয়ে, আমাদের যৌন পরিচালনা অনেক বেশি নিষিদ্ধ হতেও পারে।
যেসব বাধানিষেধ যা মানুষের যৌন পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, তা সাধারণত শারীরিক অপারগতার কারণে নয়, যেভাবে অন্য প্রাণীদের ক্ষেত্রে হয় আমাদের যৌনতার বাধানিষেধগুলো হচ্ছে সাধারণত সামাজিক। তারা সেরিব্রাল করটেক্সের মধ্যে বাণীবদ্ধ হয়ে থাকে। ব্রেনের এই অংশের মধ্যেই আমাদের যৌনতার পরিচিতি ও ভালোবাসার মানচিত্র উন্নতি লাভ করে। তারা গঠিত হয় আমাদের জীবন আরো আমাদের পরিবারের সঙ্গে জীবনের অভিজ্ঞতা এবং আমাদের সম্প্রদায়ের সামাজিক ও যৌনতার আদর্শ দ্বারা। এখানেই আমাদের যৌনতার অনুভব বসবাস করে। এই অনুভবগুলো প্রভাবিত করে যে, কীভাবে আমরা যৌনতায় মিলিত হই, কতটা বৈচিত্রতায় আমাদের যৌনতার আচরণ আমরা উপভোগ করতে পারি এবং কতটা আনন্দ আমরা পেতে পারি।
অনেকগুলো অনুভব যা আমাদের আছে তা হচ্ছে যৌনতা সম্বন্ধে বাধা-নিষেধ। এসব বাধানিষেধের অনেকগুলোই আমাদের নিজেদের ও আমাদের সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে সাহায্য করে। উদাহরণস্বরূপ আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ লোকই অন্যকে আমাদের সাথে জবরদস্তি যৌনমিলনের জন্য বাধা অনুভব করি। অন্যদিকে অনেকগুলো বাধা-নিষেধ আছে যা অনুভব করি তা শুধু নিজেদের যৌনভাবে উপভোগ করায় বাধা দেয়। উদাহরণস্বরূপ আমরা চাইতে পারি যে আমাদের সঙ্গী আমার বিশেষ কোনো অঙ্গ স্পর্শ করুক কিন্তু হয়তো আমরা জানি না সেটা জিজ্ঞেস করা সঠিক কি না।
আমাদের যৌনতার বেশিরভাগ নিষেধ জড়িত রয়েছে আমাদের দেহের কল্পনায়, আমাদের আত্মসম্মানের সাথে, ঈর্ষা, হোমোফোবিয়া এবং আমাদের আন্তরিক হওয়ার সামর্থের সাথে।

আজকের যৌনতা


আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন বিদেশের প্রতি আকর্ষণের ১ টা বড় কারণ ছিল সেখানকার মেয়েদের পোশাক আশাক , তাদের যৌনজীবন । সঠিক যৌন শিক্ষার অভাবে -বন্ধু বান্ধব, সিনেমা , টেলিভিশন ও ব্লু-ফিল্ম এর মাধ্যমে তৈরি হওয়া অসুস্থ ও নোংরা যৌন চেতনা থেকে মনে হত সেক্স এর ওপরে দুনিয়ায় আর কোন কিছু নাই...এত্ত এত্ত সেক্স করাই জীবনের সার্থকতা...বাংলাদেশেও যে কবে OPEN SEX এর দেশ হবে সেই আশায় বসে থাকতাম...
কিন্তু যখন বড় হওয়া শুরু করলাম (ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে)- বাস্তবতা ততই বুঝতে পারলাম। আমার মতো সাধারণ একটা ছেলের তীব্র আকাঙ্ক্ষার পাশ্চাত্যের “উত্তেজনাকর”, “জোস” ব্যাপারগুলোর বেশীরভাগই যে আসলে কিরকম বিকৃত তা দিন দিন বোঝা শুরু করলাম...
মানুষের লিঙ্গ ২টা – পুরুষ আর নারী । দুনিয়ায় মানুষ আগমনের শুরুতে ব্যাপারটা কেমন ছিল তা আমার জানা না থাকলেও পরবর্তীতে কোন এক কারণে নারীকে “কমজোর”,”নির্ভরশীল” মনে করা শুরু হল- ফলে মেয়েদের কাজকর্ম , চিন্তাধারা অনেকটা “কমজোর” ও “নির্ভরশীল” দের মতো হয়ে গেল...ধীরে ধীরে হাজার বছরের বিবর্তনের ধারায় এই ধারনা ছেলে- মেয়ে সবাইকে গ্রাস করল-মেয়েরা প্রকৃতপক্ষেই “কমজোর”,”নির্ভরশীল” তথা দ্বিতীয় লিঙ্গ হয়ে গেল...
কেউ যেন মনে না করে যে এটাই প্রকৃতির নিয়ম- নারীদেরকে এভাবেই পুরুষের চেয়ে “নিম্নমানের” ভাবে তৈরি করা হয়েছে । বরং সকল মানুষ ই জন্মের সময় প্রথমে মেয়ে থাকে । কয়েক সপ্তাহ পরে Y chromosome মেয়েকে ছেলে বানায় । মেয়েই আসে শুরুতে তারপর ছেলে। মেয়ে থেকেই ছেলের উৎপত্তি (*১)। আর আজকের এই দশা ক্রমান্বয়ে এসেছে ক্রমাগত বিবর্তনের এক ধারায়। বিবর্তনের বিপক্ষে প্রচুর সমর্থক আছে পৃথিবীতে – বাংলাদেশে তো ভরপুর । কিন্তু বিবর্তন আজ পরীক্ষিত সত্য। চাইলে ইন্টারনেটে মুক্ত মন নিয়ে সার্চ দিন- বুঝবেন , প্রমাণ পাবেন ।অন্যান্য বিশাল বৈজ্ঞানিক যুক্তি-প্রমাণ বাদ দিয়ে সহজ ২টা উদাহরণ দেই । (আমি বায়োলজির ছাত্র না- তাই সেগুলো ভালমতো বলতেও পারব না , তবে ব্যাপারটা যে সত্য টা আমি খুব ভালোভাবে জানি ।আর বিজ্ঞান বিশ্বাসের ব্যাপার না- জানার ব্যাপার –যুক্তি-তর্কের ব্যাপার)
উদাহরণ ১:
আমরা সবাই জানি সন্তানের জন্ম দিতে মায়েদের কি পরিমাণ কষ্ট হয়। সবচেয়ে বড় কষ্টকর ব্যাপারটা হল সন্তানের মাথা বের হওয়া । যে পথ দিয়ে সন্তান বের হয়- তা এই কাজের জন্য সঠিক মাপের নয় । বিজ্ঞানীরা দেখেছেন আদিম যুগে মানুষের মাথা ছিল ছোট ! তখন প্রসবকালে এতটা কষ্ট হত না। কিন্তু মানুষের মস্তিষ্কের উন্নতি হয়েছে দ্রুত- তাই মাথার আকার বেড়েছে – কিন্তু Vagina তো তার সাথে তাল মিলিয়ে বড় হয়নি । আর তাই দিন দিন মায়েদের প্রসবকালে যন্ত্রণা বাড়ছে। এটা কি মনো-দৈহিক বিবর্তন এর প্রমাণ না?
উদাহরণ ২:
প্রাচীনকালে মানুষের শারীরিক কাঠামো ছিল ভিন্ন- শক্তি ছিল অনেক বেশি । ধীরে ধীরে মানুষ বাহুবলের বদলে নিজেদের প্রজ্ঞা , মেধা , বুদ্ধিকে ব্যবহার করেছে- পেশী শক্তির চেয়ে মাথার পরিশ্রম , ব্যবহার হয়েছে বেশি – ফলশ্রুতিতে আজকের মানুষ আগের দিনের মানুষের চেয়ে অনেক ভিন্ন- শারীরিক ক্ষমতা কম- কিন্তু মস্তিষ্কের ক্ষমতা অনেক বেশি... আদিম যুগের মানুষের বৈজ্ঞানিক নামটা পর্যন্ত আলাদা । বিবর্তনের মাধ্যমে দিন দিন কত নতুন ভাইরাস,ব্যাক্টেরিয়া তৈরি হচ্ছে...(এরা ক্ষুদ্র বলে বিবর্তন-মিউটেশন সহজে হয়) এর পরও যদি কেউ বিবর্তনে বিশ্বাস না করে- তাকে বোঝানোর কোন মানে নেই । মানুষ বিবর্তনের মাঝ দিয়ে এসেছে- এটা নিয়ে হয়ত ধর্মীয় কারণে তর্ক থাকতে পারে। কিন্তু মানুষ আগমনের পর থেকে যে বিবর্তিত হয়েছে- এই সত্যটা আশা করি সবাই মানবেন।
কিছু মানুষ আছে যারা বাঘ-কুকুরের উদাহরণ দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করে যে প্রকৃতির নিয়মই হল মেয়েরা পুরুষের “আনন্দের” জন্য তৈরি । হুমায়ূন আহমেদ টাইপ কিছু লেখকও এই ধরনের চিন্তা আমাদের মাথায় ঢুকিয়ে দেয়। কিন্তু তাদের মাথায় তখন পিঁপড়া , মৌমাছি , Betta strohi মাছের উদাহরণ মাথায় আসে না। (*৪)বাঘিনী,মেয়ে-কুকুর যেমন বাঘ-কুকুরের ছেড়ে যাওয়া সন্তানকে আগলে বড় করে, ছেলে Betta strohi ও তেমনিভাবে Betta strohi সন্তান মুখে আগলে রেখে বড় করে। এরকম মাছ আরও অনেক আছে । কিছু প্রজাতিতে পুরুষ মুখে ডিম নিয়ে তা দেয় ।এদেরকে Mouthbrooder মাছ বলা হয় ।আর কিছু প্রজাতিতে পিতা সন্তানের সাথে সাথে থাকে- বিপদে পোনারা তাদের বাবার মুখে ঢুঁকে যায়...নিশ্চয়ই টিভিতে দেখেছেন এটা। পিঁপড়া – মৌমাছিদের সমাজে নারী যে পুরুষের ঊর্ধ্বে তা তো সবাই জানে ।আসলে প্রকৃতিতে ২ টাই ঘটে । কোন প্রজাতিতে পুরুষ হয় “নায়ক”, কথাও নারী হয় “নায়ক” (“নায়িকা” না )। তাই “প্রকৃতির নিয়মে নারীরা পুরুষের চেয়ে নিচে” –এই ভাবনা যেন কারও মাঝে না থাকে ......এটা আমাদের সৃষ্টি করা নিয়ম – প্রকৃতির না । কোন এক সময় মেয়েরা পুরুষের চেয়ে “দুর্বল” হয়ে গিয়েছিল সাময়িকভাবে । পরে তারা সেই “দুর্বলতায়” অভ্যস্ত হয়ে যায় । আর হাজার বছরের পরিক্রমায় এই দুর্বলতা তাদের জিন এ গেঁথে গেছে পাকাপাকিভাবে ...
প্রাচীন ধর্ম ও সমাজব্যবস্থাগুলো ও তাই প্রমাণ করে । সেখানে নারীরাই ছিল “নায়ক” । সময়ের সাথে এক বিকৃত বিবর্তনে নারীজাতি আজকের “মেয়ে” তে পরিণত হয়েছে । আর তাই পরবর্তী সময়ে আসা ধর্ম-সমাজ সবকিছুতে “নারীরা দুর্বল” ফুটে উঠেছে ।
আমি আসলে এখনো আমার মূল বিষয়ে আসিনি । আমার লেখার বিষয়বস্তু প্রাচীনকাল বা বিবর্তন না- বর্তমান ও ভবিষ্যৎ ।
আবার ছোটবেলায় ফিরে যাই-
একটু আধটু জ্ঞান হবার পর থেকে মাথায় ১টা জিনিস কাজ করত –পাশ্চাত্যের “উন্নত” দেশগুলোতে নারী-পুরুষ বৈষম্য অনেক কম । ওখানকার মেয়েরা Freely কাজকর্ম করে – রাস্তায় চলাফেরা করে । তারা ছেলেদের মতই পোশাক আশাক পরে । অযথা নিজেকে অতিরিক্ত ঢেকে ঢুঁকে রাখে না । ওখানে ছেলে মেয়ে হাজারবার সেক্স করলেও কেউ খারাপভাবে তা দেখে না। এটাই তো ন্যাচারাল- এটাই তো হওয়া উচিৎ । আর এ জন্যই ওরা আসলে এত উন্নত ।যত সমস্যা আমাদের এই কনজারভেটিভ দেশগুলোতে ।
কিন্তু ঘটনা কি আসলেই তাই?
আবার মন দিয়ে এখন সেই মুভিগুলো দেখা উচিৎ আমার, যেগুলো দেখে এই ধারনা তৈরি হয়েছিল । তাহলে আমি হয়ত এখন দেখতে পেতাম (যা তখন পাইনি) তা হল মুভিতে নায়কটা পুরো সিনেমাতে সাধারণ কাপড় পরে অভিনয় করেছে। দরকারে ২-১ বার হয়ত জামা খুলেছে কিন্তু এর বেশি কিছু না... আর মুভির নায়িকাটা? সে তো মোটামুটি ৫০ ভাগ দৃশেই তার স্তনের কিয়দংশ বের করে রেখেছে , হাঁটুর নিচে কাপড় যায়ই না। জামার হাতা- সেটা আবার কি????ছেলেরা শৌর্য-বীর্য , “Personality”, পেশা –এসব মানবিক(পেশা মানবিক না হলেও সেটা নিজের মন-মাথা দিয়েই বেছে নিতে হয় ।) দিক দিয়ে আকর্ষণীয় হবে (শারীরিক সৌন্দর্য তো আছেই, কিন্তু ছেলেদের ক্ষেত্রে তা এসব দিয়ে পোষায় নেয়া যায় ),বিপরীত লিঙ্গকে আকর্ষণ করবে । আর মেয়েরা তাদের রূপ-সৌন্দর্য আর শরীরের মতো বস্তুগত জিনিস দিয়ে তা করবে...তাহলে মেয়েদের সাথে বস্তুর কি পার্থক্য?
পাশ্চাত্যে মেয়েদের normal dressup ই হয়ে গেছে শরীর দেখানো মতো। আমাদের কারো চোখে এটা খারাপ, আবার কারও বা HOT, SEXY লাগলেও তাদের কাছে এটা স্বাভাবিক ।
“তাদের কাছে এটা স্বাভাবিক” –এই কথাটা আমরা প্রায়ই বলি এবং পুরো ব্যপারটা পাশ কাটাই Culture এর দোহাই দিয়ে । কিন্তু ১টি বার ভাবুন- ছেলেরা নিজেদের শরীর ঢেকে ঢুকে রাখবে আর মেয়েরা যথাসম্ভব তা দেখিয়ে বেড়াবে , ছেলেরা মানবিক গুন দিয়ে আকর্ষণীয় হবে আর মেয়েরা দেহ দিয়ে হবে – এটা যখন ১টা সমাজের চোখে “NORMAL” লাগে তখন সেই সমাজের আর কি বাকি থাকে?? (যেভাবে চলছে তাতে হয়ত একদিন আমাদেরও এটাই “NORMAL” লাগবে- আর খারাপ মনে হবে না...)
অনেকে নারীদেহকে “অনিন্দ্য সৌন্দর্য”, “দেখার মতো জিনিস”, “সুন্দর সৃষ্টি” ইত্যাদি উপমা দিয়ে সেটাকে “মেলে ধরার” পক্ষপাতী । কিন্তু এই “নারীদেহ” কাদের কাছে “অনিন্দ্য সৌন্দর্য”, “দেখার মতো জিনিস”, “সুন্দর সৃষ্টি” ?? অবশ্যই তা ছেলেদের কাছে ...আর মানেন আর না মানেন এর কারণ যৌনতা ছাড়া আর কিছু না । (কিছু অনবদ্য শিল্পকলায় হয়ত সত্যিকার অর্থেই Neutrally শুধুমাত্র সৌন্দর্যের sense থেকে এর বন্দনা করা হয়েছে- কিন্তু তার সংখ্যা নগণ্য । আর ওগুলো special case- ওগুলো ১ শতাব্দীতে ২-১টা সৃষ্টি হয় )
সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে আমরা ধরেই নিয়েছি ছেলেদেরকে আনন্দ দেয়া, যৌন সুড়সুড়ি দেয়াই মেয়েদের কাজ !!! তাই নয় কি ??? নারীরা শো-কেসে সাজানো শো পিস এর মতো – প্রদর্শিত হওয়াই তাদের কাজ । পুতুলের প্রাণ নেই-তাই কেউ তাকে আনন্দ দেয় না । ছেলেরাও মেয়েদেরকে আনন্দ দেয়ার জন্য জননাঙ্গ অর্ধেক বের করে ঘুরে না,জননাঙ্গ চেপে ধরা-ফুলে থাকা পোশাক পরে না । কিন্তু মেয়েরা তাদের জন্য এটা করে...এবং খুব আনন্দের সাথেই করে এবং তারপর “নারী স্বাধীনতা” নিয়ে লাফালাফি করে ...... তারা নিজেরাই নিজেদেরকে ছেলেদের পণ্যে পরিনত করেছে – নিজেদেরকে শুধুই আনন্দের খোরাক বানিয়ে ফেলেছে । কি উন্নত যুগে আমরা বাস করছি!!!...আর আমাদের মনের অজান্তেই (কারণ আমরা মন বন্ধ করে রাখি-ভেবে দেখি না কিছু) এই নোংরা চিন্তাধারা আমাদের মনে গেঁথে যাচ্ছে... অসভ্য বর্বর যুগে আবার ফিরে যাচ্ছি আমরা নতুন আঙ্গিকে ...
পরবর্তী আলোচনায় যাওয়ার আগে একটা জিনিস নিয়ে কথা বলা দরকার –বর্তমান ভারতীয় কালচার ।
ভারত এখন দুনিয়ার সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশগুলোর ১টা । সম্মান করার মতো নানা দৃষ্টান্ত আছে ভারতের । কিন্তু আজ আমি তাদেরকে ঘৃণা করার ২-১ টা কারণ বলব-
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ৫ জন ধনীর ২ জন ভারতের ।আবার সবচেয়ে দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যেও প্রথম সারিতে আছে ভারত । বৈষম্যের এই তীব্রতা শুধু অর্থনৈতিক না- এটা তাদের দেশের সবখানে । জ্ঞান- বিজ্ঞান , শিক্ষা – এসব দিকে না গিয়ে আজ তাদের কালচার নিয়েই শুধু কথা বলব ।
ভারত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র , কিন্তু তাদের দেশের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সারা বিশ্বে কুখ্যাত । তাদের দেশে সাম্প্রদায়িক দল নির্বাচনে দাঁড়ায়। ভারতে আইন করে সমকামিতা , Live Together সিদ্ধ করা হয়েছে । কিন্তু আজও তাদের দেশে সতীদাহের খবর পাওয়া যায় ...
ভারতের টিভি চ্যানেলগুলোর বাংলাদেশে রমরমা কদর । এসব চ্যানেলে দেখানো হয় ঝকঝকে তকতকে এক কালচার । দেখে মনে হয় ভারত আমেরিকাকেও হার মানিয়েছে । মেক-আপের সাগরে ভাসা সিরিয়ালের পাত্র-পাত্রী(অপূর্ব কাহিনী ও অসাধারণ শব্দশৈলীর কথা এখানে না-ই বললাম...), আলোয় উদ্ভাসিত ঝকঝকে তকতকে প্রাসাদতুল্য ঘরবাড়ি দেখে মাথা ঘুরে যায়। দেশের বাইরে শুটিং হওয়া অধিকাংশ সিনেমা দেখে মনে হয় ভারত আর আমেরিকা তো একই জিনিস ।
কিন্তু ভারত কি আসলে তাই??
ডিডি ন্যাশনাল টাইপের সরকারী ভারতীয় চ্যানেল-এ এখনো প্রাথমিক শিক্ষা , টিকা দান, কন্যা সন্তানকে মানুষের মর্যাদা দেয়া, বাল্যবিবাহ রোধ করা নিয়ে বিজ্ঞাপন দেখানো হয়...
ভারতের “মিডিয়া কালচার” কিন্তু পুরপুরি মিথ্যা না- এটা ভারতের মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের কালচার , যারা পাশ্চাত্যকে অনুকরণ করার ছ্যাঁচড়া পণে ব্রত । এই কালচার আসল ভারতের, ভারতবর্ষের কালচার না । এটা ১ টা বিকৃত ধারা । যে ধারা নোংরামিতে এখন ১ নাম্বার । ইংলিশ মুভিও বাবা-মা সহ দেখা যায়- হিন্দি যায় না । একেকটা হিন্দি গানের ভিডিও তো বিকৃত-মনের মানুষেরও ঘিন্না ধরায় ।আর গানের কথা?”আমার নাম শীলা,শীলার অনেক যৌবন,আমি প্রচণ্ড যৌন আবেদনময়ী-কিন্তু আমি কারও ‘হাতে’ যাই না...” প্রতিটা গানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অর্ধ-নগ্ন মেয়েদের নোংরা নাচ। Hollywood এর ভাল দিকগুলো তারা গ্রহণ করতে পারেনি।পারেনি তাদের নিজ কালচারকে ধারণ করতে । আবার Western এর মতো পুরপুরি নগ্ন ও হতে পারেনি । কিন্তু অনুকরণ তো করতেই হবে... তাই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে তাদেরকে অর্ধ-নগ্ন থাকতে হবে - নইলে তো আর “আধুনিক” হওয়া যাবে না- “স্মার্ট” হওয়া যাবে না... Western Culture এর চেয়েও ভয়াবহ নোংরা কালচার আমাদের পাশে ফণা তুলে বসে আছে আর দংশাচ্ছে পশ্চিমাদের চেয়ে অনেক অনেক বেশি ...
এতক্ষণ ভারত নিয়ে অনেক কথা বললাম- কারণ বিশাল ভারতের পাশে আমরা ছোট্ট ১টা দেশ । সবদিক দিয়ে তাদের দ্বারা আমরা প্রবলভাবে প্রভাবিত। ভারতীয় চ্যানেল , সিনেমা – সবকিছুরই অবাধ বিচরণ বাংলাদেশে । এই অবাধ বিচরণ কিন্তু থামানো যাবে না। চেষ্টা করাও হবে বোকামি । এই যুগে আমরা অবশ্যই সবকিছুর সান্নিধ্যে আসব- আসতেই হবে । কিন্তু সেই সবকিছু থেকে আমরা খারাপটাকে চিনে নিয়ে বর্জন করতে পারব না? এটা তো আমাদেরকেই করতে হবে ।এতটুকু বুদ্ধি-বিবেক-শক্তি আমাদের নেই??
আমাদের দেশের বেশীরভাগ মেয়ের(মেয়ে=মেয়ে,মহিলা সব...) প্রিয় টিভি চ্যানেল হিন্দি সিরিয়ালের চ্যানেলগুলো । সিনেমা ও সিরিয়ালের জগতই তাদের কল্পনার জগত । নাজিয়ার মতো ২-১ টা মেয়ে আছে যারা M.I.T তে গিয়ে বুঝিয়ে দেয় মেয়েরা সবদিক দিয়েই সব পারে ।কিন্তু অন্য মেয়েরা তা বুঝতে চায় না। আর তাই ম্যাথ অলিম্পিয়াডে ১০ টা ছেলের পর ১ টা নাজিয়াকে পাওয়া যায় । কিন্তু সভ্য সমাজের সব মেয়েই তো এখন পড়াশুনা করে- তাহলে সমস্যাটা কী?
সমস্যাটা হল স্কুল-কলেজ-প্রাইভেট-Boyfriend-“JUST FRIEND” এই কয়টা জিনিস ই তাদের জগত ।(ছেলেদেরও তাই) তার সাথে আছে সিনেমা-সিরিয়াল ও তথাকথিত আবেগ এর ভার্চুয়াল জগত । এর বাইরে আর কিছু নাই। আধুনিকতা প্রকাশের জন্য বসুন্ধরা সিটিতে বান্ধবী ,Boyfriend ও “JUST FRIEND” দেরকে নিয়ে ঘোরা যায়, ভ্যালেন্টাইন্স-ডে তে কার্ড-চকলেট কেনা যায় । কিন্তু সাইন্সের স্টুডেন্ট হয়ে “কলেজ বায়োলজি” ছাড়া আর কোন আধুনিক বিজ্ঞানের(আধুনিক শব্দটি না হয় বাদ-ই দিলাম) বই কিনে পড়া হয় না।
বাংলাদেশে মোটামুটি সব মেয়ের ই “স্বপ্ন” থাকে ডাক্তার হওয়া । প্রতি বছর সরকারি মেডিকেলে অর্ধেকের মতো মেয়ে ভর্তি হয়। বের হয় কয়জন তা আমি সঠিকভাবে জানি না , তবে এই বছর বগুড়া মেডিকেল থেকে মেয়ে পাশ করে বের হয়েছে ৫ জন । (ভর্তি হয়েছিল ঠিক অর্ধেক) । পুরো মেডিকেল এর পরিসংখ্যানটাও এরকম ই হবে হয়ত । দেশে ভাল মহিলা ডাক্তার কয়জন আছে তা দেখেও বোঝা যায় যে জাস্ট ১টা রোমান্টিক তথা আবেগী চেতনা থেকে তারা মনে করে তারা “স্বপ্ন” দেখে ,কিন্তু আসলে তা সত্যিকারের স্বপ্ন নয় (অনেক মেয়ে দেখে কিন্তু সমাজের কারণে তারাও আগাতে পারে না-“ডাক্তারির এত লম্বা পড়া শেষ করার পর বুড়ি মেয়েকে বিয়ে করবে কে?”-এই মহান চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তারা পড়াশুনার মাঝেই মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেয় আর ভাবে “বিয়ের পরে পড়বে-সমস্যা কী?” কিন্তু তারা নিজেরাও জানে যে সেটা কত বড় সমস্যা ) সারাদিন কোচিং করে- বই মুখস্থ করে প্রশ্ন কিনে তারা মেডিকেল এ Chance পায় এবং তারপর তাদের “স্বপ্ন” পূরণ হয়ে যায় ...
হিন্দি-ইংলিশ নোংরামি দেখে আমাদের দেশের মানুষও নোংরামিটাকেই স্মার্টনেস ভাবছে । মেয়েরা ভাবছে নিজের শরীরের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার মতো জামা কাপড় পরাটাই স্মার্টনেস ,নারীমুক্তি,আধুনিকতা আর অনেক বেশি Cool.. “প্রথম আলো”র “নকশা”এর মতো ম্যাগাজিনও তাদেরকে এটাই শিখায়।(“প্রথম আলো”র মতো ১টি পত্রিকা কিভাবে এরকম একটি কাজ করতে পারে তা আমি বুঝে পাই না... ) তাই নিজের স্তনের আকৃতি সবাইকে দেখিয়ে চাপা কামিজ, টিশার্ট , ফতুয়া পরে তারা ঘুরে বেড়ায় । জামার গলা হয় স্তনের ক্লিভেজ দেখানোর জন্য যথেষ্ট আর হাতা হয় মাইক্রোস্কপিক । আর ছেলেরাও HOT girlfriend অথবা “JUST FRIEND “ বানানোর জন্য এসব মেয়ের জন্য পাগল হয়ে থাকে । যা দেখে অন্য Normal মেয়েরা হীনমন্যতায় ভোগে ও তারাও একসময় তার বান্ধবীর মতো “HOT” হবার আপ্রাণ চেষ্টা করে । ওদিকে টিভিতে মেয়েদের কসমেটিকস এর বিজ্ঞাপনে আমাদের মেয়েদেরকে দেখানো হয় – “তুমি মেয়ে- তুমি সুন্দর, সেক্সি না হলে তোমার জীবনের কোথাও সফল হতে পারবে না ।” একটা জাতিকে অসুস্থ বানাতে এর চেয়ে বেশি আর কি লাগে? আমাদের সবার এখন ধারনা হয়ে যাচ্ছে মেয়েদের সৌন্দর্যই সব, তারা দেহ-সর্বস্ব । হুমায়ূন তার বইতে লিখছেন “হরিণ সুন্দর চোখে আর ননারী সুন্দর বুকে”!!!!
এখানে ১টা জিনিস Clear করা দরকার – টিশার্ট , ফতুয়া মেয়েরা পরতে পারবে না- আমি কিন্তু তা মনে করি না। ড্রেস ১টা পরলেই হল । কিন্তু টা যেন হয় শালীন ।আর এই শালীনতা যেমন টিশার্ট পরে রক্ষা করা যায়, তেমনি বোরকা পরেও ভঙ্গ করা যায়। Easy Feel করার জন্য, Relaxation এর জন্য টিশার্ট অবশ্যই best । কিন্তু...
এখন মেয়েরা যেসব টিশার্ট পরে সেগুলো কি নরমাল টিশার্ট ?? মেয়েদের জন্য টিশার্ট আলাদা- ওগুলোর হাতা হয় ছোট, গলা হয় বড় আর সাইজ এমন হয় যেন তা লেপটে থাকে গায়ের সাথে- যে পরে তার দিকে তাকালেই যেন তার ফিগার আমাদের চোখকে টেনে ধরে রাখে , তার হাঁটাচলার সাথে সাথে স্তনের স্পষ্ট নড়াচড়া যেন আমাদেরকে পাগল করে দেয়...শরীরের বাঁকগুলো আমাদের বুকে কাঁপন তোলে ,তাকে বিছানায় পাবার জন্য মন ছটফট করে । বন্ধুর কানে ফিসফিস করি- “দোস্ত, মাগীটারে দেখ......উফফফ......দোস্ত...লাগামু......লাগামু...”
এরকম ড্রেস কি Easy Feel করার জন্য, Relaxation এর জন্য পরা হয়?নাকি নিজের দিকে বিপরীত লিঙ্গের কামাতুর দৃষ্টিকে উপভোগ করার জন্য পরা হয়?? যে মানুষ নিজের প্রতি অন্যের এরকম মনোভাব তৈরি করাতে চায়-পছন্দ করে সে কতটা FREAK ?? তাদের যখন এসব এতই মজা লাগে তখন তারা গলায় ১টা “Open For SEX” লেখা signboard ঝুলায় রাস্তায় ঘুরলেই পারে- তারপর রাস্তার সব মানুষের “উত্তপ্ত ভালবাসা” দিয়ে নিজের দেহ-মন ভরিয়ে তারা বাসায় ফেরত যাবে....
যদি তারা ওপরের কাজটাও করত এবং দেহ-মন শান্ত হবার পর নরমাল লাইফ কাটাত – আমার মতে সমাজের এখনকার চেয়ে কম ক্ষতি হত। ১টা অপূর্ণ সহজাত প্রবৃত্তিকে বিকৃতভাবে উস্কে দেয়া হত না...বন্ধুর কানে ফিসফিস করা সেই ছেলেটির অতৃপ্ত, উস্কে যাওয়া যৌনাকাঙ্ক্ষার শিকার অন্য কোন অবলা মেয়ে হত না... সারাদিন যৌন সুড়সুড়িতে থেকে অসুস্থ মানসিকতা নিয়ে বেড়ে উঠত না যুব-সমাজ। যে ক্ষুধা তৈরি করত মেয়েটি-তা আবার সে মিটিয়ে দিত ।
বাংলাদেশে ইভ টিজিং , ধর্ষণ বৃদ্ধির এগুলো ও কি কারণ না?? একদিকে বিবেকহীনতার কারণে, মানুষের মূল্যবোধ এমনিতেই কমে গেছে বহুগুণে । ছোট থেকে সেক্স বিষয়ে সঠিক জ্ঞান না থাকায় বিকৃত জিনিসকেই আমরা সঠিক ভাবছি । আবার ১টি দল আছে যাদের মাঝে ধর্ম-মূল্যবোধের কিছুটা অবশিষ্ট থেকে সেটার সাথে - সাথে নোংরামি মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে ... সেই দলটি পুরপুরি অভদ্রও হতে পারছে না-ভদ্র ও থাকতে পারছে না। সেক্স করছে না ধর্ম ও সতীত্বের ভয়ে– কিন্তু সেক্স এর সুড়সুড়ি দিচ্ছে সব মানুষকে। ২ এর মাঝখানে থেকে আরেক বিকৃত রুচির পাগল মানুষ হয়ে গেছে তারা । ১জন মানুষের সহজাত প্রবৃত্তিকে যদি সুড়সুড়ি দিতে থাকা হয়- সে তো খুব সহজেই বিকৃত কাজে ঝাঁপিয়ে পড়বে...মনোবিজ্ঞান তো তাই বলে...আর তাই নারী-পুরুষের স্বর্গীয় আকর্ষণ, অনুভূতি প্রকাশ পাচ্ছে ইভ টিজিং- ধর্ষণ দিয়ে। এরকম দুঃখ আর কি হতে পারে?
বউ পেটানো,নারী নির্যাতন আগে ছিল অশিক্ষিতের কাজ- এখন তা ভদ্র সমাজে ঢুঁকে গেছে। বুয়েটে পড়া ছেলে তার ৭ বছর প্রেম করে বিয়ে করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা স্ত্রীর ওপর নির্যাতন চালায়- এর মতো হতাশা আর কয়টা আছে??আর এর পেছনে কারণ?? কারণ মেয়েরা আছে দোটানায়। কর্মক্ষেত্রে , বিদ্যাপীঠে মেয়েরা এখন সামাজিকভাবে অনেক সম্মানিত। কিন্তু মেয়েদের ১টা দল তাদের নিজেদের আত্মসম্মান,মনুষ্যত্ব বিসর্জন দিয়ে বিপরীত লিঙ্গের কাছে দিনদিন সেক্স টয় তে রূপান্তরিত হচ্ছে।আর তারাই বোধকরি দিনদিন দলে ভারি হচ্ছে...Western country গুলতে এখন যেকোনো কিছুর “সৌন্দর্য বর্ধনের” জন্য নারী ব্যবহৃত হয় । খেলার উত্তেজনা বাড়াতে, দর্শকদেরকে তুষ্ট করতে তাদেরকে নাচানো হয়...যদি ছেলে মেয়ে সবাই নাচত – একই রকম জামা কাপড় পরে তাহলে না হয় সেটাকে স্বাভাবিকভাবে নেয়ার চেষ্টা করা যেত । কিন্তু তা তো হয় না। Cheerleader হয় মেয়েরা ।অনেক সময় দলে কিছু ছেলেও থাকে, কিন্তু তারা “প্রধান আকর্ষণ” না। তাদের ড্রেস আপ ও থাকে স্বাভাবিক । দিন দিন আমরা যে আদিম যুগে ফিরে যাচ্ছি এটা কি তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ না?
Western ও Indian (Indian টা আসলে Western এরই অপভ্রংশ )এই দুই দিকের সাপের ছোবলে আমাদের দেশও নীল হয়ে যাচ্ছে । গতকাল ফেসবুক থেকে লিঙ্ক পেয়ে বাংলাদেশের ১ ফ্যাশন হাউজের ওয়েবসাইটে গেলাম । সেখানে কিছু বাঙালি মডেল শাড়ী পরে এমন পোজ দিয়েছে যে বিশ্বাস করতে অনেকক্ষণ লাগে যে এটা আসলেই বাংলাদেশি ওয়েবসাইট আর মডেলরা বাঙালি ..... এরপর নেটে সার্চ দিয়ে বাংলাদেশের অনেকগুলো ফ্যাশন হাউজ ও তাদের ফ্যাশন শো এর ছবি দেখলাম ...আমি এই ব্যাপারগুলো সম্পর্কে একদম অজ্ঞ ছিলাম। “নকশা”য় কিছু ছবি দেখে ভাবতাম এটাই বর্তমান “ফ্যাশন” পরিস্থিতি এবং সেটাতেই আমার তীব্র আপত্তি ছিল । কাল হতভম্ব হয়ে গেলাম ।( আমি আর এগুলোর লিঙ্ক দেয়ার দরকার মনে করছি না- আপনারা একটু সার্চ দিয়ে দেখে নিয়েন । ) এখন ১টা জিনিস আবার বলতে চাই; যদিও আগেও তা কয়েকবার বলেছি –এসব সাইটে কিন্তু ১০ টা মেয়ের অর্ধ নগ্ন ছবির পর ১ টা ছেলের ছবি পাওয়া যায় এবং সেই ছেলে কিন্তু অর্ধ-নগ্ন না ... যারা এসব ফ্যাশন শো তে অংশ নেয়, ফ্যাশন হাউজের মডেল হয় তারা কি দেখছে না যে তারা নিজেদেরকে অন্যের উপভোগের “বস্তু” বানিয়ে ফেলেছে ?? পতিতারা আমাদের সমাজে ঘৃণ্য (যদিও শখ করে কেউ পতিতা হয়না) । তারা অন্যের কাছে নিজেকে “সামগ্রী” বানিয়ে ভোক্তাকে তুষ্ট করে দেয় । ভোক্তার বিকৃত যৌনাকাঙ্ক্ষাকে পূরণ করে দেয় । কিন্তু আমাদের সমাজের “লেবেল-হীনা পতিতা”রা তো সেই বিকৃত যৌনাকাঙ্ক্ষা তৈরি করে দিচ্ছে ...আর তার জন্য ভুগছে আমাদের পুরো সমাজ । যৌনতা ব্যাধি হয়ে গ্রাস করে রেখেছে অধিকাংশ মানুষকে । সেক্সকেই জীবনের ১ নাম্বারে নিয়ে এসেছে সবাই ।নতুন প্রজন্ম (ছেলে-মেয়ে সবাই)নিজেকে বিপরীত লিঙ্গের কাছে সুন্দর, আকর্ষণীয় ,সেক্সি করার জন্য নিজেদের সময় পার করে দিচ্ছে । চুলের কাটিংটা কেমন হবে সেটা নিয়ে যতটা চিন্তা করি আমরা, চুল কাটার কাঁচিটা কিভাবে বানানো হয়- সেটা নিয়ে তার এক সহস্রাংশ সময়ও ভাবি না। সেক্স আমাদের জীবনের ১টা পার্ট – হ্যাঁ , খুব মজাদার ১টা পার্ট । কিন্তু তাতে নোংরামি কেন থাকবে? আর এর বাইরে তো আরও অনেক পার্ট আছে- অনেক সুন্দর , আরও বেশি মজাদার, গুরুত্বপূর্ণ ।কিন্তু সেগুলো নিয়ে আমরা ভাবি না।আমাদেরকে ভাবতে দেয়া হয় না। আমাদের মিডিয়া সারাদিন শখ-শারিকার নাচ দেখায়, বুয়েটের জীবন পোদ্দার স্যার এর গবেষণা দেখায় না, বাংলাদেশি ছাত্রের ৪ Frequencyর অ্যান্টেনা আবিষ্কারের খবর তারা দেখায় না। (দেখালে ১ মিনিট দেখায়) তাই সেটার খবর কেউ রাখে না ...
আমরা জীবনে আমেরিকার মুভি দেখি ছোট থেকে , কিন্তু আমেরিকার রেপ এর হার জানি বড় হয়ে । (অনেকে তা জানি-ই না...)আর তাই ওদের সমাজ সম্পর্কে ১টা ভুল ধারনা আমাদের মনে তৈরি হয় ।আমরা মনে করি ওদের ওপেন সেক্স লাইফ ,নগ্নতাই ওদের সমাজের সাথে আমাদের পার্থক্য।আর ওদের এত উন্নতির কারণ ওদের সমাজের সাথে আমাদের সমাজের এইসব পার্থক্য। কিন্তু সত্য হল এই যে এসব নগ্নতা , অশালীনতা, নারীকে পণ্যে রূপান্তর – এসবের জন্য তাদের উন্নতি বরং কমে গেছে । পুঁজিবাদের চরম স্বার্থপরতা, বস্তু-কেন্দ্রিক ও অর্থ-কেন্দ্রিক চেতনা তাদের আমজনতাকে ঘিরে রেখেছে । আমরা তাদের যে উন্নতি দেখি তা তাদের সমাজের খুব ক্ষুদ্র ১টা অংশের সৃষ্টি, অভিবাসীদের সৃষ্টি । বাকিদের অবস্থা পুরা উল্টা ।তাদের জ্ঞান আমাদের চেয়েও কম। পৃথিবীতে যুদ্ধ শুরু হলেও তার খবর তারা রাখে না। গতবার ইসরাইলের ফিলিস্তিন আক্রমণের পর এটা নিয়ে আমেরিকার জনমত নেয়ার চেষ্টা চালান হয় ১ টা টিভি চ্যানেল থেকে। বেশীরভাগের উত্তর ছিল – “তাই??হামলা চালিয়েছে? এ সম্পর্কে তো আমি কিছু জানি না...” তাদের দেশে যারা মানবাধিকার নিয়ে ফাল পারে তাদের সংখ্যা হাজার জনে ১ জন ।এর কারণ??? কারণ ওই সমাজব্যবস্থা । তাদের চিন্তার জগত । ওটা যদি সুন্দর হত , তারা আর বেশি উন্নত হত। তাদের কম উন্নতির কারণকেই আমরা উন্নতির কারণ মনে করে ভুল করি , আর উন্নতির কারণ ; তথা গবেষণা , কর্মঠ চেতনার চর্চা করি না।
পরিশেষে অল্প কিছু কথা বলব । আমাদের চেনা দুনিয়া ৩ টা । পাশ্চাত্য , মধ্যপ্রাচ্য আর প্রাচ্য । ল্যাটিন আমেরিকা, চীন-জাপান এদের খবর আমরা বেশি পাই না। তাই ওদের সমাজের অবস্থা আমরা ঠিকমত বলতে পারি না।এই ৩ দুনিয়ার মাঝে পাশ্চাত্যের যৌন বৈষম্য, নোংরা যৌনতা নিয়ে এতক্ষণ কথা বললাম । মধ্যপ্রাচ্যে মেয়েদের মৌলিক অধিকার পর্যন্ত নাই । শেখরা ৫-৬ টা বিয়ে করে, টাকা উড়ায়, জন্মদিনে ইউরোপের গায়িকার সাথে নাচে । ওখানকার সবচেয়ে উন্নত দেশ ইরানে মেয়েরা ভোট দিতে পারে না। বাকি দেশ গুলোর কথা বাদ-ই দিলাম ।প্রাচ্যের পাকিস্তান তো কোন দেশই না। সেখানে এখনো নিয়মিত ফতোয়া দিয়ে দোররা মারা হয় মেয়েদেরকে। ভারতও পুরাই রসাতলে গেছে । একদিকে সতীদাহ, বাল্যবিবাহ হয় , অন্যদিকে মেয়েদেরকে চিয়ার-লিডিং এ নামানো হয় , “শীলা কি জাওয়ানি” গাইয়ে নাচানো হয় । বাদ থাকে বাংলাদেশ । ৫ বছর আগে হলেও হয়ত বলতাম নারীর ক্ষমতা , মূল্যায়ন , স্বাধীনতা কম থাকলেও বাংলাদেশের মেয়েদেরকে বাজারে পাওয়া যায় না ।কিন্তু আজ বাংলাদেশের মেয়েদেরকে শুধু বাজারে না, রাস্তা ঘাটে পাওয়া যায় ।
তার মানে আজ পৃথিবীর যেদিকে তাকাই , সেক্স ১টা অনেক বড় সমস্যা । সেক্স এর কারণে আমরা কলুষিত । সমাজ অবক্ষয়ের সবচেয়ে বড় কারণগুলোর ১টা এই সেক্স । ১টা সমাজকে কিভাবে ধ্বংস করে দেয়া যায়-এর উত্তরে লেনিন প্রথমেই বলেছিলেন যুব-সমাজকে যৌন-চিন্তায় আক্রান্ত করে দাও ...আজ সবখানেই এই দশা । সাম্য , সুন্দর যে সমাজের কল্পনা আমরা করি তা কি কখনই আনা যাবে না? আগে স্বপ্ন দেখলেও এখন Doubt হয় । হয়ত যদি মানুষের কোন লিঙ্গ না থাকত , অর্থাৎ সবাই এক লিঙ্গের হত – সেটাই হত পারফেক্ট ... সাম্প্রতিক সময়ে বিজ্ঞানীরা মানুষের হাড়ের কোষ থেকে শুক্রাণু তৈরি করে তা দিয়ে ডিম্বাণু নিষিক্ত করে সন্তান জন্ম দেয়ার পদ্ধতি উদ্ভাবক করেছেন।(*২, *৩) ২ লিঙ্গের প্রয়োজন আর নেই...শুধু নারীরাই পারবে সন্তান জন্ম দিতে । হয়ত সমাজের এত ঝামেলা বৈষম্য কমাতে পরে এরকম লিঙ্গ বিহীন কোন পৃথিবীতেই বাস করবে মানুষ !!!! পারফেক্ট পৃথিবী হবে সেটাই ... কেউ আর নিজের দেহের দিকে নজর দিবে না- নজর দিবে সুন্দর কাজে , সৃজনশীলতায় ,জ্ঞান-বিজ্ঞান আর প্রযুক্তিতে , মানবতায়।
যত তথ্য প্রযুক্তি , যোগাযোগের উন্নতি ঘটবে ততই কালচারাল মিশ্রণ ঘটবে । এটাকে থামানোর কোন রাস্তা নেই । হয়ত একসময় পুরো পৃথিবীর কালচার এক হয়ে যাবে । কিন্তু সেই কালচার যে অপ-কালচার-ই হবে সেটা তো না। আমরা নিজের বিবেক আর চেতনাকে জাগ্রত করে, চিন্তার সাথে সব কাজ করে চাইলেই সব নোংরামি বাদ দিয়ে সব কালচার এর সৌন্দর্য ধারণ করে এমন এক বিশ্ব তৈরি করতে পারব যেখানে আমাদের লিঙ্গ, জাতি , ধর্ম এসবের নিরিখে কোন পরিচয় থাকবে না – থাকবে শুধু ১টি পরিচয়-আমরা মানুষ ।
চতুর্মাত্রিক
লিঙ্কঃ

Saturday, June 18, 2011

যৌনতার ইতিহাস আর কিছু যৌনসর্ম্পকের ভিডিও বিষয়ক আলোচনা..


সূচনা:
যদিও পূণরুৎপাদনের বিষয়টা একেবারেই সামাজিক একটা দৃষ্টিভঙ্গীতেই শুরু হইছিলো বইলা সমাজবিজ্ঞানীরা দাবী করেন। যৌন সম্পর্কের বিষয়টা কিন্তু তাদের কাছেই একদম ব্যক্তিগত একটা বিষয়। যৌন সম্পর্কের সাথে সবসময় প্রজনণ প্রাসঙ্গিক না বইলা এইখানে ব্যক্তিগত আনন্দ কিম্বা পরিতৃপ্তির আকাঙ্খাও যূক্ত থাকে। আমার জানা নাই পোশাক প্রথার শুরু হইলো কবে, মানুষের শরীর ঢাকার প্রয়োজন কেনো তৈরী হইলো। ইসলাম ধর্মে পর্দা প্রথার শুরু কেমনে শুরু হইলো তার একটা ব্যখ্যাই কেবল আমার শোনা আছে। হযরত মুহাম্মদ একবার তার সাহাবাদের দৃষ্টিভঙ্গী আর আলোচনায় বিবি আয়েশার শারীরবৃত্তীয় প্রসঙ্গ শুনতে পাইয়া একটু বিব্রত হইলেন। আর সেই রাইতেই নাজিল হইলো পর্দা প্রথা বিষয়ক বিধান। আমি জানি না এই তাফসীর কদ্দূর সত্য, কিন্তু ইসলাম ধর্মে যৌনতার পরিধী ছোট কইরা নিয়া আসনের কারণ ছিলো পারিবারিক উপলব্ধি। ঠিক যৌনতার পরিধী ছোট কইরা আনা যদিও হয় নাই, যৌনতার সাথে নৈতিকতার বিভিন্ন শর্ত আর দৃষ্টিভঙ্গীরে যূক্ত কইরা দেয়া হইছিলো ইসলামে।
সেমেটিক ধর্মগুলিতে যৌনতারে সবসময়েই একটা নৈতিক আওতার মধ্যে নিয়া আসনের তাগীদ ছিলো। এই সকল নৈতিকতার মূল অ্যাপ্রোচ সভ্যতার সাথে সাথে পরিবর্ধিত হইছে কিছুক্ষেত্রে পাল্টাইছে। কিন্তু এই সকল অ্যাপ্রোচ মূলতঃ সামাজিক প্রসঙ্গ হইছে। যৌনতার সংজ্ঞা কিম্বা এর সীমা পরিসীমা নির্ধারনের ক্ষেত্রে মানুষ আর মানুষের ধর্মসমূহ সামাজিক নৈতিকতারেই গুরুত্ব দিছে। অথচ যৌনতা যে একেবারেই ব্যক্তিগত বিষয়, যেই কারনে তার লুকোছাপা চলে। ব্যক্তিগত বিষয়ের উপর সামাজিক পুলিশিং বা নজর রাখার পদ্ধতিটা কি সেইটা নিয়া ইতিহাসে অল্পস্বল্প হইলেও তর্ক জারী ছিলো নিয়তঃ'ই। আবার ধর্মগুলিতে নারীর অবস্থান অধঃস্তন হওয়াতে যৌনতায় পুরুষের ভূমিকা সবসময়েই প্রধান থাকছে, যার প্রভাব এইসব নৈতিকতা আরোপের পদ্ধতিতেও পড়ছে।
যৌনতায় নারী আর পুরুষের শারিরীক পারফরম্যান্স কিভাবে নির্ধারিত হয় তার কোনো নৈতিক মানদণ্ড যদিও কখনো তৈরী হয় নাই। তবে সভ্যতা আর ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় কিছু বিষয়রে নীতিমালার মধ্যে নিয়া আসা হয়, যেমন শিশু আর সমলিঙ্গের প্রতি আকর্ষণরে সামাজিকভাবে নৈতিকতার সঙ্কটের মধ্যে ফালাইয়া দেয়া হয় অধিকাংশ সমাজেই। তবে পুরুষ যেহেতু সবসময় এর মানদণ্ড তৈরী করার অধিকার পাইছে সকল পর্যায়ে, তাই নারীর ভূমিকা যৌনতায় বেশিরভাগ সময় হইছে উত্তেজনা তৈরীর হাতিয়ার, আর পুরুষের বাসনা মিটানের অবলম্বন হিসাবে। পশ্চিমে এর ধরণ অবশ্য অনেক্ষেত্রে পাল্টাইছে কারণ যৌনতায়ও বোরডোম তৈরী হয়(!)। পরিবেশের সাথে সংগ্রামের ধরনের কারনে পশ্চিমে অবশ্য যৌনতার ধরনে অনেকসময় পরিবর্তন আসছে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণে মাত্রাগত পরিমাণ কেবল যৌনতায় না সম্পর্কের অন্য সকল ধরনেও সেমেটিক নৈতিকতার সাথে অল্পস্বল্প বিরোধ সূচীত হইছে এই এলাকায়।
আর সকল অধিকারের মতোন যৌনতায়ও নারীর অধিকার সীমিত হইছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায়। ইসলামিক ব্যখ্যায় অবশ্য কিছু যৌক্তিক বা যূক্তির পরম্পরাগত ব্যখ্যা হাজিরের চেষ্টা হইছে কিছু ক্ষেত্রে, যেমন পরিবার প্রথার বা বংশের পরম্পরাতে পিতৃপরিচয় রক্ষার একটা তাগীদ সামাজিক নৈতিকতা হিসাবে তার আগেই পরিচিত হইছে গোত্র আর কৌম গুলির মধ্যে। নারীর যৌনতা এই কারনে একমূখীন রাখার একটা মূল্যবোধ প্রয়োজন আছে সমাজে। পুরুষের বহুগামীতারেও নিয়ন্ত্রিত করার চেষ্টা ছিলো হযরত মুহাম্মদের নৈতিকতা আরোপের মধ্যে। নৈতিকতার এইরকম নিয়ন্ত্রণ পরবর্তীতে পরিবর্তীত না হইলেও প্রশ্নের সম্মুখীন হইছে পুরুষের বেলায়, কিন্তু নারীর বেলায় বিষয়টা সেই আদিম পর্যায়েই রইছে।
পরবর্তী কাল:
যদিও ফ্রয়েড আইসা এইসব নৈতিকতার চর্চা নিয়া বা এইসব চর্চার মনস্তত্ত্বগত ব্যখ্যারে ভালোই প্রশ্নের মুখোমুখি করেন। নারী আর পুরুষের সম্পর্ক নির্ভর সাইকিতে আসলে যৌনতা কিভাবে বিরাজ করে আর সমাজ সেইটারে কিভাবে দেখতে চায়, এই দুইয়ের মাঝে যে দ্বান্দ্বিক বিরোধ বা কন্ট্রাডিকশন তৈরী হইয়া গেছে কালের প্রবাহে তার একটা বৈপ্লবিক অনুধাবন আমরা দেখি ফ্রয়েডিয়ান আলোচনায়। মূলতঃ ফ্রয়েডের বেলা স্বপ্নে স্বপ্নে গেলেও যৌনতা সেইখানে মাথায় আর চিন্তায়ও ভালোই ছিলো আসলে। সে ইতিহাস আর মিথোলজী থেইকা যৌনতার লেজ ধইরা টান দিয়া দেখায় বহুকিছু। নারী যে পুরুষতন্ত্রের নৈতিক ধামাচাপার ভিতরে থাইকাও অন্যরকম ভাবনারে প্রশ্রয় দেয় সেইটা তারে আলোচনা করতে দেখি আমরা।
তবে ফ্রয়েডিয়ান আলোচনার পরে পুরুষ যৌনতা নিয়া তার দৃষ্টিভঙ্গীতে একটা সমতা আনয়নের চেষ্টা শুরু করে। এর পেছনে হয়তো যৌনতায় শীর্ষানুভূতি পাওনের একটা গোপন ইচ্ছা তাদের ভিতরেও ছিলো। পুরুষ তার নিজের রুচীর উপর গইড়া উঠা সমাজরেতো হুমকীর সম্মুখিন করতে পারে না, নারীর আকাঙ্খা যদি একসময় তার জন্য হুমকীর বিষয় হইয়া দাঁড়ায়! সভ্যতার এই পর্যায়ে নারী তাই একটু ভিন্ন রূপে আসে...যৌনতায় নারী আসে প্রধান কল্পচিত্র হিসাবেই। নারীদেহের বক্রতা ছাড়া ঠিক যৌনতা জমেনা। নারীর অজান্তেই তারে আরো্ বেশি অধিনস্ত করার পরিকল্পণা কইরা ফেলে পুরুষেরা। নারীরে তারা যৌন প্রক্রিয়ায় নায়িকাই বানায়, এই নায়িকার ভূমিকা যৌনতার সময় বিশাল থাকে। সে যৌন প্রক্রিয়ার সময় অনেক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা পায়। এই ক্ষমতা হয়তো নারীরে আবদ্ধ রাখতে বা তার আনুগত্যরে নিশ্চিত করবো এইরম সম্ভাবনা থেইকাই পুরুষের এতোটা দরদ!

মূল প্রসঙ্গ:
যেই বিষয়ে আলোচনা করতে চাই সেইটা বেশ সেন্সিটিভ হওয়ার জন্য ভূমিকাটারে প্রাসঙ্গিক মনে হইলো। হয়তো পাঠকরে প্রস্তুত করতে চাইছি আলোচ্য প্রসঙ্গের উপস্থাপণরে গ্রহণযোগ্য করার জন্য। সম্প্রতি মিডিয়াতে পরপর একাধিক সেলিব্রিটি'র(লোকশ্রুতিতে আরো বেশি) যৌনতার ভিডিও মানুষের কম্যুনিকেশন মডিউলে ঘোরাফেরা করতে দেইখা আমি নিজে খানিকটা শংকিত হইছি। যৌন কর্মকাণ্ড আমার এই শংকার হেতু নয়। শরীরের চাহিদা বা মানসিক আকাঙ্খার বিস্তারে একজন নারী আর একজন পুরুষের শারিরীক সম্পর্কে লিপ্ত হইলে আমি ব্যক্তিগতভাবে তাতে কোনো অপরাধ দেখি না। সামাজিক নৈতিকতার এই আরোপ কইরা দেওয়া আচরণরে আমি প্রশ্নবিদ্ধ করতে রাজী আছি যেকোনো সময়। একজন পুরুষ হিসাবে এইটা নতুন কোনো উপলব্ধি না, পশ্চিমা সমাজে এই নিক্তির উদ্ভব ঘটছে বহু আগেই। আমার শংকা তবে কোথায়!?
শুরুতে আরবান মানুষের মডেলাইজার হইয়া উঠাতে খানিকটা আরাম পাইলেও পরবর্তীতে শংকিত হই সেই মানুষের ম্যানিপ্যুলেটিভ আচরনে। যেই মানুষ সামাজিক নিক্তিতে ঠিক করছে যৌনতা হইলো ব্যক্তিগত বিষয় কারণ তার শারিরীক আনন্দ-সুখ প্রাপ্তি ঘটে যৌনতার সম্পর্কের সঠিক চর্চার মাধ্যমে। যেই আরবান মানুষ নারীরে যৌনপ্রক্রিয়ায় প্রোটাগনিস্ট বানাইছে। তারাই হঠাৎ এইসব ভিডিও প্রচার কইরা বিষয়টারে সার্বজনীন বানাইয়া ফেলতেছে। তারাই ভিডিওতে নারী সেলিব্রিটির পারফরম্যান্সগত ভঙ্গীমারে নিয়া হাসিঠাট্টা করতেছে। এই আচরণটা যদি একান্ত'ই বাঙালিগো হইতো তাইলে হয়তো আমার শংকা কিছুটা কম হইতো, কারণ বাংলাদেশের মানুষ আসলে এখনো তাদের ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে চিন্তাপদ্ধতির কথা ভাবতেই পারে না। (ধর্ম নারী-পুরুষের সম্পর্ক নিয়া কিভাবে তা এই আলোচনার শুরুর দিকেই আমি উল্লেখ করছি।) কিন্তু উদারতার ধারক-বাহক পশ্চিমেও দেখি তাগো উঠতি তারকা লিন্ডসে লোহানের ন্যুড ভিডিও নিয়া পত্রপত্রিকায় বেশ উত্তেজনা বিরাজ করে। সামাজিক মানসিকতার গঠনের জন্য লোহানের তেমন কিছু আসে যায় না হয়তো। সুপারম্যানের পরবর্তী ভার্সনে তার নায়িকা হইয়া উঠার সম্ভাবনা তাতে খুব একটা হ্যাম্পার্ড হয় না হয়তো। কিন্তু আমাগো প্রভা কিম্বা চৈতির তো ঘর থেইকা বের হওয়াটাই বিপজ্জনক হইয়া উঠে।
ভিডিও ধারণটারেও আমার তেমন গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য লাগে না এই বিষয়ে। বরং ভিডিও'র প্রচারে যেই অসদুদ্দেশ্য থাকে সেইটা আমার চোখে লাগে। একজন মডেলাইজার পুরুষ আসলে এই ভিডিও প্রচারের মধ্য দিয়া একজন তারকার বা আরো সুনির্দিষ্ট কইরা বললে একজন উঠতি তারকার জীবনরে হুমকীর সম্মুখিন কইরা তার পুরুষালি দাপটের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। সমাজের সকল পুরুষ আর পুরুষালি চেতনার নারীরাও এই ভিডিও দেইখা দুই ধরনের স্বার্থ সিদ্ধি করে, ১. একটা যৌন প্রক্রিয়া তার উত্তেজনা নিজের শরীরে উত্তেজনা আনে। যেহেতু সে ফ্যান্টাসাইজ করতে ভালোবাসে। ২. একজন নারী সেলিব্রিটি'র এই পতনোম্মুখ প্রয়াসে সামাজিক পৌরুষ জয়যূক্ত হয়। এই ধরনের যৌনপ্রয়াস তো এই সমাজে হরহামেশাই ঘটে। সামাজিক নৈতিকতারে বুড়া আঙ্গুল দেখানোর এই ঔদ্ধত্য আমাগো সমাজেও বহু আগেই বিস্তৃত হইছে। শরীর তার চাহিদার রাজনীতি দিয়া এই পরিস্থিতি তৈরীতে উদ্যোগী হইছে। সামাজিক নীতিমালার বাইরেও তাই নারী-পুরুষের শারিরীক সম্পর্কের ধরনে ভিন্ন ভাষা প্রয়োগ হয়।
কিন্তু ভিডিও প্রচারণার বিষয়টা আসলেই অ্যালার্মিং লাগে। পুরুষের পৌরুষ যখন এমন নোংড়া প্রকাশে তার চেহারা দেখায় তখন মনে হয় আদিম প্রবণতাগুলিই অনেক ভালো ছিলো, কি লাভ হইছে সভ্যতার এতোদূর পরিভ্রমণে!? এই সব বিচ্ছিন্ন ভিডিও আসলে শোবিজ সম্পর্কে মানুষের ভিন্ন মূল্যবোধ তৈরী করতেছে। যার ফল খুবেকটা ভালো হওয়ার কথা না...

কত অজানা রে! সেক্স ট্রিভিয়া

জানার কোন শেষ নাই! জ্ঞানী গুণীজনেরা কত কিছুই না বের করেছেন খুঁজে খুঁজে। সেসব থেকে কিছু মনিমানিক্য পরিবেশিত হলো আপনাদের দরবারে .......
******* পিপিলিকার পাখা গজে মরিবার তরে! আপ্তবাক্যটি সর্বাংশে সত্য নয়, বরং বলা চলে "পিপিলিকার পাখা গজে রমনের তরে"।
একটি বিশেষ সময়ে শুধুমাত্র স্ত্রী এবং পুরুষ পিপিলিকার শরীরে পাখা গজায়। এক শুভক্ষনে স্ত্রী পিঁপড়া ডানা মেলে আকাশে, তার অনুগামী হয় পুরুষ পিপিলিকার দল। শূন্যেই মিলন হয় তাদের, তারপর ডানা হারিয়ে মাটিতে পতিত হয় এবং মাটির নিচে বাসায় চলে যায়। তবে দূর্ভার্গের বিষয়, খুব অল্পসংখ্যকই জীবিত অবস্থায় বাসায় ফিরতে পারে, অধিকাংশই পাখিদের আহারে পরিণত হয়।

Friday, June 17, 2011

যৌনতা বিষয়ে ভাবনা

দেবদাসী, মন্দিরবাসীনি কিংবা অন্য যেকোনো নামেই অভিহিত করা হোক না কেনো তাদের, প্রাচীন সভ্যতায় সুন্দরী তরুণীদের একাংশকে সব সময়ই কোনো না কোনো উপাসনালয়ে অন্য সব পুরোহিত এবং আমত্য ও উচ্চ বংশীয় পুরুষদের যৌনলিপ্সা এবং অন্যান্য মানসিক চাহিদা পুরণ করে কাটাতে হতো।

তারা সমাজের সবার জন্য উৎসর্গকৃত নগরনন্দীনি। ইশরাত, মেসোপটোমিয়া, ব্যাবিলন এবং ফনিশিয়ান সভ্যতার একক দেবী, ক্রমশ পুরুষের আধিপত্যে তার উর্বরতা ব্যতীত অন্য কোনো পরিচয় টিকিয়ে রাখতে পারে নি। কিংবা অন্য ভাবে বলা যায় সভ্যতা মাতৃতান্ত্রিকতা ছেড়ে পিতৃতান্ত্রিক হয়ে উঠবার পথেই ইশরাত পরম দেবীর আসনচ্যুত হয়ে সাধারণ এক দেবি হয়ে উঠেন, যাকে পরবর্তীতে যখন সেমেটিক ধর্মের সৃষ্টি হলো, তখন পাপিষ্ঠা অভিধা দেওয়া হলো।

নারী পুরুষের কামলিলা দুনিয়া

বাৎসায়ন কামসূত্র

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More