This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label যৌন দর্শন. Show all posts
Showing posts with label যৌন দর্শন. Show all posts

Sunday, July 24, 2011

সেক্স এর সাতকাহন

সেক্স সম্পর্কে নানা মুনির নানা মত। এর কিছু ঠিক কিছু নয়। অনেকের ধারণা, পুরুষরা কেবল যৌনমিলনে উৎসাহী। কিন্তু একজন পুরুষের সেক্স সম্পর্কে আগ্রহ বয়স বা জীবন ধারার পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হয়। পুরুষদেরও হৃদয়ে গভীর অনুভূতি, আবেগ ও ঘনিষ্ঠতার আকাঙ্ক্ষা বিদ্যমান। নারীরাও এর ব্যতিক্রম নয়। তারা যৌন শিহরণ কামনা করেন। একই সঙ্গে চায়-
  • ভালোবাসা
  • আদর-সোহাগ
  • ঘনিষ্ঠতা
  • আন্তরিকতা
নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই চায় নিজের আগের অনুভূতি আর ভাবনার কথা একে অন্যকে জানাতে। এটা অবশ্য ইতিবাচক একটা দিক। কোনো সময় নারী-পুরুষ একটু বাড়াবাড়িও করে ফেলেন। তারা হয়তো সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে প্রভাবিত করতে চান বেশি মাত্রায়। আবার কোনো সময় তারা আবেগ-অনুভূতিবোধ গুলিয়ে ফেলেন। জীবনের প্রথম যৌনমিলন খুব রোমাঞ্চকর-শিহরণদায়ক যেমন হতে পারে আবার ঠিক তেমনি তার উল্টোটাও হতে পারে। অনেক নবদম্পতি বুঝতে পারেন না যে, তারা আসলে এখনো যৌনমিলনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়, হতে পারে যে এটা যৌনমিলনের সঠিক সময় না বা সঠিক পরিবেশ নয়। তারা এখনো একে অন্যকে ভালোভাবে জানেননি কিংবা তারা গর্ভসঞ্চারের ভয় এড়াতে চান। তারা আসলে সেক্স নিয়ে এক রকমের দ্বিধায় ভোগেন। যৌনমিলনের বিকল্পস্বরূপ বা এর সাথে গভীর চুম্বন যা কিনা ঠোঁটের সীমানা ছাড়িয়ে জিহ্বাকে সপর্শ করে শিহরণকে বাড়িয়ে তোলে রোমাঞ্চিত করে। গভীর নিবিষ্টতায় একে অপরকে জড়িয়ে ধরা বা মৃদুভাবে একে অপরের গোপনাঙ্গ সপর্শ করে উদ্দীপিত করে শিহরিত সুখের অপরূপ অনুভূতি লাভ করা যায়। এ ধরনের যৌন আচরণকে বলা হয় আউটারকোর্স বা মিলনবহির্ভূত যৌনক্রিয়া।
পুরুষের যৌনাঙ্গের সবচেয়ে সপষ্ট অংশ হচ্ছে লিঙ্গ। একজন লম্বা বা দীর্ঘাঙ্গী ও মাংসল পুরুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের সাথে লিঙ্গের আকার বা সাইজ মিলতে হবে এমন কোনো কথা নেই। পুরুষাঙ্গ যখন শিথিল ও নরম বা শান্ত থাকে তখন তার সাইজ ক্ষুদ্র থাকে কিন্তু যখন তা উত্তেজিত হয় বা অশান্ত হয়ে পড়ে তখন তার সাইজ ও দৈর্ঘ্য অনেক বৃদ্ধি পায়। তখন নারীদের কাছে তা পছন্দনীয় ও আদরণীয় হয়ে ওঠে। যে কোনো সাইজের পুরুষাঙ্গ দিয়ে স্বাভাবিক যৌনমিলন সম্ভব। তাই লিঙ্গের সাইজ নিয়ে অযথা চিন্তা-ভাবনা করা উচিত নয়। এতে লাভ তো কিছুই হবে না বরং মনোযাতনার সৃষ্টি হবে। পুরুষাঙ্গের সাইজ যাই হোক না কেন মনে রাখার মতো কথা হলো- সবারই প্রায় সমান পরিমাণে বীর্য বা শুক্রকীট থাকে। লিঙ্গের নিচেই থাকে শুক্রাশয়। এই শুক্রাশয় দুটি থাকে ঝোলামতো একটি জিনিসের মধ্যে যার নাম স্ক্রুটাম বা অণ্ডথলি। এর একটা ছোট আর আরেকটা বড় থাকে। কিশোর-পুরুষের বয়ঃসকিালে মনোশারীরিক নানা পরিবর্তন ঘটে।
বালকের শারীরিক পরিবর্তন শুরু হয় ১২ বছরের দিকে এবং তা ২০ বছর বয়স পর্যন্ত চলতে পারে। আবার কারো বয়ঃসকিাল একটু আগে বা একটু পরে শুরু হয়। মনোশারীরিক যে আমূল পরিবর্তন আসে তার মূল কারণ হচ্ছে পুরুষালি হরমোন, যাকে বলা হয় টেস্টোস্টেরন। এ হরমোন শুক্রাশয়ের ভেতরে তৈরি হয়। টেস্টোস্টেরন হরমোনের পরিমাণ যত বাড়ে অণ্ডথলির বর্ণ তত গাঢ় হয়। শুক্রাশয়ে শুক্রাণু উৎপন্ন হতে শুরু করে এবং এটা পরবর্তী পুরো জীবনব্যাপী ঘটতে থাকে। শুক্রকীট বা শুক্রাণু মূলত অবস্থান করে বীর্যে যা কি না এক ধরনের তরল জাতীয় রস। অনেক সময় নিদ্রাকালীন অবস্থায় পুরুষাঙ্গ উত্তেজিত হয়ে যায় এবং তা থেকে বীর্য বেরিয়ে আসে। এটাকে বলা হয় ওয়েট ড্রিম। এটা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় ব্যাপার। মাঝে মাঝে লিঙ্গের উত্থান হঠাৎ করে অপ্রত্যাশিত সময়ে হতে পারে। এটা একটা অস্বস্তিকর ব্যাপার হলেও স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় ব্যাপার।

জীবনের কোনো না কোনো সময় পুরুষের সেক্স নিয়ে নানা দুশ্চিন্তা দেখা দেয়। তারা চিন্তা করে সবসময় কেন উত্থানের ব্যাপারটা একইভাবে হয় না? কামরস কেন এত তাড়াতাড়ি বেরিয়ে আসে? পুরুষের যৌন আচরণ আর যৌন ইচ্ছার সুনির্দিষ্ট কোনো সীমা নেই। একেক জন একেক আসন, ভিন্ন ভিন্ন টেকনিক পছন্দ করে, কেউ হয়তো কোনো টেকনিকই পছন্দ করে না। যৌন জীবনের কোনো এক পর্যায়ে মনে হতে পারে উত্থিত লিঙ্গকে যৌন সুখ না পাওয়া পর্যন্ত কেন ধরে রাখা যাচ্ছে না। এর আসলে অনেক কারণ থাকতে পারে। যেমন- অসুস্থতা, ক্লান্তি, অবসন্নতা, বিষণ্নতা, মনোশারীরিক চাপ বা সঙ্গীকর্তৃক মনঃকষ্ট পাওয়া, মদ আসক্তি, নেশা এগুলোর ফলেও এমনটি হতে পারে। যৌন অসন্তোষ বা অতৃপ্তি এসব সমস্যাকে আরো বাড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে প্রচলিত যৌনাশঙ্কা হলো দ্রুত বীর্যস্খলন। এটা এক প্রকারের অর্জিত বা শিক্ষণীয় যৌন আচরণের সাহায্যে ঠিক করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে পুরুষটিকে জানতে হবে ও শিখতে হবে কীভাবে বীর্যস্খলনের সময়কে বাড়ানো যায় এবং যৌন অনুভূতি বা শিহরণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
নারীর যৌনাঙ্গ দেখতে পাওয়ার সুযোগ যেহেতু কম তাই অনেকেই এসব গঠন সম্পর্কে ঠিকমতো জানেন না। আবার অনেক মেয়েকেই কেউ হয়তো শিখিয়েছে যে এ জিনিসগুলো বিশ্রী, কাজেই এ সম্পর্কে কাউকে কিছু বলতে নেই বা জিজ্ঞাসা করতে নেই, কিন্তু এ জিনিসগুলো আসলেই কি বিশ্রী বা লজ্জার কিছু? শরীরের অন্যান্য অঙ্গগুলোর মতোই এগুলো কিভাবে কাজ করে তা জানা অবশ্যই দরকার- তবে এ জানা হওয়া দরকার বিজ্ঞানসমমতভাবে। নারীর যৌন অঞ্চলটিকে বলা হয় বহিঃজননদ্বার। এখানে দুই জোড়া ঠোঁটের মতো জিনিস দেখতে পাওয়া যাবে, যার নাম ল্যাবিয়া। যৌবনের সূচনায় বা বয়ঃসকিালে বাইরের ল্যাবিয়া ঘিরে চুল গজাতে শুরু করে। আর ভেতরের ল্যাবিয়া দুটোর আকার এবং রঙ বা বর্ণ একটু তারতম্য দেখা দিতে পারে। যেমন একদিকের ল্যাবিয়া আরেকদিকের চেয়ে একটু বড়। এই ঠোঁটের মতো দেখতে ল্যাবিয়ার ভেতরে থাকে ভগাঙ্কুর বা ক্লাইটোরিস। ভেতরের ল্যাবিয়া সামনের দিকে যেখানে মিলিত হয়েছে সেখানেই ভগাঙ্কুরের প্রকৃত অবস্থান। একজন পূর্ণবয়স্ক নারীর ক্লাইটোরিসের আকার হতে পারে পুরুষের লিঙ্গের পেছনের যে রাবারের মতো থাকে প্রায় তার সমান। কিছু কিছু নারীর ভগাঙ্গুর চামড়া দিয়ে ঢাকা থাকে।
ক্লাইটোরিস অত্যন্ত সপর্শকাতর, সংবেদনশীল আর যৌন আনন্দদায়ক। কিছু কিছু নারী এটাকে সপর্শ করাকে দারুণ পছন্দ করে। উপভোগ করে। তবে কিছু কিছু নারীর কাছে আবার ক্লাইটোরিসের সাথে সরাসরি ঘর্ষণ অসহ্য হতে পারে। তারা বরং ক্লাইটোরিসের চারদিকের অঞ্চলেই সপর্শ সুখ পেয়ে থাকে। নারীর যোনির ভেতরের দিকে একটি পাতলা পর্দা বিদ্যমান যা থেকে কোষ তৈরি হয়, তাকে বলে হাইমেন। টেম্পুন ব্যবহারে এবং প্রথমবার যৌনমিলনের সময় হাইমেন ছিঁড়ে যেতে পারে। কতক নারীর জন্য এটা খুব অস্বস্তিকর ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এতে কিছু রক্তপাতও হতে পারে। বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েরা অন্তর্বাসে তরল পদার্থ বা মিউকাস লক্ষ করে থাকে। এটা সম্পূর্ণ সুস্থ শারীরবৃত্তীয় ব্যাপার। এটা হলুদ বা দুধের মতো সাদা। অনেক নারী যৌনতা নিয়ে এক ধরনের চিন্তা বা অস্বাচ্ছন্দ্যতায় ভোগেন। তারা স্বাভাবিক শরীরের অধিকারী হলেও যৌনাঙ্গ নিয়ে অনেক বেশি অস্থির থাকেন। অবশ্য নারীরা চরমপুলক বা যৌন শিহরণমূলক অনুভূতি অথবা অন্যদের মতো যৌনতা তারা কেন করতে পারেন না এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন। হঠাৎ করে কোনো যৌন সঙ্গম একটু ব্যথাদায়ক হলে তাদের ভয়ের সীমা থাকে না। আসলে এ অবস্থাটা সব সময় থাকে না। এক সময় এ ধরনের কষ্টদায়ক অনুভূতি দূর হয়ে যায়। যৌন সঙ্গমের সময় নারী ঠিক যেভাবে বা যেরকম সপর্শ তার ভগাঙ্কুরে কামনা করে সে রকম হয় না। তাই সঙ্গমের সময় এমন একটা পথ বা আসন বেছে নিতে হবে যাতে কি না ক্লাইটোরিসের সাথে মৃদু বা মাঝারি ধরনের ঘর্ষণ নিশ্চিত হয়।
আরিফ মাহমুদ সাহাবুল
http://www.sunagro.info

Thursday, July 21, 2011

সেক্স এডুকেশনঃ১৫টি প্রশ্নোত্তর


মা, রুমির বোন হয়েছে। রুমি বলল বোনটাকে ওরা চাঁদমামার কাছ থেকে এনেছে। আমাকেও ওখান থেকে একটা বোন এনে দাও না মা!।
রুমির মা যেমন করে বাচ্চা হওয়ার কথা ব্যখ্যা করেছেন, আমাদের দেশে বেশিরভাগ অভিভাবকই বাচ্চাদের বোঝানোর সময় একইভাবে বলেন। কিন্তু বহু আধুনিক মা-বাবা আবার এটা করতে রাজি হন না। তারা সত্যি কথাটা বলতে চান, তবে বাচ্চা বুঝতে পারবে এমন করে। এরকমই হওয়া উচিত। যে দেশ ২০১০-এর শেষে বিশ্বের সব থেকে বেশি এইডস রোগগ্রস্ত মানুষের বাসস্থান হবে, সেই দেশের শিশুদের এ বিষয়ে ওয়াকিবহাল না করলে বিপদ যে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা সহজে অনুমান করা সম্ভব নয়।
অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, অনেক বাবা-মা বাচ্চাদের সঙ্গে অনেক কথাই আলোচনা করতে চান, কিন্তু বুঝে উঠতে পারেন না কোত্থেকে শুরু করবেন, কীভাবেই বা আলোচনা করবেন! সে ক্ষেত্রে আমরা চেষ্টা করেছি বাচ্চাদের কয়েকটি সাধারণ জিজ্ঞাস্যের (যা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে যে কোনো জায়গার বাচ্চারাই করে) কীভাবে অভিভাবকরা তাদের মতো করে সদুত্তর জোগাবেন।
শরীর নিয়ে বাচ্চাদের কৌতূহল চিরকালীন। প্রতিনিয়ত তারা আবিষকার করতে থাকে চোখ, নাক, দাঁত, হাত... গোপনাঙ্গ। একটি ছেলে শিশু যখন প্রথম একটি নগ্ন মেয়েকে দেখে, প্রথমেই তার মনে প্রশ্ন জাগে ‘সুসু করে কী করে?’ মেয়েশিশু একই রকমভাবে ‘আব্বা, ছেলেটা সামনে দিয়ে পটি করে!’ আমরা বেশিরভাগ বাবা-মা-ই সাধারণত এসব বিস্ময়ের সমাধান করি না। কিন্তু সেটা অনুচিত।
  • বিব্রত না হয়ে উত্তর দিতে শুরু করুন। মনে কৌতূহল জাগলে বাচ্চারা যেমন করে হোক মেটাতে চেষ্টা করে। সে ক্ষেত্রে ভুল তথ্য পেলে সাংঘাতিক বিপদ হতে পারে। তাই যার-তার কাছ থেকে ভুলভাল তথ্য থেকে বাঁচাতে নিজেই বাচ্চার সঙ্গে খোলামেলা কথা বলতে শুরু করুন।
  • কখনো ‘এই বিষয়গুলো নিষিদ্ধ, আরোচনা করার যোগ্য নয়’ বলে ধামাচাপা দেবেন না।
  • কখনো কোনো প্রশ্ন শুনে বিরক্ত হয়ে মারধর বা বকাবকি করবেন না। শান্ত মনে শুনে মজা করে উত্তর দিন।
  • যতটা সম্ভব বোঝান, তবে তা বাচ্চার বয়স বুঝে। আপনার বাচ্চা কতটা নিতে পারবে তা আপনিই সব থেকে ভালো বুঝবেন।
  • বাচ্চাদের সঙ্গে আলোচনার সময় আগে জেনে নিতে হবে সে কতটা জানে। অর্থাৎ আপনি প্রসঙ্গ তুলে কৌশলে তাকে আবার প্রশ্ন করে জেনে নেবেন যে সেই তথ্যের কতটুকু কী জানে (তা সে যত অকিঞ্চিৎকর প্রসঙ্গই হোক না কেন), আর ঠিক জানে কি না। কথার খেই ধরে বাকিটা জানিয়ে দিন কিংবা ভুল জানলে শুধরে দিন।
  • যতটা সম্ভব নিজের ও পরিবারের আর পাঁচজনের কথা টেনে উদাহরণ দিলে ওদের পক্ষে বোঝা আরো সোজা হয়ে যায় এবং সংকোচও কাটিয়ে উঠতে পারে।
যে পনেরোটি প্রশ্ন আপনাকে বিব্রত করে-
(১) রনির বোন হয়েছে, কিন্তু ওর সুসু করার জায়গা নেই মা!
মাঃ হ্যাঁ সোনা আছে, আছে। কিন্তু সেটা তোমার আর রনির মতো নয়। তোমরা ছেলে- ছেলেদের সুসুর জায়গাটা বাইরে থেকে দেখা যায়। তাই না?
ছেলেঃ হ্যাঁ মা, আমরা তো ধরতেও পারি।
মাঃ ঠিক তাই। কিন্তু রনির বোনের, রনির মায়ের, আমার-সব মেয়েদের এই জায়গাটা শরীরের মধ্যে থাকে, তাই দেখা যায় না।
(২) তুমি যে বললে ঠোঁটে কিসি করতে নেই, সপাইডারম্যান যে মেয়েটাকে ঠোঁটে কিসি করল?
বাবাঃ তুমি তো জানো হাত না ধুয়ে খেতে নেই। কেন বলো তো?
মেয়েঃ হাতে ময়লা থাকলে তা পেটে গেলে অসুখ করে।
বাবাঃ রাইট। কিসি করার সময়েও অন্যের মুখে থাকা কোনো ময়লা বা জার্ম তোমার পেটে চলে গেলে তোমার অসুখ করতে পারে। সপাইডারম্যান তো তার পাওয়ার দিয়ে সব কিছু জানতে পারে তাই ও জানত যে ওই মেয়েটার কোনো প্রবলেম নেই, সেই জন্যই ওর বন্ধুকে কিসি করেছিল। কিন্তু আমরা তো সপাইডারম্যানের মতো ম্যাজিক জানি না, তাই বুঝতে পারব না কোথায় জার্ম আছে। তাই আমরা গালেই কিসি করব। এই যেমন আমি তোমাকে কিসি দিই...।
মেয়েঃ যেমন আমিও তোমায় কিসি দিই, মাকে, মাসিমণিকে...
(বাচ্চার বয়স যদি এগারো-বারো হয় তাহলে বড় হয়ে ঠোঁটে চুমু খাওয়াটা যে অপরাধ নয় তা বুঝিয়ে বলতে পারেন। কেবল মুখের কথায় নয়, আচরণের মধ্য দিয়ে কিছু বক্তব্য বুঝিয়ে দেয়া দরকার। কখনো আপনারা স্বামী-স্ত্রী খুব স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে পরসপরকে সপর্শ করে, ঘনিষ্ঠ হয়ে শারীরিক সম্পর্কটা যে খুবই স্বাভাবিক, সিনেমা বা টেলিভিশনে আবদ্ধ নয়, সেটা বুঝিয়ে দিন।)
(৩) বাবা, এফএম-এ বলল কনডম ব্যবহার করুন! ওটা কী বাবা?
বাবাঃ কনডম এক ধরনের ওষুধ যা ছেলেরা বড় হলে ব্যবহার করতে হয়। ছোটদের কোনো কাজেই লাগে না। তাও জেনে রাখ-তুমি যখন বড় হবে, তোমার যখন ফ্যামিলি হবে...
ছেলেঃ ফ্যামিলি কেন হবে?
বাবাঃ সবারই হয়। ঠিক যেমন বড় একটা গাছের থেকে নতুন ডাল হয়, তাতে পাতা-ফল-ফুল সবই থাকে। তেমনই তুমি বড় হলেও তোমার আলাদা ফ্যামিলি হবে। আর এই ফ্যামিলি হলেই তোমার কাজে লাগবে কনডম। যখন বেবি চাইবে না তখনই কনডম ব্যবহার করতে হবে। তবে কনডম তোমাকে অনেক অসুখ থেকেও বাঁচাবে।
ছেলেঃ অসুখ থেকে বাঁচাবে মানে কী? অসুখ হলে তো ওষুধ লাগে।
বাবাঃ অসুখ হলে ওষুধ লাগে ঠিকই। তবে আবার চেষ্টা করলে অসুখ হওয়ার আগেই অনেক অসুখের হাত থেকে বাঁচা যায়। যেমন আমি আর তোমার মা মর্নিং ওয়াকে যাই, ব্লাড প্রেশার আর হার্টের অসুখ যেন না ধরে তার জন্য।
(বড় বাচ্চারা আরো গভীর প্রশ্ন করলে কনডমের ব্যবহার ও সুবিধাটা ধীরে ধীরে ব্যাখ্যা করতে পারেন।)
(৪) তোমার পেটে আমি কেন হলাম? বাবার পেটে হলাম না কেন মা?
মাঃ বেবি মায়ের পেটেই হয়। বেবি যে ঘরে হয় সেটা মায়ের পেটেই আছে। বাবার পেটে তেমন ঘর নেই...
মেয়েঃ কেন নেই মা?
মাঃ সব কিছুরই একটা নিয়ম আছে। যেমন বাবার দাড়ি আছে আমার নেই, আবার আমার এতটা লম্বা চুল আছে, বাবার নেই...।
(৫) বেবি কী করে হয় মা?
মাঃ মা আর বাবা দুজনে মিলে বেবি চাইলে তবেই বেবি হয়। মায়ের পেটে ছোট একটা ডিম থাকে...
ছেলেঃ আমরা যে ডিম খাই, সেই ডিম?
মাঃ সেই রকমই, তবে তা চোখে দেখা যায় না। আর বাবার পেটে থাকে ছোট ছোট সুতার মতো...।
ছেলেঃ ওগুলো দেখা যায়?
মাঃ না বাবা, ওগুলোও চোখে দেখা যায় না। মা আর বাবা বেবি চাইলে তবেই বাবার কাছ থেকে ওগুলো মায়ের পেটে ওই ঘরে যায় আর বেবি তৈরি হতে থাকে।
(৬) ভাইয়ের মতো তুমিও কেন ডায়াপার পরো মা?
মাঃ ভাই ডায়াপার কেন পরে বলো তো?
ছেলেঃ সুসু করে ফেললে জামা-কাপড় ভিজে যাবে না বলে।
মাঃ ঠিক তাই, সুসু করে ফেলে। ও খুব ছোট বলতে পারে না তাই। আমি তো তাই নই-আমি যেটা পরি সেটা ডায়াপার নয়, ওরকমই আর এক ধরনের ন্যাপকিন। মেয়েরা বড় হলে তাদের শরীর থেকে কিছু রক্ত বেরিয়ে যায়...
ছেলেঃ কী করে বেরোয়? কেটে যায়?
মাঃ না, সুসুর মতোই বেরোয়। সেই জন্যই ন্যাপকিন পরতে হয়।
ছেলেঃ রোজ রক্ত বেরোয় মা?
মাঃ না বাবা, তা হলে মরে যাব। প্রতি মাসে একবার, চার-পাঁচদিনের জন্য এটা হয়।
(আপনার যদি মেয়ে সন্তান থাকে তা হলে আট-নয় বছর বয়স হলে এই ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলা উচিত। কারণ অচিরেই তারা এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাবে। ছোট ছেলেদেরও ব্যাপারটার স্বাভাবিকত্ব ব্যাখ্যা করা দরকার।)
(৭) ভাইয়া তোমার থেকে দুধু খায় কেন? বাবার থেকে খায় না কেন?
উত্তরঃ ভাইয়া যখন পেটে বড় হচ্ছিল তখনই বেবিকে খাওয়ানোর জন্য দুধু তৈরি হওয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল। বেবি পেট থেকে বেরোনোর পর দুধুধু বেরোতে শুরু করে। ভাইয়া তো বাবার পেটে ছিল না, তাই ওখানে দুধু তৈরিও হয়নি। (বাচ্চা যদি প্রশ্ন করে বেবি কেন বাবার পেটে হয় না তা হলে চার নং প্রশ্নের উত্তরটা দিতে পারেন।)
(৮)  ‘সেক্স অ্যান্ড দ্য সিটি’র-সিটি মানে জানি মা, সেক্স মানে কী?
মাঃ আমি যখন কলেজে পড়ি তখন তোমার বাবার সঙ্গে আমার একটা বিয়ে বাড়িতে দেখা হয়। খুব ভালো লেগেছিল। বাবাও তখন বলেছিল ও আমাকে খুব ভালোবাসে।
মেয়েঃ আমি কোথায় ছিলাম?
মাঃ তুমি তখনো জন্মাওনি সোনা।
মেয়েঃ কেন?
মাঃ আমাদের তো তখনো বিয়ে হয়নি।
মেয়েঃ বিয়ে হলেই বেবি হয়?
মাঃ বাবা-মা চাইলেই বেবি হয়।
মেয়েঃ সেক্স মানেটা তাড়াতাড়ি বল।
মাঃ সেটাই তো বলছি। আমরা যখন দুজন-দুজনকে খুব ভালোবাসলাম তখন বাবা আমাকে কত আদর করল, আমি বাবাকে কিসি করলাম...
মেয়েঃ সে তো এখনো করো।
মাঃ করিই তো, এখনো যে ভালোবাসি! আর ভালোবেসে বাবা-মা নিজেদের আদর করে, কিসি করে একসঙ্গে থাকলে, বেবি চাইলে সেটাকে সেক্স বলে।
(আপনি কীভাবে এটা বোঝাবেন তা আপনার সন্তানের বয়সের ওপর নির্ভর করে। দশ-এগারো বছরের বেশি হলে ওকে সন্তান হওয়ার ব্যাপারটাও বুঝিয়ে বলতে পারেন।)

(৯) হিজড়ারা ছেলে না মেয়ে?
বাবাঃ কোনোটাই নয়। আসলে আমি বা তুমি যেমন ছেলে, মা বা বোনু যেমন মেয়ে তেমনভাবে ওরা ছেলে বা মেয়ে নয়। আসলে আমরা তো সুসু জায়গা দেখেই বুঝি যে বেবিটা ছেলে না মেয়ে, হিজড়াদের ক্ষেত্রে অনেক সময় সেটা বোঝা যায় না। মায়ের পেটে থাকার সময়েই কোনো সমস্যা হলে এই রকমের গণ্ডগোল দেখা দেয়। তাই বড় হওয়ার পরও ওরা কখনো ছেলেদের মতো কিছু কাজ করে, কখনোবা মেয়ে-মেয়ে হয়ে থাকে।
(১০) এইডস কী অসুখ বাবা?
বাবাঃ এইডস খুব খারাপ একটা অসুখ।
ছেলেঃ খুব রক্ত পড়ে?
বাবাঃ না শরীরের মধ্যে হয়, প্রথমদিকে তেমন বোঝাও যায় না।
ছেলেঃ তা হলে খারাপ কেন?
বাবাঃ বুঝতে পারার আগেই অনেকটা বেড়ে যায়। অসুখ আটকে রাখার যে স্বাভাবিক ক্ষমতা থাকে সেটাই নষ্ট হয়ে যায়। তাই সব সময় সর্দি-কাশি-পেট খারাপ হতে থাকে...
ছেলেঃ চ্যাবনপ্রাশ খায় না কেন?
বাবাঃ ওই যে বললাম খারাপ অসুখ। চ্যাবনপ্রাশ বা অন্য কোনো ওষুধেও সারে না।
ছেলেঃ কী করে এমন খারাপ অসুখটা হয়?
বাবাঃ অনেক রকমভাবে হতে পারে- মায়ের থাকলে বেবির হতে পারে, অনেক সময়েই আমাদের ব্লাড নিতে হয়...
ছেলেঃ সুমিত কাকার অ্যাক্সিডেন্টের সময় যেমন তুমি রক্ত দিয়েছিলে?
বাবাঃ হ্যাঁ, ঠিক ধরেছ। আমাদের যদি এইডস থাকত, তা হলে রক্ত নেয়ার পর সুমিত কাকারও হয়ে যেত।
ছেলেঃ আর?
বাবাঃ এইডস আছে এমন মানুষ যদি কেউ বিয়ে করে, এক সঙ্গে থাকে, বেবি হয় তা হলে তারও এইডস হতে পারে।
(১১) বাবা জানো, আজ স্কুলের টয়লেটে দুটো দাদা খুব নিজেদের আদর করছিল...
বাবাঃ তা তো করতেই পারে। আমি তোমাকে করি না?
ছেলেঃ না বাবা ওরকম আদর নয়...
বাবাঃ তা হলে কেমন আদর?
ছেলেঃ যেমন সিনেমায় গার্লফ্রেন্ড-বয়ফ্রেন্ডরা করে।
বাবাঃ ওই দাদা দুটোও হয়তো ফ্রেন্ড।
ছেলেঃ আমারও তো অনেক ছেলেফ্রেন্ড আছে বাবা, আমরা কিন্তু ওই রকম করি না।
বাবাঃ তোমাদের ইচ্ছা হয় না হয়তো, কিন্তু কারো কারো এই রকমের ইচ্ছা হতে পারে। ওটা নিয়ে একদম চিন্তা করবে না!
(প্রসঙ্গত জানাই, গার্লফ্রেন্ড-বয়ফ্রেন্ড ব্যাপারটা খুব ছোটবেলা থেকেই সাধারণভাবে মজা করে কথা প্রসঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। নিজেদের নিয়ে কিংবা কোনো কাছের মানুষরা আগে প্রেমিক ছিলেন, পরে বিয়ে করেছেন-এই উদাহরণ দিয়ে বোঝালে ওদের সংকোচও কেটে যাবে)।
(১২) রেপ কী করে করতে হয় মা?
মাঃ সেটা আমি ঠিক জানি না। আর কখনো এই কাজটা করতে যাওয়া উচিত নয়। খুব খারাপ কাজ এটা-
মেয়েঃ খারাপ কেন?
মাঃ পৃথিবীতে অনেক কাজই খারাপ- মারামারি করা, কাউকে গালাগালি দেয়া, চুরি করা, রেপ করা...। তাই ওগুলো নিয়ে একদম ভেবো না।
(১৩) এইচআইভি স্কুলের কত উঁচু ক্লাস বাবা?
বাবাঃ ফাইভ-সিক্সের মতো এটা কোনো ক্লাস নয়। এটা একটা ভাইরাসের নাম।
মেয়েঃ ভাইরাস কী বাবা?
বাবাঃ যে কোনো অসুখ ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়া এই সব থেকে হয়?
মেয়েঃ এগুলো কী পোকা?
বাবাঃ পোকার মতো, তবে খুব ছোট, চোখে দেখা যায় না এমন কিছু জিনিস, যা শরীরের মধ্যে ঢুকে অসুখ বাধায়।
মেয়েঃ ঢোকার আগে ধরে ফেলতে পারি না?
বাবাঃ না, কারণ চোখে দেখা যায় না এগুলোকে। তবে নিজেরা সাবধানে থাকলে অনেক অসুখই আটকানো যায়।
(১৪) বোনু কী করে পেট থেকে বেরোল, মা? তোমার পেটে তো কাটা নেই!
মাঃ বোনু পেটে ছিল, তবে পেট কেটে বেরোয়নি। টমির বেবি কি পেট কেটে হয়েছে।
ছেলেঃ এ মা ডগির তো পটি করার জায়গা দিয়ে বেরিয়েছিল...!
মাঃ না বাবা, তা নয়। দেখে মনে হয় যদিও তাই, আসলে ওটা বেবি হওয়ারই জায়গা। মায়েদেরও ওইরকম একটা বেবি হওয়ার জায়গা আছে।
ছেলেঃ সুসু করার জায়গা দিয়ে?
মাঃ না, সুসু আর পটির মাঝে আর একটা রাস্তা আছে যেখান দিয়ে সময় হলে বেবি বেরোয়।
ছেলেঃ খুব লাগে?
মাঃ একটু লাগে। তবে বোনুকে তো পাওয়া যায়!
(মেয়ে সন্তান হলে ধীরে ধীরে তাকে এই প্রসঙ্গে ঋতুচত্রের কথাটাও বলে নিতে পারেন। তা হলে ঋতু কীভাবে হয় সেটাও ওরা সহজে বুঝে যাবে।)
(১৫) অর্পণা, সুদীপ্ত সবারই বোন আছে বাবা, আমার কেন ভাই?
বাবাঃ ভাই বা বোন হওয়াটা আমাদের ইচ্ছার ওপর নয় সোনা। তোমায় তো আগে বুঝিয়েছি বেবি কী করে হয় (আপনি না বলে থাকলে ৫নং প্রশ্ন ও উত্তর পড়ে নিতে পারেন)। এবারে বলি, মায়ের পেটে যে ডিম থাকে সেটার নাম x ক্রোরোমোজম, বাবার পেটের মধ্যে থাকা জিনিসগুলোতে x+y-এই দু ধরনের ক্রোমোজমই থাকে। মায়ের ডিমের x ক্রোরোমোজমের সঙ্গে বাবার  x ক্রোরোমোজমটা মিশলে হবে মেয়ে আর বাবার y ক্রোমোজম মিশলে হবে ছেলে।
ছেলেঃ এটা কী অংক?
বাবাঃ একদম সোজা। x+x মেয়ে আর x+y ছেলে।
যা করতেই হবে
বাচ্চা, তা সে ছেলেই হোক কিংবা মেয়ে যতটা সম্ভব চোখে-চোখে রাখবেন। অনেকে ভাবেন মেয়ে সন্তান হলেই বুঝি বিপদ বেশি। এই ধারণা একেবারেই ভুল! ছোট ছেলেরাও কোথাও কোথাও খুব কঠিন পরিস্থিতির শিকার হয়।
বাচ্চাকে কখনোই কোনো অচেনা পরিস্থিতিতে ছাড়বেন না। যেমন সদ্য পরিচিত স্কুলের বন্ধুর জন্মদিনের পার্টি। যেতে হলে নিজে সেখানে উপস্থিত থাকবেন।
স্বল্প পরিচিত ড্রাইভার বা কাজের লোক, এমনকি পড়শি বা স্বল্প পরিচিত মানুষের সঙ্গে বাচ্চাকে ছাড়বেন না।
বাচ্চাকে বোঝান যে কোনো অস্বাভাবিক, অসংযত আচরণ (যে আচরণে তার অস্বস্তি হয়) কেউ করলে যেন সঙ্গে সঙ্গে এসে বলে। কেউ ভয় দেখালেও ভয় পেয়ে যেন চুপ করে না থাকে।
বাচ্চাকে যখন বোঝাবেন তখন ওকে ভয় পাইয়ে দেবেন না। এমন যেন সে না ভেবে বসে যে পৃথিবীর সব বড় মানুষই এক-একটা পিশাচ। এমনভাবে বোঝাতে হবে যাতে সে ভালো-খারাপ সপর্শের বা আচরণের সূক্ষ্ম তফাৎটা ধরতে পারে এবং এই কঠিন কাজটা আপনাকে করে ফেলতেই হবে।
সব সময়ই পজিটিভভাবে সব প্রসঙ্গ আলোচনা করবেন। বারবার বুঝিয়ে দিতে হবে যে কোনো প্রসঙ্গেই লুকিয়ে রাখার মতো কিছু নেই। তবে অন্য কাউকে না বলে খোলামেলা আলোচনা মা-বাবার সঙ্গে যেন তারা সব সময় করে নেয়।
আপনাকে যে কোনোভাবে সন্তানের একান্ত বিশ্বাসের জায়গাটা অর্জন করতে হবে এবং সেটা করতে হবে মজা করে, গল্প করে, আলোচনা করে।
বাচ্চার সঙ্গে আচরণের সময় তাকে একজন প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে গণ্য করলে তাতে তাদের অনেক আত্মবিশ্বাস বাড়ে। সব সময় ‘ও বাচ্চা, কিছু বুঝবে না’ গোছের আচরণ করা উচিত নয়।
সাবর্ণী দাস
http://www.sunagro.info/

নারীর দেহ-মন


ডা. জাকারিয়া সিদ্দিকী
নারীর দেহ আর মন। শিল্পীরা কতকাল ধরে রঙের তুলিতে দেহ পোস্টার অঙ্কন করছেন আর কবি-সাহিত্যিকরা দুর্বোধ্য মনের রহস্য জানার অভিযানে নিমগ্ন আছেন। নারী নিজের কাছেই অনেকটা অবহেলার মতো। তার দেহ-মনের অনেকগুলো ব্যাপারই রহস্যে ঢাকা আর কুয়াশায় ঘেরা। চিকিৎসা বিজ্ঞান নারীর দেহ-মনের এত রহস্য, অসপষ্টতা আর কুয়াশার মাঝে সূক্ষ্ম হরমোনের মারপ্যাঁচে নিয়ন্ত্রিত ছন্দময়তার আভাস পেয়েছেন। প্রকৃতি এতকাল নারীকে চাঁদের সাথে তুলনা করেছিল। কি আশ্চর্য! একদম চাঁদের পূর্ণিমা-অমাবস্যার মতো নারীর দেহ শারীরবৃত্তীয়তা আর মনস্তত্ত্বের মর্জি, মেজাজ চক্রিক ধারাতে আবর্তিত হয়। এ চক্রের আবর্তনে একই নারী কখনো শান্তস্থির আবার কখনো অস্থির, চঞ্চল, কখনো উদ্বিগ্ন আর কখনো বিষণ্ন।
প্রকৃতি নারীর দেহ-মনকে একটা ছন্দময়তার ধাঁচে তৈরি করে দিয়েছে। এ ২৮ দিনের ছন্দময়তার সুসপষ্ট বহিঃপ্রকাশ হলো নির্দিষ্ট সময়ান্তে স্রাবক্ষরণ ঘটা। বয়ঃসন্ধি থেকে একদম ৪৫-৫০ বছর বয়সকাল অবধি বহাল থাকে এ ছন্দময়তা। প্রথম ঋতুস্রাবের নাম রজোদর্শন আর সমাপ্তির নাম রজঃনিবৃত্তি। উল্লেখ্য, ২৮ দিন একটা গড় হিসাব, তাতে বিভিন্ন মহিলার বেলায় এমনকি একই মহিলার বেলাতে বিভিন্ন সময়ে নানা রকমের হয়। সামান্য ব্যতিক্রম ঘটলেও মৌলিক শর্ত এক আর অভিন্ন থেকে যায় সবার বেলায়।
কেমন যাবে শরীর-মন
প্রথম সপ্তাহ
১. নখের শুষকতাঃ প্রথম সপ্তাহে আপনার দেহের নখ শুষক থাকে আর তা সহজে ভেঙে যেতে পারে বিশেষ করে সামনের দিকের অংশে ক্র্যাক দেখা দিতে পারে। দেহে এস্ট্রোজেনের ঘাটতির কারণে এটি ঘটে থাকে। রূপসচেতন মহিলাদের জন্য দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। দিনে দুই থেকে তিনবার পেট্রোলিয়াম জেলি লাগাতে পারেন।
২. ব্যায়ামের উপযোগী সময় ব্যায়ামঃ মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রফেসর জিম পিভোরনিক বলেন- যে সমস্ত মহিলা তাদের গতানুগতিক থেকে বেশি পরিশ্রমের বাড়তি ব্যায়াম করতে চান, তাদের জন্য এটিই উৎকৃষ্ট সময়। দেহে প্রজেস্টেরন সেক্স হরমোন কম থাকায় তাপমাত্রা বেশি বেড়ে যাওয়ার কোনো ঝক্কি-ঝামেলা নেই।
৩. বারবার বাথরুমঃ এটা মাসিক স্বাস্থ্যবিধি নয়। প্রস্রাবের জন্য বারবার বাথরুমে যেতে হয়। তবে কোনো কারণ নেই। কোনো ডায়াবেটিসের ঝক্কি-ঝামেলা নয়। দেহের প্রজেস্টেরন আর এস্ট্রোজেন হরমোন নেই, এ হরমোনদ্বয়ের প্রভাবে দেহে এতকাল যে বাড়তি মাত্রার পানি জমা হয়েছিল তা প্রস্রাব আকারে বের হয়ে আসতে থাকে। প্রাক-ঋতুস্রাব সিনড্রম কথিত দুঃসহ দিনগুলোতে দেহের ফোলা ফোলা ভাবের কারণই ছিল বাড়তি মাত্রার পানির উপস্থিতি। কেবল মূত্রত্যাগ নয়, এ সময়ে মুখের ভেতরে লালার ক্ষরণও বেড়ে যেতে দেখা যায়।
স্বাস্থ্য ঝামেলা
আমেরিকার জার্নাল অব ফ্যামিলি প্র্যাকটিসে এক গবেষণা সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২৮ দিনের ছন্দময়তায় এ সপ্তাহটিতে মেয়েদের ডাক্তারদের শরণাপন্ন হওয়ার হার প্রায় ২৮ শতাংশ বেশি। গবেষক হফম্যান এলেন বলেন-এ সময়ে মহিলারা সর্দি, জ্বর আর ফ্লুতে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকবে, এর কোনো সুসপষ্ট কারণ পাওয়া যায়নি।
এই তো সময়
আপনি যদি রিলাক্সেশন মেডিটেশন করে থাকেন তাহলে এই তো সময়, মেয়েরা এ সময়ে অনেক বেশি আবেগপ্রবণ থাকেন। এ কারণে এ মননচর্চা অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি প্রাণময়তা পায়।
তবে সাবধান
এ সময়ে অ্যালার্জির ঝামেলা বেড়ে যায়, এমনকি অ্যালার্জির প্রকাশ ঘটে অন্য সময়ের চেয়ে রূঢ় মাত্রায়। নানা কসমেটিক সামগ্রী যদি প্রথম ব্যবহার করতে চান তাহলে অ্যালার্জির বাড়তি ঝুঁকি থেকে যায় এ সপ্তাহে। সুতরাং সাবধান হওয়া চাই।
পুরুষের কাছাকাছি
পুরুষ আর নারীর ক্ষমতার পার্থক্যের অনেকগুলোর মাঝে একটি হলো সেপসিয়াল বা স্থানসংক্রান্ত ক্ষমতা। এতে একদম সুসপষ্ট লিঙ্গিক পার্থক্য দেখা যায়। মজার ব্যাপার হলো ঋতুমাসের এ প্রথম সপ্তাহে তা অনেক পরিমাণে কম থাকে। কারণ মহিলা দেহে এ সময়ে এস্ট্রোজেন আর প্রজেস্টেরন থাকে না, যা এ ক্ষমতার উৎকর্ষতা কমিয়ে দেয় মেয়েদের বেলায়।
যদি আপনার বাতের সমস্যা থাকে
যারা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে ভুগছেন তাদের বেলায় সন্ধি শক্ত হয়ে যাওয়া, স্ফীতি আর ব্যথা এসব উপসর্গ ঋতুমাসের প্রথম সপ্তাহে অন্য সপ্তাহের চেয়ে তীব্রতর হয়ে থাকে। কারণ দেহে প্রজেস্টেরন থাকে না। প্রজেস্টেরন সেক্স হরমোনের একটা প্রদাহ প্রতিরোধক ভূমিকা বিদ্যমান।
খিঁচুনির বাড়তি ঝুঁকি
যারা মৃগী বা এপিলেপসি রোগে ভুগছেন তাদের পিরিয়ড চলাকালে আর পিরিয়ডের সূচনাকালে খিঁচুনির বাড়তি ঝুঁকি থাকে। প্রজেস্টেরন হরমোনের ঘাটতি এর কারণ। কারণ এটির একটা খিঁচুনি প্রতিরোধক ভূমিকা থাকে। এস্ট্রোজেন অবশ্য এখানে ঠিক উল্টো ভূমিকা রাখে, তা খিঁচুনির প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়।
দ্বিতীয় সপ্তাহ
যদি অ্যালকোহলের ইচ্ছা থাকে
যদি আপনার মনে অ্যালকোহল নেয়ার পরিকল্পনা থাকে, তবে তা দ্বিতীয় সপ্তাহে করাটাই সর্বোত্তম। নেদারল্যান্ডে পরিচালিত এক গবেষণায় এটি দেখা গেছে। কোনো এক অজানা কারণে ঋতুমাসের অন্য সময়ের তুলনায় এ সময়টিতে আমাদের দেহ অনেক বেশি অ্যালকোহল সয়ে নিতে পারে।
দুর্বলবোধ হতে পারে
ইংল্যান্ডের গবেষক ডা. সুসান কিল্পি দেখেছেন দেহের এস্ট্রোজেন হরমোন মাত্রার একদম শীর্ষে ওঠার পরের কয়েকদিন দুর্বলবোধ হতে পারে। এ সময়ে সত্যি সত্যিই মাংসপেশির ক্ষমতা কমে আসে। কারণ একটাই, দেহের এস্ট্রোজেন মাত্রা কমে আসে।
সুবর্ণ সময়
এমনিতেই মেয়েদের সুরেলা কণ্ঠ, বাচনভঙ্গিমা, ভাষার সমৃদ্ধি সবদিক থেকে পুরুষ অপেক্ষা মহিলারা এগিয়ে। ওভিউলেশনের নিকটবর্তী সময়ে বাচনক্ষমতা, উৎকর্ষতা একদম তুঙ্গে যেতে দেখা যায়। কারণ ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোন আর লিউটিনাইজিং হরমোন এ সময়ে তুঙ্গে থাকে।
সুন্দর ত্বক
মাসের এ দ্বিতীয় সপ্তাহটিতে আপনাকে প্রকৃতিগতভাবে সবচেয়ে সুন্দর দেখায়। বাড়তি এস্ট্রোজেনের কারণে ত্বকের কোলাইজেন আর পানির পরিমাণ সুস্থিত হয়, যে কারণে ত্বকের কমনীয়তা আর ঔজ্জ্বল্য বেড়ে যায় অনেক পরিমাণে।
শ্রবণ উৎকর্ষতা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানার ইভানস ভিলি বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন প্রফেসর ক্যাবেলিন জো-এর অভিমত, রক্তে উচ্চমাত্রার এস্ট্রোজেন চলমান থাকার কারণে মেয়েরা এ সময়ে কেবল ভালো শুনতেই চায় না, তারা বেশি ফ্রিকোয়েন্সি সম্পন্ন শব্দও শুনতে পায়। এ কারণে আশপাশের পরিবেশ তাদের কাছে নতুন আঙ্গিকে প্রতিভাত হতে পারে।
আপনার সেক্স
জার্মানিতে চালানো সমীক্ষণে দেখা গেছে, মেয়েদের যৌন তাড়নাবোধ সবচেয়ে বেশি থাকে এ সময়ে। এ সময়ে মেয়েরা নানা সেক্সুয়াল ইমেজের প্রতি অন্য সময়ের তুলনায় বাড়তি মাত্রায় প্রতিক্রিয়ান্বিত হয়। সেক্সে চরমপুলক সচেতনতা অন্য সময়ের তুলনায় একশ ভাগ বেশি থাকে। যেন এই তো সময়! এ সময়ে ওভিউলেশন ঘটে দেহে ডিম্ব বর্তমানে। মিলন হলেই প্রজননের সম্ভাবনা। এ যেন প্রকৃতিরই এক সূক্ষ্ম ব্যবস্থাপনা। উল্লেখ্য, ডিম্বাণু মাত্র একদিন কার্যক্ষম থাকে, এর পরেই নিষিক্রয় হয়ে যায়।
প্রেমিকার দেহের গন্ধ
গন্ধ মনের যৌনতায় ইতর প্রাণীদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা না রাখলেও এর আবেদন একদম উড়িয়ে দেয়া যায় না। গবেষণায় প্রকাশ, পুরুষ দেহের ঘর্মনের প্রতি সংবেদনশীলতা ঋতুস্রাবকাল অপেক্ষা ওভিউলেশনকালে ১০ হাজার গুণ বেশি। সুতরাং পার্থক্য একদম সুসপষ্ট বলা চলে।
সৃজনশীল
আপনি যদি সৃজনশীল পেশার সাথে যুক্ত থাকেন যেমন আর্ট। তখন আপনার সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্বের প্রকাশ ঘটে দ্বিতীয় সপ্তাহে, বিশেষ করে ওভিউলেশন নিকটবর্তী সময়ে। এ সময়ে মাথায় নতুন নতুন চিন্তার উদয় ঘটে। হয়তোবা ‘এফএসএইচ আর ইউআই’ হরমোনের কারণে এটি ঘটে থাকে।
পেপ টেস্ট
যারা জরায়ুর অবস্থা নিরীক্ষণে পেপ টেস্ট করাতে ইচ্ছুক তাদের জন্য এ সময়টাই সর্বোত্তম। গবেষণায় প্রকাশ, এ সময়ে সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য ও শুদ্ধ ফলাফল পাওয়া যায় পেপ টেস্টে। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হলো আপনাকে পেপ টেস্টের দুই দিন আগ থেকে যৌনসঙ্গম থেকে বিরত থাকতে হবে।
ওয়াক্সিং পালা
যারা বিকিনি অঞ্চলে বা দেহের ওয়াক্সিং প্রক্রিয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত লোম তাড়াতে চান তাদের জন্য এটিই সর্বোত্তম সময়। কারণ এস্ট্রোজেনের একটা ব্যথাপ্রশমক ভূমিকা আছে। মার্কিন গবেষকরা এটি বের করেছেন।
তৃতীয় সপ্তাহ
স্বাভাবিক দেহ তাপমাত্রা
অন্যান্য সময়ের তুলনায় এ সময়ে আপনার দেহের তাপমাত্রা আধা ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড পরিমাণ বেশি থাকে ও তা পিরিয়ড সূচনা অবধি বহাল থাকে। এ কারণে দেহে গরমবোধ হতে পারে। কেন এ বাড়তি তাপমাত্রা? এ সময়ে প্রজেস্টেরন হরমোন দেহে বহমান থাকে, যা আমাদের মূল বিপাক ক্রিয়া বাড়িয়ে দেয়। ফলে দেহে তাপমাত্রার বৃদ্ধি।
আপনার খাবার গ্রহণ
ব্রিটেনের লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত এক গবেষণাতে দেখা গেছে, মেয়েরা এ সময়ে ১০০ কিলোক্যালরি পরিমাণ বাড়তি খাবার গ্রহণ করে। দেহের বিপর্ষকমাত্রা বাড়ার কারণে এ বাড়তি ক্যালরি কোনো সমস্যা করে না। তবে আপনি যদি ভোজনবিলাসী হন তাহলে তৃতীয় আর চতুর্থ সপ্তাহে সাবধানতা অবলম্বন বাঞ্ছনীয়। নইলে দেহের ওজন-বিপত্তির ঝুঁকি থেকে যায়।
স্বপ্ন আর কল্পনাবিলাস
গবেষণাতে দেখা গেছে, এ সময়টাতে মহিলারা স্বপ্ন দেখে বেশি। তা কেবল সপষ্টই নয় অনেক বেশি দীর্ঘ। কল্পনাবিলাসের প্রবণতাও এ সময়ে বেশি। নিজেকে নিয়ে, আশপাশের লোকজন বা আবেগ এসব স্বপ্নকল্পনার নিয়ামক।
আপনার সুসময়
কানাডায় পরিচালিত গবেষণাতে দেখা গেছে, তৃতীয় আর চতুর্থ সপ্তাহে আপনার অংক কষার ক্ষমতা, কোনো টাস্ক সমাধানে পারদর্শিতা সবচেয়ে বেশি হয়। কারণ একটাই, দেহস্রোতে ধাবমান উচ্চমাত্রার এস্ট্রোজেন আর প্রজেস্টেরন সেক্স হরমোন।
একটা দুঃসংবাদ
গবেষণাতে দেখা গেছে, অ্যাপেনডিক্সের প্রদাহের মাত্রা কেবল বেশিই নয়, তা তাড়াতাড়ি তীব্র আকার নেয় এ সপ্তাহে, ব্যথা ওঠার পর ৮৪% কে শল্য প্রক্রিয়ায় তা সারাতে হয়। যেটি প্রথম আর দ্বিতীয় সপ্তাহের মাত্রা ৫০% বেলাতে ঘটেছিল। প্রজেস্টেরনের প্রদাহ প্রতিরোধক ভূমিকা থাকলেও কেন অ্যাপেনডিক্স প্রদাহ ঘটে তার কার্যকারণ গবেষক মহলে এখনো রহস্যাবৃত।
চতুর্থ সপ্তাহ
প্রাকমাসিক সময়কাল। অনেকে এ সপ্তাহে পিএমএস-এ ভুগে থাকেন। মাসের অন্যান্য সময়ের তুলনায় এ সময়টিতে কতক অভিনব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান।
হৃদস্বাস্থ্য
আপনার হৃদকম্পন সামান্য বেশি থাকে আর রক্তচাপও সামান্য বেড়ে যায়। সূত্র হরমোনের মিথষিক্রয়তা। হরমোনগুলো নারীদেহের ধমনীর প্রসারণ ঘটায়-এ কারণে হৃৎপিণ্ড আর রক্তসংবহনতন্ত্র একটা সাবলীলতা পায়।
সামান্য মুটিয়ে গেছেন
ঋতুমাসের শেষ সপ্তাহে এসে সব মেয়েই কমবেশি মাত্রার ফোলা ফোলা ভাব দেখায়। দেহে কমবেশি পানি জমা হয় আর ওজনের সামান্য বৃদ্ধি ঘটে। এর স্বাভাবিক মাত্রা সাড়ে চারশত গ্রাম থেকে সাড়ে তিন কেজি হতে পারে। হরমোনের কারণে দেহের সূক্ষ্ম কৈশিক নালিকা থেকে অনেক পরিমাণ রক্তের প্লাজমা দেহকোষে চলে আসে। মস্তিষক ধারণা করে নেয় দেহে পানি স্লসাক ঘাটতি ঘটেছে। সুতরাং কিডনিকে রাসায়নিক সিগনাল দেয়া ও কিডনি পানি ধরে রাখে। আর এ কারণে এ ফোলা ফোলা ভাব আর ওজনের বিপত্তি। সমস্যা যদি আপনার বেলাতে অতিমাত্রায় প্রকট হয় তাহলে কিছু সতর্কতা অবলম্বন বাঞ্ছনীয়-খাবার লবণ গ্রহণ যতটা সম্ভব কমান, প্রক্ষতিক মূত্রবর্ধক কথিত চক্রনবেরী জুস খেতে পারেন আর প্রতিদিন বিকেল বেলা এক ঘণ্টাকাল সটান হয়ে শুয়ে থাকেন। এতে বুকের সূত্র সংশ্লেষণ মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে দেহে স্থিত পানির পরিমাণ কমে আসে।
স্ফীত টনটনে স্তন
দেহে বাড়তি মাত্রার পানির স্থিতির কারণে স্তনের নরম কলাগুলোর স্ফীতি ঘটে। স্তনের বেলাতে ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় তার কেবল স্ফীতিই ঘটে না তা বেদনাদায়ক হয়ে থাকে। এ প্রাকমাসিক উপসর্গ কমাতে গবেষক ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন ই-এর পাশাপাশি প্রতিদিনকার খাবারে চিনি আর সম্পৃক্ত চর্বি কমানোর কথা বলে থাকেন।
স্বাদের কোকোলা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাড়ে ৫ হাজার মহিলার ওপর চালানো সমীক্ষণে দেখা গেছে, এ সময়ে চকলেটের মোহ অনেক মাত্রায় বেড়ে যেতে দেখা যায়। চকলেটের উচ্চমাত্রার শর্করা আর উচ্চমাত্রার চর্বি সম্পৃক্ত উপাদান মস্তিষেকর সেরোটোনিন নামের নিউরোট্রান্সমিটারের সংশ্লেষণ বাড়িয়ে দেয়। অনেক গবেষক চকলেটের অতিমাত্রার আসক্তি ভাব কমাতে একশ মাইক্রোগ্রাম চক্রামিয়াম ও একশ মিলিগ্রাম নিয়াসিন গ্রহণের উপদেশ দিয়ে থাকেন।
ত্বক আর চুলের দুঃসময়
প্রাক ঋতুস্রাব সময়ে ত্বক আর চুলের একটা দুঃসময় চলে। এস্ট্রোজেনে নারীদেহে বিদ্যমান সূক্ষ্মমাত্রার টেস্টোস্টেরনের প্রভাবকে প্রশমিত করে দেয়। ত্বকে তৈলগ্রন্থিতে তৈল নিঃসরণ আর ফলিকলগুলোর মুখ বন্ধ করে, যে কারণে সপট প্রকাশ পায়। ত্বকের সাবলীলতায় বিঘ্ন ঘটে। এস্ট্রোজেন কম থাকা মানে টেস্টোস্টেরন ক্রিয়া প্রকট হয়ে ধরা দেয়া। কেবল ত্বক নয়, চুলের বেলাতেও এমন অবস্থা দেখা যায়, চুল তার ঔজ্জ্বল্য হারিয়ে ফেলে আর খুশকি হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
মনের দুঃসময়
মহিলাদের মাঝে দোকান থেকে না জানিয়ে কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে কোনো জিনিস সরিয়ে ফেলার প্রবণতা দেখা যায়। এর নাম শপ লিফটিং। নানা মনোরোগ এর সাথে সংশ্লিষ্ট। গবেষণা সমীক্ষণে প্রকাশ, শপ লিফটিং করে থাকে এমন ঘটনার ৩০% কেবল প্রাকমাসিক সময়কালীন হতে দেখা গেছে। এদের মাঝে কোনো মানসিক সমস্যা ছিল না। অন্য সময়ের চেয়েও এ সপ্তাহে আত্মহত্যার ঝুঁকির প্রবণতা সাতগুণ বেশি।
মাইগ্রেনের ঝুঁকি
যারা মাইগ্রেনের রোগী তাদের বেলাতে এ সপ্তাহটি অনেকটা দুঃসহ স্বপ্নের মতো। মাইগ্রেনের মাথাব্যথার প্রকাশের ষাট শতাংশই প্রাকঋতুস্রাব সপ্তাহে ঘটে থাকে। হয়তোবা এস্ট্রেজেন কমে যাওয়ার কারণে এটি ঘটে থাকে।
সতর্ক থাকা চাই
কতক ব্যাপারে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন দরকার। এ সময়ে দেহলোমের ওয়াক্সিং করতে নেই। কারণ ব্যথা সহনীয়তা কমে যায়। পিরিয়ড শুরু হওয়ার ২ দিন আগে থেকে পিরিয়ডের বেশ কিছুদিন এ নিষেধক।
অ্যালকোহলের বেলাতে দেখা গেছে, তা রক্ত থেকে সহজে সরতে চায় না। যে কারণে মহিলা অল্পতেই মাতাল হয়ে যেতে পারে। পিরিয়ড-পূর্ববর্তী শেষ চারদিন যাবৎ এ সমস্যা।
গবেষণা সমীক্ষণে দেখা গেছে, ঘুমের ওষুধ এ সময়ে কেবল দীর্ঘ সময়কাল কার্যকরী হয় না। ঘুমের প্রভাব মাত্রাও প্রকট হতে দেখা গেছে।

আপনার ঘুম
আমেরিকান জার্নাল অব সাইকিয়াট্রিতে প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধনে দেখা যায়, পিরিয়ড-পূর্ববর্তী দিনগুলোতে অধিকাংশ মহিলাই পর্যাপ্ত মাত্রার ঘুম হয় না বা ঘুমালেও তা তৃপ্তিদায়ক হয় না। যারা পিএমএস-এ ভুগে থাকেন তাদের বেলাতে ঘুমের সমস্যা আরো প্রকট।
হাঁপানির সমস্যা
যাদের হাঁপানি বা অ্যাজমা রোগ আছে তাদের প্রাকঋতুস্রাবকালীন এ সময়টিতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন চাই। এদের এক-তৃতীয়াংশের বেলাতে শ্বাসকষ্টের উপসর্গ প্রকাশ পায়। আরো লক্ষণীয় দিক হলো, উপসর্গের প্রকাশ অন্য সাধারণ অবস্থার তুলনায় প্রকট হয়ে থাকে।
এটাই সঠিক সময়
ত্বক বিশেষজ্ঞরা প্রাক-স্রাব সময়টিতে ফেসিয়াল দেয়ার জন্য যথার্থ সময় বলে থাকেন। হরমোনাল কারণে আটকে যাওয়া ফলিকলের সংখ্যা বেড়ে যায় আর ফেসিয়ালের মাধ্যমে সেগুলো দূর করে দেয়া যায় অনায়াসেই।
তবে সুখের বিষয়
শেষের সপ্তাহটিতে দেহ-মনের নানা নেতিবাচক অবস্থা। তার পরেও সুখের দিক হলো আপনার ইনটুশান ক্ষমতা একদম তুঙ্গে থাকে। আপনি অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সংবেদনশীল আর আবেগী। এগুলোর কারণ একটিই দেহে উচ্চমাত্রার প্রজেস্টেরন।
হিসেবের পালা
যদি আপনি পিল খেয়ে থাকেন এতে বর্ণিত হিসাবগুলো আপনার বেলাতে প্রযোজ্য হবে না। এর কারণ আপনার দেহের হরমোন চক্র দেহের স্বাভাবিক হরমোন থেকে অনেক পরিমাণে ভিন্ন। এ তথ্য কেবল তাদের জন্য যাদের গড় ২৮ দিনের চক্র বিদ্যমান, ১৪ দিনের মাথায় ওভিউলেশন হয় আর ২৮ দিন শেষে মাসিক শুরু হয়। যদি আপনার বেলাতে এতে কম-বেশি হয় তাহলে এডজাস্ট করে নিন।
আপনি কি বিশ্বাস করবেন দুজন ঋতুবর্তী মহিলা যদি পাশাপাশি একই রুমে থাকে তাহলে কি এক রহস্যবলে দুজনের ঋতু ঠিক একই ধরনের হয়ে যায়। তার শর্ত, সাথে পুরুষ থাকা চলবে না। একই ছাদের নিচে বসবাসরত মহিলাদের মাঝে প্রকৃতি সমন্বয় ঘটিয়ে দেয় দেহ আর মনের আঙিনায়। সুতরাং বুঝতেই পারছেন ঋতুর আঙ্গিকে দেহ-মনের প্রকাশ কত বেশি প্রকট।
ডা. জাকারিয়া সিদ্দিকী

sunargo.info

Friday, July 15, 2011

আমাদের যৌন অনুভব- যৌনাঙ্গের মনস্তাত্ত্বিকতা


যৌনাঙ্গ পরিচালনা
আমার সব ধরনের যৌন অনুভব সৃষ্টি হয় আমাদের মস্তিষেকর মধ্যে, যা হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় যৌনাঙ্গ। আমাদের যৌন অনুভূতির জন্য ব্রেনের দুটো আলাদা অংশ দায়ী-তার একটি হচ্ছে ‘হাইপোথ্যালামাস’ অন্যটি হচ্ছে ‘সেরিব্রাল করটেক্স’। আমাদের ব্রেনের পেছনের সূক্ষ্ম হাইপোথ্যালামাস আমাদের মূল চাহিদাকে প্রভাবিত করে। খাদ্য খোঁজ করে, বিপদ থেকে পলায়ন করে, আমাদের সুরক্ষা করার জন্য যুদ্ধ করে এবং যৌনসঙ্গম ঘটায়। এগুলো হচ্ছে আমাদের মূল চাহিদা, যা আমরা অন্য প্রাণীদের সাথে সমভাবে ভাগ করে নিই।

বৃহৎ সেরিব্রাল করটেক্স যা থাকে আমাদের ব্রেনের সমমুখভাগে, যা দ্বারা আমরা শিখি এবং অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করি। এটা আমাদের বুঝতে শেখায় যে কীভাবে আমরা চিন্তা করি, কীভাবে অনুভব করি এবং যৌনতার বিষয়ে ভূমিকা পালন করি। এটা হচ্ছে ব্রেনের সেই অঞ্চল যা আমাদের যৌন অনুভূতি সম্বন্ধে জ্ঞাত করায়। হাইপোথ্যালামাস আমাদের যৌনতাকে পরিচালনা করে। অনেক সময় এটাকে বলা হয় লিবিডো। কিছু সংখ্যক বিজ্ঞানী বিশ্বাস করেন যে, হাইপোথ্যালামাস আমাদের যৌনতার পূর্বাভিমুখীনতাকে যৌনাঙ্গ পরিচালনার জন্য গঠন করতে সাহায্য করে।
সেরিব্রাল করটেক্স আমাদের লিবিডোকে ভদ্রতা শেখায়। এটাই সেই স্থান যেখানে আমাদের মধ্যের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাসমূহ, আমাদের সামাজিক ও যৌন আচরণসমূহ বসবাস করে। এটা আমাদের যৌনাঙ্গকে পরিচালনার ব্যবস্থা করে যৌনতার খবরাখবর আদান-প্রদানের মাধ্যমে। যৌনতার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যৌনতার স্মৃতি মন্থন করে, যৌনতার কল্পনাকে উন্নত করে এবং যৌনতার ঝুঁকিকে মূল্যায়ন করে। এটা সেই সংবাদটি ধারণ করে রাখে যা আমাদের যৌনতার ধারণা, অনুভব এবং আচার-আচরণকে গঠন করে।
যৌনতার মনস্তত্ত্ব হচ্ছে আমাদের সেই জ্ঞান ব্যবস্থা যে, কীভাবে আমাদের যৌন পরিচালনা, যৌন অনুভূতিসমূহ, কল্পনাসমূহ, স্মৃতিসমূহ এবং চিন্তা একসাথে কাজ করে আমাদের মনে এবং আমাদের যৌন আচরণকে প্রভাবিত করে।
যৌনতার বাধানিষেধ
যদিও অনেক প্রাণীর মধ্যে সমকামিতার যৌনখেলা বর্তমান। তাদের যৌনতার পরিচালনা হয় বেশিরভাগই উর্বরতাবৃত্তের সময়ে। সাধারণত নারী পশুরাই তাদের গর্ভধারণের সময়কালে পুরুষ পশুদের সাথে মিলিত হওয়ার আগ্রহ দেখায়। পশুদের এই মিলনপর্বের সময়টাকে অর্থাৎ তাদের উর্বরতাবৃত্তের পিরিয়ডকে প্রায়ই বলা হয়ে থাকে এসট্রুস। নারী পশুর গাত্র থেকে এই সময়ে একটা গন্ধ ছড়ায়, যা পেয়ে পুরুষ পশুরা যৌনভাবে উত্তেজিত হয়। এই গন্ধ ছড়ানো শুরু হলেই বুঝতে হবে মাদী পশু এখন এসট্রুস অবস্থায় আছে। এই ধরনের যৌন উত্তেজনার গন্ধকে বলা হয়ে থাকে ফেরোমোন।
অনেক শ্রেণীর পশুদের মধ্যে মাদী পশু প্রায় একই সময়ে সবগুলোর এসট্রুস হয়ে থাকে। তখন ফেরোমোনসের গন্ধে বাতাস পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে, যার কারণে মর্দ পশুদের যৌন উত্তেজনা বেড়ে যায়, যাকে বলা হয়ে থাকে রুট।
বিজ্ঞানীরা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি যে, ফেরোমোনস মানুষের যৌনতার ক্ষেত্রে কী ভূমিকা রাখে। আমরা নিশ্চিত করে জানি যে, যদিও নারী ও পুরুষের কোনো এসট্রুস বা রুট পিরিয়ড বলে কিছু নেই। এটাই হলো মানুষ ও পশুদের মধ্যে একটা বড় পার্থক্য- আমাদের যৌন পরিচালনা শুধু প্রজননের জন্যই সীমিত নয়। আমরা যে কোনো সময়েই যৌন জাগৃতির ইচ্ছা করতে পারি, যৌনাঙ্গ চালনা করতে পারি এবং যৌনানন্দ উপভোগ করতে পারি। তাতে নারী উর্বর হোক বা না হোক তা কোনো ব্যাপার নয়। আমাদের মানুষের যৌন পরিচালনা আরো আমাদের সম্ভব করে তোলে ব্যাপক আকারের বিবিধ প্রক্রিয়ায় যৌন জাগরণ ও আনন্দ উপভোগ করা। এসব মানুষের যৌনখেলা পশুদের মতো এতটাই সীমিত আকারের নয়। যদিও আমাদের রয়েছে অনেক বেশি যৌন আনন্দের ক্ষমতা অন্যান্য বেশিরভাগ পশুর চেয়ে, আমাদের যৌন পরিচালনা অনেক বেশি নিষিদ্ধ হতেও পারে।
যেসব বাধানিষেধ যা মানুষের যৌন পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, তা সাধারণত শারীরিক অপারগতার কারণে নয়, যেভাবে অন্য প্রাণীদের ক্ষেত্রে হয় আমাদের যৌনতার বাধানিষেধগুলো হচ্ছে সাধারণত সামাজিক। তারা সেরিব্রাল করটেক্সের মধ্যে বাণীবদ্ধ হয়ে থাকে। ব্রেনের এই অংশের মধ্যেই আমাদের যৌনতার পরিচিতি ও ভালোবাসার মানচিত্র উন্নতি লাভ করে। তারা গঠিত হয় আমাদের জীবন আরো আমাদের পরিবারের সঙ্গে জীবনের অভিজ্ঞতা এবং আমাদের সম্প্রদায়ের সামাজিক ও যৌনতার আদর্শ দ্বারা। এখানেই আমাদের যৌনতার অনুভব বসবাস করে। এই অনুভবগুলো প্রভাবিত করে যে, কীভাবে আমরা যৌনতায় মিলিত হই, কতটা বৈচিত্রতায় আমাদের যৌনতার আচরণ আমরা উপভোগ করতে পারি এবং কতটা আনন্দ আমরা পেতে পারি।
অনেকগুলো অনুভব যা আমাদের আছে তা হচ্ছে যৌনতা সম্বন্ধে বাধা-নিষেধ। এসব বাধানিষেধের অনেকগুলোই আমাদের নিজেদের ও আমাদের সম্প্রদায়কে রক্ষা করতে সাহায্য করে। উদাহরণস্বরূপ আমাদের মধ্যে বেশিরভাগ লোকই অন্যকে আমাদের সাথে জবরদস্তি যৌনমিলনের জন্য বাধা অনুভব করি। অন্যদিকে অনেকগুলো বাধা-নিষেধ আছে যা অনুভব করি তা শুধু নিজেদের যৌনভাবে উপভোগ করায় বাধা দেয়। উদাহরণস্বরূপ আমরা চাইতে পারি যে আমাদের সঙ্গী আমার বিশেষ কোনো অঙ্গ সপর্শ করুক কিন্তু হয়তো আমরা জানি না সেটা জিজ্ঞেস করা সঠিক কি না।
আমাদের যৌনতার বেশিরভাগ নিষেধ জড়িত রয়েছে আমাদের দেহের কল্পনায়, আমাদের আত্মসমমানের সাথে, ঈর্ষা, হোমোফোবিয়া এবং আমাদের আন্তরিক হওয়ার সামর্থ্যের সাথে।
দেহের ভাব বা প্রতিবিম্ব
আমাদের সকলেরই মনের ভাব আছে যে, আমাদের কেমন দেখায়। এই মনের ছবি হচ্ছে আমাদের মনের কল্পনার অংশবিশেষ এবং এটায় রয়েছে আমাদের সেক্স, সেক্সুয়ালিটি এবং যৌন জীবনের উপরে অনেক বড় প্রভাব। আমাদের শরীর সম্বন্ধে আমাদের অনুভবসমূহ দেহ কল্পনার অন্যান্য অংশের সংগঠক।
একটি ভালো শরীরের প্রতিবিম্ব হচ্ছে আমাদের পরিবারের এবং বন্ধু-বান্ধবের প্রদত্ত একটি উপহার। এর দ্বারা আমরা নিরাপত্তা অনুভব করতে পারি আমাদের যৌনতা ও যৌনজীবনের বিষয়ে। তাতে আমরা ছোট কিংবা বড় হই, মোটা কিংবা পাতলা হই, পেশিবহুল বা নরমদেহী, সুন্দর অথবা কালো তাতে কিছু এসে-যায় না। একটি দুর্বল শরীরের প্রতিবন্ধকতা আমরা পেতে পারি আমাদের পরিবারের কাছ থেকে, বন্ধুদের কাছ থেকে যারা আমাদের ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে, অপমান করে এবং আমাদের হস্তমৈথুন ও যৌনাঙ্গসমূহের জন্য নেতিবাচক অনুভব এনে দেয়। দুর্বল শরীরের কল্পনা আমাদের যৌনতা ও যৌন জীবন সম্বন্ধে অনিশ্চয়তার অনুভব এনে দেয়, তাতে আমরা যতই সুন্দর চেহারার হই না কেন।
যৌনতায় বাধানিষেধের কারণে আমরা আমাদের শরীর সম্বন্ধে খারাপ ধারণায় পৌঁছতে পারি এবং দুর্বল শরীরের কল্পনার কারণে আমাদের যৌনতার বাধানিষেধ আরো প্রবৃদ্ধি লাভ করে। তারা একটা লম্পটবৃত্ত তৈরি করে। প্রত্যেকেই অন্যদের তীব্রতর করে তোলে। যেভাবে আমাদের পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবেরা আমাদের শরীরের কল্পনার জ্ঞানের প্রাধান্য ঘটায় তাদের সমর্থন অথবা প্রত্যাখ্যান দ্বারা, তেমনি যে সমাজে আমরা বাস করি সেই সমাজও আমাদের সেই জ্ঞানের প্রতি কিছু অবদান রাখে। টেলিভিশন ও অন্যান্য সংবাদ মাধ্যম আমাদের বডি ইমেজ সম্বন্ধে একটা সামাজিক আদর্শ গঠন ও প্রতিবিম্বিত করতে একটা প্রামাণিক ভূমিকা পালন করে। এর দ্বারা যে আদর্শ বেঁধে দেয়া হয় নারী ও পুরুষের জন্য, তাতে পৌঁছানো আমাদের বেশিরভাগ লোকের জন্যই সম্ভবপর নয়।
জনপ্রিয় পত্রিকাগুলোতে দেখানো হয় স্বয়ংসম্পূর্ণ নারী ও পুরুষ এবং রচনা যোগ করে যে, কীভাবে একটা স্বয়ংসম্পূর্ণ শরীর লাভ করা যায়। বিজ্ঞাপন দাতারা আমাদেরকে লক্ষ লক্ষ কল্পনার দ্বারা বাঁধে এবং বুঝিয়ে দেয় যে সুন্দর ও যৌন হওয়ার অর্থ কী? একটি স্বাস্থ্যকর, ফিট এবং ছিমছাম শরীর হচ্ছে একটি আশ্চর্য জিনিস, কিন্তু মিডিয়ার বার্তা হচ্ছে এই যে, অসামর্থ্য ব্যক্তিদের সৌন্দর্যের আওতায় ধরা হয় না। অযাচিত মুখের চুল, মুখব্রণ, নরম পেট অথবা ছোট স্তন ওয়ালিদের সুন্দরের তালিকায় নাম নেই। প্রকৃতপক্ষে হাজার হাজার সুন্দরী, যৌনকামী এবং ভালোবাসার মতো নারী ও পুরুষ আছেন পৃথিবীতে যারা অসামর্থ্য, যাদের মুখে চুল আছে, ব্রণ আছে, নরম পেট আছে এবং ছোট স্তন রয়েছে।
সম্ভবত আমরা সেই সত্যকে ভুলে গিয়ে থাকব যে, যখন আমরা ছায়াছবির ইমেজের সাথে নিজেদের তুলনা করি অথবা টেলিভিশনে যাদের দেখি বা ম্যাগাজিনে যাদের ছবি ছাপা হয়। আমরা নিজেদের শরীর সম্বন্ধে যেভাবে আপদযুক্ত ধারণা করি তার দ্বারাই বিজ্ঞাপনদাতারা তাদের লাভজনক ব্যবসার জন্য একটা আদর্শিক ছবির প্রচার চালায়। আমাদের নিজেদের চেহারা সম্বন্ধে যতটাই বেশি অনিশ্চিত হই ততটাই বেশি করে আমাদের সমস্যা দূর করার জন্য বিজ্ঞাপিত উৎপাদনগুলো কিনতে থাকি। এর দ্বারা আমাদের যৌনতার বাধানিষেধ আসার সম্ভাবনাই বেশি।
যদিও একটি মাত্র কারণ নয়, যৌনতায় বাধানিষেধ এবং দুর্বল শরীরের চেহারার কারণে জটিল ধরনের পেটের সমস্যা, অ্যানোরেক্সিয়া, বুলিমিয়া এবং বিনজ ইটিং ডিসঅর্ডার হয়ে থাকে। এই গোলযোগের কারণে তাদের জীবনের নিয়ন্ত্রণ হারাতে হয়। বিশেষ করে তাদের যৌনতাকে। যদিও ইটিং ডিসঅর্ডার নারীদের মধ্যে অতি সাধারণ। ইটিং ডিসঅর্ডার অল্পবয়সী ছেলেদের মধ্যেও বাড়ন্ত আকারে দেখা যাচ্ছে। যেসব নারীর স্নায়বিক ক্ষুধামন্দা আছে তারা শরীর পাতলা করার জন্য উপবাস করে। দুর্ভাগ্যবশত তারা বিশ্বাস করে যে, তারা না খেয়ে থেকেও শরীরকে যথেষ্ট পাতলা করতে পারবে না। পাঁচজনের মধ্যে একজন হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় অথবা মারা যায় মেল নাইট্রেশনের সাথে জড়িত জটিলতার জন্য। নারীরা স্নায়বিক ক্ষুধামন্দায় আক্রান্ত হলে তাদের আরো অনেকগুলো কঠিন জীবন বিপন্নকারী রোগ আক্রমণ করে। এ সময়ে তাদের রজঃস্রাব বন্ধ হয়ে যেতে পারে, উর্বরতা, স্তনের টিস্যু, যোনির পিচ্ছিলতা এবং যৌন ইচ্ছা কমে যেতে পারে।
পাতলা হওয়ার জন্য বুলেমিক নারী এবং পুরুষ অনেক খাবার ভক্ষণ করেন এবং বিরেচনমূলক খাবার দ্বারা দীর্ঘ সময়ের জন্য উপবাস করেন, জুলাপ নেন অথবা ইচ্ছা করে বমি করেন। বিজন ইটিং হচ্ছে জবরদস্তি করে বেশি খাওয়া। এটা করা হয় চাপ ও দুশ্চিন্তা কমানোর জন্য, তার সাথে যৌনতার দুশ্চিন্তাও জড়িত আছে। মানুষ চর্বিযুক্ত হয়ে গেলে যৌনতার বাধানিষেধ চলে আসে এবং তারা যৌনমিলন পরিহার করার জন্য একটা বাহানা খুঁজে পায়।
ক্ষুধামন্দাকে সাইকোথেরাপি ও পেশাদারি ডাক্তারি পরামর্শ দ্বারা ভালো করা যেতে পারে। এমনকি খাদ্য খাবারের গোলযোগ ঠিক হওয়ার পরেও যাই হোক একজন লোক তার ফলাফলের জন্য সারা জীবন চেষ্টা করে যেতে পারে।
যখন আমাদের বেশিরভাগ লোকই কঠিন ক্ষুধামন্দা রোগে আক্রান্ত হব না, তার পরেও আমাদের শরীর নিয়ে দুর্ভাবনা কম নয় এবং এর কারণে যৌনতায় বাধানিষেধ আসতে পারে এবং দ্বন্দ্বেরও উপস্থিতি হতে পারে। আমরা যে সঙ্গীদের পেতে আশা করি তাদের জন্য কি যথেষ্ট সুন্দর? আমরা কি যথেষ্ট হ্যান্ডসাম? আমরা কি সঠিক লম্বা চাওড়া গঠনের? আমরা কি যথেষ্ট দীর্ঘ? আমরা কি অত্যধিক দীর্ঘ? আমরা কি সঠিক রঙের? আমরা কি যৌনতায় আকর্ষণীয়? এসব বিষয়ে চিন্তা করে আমরা খুব অসুখী হয়ে উঠতে পারি। তারা আমাদের মনের মধ্যে বেশি সময় ধরে যৌন কাজকর্মের মধ্যে একঘেয়েভাবে কাটায় তাতেও আমাদের যৌন আনন্দের মধ্যে বাধা আসতে পারে।
আত্মাভিমান
আত্মাভিমান হচ্ছে আত্মবিশ্বাস প্রকাশের অন্য আর একটি মাধ্যম। এটা হচ্ছে আমাদের নিজেদের জন্য আত্মসমমানবোধ। আমাদের এটা শক্তিশালী অনুভব করতে সাহায্য করে, সামর্থ্যবান ও যথাযথ-এর অনুভব এনে দেয়। আত্মাভিমান হচ্ছে শরীরের একটি প্রতিবিম্ব এবং শরীরের প্রতিবিম্ব হচ্ছে আত্মাভিমানের একটি প্রয়োজনীয় অংশ। আত্মাভিমান প্রায়ই হয়ে থাকে একটি উপহার যা আমরা পেয়ে থাকি আমাদের পরিবার ও বন্ধু-বান্ধবের কাছ থেকে। আমরা যদি এটা তাদের কাছ থেকে নাও পাই তবুও আমরা নিজেরাই এর উন্নতি সাধন করতে পারি, কিন্তু উপঢৌকন হিসেবে পাওয়ার চেয়ে সেটা অনেক বেশি কষ্টসাধ্য ব্যাপার। শরীরের প্রতিবিম্বের মতো আত্মাভিমানের রয়েছে আমাদের যৌন জীবনের উপরে অনেক বেশি প্রভাব। এটা আমাদের যৌন জীবনকে নিরাপদ ও নিরুদ্বেগ অনুভব করতে সাহায্য করে। এর অভাবে আমাদের মধ্যে যৌনতার বাধা-নিষেধের অনুভব এনে দেয়। যৌনতার ক্ষেত্রে যত বেশি বাধা-নিষেধ আমরা অনুভব করি তত বেশিই আমাদের আত্মাভিমান কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
আত্মাভিমান আমাদের সব ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়, বিশেষ করে ওইসবগুলোতে যেখানে আন্তরিকতা অনেক বেশি থাকে। তার মধ্যে ওইসব সম্পর্কও রয়েছে যেমন- যৌন সম্পর্ক। অন্য লোকের সাথে কোনো সম্পর্ক গড়তে হলে আমাদের অনেক বেশি খোলামেলা হতে হয়। আমরা যখনই একটা আত্মীয়তা গড়তে যাই তখনই আমরা একটা আবেগী ঝুঁকি নিই, কারণ আমরা জানি এটা কার্যকর নাও হতে পারে। এই ধরনের ঝুঁকি নিতে আত্মাভিমানের প্রয়োজন হয়। চুক্তির নিমিত্তে আলোচনার জন্যও আত্মাভিমানের প্রয়োজন। আত্মাভিমানের প্রয়োজন রয়েছে সীমা নির্ধারণ করা ও আত্মীয়তার ক্ষেত্রে সুস্থ সমঝোতা করার জন্য।
নারী ও পুরুষের মধ্যে যাদের আত্মাভিমান নেই তারা যা কিছু পায় তাই নিতে বাধ্য হয়, অনেক কম দাবি উত্থাপন করে এবং শেষ পর্যন্ত তারা শোষিত ও নির্যাতিত হয়। তাদের আরো বেশি শোষিত করার সম্ভাবনা থাকে যখনই তারা অন্যকে শোষণ করার সুযোগ পায়। এটা করে থাকে তাদের দুর্বল আত্মাভিমানের সম্পূরণের জন্য। এটা হচ্ছে অন্য একটি দোষযুক্ত আবর্ত।
দৈহিক সাজা
দৈহিক সাজা দ্বারা আত্মাভিমানকে অবমূল্যায়ন করা হয়। এটা অনেকটা জীবন অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে। তার মধ্যে রয়েছে শারীরিক নির্যাতন, প্রেমিককে হারানো, যৌন নিপীড়ন, অবহেলা এবং কঠোর মাতৃত্ব-পিতৃত্ব যা যৌনতাকে নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে লালন করে। এটা আরো হতে পারে মদ ও অন্যান্য মালামালের ব্যবহার দ্বারা। তারা যাকে ইচ্ছা তাকে এক্সপ্লয়েট করে থাকে তাদের দুর্বল আত্মাভিমানকে পরিপূর্ণ করার জন্য। এটা আরো হতে পারে ক্রনিক অসুস্থতার কারণে, যেমন- ডিপ্রেশন ও ডায়াবেটিস।
আত্মাভিমানের অভাবের কারণে আমাদের মধ্যে যৌন আনন্দের বাধা-নিষেধ আসতে পারে- দুশ্চিন্তার মাধ্যমে যে, আমাদের কেউ ভালোবাসে কি না, আমরা আকর্ষণীয় কি না, আমরা যথোপযুক্ত কি না এবং আমাদের মতামত ও ইচ্ছা প্রকাশের অধিকার আছে কি না। আত্মাভিমানের অভাবের কারণে এটা প্রকাশ করা কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায় যে, আমরা আমাদের যৌন ইচ্ছার কথা প্রকাশ করতে পারি না এবং আমরা যৌনতার দিক দিয়ে নিজেদের সুরক্ষা করতেও পারি না। এটাও ঈর্ষার আর একটি কারণ যা হচ্ছে মূল্যবান সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ভয়ের সংকেত। আত্মাভিমান আমাদের ভালো অনুভব করার জন্য অনুমতি দেয় এবং আমরা যা চাই তার জন্য চাহিদা দেয় এবং আমাদের যৌন স্বাস্থ্যের পরিচর্যা করার জন্য শক্তি যোগায়। যদি আমরা আত্মাভিমান হারিয়ে ফেলি আমাদের জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে, আমরা তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে পরামর্শ দিয়ে নতুন করে গড়তে পারি।
ঈর্ষা
ঈর্ষা হচ্ছে আমাদের সঙ্গীদের ভালোবাসা এবং প্রতিশ্রুতির বিষয়ের দুশ্চিন্তা। যৌনতার বাধা ও দ্বন্দ্বেব মধ্যে এটা একটা প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করতে পারে। সব ধরনের সংস্কৃতিতে ঈর্ষা দেখা যায় না। এটার সম্ভাবনা সেখানেই অধিক যেখানে বিবাহকে দেখা হয় একটা দোষমুক্ত যৌনতা, নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্বীকৃতি হিসেবে। ঈর্ষা বেশিরভাগই দেখা যায় অত্যন্ত দুর্বল আত্মাভিমানী নারী ও পুরুষদের মধ্যে যারা তাদের জীবন নিয়ে অসুখী। এটা অসম্ভব সব ধারণার ওপর নির্ভরশীল। এটা সেই অসম্ভব ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, আমরা অবশ্যই আমাদের প্রেমিকাদের সব ধরনের চাহিদা পূরণ করব এবং তারাও আমাদের সব চাহিদা পূরণ করবে। এটা সেই সত্যটাকে মানতে চায় না যে, যে লোকদের আমরা ভালোবাসি তাদের অনেক বেশি চাহিদা আছে যা আমরা পরিপূর্ণ করতে পারি না এবং আমাদেরও চাহিদা আছে যা তারা পূরণ করতে পারে না।
যদিও আমাদের আত্মাভিমান আছে আমরা আমাদের অনুভবকে কেউ স্বীকৃতি দিলে আমরা তাকে মর্যাদা দিতে পারি যে, আমাদের ভালোবাসার লোকেরা হচ্ছে আকর্ষণীয়, পারঙ্গম, সপর্শকাতর, যত্নশীল, বুদ্ধিমান এবং আনন্দদায়ক। যদি আমাদের কম আত্মাভিমান থাকে তাহলে আমাদের ভালোবাসার লোকদের নিকট থেকে বারবার আশ্বাসবাণীর প্রয়োজন যে আমাদের ওইসব গুণ আছে। ঈর্ষা যৌন সম্পর্ককে খেয়ে ফেলতে পারে এবং সৃষ্টি করতে পারে যৌনতার বাধা-নিষেধ ও দ্বিধাদ্বন্দ্ব।
অভ্যন্তরীণ হোমোফোবিয়া
হোমোফোবিয়া হচ্ছে সমকামিতার ভয়। আমাদের সমাজ এমন ধরনের নেতিবাচক মনোভাবকে উন্নীত করেছে যে, এখন অনেক মানুষই সমকামিতাকে ভয় পায়, তাদের অভ্যন্তরীণ হোমোফোবিয়া রয়েছে। তাতে হোক না কেন তারা লেসবিয়ান, গাই, বাইসেক্সুয়াল, স্ট্রেইট অথবা ট্রান্সজেন্ডার। এই ভয়কেই বলা হয়ে থাকে Internalized Homophobia’ বা অভ্যন্তরীণ সমকামিতার ভয়। এটা নারী ও পুরুষদের মধ্যে যৌনতার বাধা-নিষেধের কারণ হতে পারে; যদিও এটা বেশিরভাগ পুরুষের মধ্যে হতে দেখা যায়। অভ্যন্তরীণ সমকামিতার ভয় এতটাই শক্তিশালী যে ৩০% পর্যন্ত লেসবিয়ান, গাই এবং বাইসেক্সুয়াল বয়ঃসন্ধিকালের ছেলেমেয়েরা আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এর দ্বারা অত্যন্ত কঠিন ডিপ্রেশনও হতে পারে। লেসবিয়ান, গাই এবং বাইসেক্সুয়াল দলের সম্প্রদায়ের মানুষ তাদের সমর্থনদানের এবং আত্মাভিমানের ব্যাপারে যুবক-যুবতীদের সমর্থন যোগানোর জন্য অত্যন্ত বেশি সাহায্যকারীর ভূমিকা পালন করতে পারে। পেশাদারি পরামর্শও যথেষ্ট সাহায্যকারী হতে পারে।
অভ্যন্তরীণ সমকামিতার ভয়-ভীতি, গাই ও লেসবিয়ানদের তাদের যৌনসঙ্গীদের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক গঠনের ক্ষেত্রে অনেক বেশি অসুবিধার সৃষ্টি করতে পারে। এটা আরো এইরূপ ভীতির সঞ্চার করতে পারে যে তারা যৌন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে। তারা স্ট্রেইট হওয়ার ভান করবে অথবা অন্য লিঙ্গের সাথে নৈরাশ্যজনক ও আশাহতভাবে যৌন সম্পর্ক গড়তে বাধ্য হবে। স্ট্রেইট লোকেরা যারা এর জন্য দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয় যে, তাদের কিছু যৌনাকাঙ্ক্ষা এবং কল্পনা হতে পারে সমকামিতামূলক, হতে পারে নারীর সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ার ক্ষেত্রে অনেক কম সামর্থ্যবান। তারা নারীদের সাথে যৌন সম্পর্ক গঠনে হতে পারে Tough gay অথবা Maco মনোভাব গড়ে তোলে। যেসব পুরুষের অভ্যন্তরীণ সমকামিতার ভয় আছে তারাও gay bashing এবং অন্যান্য যৌনতার আক্রমণ চালিয়ে বসতে পারে।
অভ্যন্তরীণ হোমোফোবিয়ার চিকিৎসা করানো যেতে পারে পেশাদারি ডাক্তারের পরামর্শ এবং সাইকোথেরাপির মাধ্যমে। এর থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো সেই পদ্ধতিকে গ্রহণ করা যাতে একজনের যৌনতার পূর্বাভিমুখীনতা এবং লিঙ্গের পরিচিতির সাথে খোলামেলা হওয়া যায়। এটা আরো হচ্ছে সামাজিক ও অভ্যন্তরীণ হোমোফোবিয়াকে চ্যালেঞ্জ করার পদ্ধতি। এর অনেকগুলো স্তর আছে প্রথমটি হচ্ছে নিজের মধ্যে থেকে নিজেকে বের করে আনা। এটা বয়ঃসন্ধিকালে হতে পারে, কিন্তু এটা বয়োবৃদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত নাও হতে পারে। অন্য স্তর হচ্ছে অন্য মানুষের মধ্যে থেকে বেরিয়ে আসা বন্ধু-বান্ধব, পরিবার, পড়শী, স্কুলের সাথী, সহকর্মীবৃন্দ এবং অন্যান্য।
বেরিয়ে আসার পদ্ধতিতে আত্মমর্যাদা গঠিত হয় এবং আন্তরিক হওয়ার সামর্থ্য বাড়ে, কিন্তু এটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। যেসব লোকের মধ্য থেকে আমরা বেরিয়ে আসব তারা সকলেই একভাবে বা অন্যভাবে সমকামিতা ভীতিতে আক্রান্ত। তাদের মধ্যের খুব কম লোকে এই পদ্ধতিটাকে সহজ করার জন্য সাহায্য করতে পারে, কিন্তু বেশিরভাগ লোকই তা পারে না। এ চাপের আক্রমণ থাকা সত্ত্বেও বাইরে চলে আসায় অভ্যন্তরীণ হোমোফোবিয়ার অনেক বেশি উপশম হয়; যদিও সম্পূর্ণ ভালো হয় না। অনেক লোক যারা জীবনের বেশিরভাগ সময় বাইরে কাটিয়েছেন তথাপি তারা অভ্যন্তরীণ সমকামিতাভীতির সাথে জড়িত যৌন এবং সামাজিক বাধানিষেধের দ্বারা ভোগান্তির শিকার হন। এর হাত থেকে নিজেদের মুক্ত করতে এমন একটা পদ্ধতি মানতে হবে যা জীবনের বেশিরভাগ সময়েই চালিয়ে যেতে পারা যায়।
আন্তরিকতা
আন্তরিকতা বা ইন্টিমেসি হচ্ছে আমাদের অন্তরঙ্গ বন্ধুবান্ধব বা পরিচিতজনের সাথে যে নিজস্ব ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার ভাব ঘটে তাই। এটা আমাদের বেশিরভাগ আত্মীয়তার বা সম্পর্কের ভিত্তি, তাতে সেই সম্পর্কটা হোক না কেন যৌন সম্পর্ক বা তা নয়।
আন্তরিকতা বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এটা আর একটি আশীর্বাদ বা উপহার যা আমাদের মাতা-পিতা আমাদের দিতে পারেন। আমাদের শিশু হিসেবে যদি আদর-যত্ন করা হয়, আমাদের শিশুকাল থেকে যদি সমমান সহকারে লালন-পালন করা হয় এবং আমরা একটা আন্তরিকতার পরিবেশে বড় হতে থাকি এবং যৌনাঙ্গ সম্বন্ধে একটা স্বাস্থ্যকর মনোভাব নিয়ে বেড়ে উঠি এবং আমরা আমাদের নিকটতম আত্মীয়দের বিশ্বাস করতে শিখি তা আমাদের ক্ষতি করবে না। তাতে আমরা আমাদের জীবনসঙ্গীদের সাথে অনেক আন্তরিকতার সাথে অনেক সহজে মিলেমিশে থাকতে সমর্থ হব। আমরা অন্য লোকদের সাথেও সহজ হতে পারব। আমরা যদি আমাদের যৌনসঙ্গীদের সাথে খুব ঘনিষ্ঠ হতে পরি, তাহলে আমরা একে অন্যের মনোভাব বা অনুভবকে ভাগ করে নিতে পারব, আমাদের ইচ্ছাকে প্রকাশ করতে পারব, স্বাস্থ্যকর সমঝোতা করতে পারব এবং নির্ভয়ে তাদের সাথে, মতবিরোধের কথা ব্যক্ত করতে পারব। আরো আমরা তাদের অনুভব ও মনোভাবকে সমর্থন দিতে পারব।
অনেক নারী-পুরুষই আবিষকার করে থাকেন যে, তারা যেভাবে তাদের যৌন সাথীদের সাথে আন্তরিক হতে অসমর্থ ঠিক তেমনি অন্যদের সাথেও আন্তরিক হতে অসমর্থ। তারা দেখতে পারেন যে, তারা তাদের অন্তরঙ্গ মানুষের সাথেও যৌনমিলন করতে ততটাই অসমর্থ। এই ধরনের যৌনতার বাধানিষেধ দীর্ঘস্থায়ী বিবাহিত জীবনের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। যৌনসঙ্গীদের সাথে যৌনতায় অসামর্থ্যতা আসতে পারে যৌনতার বাধানিষেধের কারণে, যেটা জড়িত আছে শরীরের প্রতিবিম্বের সাথে, আত্মাভিমানের সাথে এবং অভ্যন্তরীণ সমকামিতার ভীতির সাথে। অত্যন্ত উন্নত সামাজিক দক্ষতা অর্জনকারী নারী-পুরুষরাও কখনো আন্তরিক হতে অসমর্থ হতে পারে। আন্তরিক হওয়ার বিষয়ে সমস্যাগুলো সাইকোথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা করা যেতে পারে।
আমাদের যৌনতার বাধানিষেধ ও দ্বন্দ্ব
আমরা এমন একটা সংস্কৃতির মধ্যে বসবাস করি যেটা যৌনতার বিষয়ে হাজার হাজার বছর ধরে ভয়-ভীতি ও নিপীড়নের মধ্যে রয়েছে। যেহেতু এটা যৌন এবং যৌনতার বিষয়ের বিপদের উপরেই জোর দিয়ে এসেছে সুতরাং আমরা যৌন চালনার বিষয়ে অনেক বাধানিষেধ ও সংঘর্ষ অনুভব করতে পারি। যৌন চালনা এবং বাধানিষেধের সংঘর্ষকে বলা হয় সেক্সুয়াল কনফ্লিক্ট বা যৌনতার দ্বন্দ্ব। এটা আমাদের আত্মাভিমানের সাথে যৌন আনন্দের সাথে এবং আমাদের যৌন সম্পর্কের ওপর হস্তক্ষেপ করতে পারে।
আমাদের পারিবারিক মূল্যবোধ ও সামাজিক আদর্শের সাথে যখন যৌন আবেগ এবং ইচ্ছাসমূহের সামঞ্জস্যের ব্যত্যয় ঘটে তখনই আমাদের মধ্যের একটা দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ি। উদাহরণস্বরূপ আমরা নাও জানতে পারি যে, বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ হিসেবে আমাদের যৌন উপভোগ করা সঠিক আছে। আমাদের একটা বিশ্বাস করার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে যে, যৌন উপভোগ হচ্ছে যুবক এবং সুন্দর মানুষের জন্য। আমরা যদি এই সাধারণ কিংবদন্তিতে বিশ্বাস করি তবে আমরা বয়োবৃদ্ধ মানুষের মতো আমাদের স্বাভাবিক যৌন আবেগকে বাধানিষেধের আওতায় ফেলতে পারি। এই যৌনতার দ্বন্দ্ব জীবনে আমাদের অনেক কম সুখী হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আমাদের ভেতরস্থ যৌনতার দ্বন্দ্ব এই বিষয়ে যে কোনটা সঠিক আর কোনটা সঠিক নয়, এটা জীবনের যে কোনো স্তরে এসে ঘটতে পারে।
বেশিরভাগ মানুষ যারা যৌনতার দ্বন্দ্বের মধ্যে পতিত হয় তা হয়ে থাকে মোটামুটি যৌনতার নিরানন্দতা বা অস্বাচ্ছন্দ্য ও যৌনতার অপারগতার মধ্যবর্তী স্থানে। কিন্তু এই দ্বন্দ্বের দ্বারা যৌনতার অস্বাচ্ছন্দ্য হলে তা আমাদের যৌন জীবনের উপরে যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে পারে। পরবর্তীতে কিছু যৌনতায় অপারগতার কথা বলা হচ্ছে, যা যৌনতার ওপর নেতিবাচক অনুভবের কারণে অথবা অন্য লোকের যৌনতা সম্পর্কিত অনুভবের কারণে হয়ে থাকে। যদিও আমাদের এই অপারগতা নেই তাকে বুঝতে পারলে আমাদের যে অস্বাচ্ছন্দ্য আছে তাকে বোঝা যাবে।
অধ্যাপক ডা. এ এইচ মোহাম্মদ ফিরোজ
এমবিবিএস এফসিপিএস এমআরসিপি এফআরসিপি
E-mail : professorfiroz@yahoo.com
sunargo.info

Wednesday, July 13, 2011

শীর্ষ চরমপুলকের ইতিহাস

আমি যৌনপুলকের একটা সংক্ষিপ্ত ইতিহাস আপনাদের দিতে চাই। বিগত দিনে অর্গাজম সম্বন্ধে সীমিত জ্ঞান কার্যকরীভাবে যৌনশক্তিকে সীমিত করে রেখেছিল। আজকের দিনের গবেষণা অনেক বেশি নতুন জ্ঞান এনে দিয়েছে। যার ফলে আমাদের সম্ভাবনাও অনেক বেশি বেড়ে গিয়েছে। আমরা জানি আরও অনেক বেশি সম্ভব। তথাপি, বহু লোক এখনো বিশ্বাস করে যে, পুরুষ শুধু একটি মাত্র যৌনপুলক পেতে পারে, যাকে তারা সংজ্ঞা দেয়- পুংলিঙ্গের যৌনপুলক নামে যেটা শিশ্ন ও অণ্ডকোষের মধ্যে অবস্থান করে এবং নারীদের দুটি স্থানে ভগাঙ্কুরে অথবা যোনিতে। প্রকৃতপক্ষে নারী এবং পুরুষ উভয়েই বহুবিধ যৌনপুলক উপভোগ করতে পারে যেটা সম্ভাবনার বিস্ময়কর সীমানা খুলে দেবে।
আমার এই নির্দিষ্ট বিবেচ্য বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করার জন্য আমাকে কতগুলো যৌনপুলকের প্রতিক্রিয়ার আবিষ্কারের কথা বলতে দিন; যেটা আমি পরে আলোচনা করব-
  • যৌনপুলক লাভের সময় পুরুষের মতো নারীরাও বীর্যস্খলন ঘটাতে পারে।
  • যৌনাঙ্গের শীর্ষপুলক নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যে বীর্যপাত ঘটানো ছাড়াও হতে পারে।
  • ভালোবাসার মধ্যে নারী ও পুরুষ উভয়েই অসংখ্য শীর্ষ যৌনপুলক উপভোগ করতে পারে।
  • যৌনাঙ্গের পূর্ণ শীর্ষপুলক আত্মজ্ঞানের পরিবর্তিত বিকাশ ঘটাতে পারে।
যদিও এসব আবিষ্কার নিয়ে বহু সংখ্যক গবেষণা প্রোগ্রাম লিখিত আকারে এসেছে এবং অনেক দিন থেকেই জানা যাচ্ছে তবু এখনো তারা অনেক লোকের কাছেই বিস্ময়কর হিসেবে ধরা দিচ্ছে। তথাপি আমার ধারণা হচ্ছে এই যে, যদি একজন ওটা করতে সক্ষম হয়, তবে আমরা সকলেই তা করতে সক্ষম হব! যৌন শীর্ষপুলক শব্দটি তার সাথে একটা বিরাট পূর্ণতার ওয়াদা বহন করে। এটা দুটো গ্রিক শব্দ থেকে উদ্ভূত হয়েছে-একটা (Orgasmos) অর্গাজমস-এর পূর্ণ অর্থ হচ্ছে-পাকা হওয়া বা পূর্ণতাপ্রাপ্তি, ফুলে ওঠা এবং কামাসক্ত হওয়া এবং (Orge) অরজি-এর অর্থ হচ্ছে আবেগ বা তাড়না। এটার মূল সংস্কৃত ভাষার ‘Urj’ শব্দটির মধ্যেও পাওয়া যায়। যার অর্থ হচ্ছে পুষ্টি, শক্তি এবং দৈহিক বা মানসিক সমর্থ। এসব সংজ্ঞার সাথে আমরা যদি দৃঢ়সংলগ্ন থাকতাম নিঃসন্দেহে আমরা অনেকগুলো সমস্যা থেকে দূরে থাকতে পারতাম। যেগুলো এই সীমিত ব্যাখ্যার দ্বারা দীর্ঘদিন বছরের পর বছর যৌন শীর্ষপুলকের উপভোগ সম্বন্ধে আমাদের দেয়া হয়েছে।
ইদানীংকালে নারী ও পুরুষের যৌনপুলক সম্বন্ধে কঠোর স্বাতন্ত্র্য দেখানো হচ্ছে। বিভিন্ন নারীর ক্ষেত্রেও বিভিন্ন প্রকৃতি ও তাদের যৌনপুলকের পার্থক্য দেখানো হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ সিগমন্ড ফ্রয়েড দাবি করেছেন যে কোনো নারী যদি তার বয়ঃসন্ধিকালে ভগাঙ্কুরের পুলক থেকে গভীর যোনির ভেতরস্থ যৌনপুলকের অভিজ্ঞতা লাভ না করে থাকে, তাহলে সে যৌনতার ও মনস্তাত্ত্বিক দিক দিয়ে অপরিণত থেকে যায়। তিনি ভগাঙ্কুরকেও ক্ষয়প্রাপ্ত শিশ্ন বলে বিবেচনা করেছেন এবং এই বিশ্বাস দিয়েছেন যে, নারীর যৌনাঙ্গসমূহ প্রকৃতিগতভাবে পুরুষাঙ্গের একটা ন্বিম্নতর প্রতিলিপি। ১৯২০ সালে ফ্রয়েড তার A general introduction to Psychoanalysis নামক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন-
Of little girls we know that they feel themselves heavily handicapped by the absence of a large visible penis and envy the boys possession of it; from this swore primarily springs the wish to be a man. The clitoris in the girl, more over, is a region of especial excitability in which auto-erotic satisfaction is achieved. The rendition to woman hood very much depends upon the early and complete relegation of this sensitivity from the clitoris over to the vaginal orifice.
ফ্রয়েডের ধারণা যৌনাঙ্গসমূহকে মেরু মুখীকরণ তীব্রতর করেছিল, সম্ভবত সেটাই সেসব হাজার হাজার নারীর অবর্ণনীয় দুঃখের কারণ হয়েছিল, যারা নিজেদের অসম্পূর্ণ এবং অপ্রাপ্ত মনে করত। যখন তারা পূর্ণ যোনির পুলক, শিহরণ লাভে ব্যর্থ হতো। এটা ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত ছিল, যখন পর্যন্ত না আলফ্রেড সি কনসে ভগাঙ্কুর ও যোনির মধ্যে যৌনপুলক সম্বন্ধে অতিকথা বা মিথ্য প্রচারের পরিসমাপ্তি ঘটান। তিনি তার প্রকাশিত গ্রন্থে Sexual behavior in the Human female-এ বলেন, তিনি যে ২৭০০ আমেরিকান নারীকে নিয়ে গবেষণা চালিয়েছেন, তাদের মধ্যে অর্ধেকের মতো মেয়েলোকই বলেছেন যে, তারা ভগাঙ্কুরের মধ্য দিয়ে শীর্ষপুলক লাভ করেছেন এবং সেখানে এমন কোনো প্রমাণ নেই যে সেই নারীগণ তাদের চেয়ে কোনোক্রমে কম পরিপক্ব ছিল যারা যোনির শীর্ষপুলক পেয়েছেন। কিনসে ঘোষণা করলেন যে, ভগাঙ্কুর থেকে সংবেদনশীলতা যোনির মধ্যে বদলি করার কল্পনা করা হচ্ছে একটা জৈবিক অসম্ভাব্যতা বা biological impossibility.
১৯৪৮-এর প্রারম্ভে কিনসে আরও আবিষ্কার করলেন যে, পুরুষের মধ্যে শীর্ষ যৌনপুলক ও বীর্যস্খলন দুটো নির্দিষ্ট এবং আলাদা ঘটনা হতে পারে- যেটা উন্নত যৌনতার ক্ষেত্রে একটা অতীব প্রয়োজনীয় বা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর এবং প্রাচ্যের তন্ত্রীয় দর্শনের একটা অখণ্ড দিক। কিনসে লিখেছেন শীর্ষপুলক বীর্যস্খলন ব্যতীতও হতে পারে। এটা ওইসব পরিপক্ব পুরুষের মধ্যে হয়ে থাকে যারা ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের যৌনাঙ্গের পেশিগুলোকে সংকোচন করতে পারে- এই টেকনিকটাকে কয়েটাস রিজার্ভেটাস বলা হয়ে থাকে। এসব পুরুষ প্রকৃত শীর্ষপুলকের অভিজ্ঞতা লাভ করে যাকে প্রত্যক্ষ করতেও তাদের কোনো কষ্ট হয় না, যদিও সেটা হয়ে থাকে বীর্যপাতহীন। ইতিমধ্যে উইলহেমরিচ (Wilhelm reich) তার ভিত্তি হেলানো পুস্তকthe function of the orgasm-এ যেটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত হয়। শীর্ষপুলকের সংজ্ঞাকে আরও স্পষ্ট ও বিস্তারিত বর্ণনা করে যিনি প্রথম যৌন বিজ্ঞান বিশারদ হন, তিনি সেটাকে এমন একটা ঘটনা বলে বর্ণনা দেন যা শুধু যৌনাঙ্গসমূহকে ছাড়িয়ে সমস- দেহকে সমাচ্ছন্ন করে। রিচ বিশ্বাস করতেন যে একজনের আবেগ উত্তেজনাজনিত স্বান্থ্য, তার (স্ত্রী বা পুরুষ) যৌন কার্যকালে সম্পূর্ণ শরীরের শীর্ষপুলক ছেড়ে দেয়ার অভিজ্ঞতার সামর্থ্যের সাথে সম্পৃক্ত। তিনি অনুভব করেছিলেন পূর্ণ যৌনপুলকজনিত বীর্যপাত হচ্ছে উপশমকারী অভিজ্ঞতার অন্যতম। যেটা একজন লোক দৈহিক ও মানসিকভাবে লাভ করতে পারে। তিনিই ছিলেন প্রথম পশ্চিমা যৌনবিজ্ঞানবিশারদ যিনি দেখিয়েছিলেন যে, স্বাস্থ্যপ্রদ যৌন ক্রিয়াকর্ম উচ্চস্তরের সজ্ঞানতার অভিজ্ঞতা লাভের সাথে সম্পৃক্ত।
অপরদিকে রিচের সমস- দেহের কাছে যাওয়ার বিপরীতে উইলিয়াম মাস্টারস এবং ভার্জিনিয়া জনসন মানুষের শীর্ষপুলক প্রতিক্রিয়াকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন। এখানে- দেখিয়েছিলেন একটা পরিমেয় এবং পরিমাপক পদ্ধতি হিসেবে। তারাই ছিলেন গবেষকদ্বয় যারা সর্বপ্রথম সেক্সকে একটা পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণনির্ভর বিজ্ঞান হিসেবে প্রত্যক্ষ করেছেন। তারা ১৯৫৪ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত পরীক্ষাগারে অতি যত্নের সাথে ৭০০ লোকের ওপর একের পর এক গবেষণা করে দেখেছেন, শীর্ষপুলকের সময় তাদের মনস্তাত্ত্বিক প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল। মাস্টারস এবং জনসন নারী ও পুরুষের যৌন প্রতিক্রিয়ার বিভেদগুলোকে অপসারিত করার জন্য সাহায্য করেছেন। তারা পেনিস ও যোনির সূক্ষ্ম অনুভবগুলোর মধ্যে একটা সমতায় সংঘর্ষে আসার মতো সামঞ্জস্যতার কথা বলেছেন। তারা দেখেছেন যৌনতার প্ল্যাটো স্তরে নারী ও পুরুষের বুকের ধুঁকধুঁকানি এক হয়ে যায় এবং শীর্ষপুলককালে অভিন্ন ছান্দিক সমতায় তাদের পায়ুর পেশিগুলো সংকুচিত হয়। তারা আরও নিশ্চিত করে বলেছেন যে নারীদের যৌন অনুভূতিসমূহ প্রথমত তাদের ভগাঙ্কুরের উত্তেজনার মধ্য দিয়ে আসে, যোনির মধ্য দিয়ে নয়।
১৯৮২ সালে Alice lades, Beverly whipped and john Perry যৌন শীর্ষপুলকের একটা নতুন পরিপ্রেক্ষিত উপস্থাপন করেন, তাদের the G spot নামের পুস্তকে। তারা নিশ্চিতভাবে এটা সংক্ষেপে উপস্থাপন করেন যে নারী ও পুরুষের যৌন-প্রতিক্রিয়া প্রায় সকল ক্ষেত্রেই সমকক্ষ। তাদের আগমন দুটি লিঙ্গের মধ্যস্থি'ত দূরত্বের হাত থেকে আমাদের বাঁচালো এবং ফ্রয়েড প্রদত্ত যৌনাঙ্গের মেরুকরণের হাত থেকেও নিষ্কৃতি দিল। তারা এনে দিলেন নারী ও পুরুষের একে অন্যের জন্য শ্রদ্ধার সাথে যৌন প্রতিক্রিয়ার অনুভব। সবচেয়ে বেশি উত্তেজনাকর ও ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিল তাদের যৌন সম্বন্ধীয় গবেষণা। তাদের আবিষ্কার ছিল যোনির শীর্ষপুলক হয়ে থাকে ‘জি স্পট’-এর মধ্য দিয়ে যেটি হচ্ছে যোনিনালির প্রায় দু ইঞ্চি গভীরের উপরি অংশে ছোট একটা আনন্দ কেন্দ্র। সঠিকভাবে উত্তেজিত হলে স্থানটি ফুলে ওঠে, শক্ত হয়, যোনির অন্যান্য অংশ থেকে বিশেষভাবে আলাদা হয় এবং অনেক নারীর দেহে শীর্ষ যৌনপুলক এনে দেয়। একইভাবে তাদের এই আবিষ্কার ছিল অত্যন্ত প্রয়োজনীয় যে শীর্ষপুলক অনুভবকালে নারীরা একটা স্বচ্ছ তরল পদার্থ নিঃসৃত হওয়ার অভিজ্ঞতা পেতে পারেন, যেটা প্রস্রাব থেকে আলাদা, যোনির পিচ্ছিল পদার্থ থেকে আলাদা এবং একটা অভ্যন্তরীণ বীর্যপাতের সমমানের হয়ে থাকে। ‘জি স্পট’ এবং নারীর বীর্যপাত নিয়ে যথেষ্ট তর্কাতর্কি হয়েছে। অনেক ডাক্তার দুটোকেই অস্বীকার করেছেন। আমার ধারণায় এই মনোভাব হচ্ছে পুরুষের আধিপত্যবাদের প্রতীকী যেটা ধীরে ধীরে অপ্রচলিত হয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে ‘জি স্পট’ আছে, গবেষণায় ‘জি স্পট’ পাওয়া গেছে এবং পরবর্তীতে Eves secrets নামক একটা নারীর যৌনতার নতুন থিওরি 'A new theory of female sexuality' নু জোসেফাইন লাউন্ডার্স সিভলি Josephine lowndes sevely তে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দিয়েছে।
আমার অভিজ্ঞতায় বলে সিভলির সংজ্ঞা সঠিক এবং সঠিক উপদেশ হচ্ছে সর্বসাকল্যে শীর্ষপুলক একটা বেষ্টনকারী ঘটনা যা মন ও শরীরের মস্তিষ্ক ও যৌনাঙ্গের মধ্যস্থিত বহুবিধ চলন- প্রতিক্রিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে। শীর্ষপুলকের একটা দিক আছে, কী করে আপনি সেখানে পৌঁছবেন এটা সে দিকের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয় না বরং এটার একমুখ খোলা যেটা ব্যক্তিত্বের অনুপমতা ও পার্থক্যের প্রতিক্রিয়ার সামর্থ্যের প্রতি শ্রদ্ধাবান।
মানুষের শীর্ষ যৌনপুলক সম্বন্ধে গবেষণা দ্বারা পরবর্তীতে যা পৃথক করা হয়েছে তা আমাদের উন্নত যৌনতা পরিপ্রেক্ষিতের সন্নিকটে নিয়ে এসেছে। তাদের অভিনন্দিত পুস্তক ESO (Extended sexual Orgasm)-এ ডাক্তার অ্যালেন ব্রায়ার ও তার স্ত্রী ডোনা স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করে দেখিয়েছেন যে, যৌন শীর্ষপুলক শুধু এক গুচ্ছ প্রতিক্রিয়া সাধক জিনিস নয় যা সচরাচর ১২ সেকেন্ড স্থায়ী হয়, বরং ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা লাভ করে তাকে ৩০ মিনিট ও তদূর্ধ্ব সময়ের জন্য বাড়ানো যায়। তারা লক্ষ করেছেন যে, এই বাড়তি যৌন শীর্ষপুলকের সময়ে শরীরের জাগরণের লেভেলটা একটু নিচে নেমে আসে। অন্য কথায় আপনার হৃৎপিণ্ডের বিট ও শ্বাস-প্রশ্বাসের সংখ্যা কমে আসে; আপনার রক্তচাপ নিচে নেমে আসে এবং সাধারণত আপনি ঠান্ডা হয়ে যান। যদিও আপনি বাড়তি মাত্রায় গভীর আনন্দ লাভ করেন। এটা উন্নত যৌনতার অন্যতম গোপন তথ্যকে সমর্থন দেয়। উচ্চতর জাগরণের অবস্থায় শিথিল থাকা যদিও Brayers গণ প্রায়ই যৌনাঙ্গের পুলকের পরেই বীর্যপাত প্রত্যক্ষ করেন এবং তার প্রতি দৃষ্টি প্রদান করেন। তাদের যৌনপুলকের বৈষয়িক আনন্দ উৎফুল্লতার উপাদানকে সজ্ঞানতার পরিবর্তিত অবস্থা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, আধুনিক পশ্চিমা যৌনবিজ্ঞানকে তন্ত্রীয় দর্শনের কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। যাই হোক তারা কিন্তু শীর্ষপুলকের ভ্রমণটাকে আনন্দ উৎফুল্লতার দিকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যায় না- যেখানে জাগ্রত শক্তিকে এক ধাক্কায় নির্গত না করে অন্য পথে পুনঃ পরিচালিত করা হয়। এটা এমন যেন Brayers গণ তান্ত্রিকদের দ্বারা প্রস্তুতকৃত বৃহৎ মহাদেশের নকশার একটা সমুদ্রতীরবর্তী সমতল ভূমিকে পুনঃআবিষ্কার করলেন, কিন্তু তীরে অবতরণ করে তাকে ভালোভাবে আবিষ্কার করার আহ্বানকে গ্রহণের অপারগতা প্রকাশ করলেন।
স্ট্যামফোর্ড ভার্সিটির জুলিয়ান ডেভিডসন এই মতবাদ প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিলেন যে, শীর্ষপুলক মন ও শরীরের মধ্যে ঘটে থাকে এবং সেটা সজ্ঞানতার একটা পরিবর্তিত রূপ। তার এই অনুমান, আমেরিকার টুলেন ইউনিভার্সিটির নিওরোলজিস্ট বরার্ট জে থি-এর ধারণার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। তিনি আবিষ্কার করেছিলেন যে, মস্তিষ্কের কিছু অংশ যথাযথ এবং সরাসরি তড়িৎ পরিবাহক দ্বারা উত্তেজিত করা হলে যৌন আনন্দের অনুভূতি সৃষ্টি করে। ডা. গিলবার্ট টরজম্যান একজন ফরাসি যৌনবিশেষজ্ঞ। তিনি যৌনাঙ্গ ও মস্তিষ্কের মধ্যের সম্পর্ককে আরও পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেন। তার ব্যাখ্যা হলো ব্রেইন হচ্ছে আমাদের প্রাথমিক যৌনাঙ্গ এবং যার মধ্য দিয়ে যৌনাঙ্গের শীর্ষপুলক অনুভূতিসমূহকে পুনরায় মস্তিষ্কে প্রেরণ করে
বাংলাদেশের বিশিষ্ট মনোশিক্ষাবিদ, মনোবিজ্ঞানী ও মনোচিকিৎসক
অধ্যাপক ডা. এ এইচ মোহাম্মদ ফিরোজ
মানসিক রোগ শিক্ষা, গবেষণা, চিকিৎসা ও জনসচেতনতায় পথিকৃৎ
সুনর্গ.ইনফু

Tuesday, July 5, 2011

বিবাহ বহির্ভূত যৌনতা ও প্রগতিশীলদের ভাবনা।


ধর্ম প্রবর্তক ও প্রচারকদের চিন্তাজগতের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল নারী পুরুষের যৌন সম্পর্ক। এ ব্যাপারে তারা ছিলেন যার পর নাই উদ্বিগ্ন। ফলশ্রুতিতে ধর্ম গ্রন্থসমূহে এসেছে যৌনতা সম্পর্কিত নানা বিধি নিষেধ। প্রচলিত ধর্মগুলো মানুষের তৃপ্তি ও আকাঙ্খা পুরনের প্রশ্নে উদার নয়। তবুও মানুষ তার সমগ্র শক্তি দিয়ে সৃষ্টির ঊষা লগ্ন থেকেই খুঁজে ফিরেছে যৌন সুখ এবং উপেক্ষা করেছে আরোপিত সকল বিধি নিষেধ। স্বয়ং ধর্ম প্রবর্তকেরাও লঙ্ঘন করেছেন স্বীয় প্রচারিত ধর্মীয় বিধান; হয়েছেন বহুগামী, কখনো কখনো লিপ্ত হয়েছেন বিবাহ বহির্ভূত যৌনতায়! 

কোন কোন ধর্ম শুরুতে যৌনতাকে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করেছিল। যেন যৌনতাই ধর্মের প্রধান শত্রু! কিন্তু সব বাধা ডিঙ্গিয়ে বিজয়ী হয়েছে রিপুর অদম্য তাড়না এবং পরাজিত ও সংশোধীত হয়েছে ওই সকল ধর্মীয় বিধান। বিবাহ বহির্ভূত যৌন সম্পর্কের প্রশ্নে মোটামুটিভাবে সব ধর্মই কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি পোষন করে। কোন কোন ধর্ম এরূপ সম্পর্কের ক্ষেত্রে রীতিমত মৃত্যু দন্ডের বিধান আরোপ করেছে এবং পৃথিবীর বহু সমাজে তা আজও প্রতিপালিত হচ্ছে। 

ধর্ম সমূহ সাধারণত কিছু কিছু মানুষের পারস্পারিক আত্মীয়তার সম্পর্কের কারনে তাদের মধ্যকার যৌন সম্পর্ককে নিষিদ্ধ করেছে, এধরনের সম্পর্কের দুজন নর-নারীর মধ্যে বিবাহও নিষিদ্ধ হয়েছে। কিন্তু ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে আমরা যৌন সম্পর্কে আবদ্ধ হতে দেখেছি মা ও পুত্র, পিতা ও কন্যা, শশুড় ও পুত্রবধূ, জামাতা ও শাশুড়ি, ভাই-বোন সম্পর্কের নর-নারীকেও। 
এমন কোন পারস্পারিক সম্পর্ক পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া যাবে না যে সম্পর্কের মধ্যে কখনো কোথাও যৌনতা সংঘঠিত হয়নি। বরং বাস্তবতা হলো এই যে, এধরনের যৌনতা বিশ্বে এখনো বিদ্যমান, বেশ প্রকটভাবেই বিদ্যমান। আর যে সকল পারস্পারিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘বিবাহ নিষিদ্ধ’ হয়নি, সে সকল সম্পর্কের মধ্যে বিবাহ বহির্ভূত যৌনতা খুবই স্বাভাবিক ও প্রচলিত একটা বিষয়- পৃথিবীর সব প্রান্তেই। 

বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা যথেষ্ট রক্ষনশীল। কোন সন্দেহ নেই যে, সামাজিকভাবে এখানে বিবাহ বহির্ভূত যৌনতা অগ্রহনযোগ্য এবং ক্ষেত্র বিশেষে দন্ডনীয়। আবার একই সাথে অন্য সকল ‘নিষিদ্ধ বিষয়ের’ মত যৌনতা প্রশ্নেও আমাদের সমাজ দারুনভাবে নির্লিপ্ত থাকতে পারঙ্গম। বিবাহ বহির্ভূত যৌনতা এখানে কেবল চর্চিতই হচ্ছে না, দিন দিন জনপ্রিয়ও হচ্ছে। যৌনতা বিষয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি দ্রুতই পরিবতিত হচ্ছে। প্রেমের সম্পর্ক এখন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ধাবিত হচ্ছে যৌন সম্পর্কের দিকে। এধরনের সম্পর্কে কেবল অবিবাহিত নারী-পুরুষই জড়িয়ে পড়ছে না, তুমুলভাবে জড়িয়ে পড়ছে বিবাহিত নারী পুরুষও। পরকীয়ার কারনে ভেঙ্গে যাচ্ছে অনেক সংসার। স্বামী-স্ত্রীর বিবাহপূর্ব যৌন সম্পর্কের ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার ফলেও ভাঙ্গছে অজস্র সংসার। 

অনেক কথা বললাম। এখন আসল কথায় আসি। যৌন সম্পর্ক সেটা পরকীয়া হোক বা অন্য যে কোন বিবাহ বহির্ভূত যৌন সম্পর্কই হোক, ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি কি সেটা আমরা সকলেই কম বেশি জানি। এই পোস্টে আমরা এবিষয়ে ধর্মীয় বিধি বিধানের দিকে যাবো না। আমরা আলোচনা করব একজন প্রগতিশীল মানুষ হিসেবে আপনি বিবাহ বর্হিভূত যৌনতাকে কিভাবে দেখেন। 

আমি ধরেই নিচ্ছি আপনি নিজেকে একজন আধুনিক ও প্রগতিশীল বলে মনে করেন। এখন নিম্নোক্ত ক্ষেত্রগুলি সম্পর্কে আপনার অবস্থান কি?
১) ধরে নিচ্ছি আপনি একজন মুসলিম বংশোদ্ভূত নাস্তিক। একটি মুসলিম মেয়েকে বিয়ের পরে আপনি যদি নিশ্চিত হন যে, বিয়ের আগে আপনার স্ত্রী একজনের সঙ্গে মাস ছয়েক লিভ টুগেদার করেছিল বা তাদের যৌন সম্পর্ক ছিল। সেক্ষেত্রে আপনার প্রতিক্রিয়া কি হবে? আপনি কি বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাবেন? উক্ত পরিস্থিতিতে আপনি কি নিজেকে প্রতারিত মনে করবেন? উত্তর হ্যা/না এর পক্ষে কিছু বলুন।

২) আপনি নাস্তিক নন। ইসলামে বিশ্বাসী এবং নিজেকে আধুনিক ও প্রগতিশীল মনে করেন। নিয়মিত না হলেও মাঝে মাঝেই মসজিদে যান নামাজ পড়তে। আপনি অবিবাহিত এবং এপর্যন্ত অনেক মুসলিম নারীর সাথেই আপনার যৌন সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। আপনার ভাইয়ের একজন হিন্দু মেয়ে বন্ধু আছে। তাদের মধ্যে যৌন সম্পর্কও আছে। তবে তারা পরস্পরকে বিয়ে করতে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ নয়। তাদের সম্পর্কটিকে আপনি কিভাবে দেখবেন? এই মেয়েটি হঠাৎই একটি হিন্দু পরুষকে বিয়ে করলো, আপনি কি মনে করেন ওই মেয়েটি তার স্বামীকে বঞ্চিত/প্রতারিত করেছে? আপনার নিজের যৌন সম্পর্কগুলো সম্পর্কে আপনার প্রতিক্রিয়া কি? আপনি কি আপনার স্ত্রীকে বঞ্চিত করেছেন?

৩) বিবাহ বহির্ভূত যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে একজন নারী বা পুরুষ কি আদৌ তার স্বামী/স্ত্রীকে কিছু বঞ্চিত করে? করলে কিভাবে? 

নারী পুরুষের কামলিলা দুনিয়া

বাৎসায়ন কামসূত্র

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More