This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label যৌনাঙ্গ. Show all posts
Showing posts with label যৌনাঙ্গ. Show all posts

Wednesday, September 14, 2011

চুম্বন আর যৌনতা

যৌনতার সাথে চুম্বনের এক সুগভীর সম্পর্ক! আগেই বলা হয়েছে ঠোঁট দেহের একটা গুরুত্বপূর্ণ এরোজেনাস জোন। ঠোঁটে ঠোঁট মেলানো হলে তা প্রিয়ার মনের মাঝে আবেগ উচ্ছ্বাসের বন্যা বয়ে দেয় না, তা যৌন শিহরণ বোধ জাগায়। স্থান কাল পাত্রভেদে এ শিহরণ অনুভূতি গভীর হতে গভীরতর হতে পারে, এমনকি পাত্র পাত্রীর হৃদয়াবেগ যদি অনেক বেশি তীব্র হয় সেখানে একটা চুম্বন চরমপুলক আশীর্বাদ বয়ে আনতে পারে। ঠোঁটের সপর্শের সাথে মনের আবেগের সম্মিলনে যেন এক যৌন বিস্ফোরণ।
যৌনতার ক্ষেত্রে, চুম্বনের অর্থ হতে পারে রকমারি। ঠোঁটের সাথে ঠোঁট মিলিয়ে যে অনুভূতির প্রকাশ, সে অনুভূতি হতে পারে যৌনমিলন, হতে পারে প্রেম, ভালবাসা, হৃদয়াবন্ধন। মানুষের সবচেয়ে উন্মুক্ত দৈহিক অংশ যে মুখ সেই মুখের পশ্চাতে আড়ালে থাকে মনের সুপ্ত বাসনা। হয়তবা এ কারণে আমাদের সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে চুম্বন অনেকটা দৈহিক মিলন সমপর্যায়ের। যৌনতার ক্ষেত্রে শৃঙ্গার এর গুরুত্ব বর্ণনার দরকার নেই। শৃঙ্গার মানে হলো যৌনসঙ্গম পূর্ববর্তী যৌনলীলা খাতে পাত্র-পাত্রীর শিহরণবোধ পুঞ্জীভূত হয়। অনেক ধরনের যৌন অক্ষমতার ক্ষেত্রে অপর্যাপ্ত শৃঙ্গারকে দায়ী করা হয়। মেয়েদের অর্গাজম না হবার অনেক কারণের মাঝে এটি একটি। শৃঙ্গার মানে তো আসলে মিষ্টি রসালাপ আর চুম্বনলীলা। এতো যৌনতার ক্ষেত্রে একটি ধাপ বা সিঁড়ি। সুতরাং একটা ধাপ বাদ গেলে তো মল লক্ষ্যে বিঘ্ন ঘটানো স্বাভাবিক।
ওরাল সেক্স
চুম্বনের প্রশস্তিগীত গাওয়া হবে অথচ ওরাল সেক্স প্রসঙ্গ আনা হবে না তাতো সেক্স থেরাপিস্টরা ভাবতেই পারেন না। ওরাল সেক্স এক বিশেষ চুম্বনলীলা যাতে ঠোঁটের ছোয়া প্রেয়সীর ঠোঁটকে ছাড়িয়ে খায়। যৌনাঙ্গে চুম্বনের ব্যাপারটা আমাদের দেশে অনেকেই অত্যন্ত নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে থাকেন, যৌনাঙ্গকে ঘিরে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই মলত এর প্রধান কারণ। পাশ্চাত্য গবেষণাতে দম্পতিদের যৌনতায় এর গ্রহণযোগ্যতা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এসব দম্পতিদের চরমপুলক উপভোগ মাত্রাও অনেক বেশি। ওরাল সেক্সে নোংরার যে অভিযোগ আনা হয় তাও পুরোপুরি মেনে নেয়া যায় না। দেহের স্বাভাবিক যে জীবাণু সম্ভার (মরবটফ এফমরট) তার মাত্রা যৌনাঙ্গ অপেরা মুখে অনেক বেশি। বিষয়টা অবশ্য সংস্কৃতিনির্ভর। তবে সময়ের সাথে সাথে এতে পরিবর্তন আসছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
ফরাসি চুম্বন
এইডস যুগে ‘ফরাসি চুম্বন’ প্রসঙ্গ বেশ আলোচিত সমালোচিত। কারণ এটি নাকি এইডস ছড়াতে পারে। সাধারণ চুম্বনে কি এইডস ছড়ায় না? তাহলে সাধারণ চুম্বন হতে এ ফরাসি চুম্বনের বাড়তি বিশেষত্ব কি? আসলে সাধারণ চুম্বনে ঠোঁটের সাথে ঠোঁটের সপর্শ ঘটানো হয়। কিন্তু ফরাসি চুম্বনে কেবলমাত্র ঠোঁটের সপর্শ ঘটে না, জিহ্বাও এতে সক্রিয় ভূমিকা নেয়। জিহ্বার সাথে জিহ্বার মিলন মানে তো লালার আদান প্রদান। ঘাতক এইডস জীবাণু কিন্তু আক্রান্তদের লালাতে ঘুরে বেড়ায়। সুতরাং অসতর্ক হলে বিপদ ঘটে যেতে পারে। এক্ষেত্রে কি ফরাসি চুম্বন একদম বন্ধ করে দিতে হবে? সেক্স নিয়ম হল এটি আপনার অতি নিকটের অন্তরঙ্গ মানুষটির জন্য সংরক্ষণ করুন

লিঙ্গিক বিভ্রান্তি

এটা একদম সার্বজনীন প্রচলিত বিভ্রান্তি পুরুষাঙ্গ যত বড় হবে সঙ্গমে পুরুষের ভূমিকা তত বেশি কার্যকরী হবে। বিভিন্ন সংস্কৃতিতে পুরুষাঙ্গের শিথিল আর উত্তেজিত উভয় অবস্থার আকার ব্যক্তির যৌনতার ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। আকৃতিতে বড় মানে অসাধারণ যৌনক্ষমতাধর পুরুষ। ডিকিনসন সর্বপ্রথম কিছুটা বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে বিভিন্ন পুরুষাঙ্গের আকার বা মাপ পরিমাপ নিয়েছিলেন। তিনি লোয়েব নামের অপর একজন গবেষকের লিঙ্গিক রিপোর্টকেও সমর্থন করেছিলেন-শিথিল অবস্থায় পুরুষাঙ্গের আকার সীমানা হল ৮.৫ হতে ১০.৫ সেন্টিমিটার যার গড় আকার হয় ৯.৫ সেমি। আমাদের ল্যাবরেটরি গবেষণাতে পুরুষ সদস্যদের পুরুষাঙ্গের পরিমাপ আগেকার সে সব পরিমাপের সাথে সাদৃশ্যতা বিদ্যমান।
পুরুষাঙ্গের আকারকে যৌন অক্ষমতার নির্ধারক মনে করা হয়ে থাকে। এমনও ধারণা প্রচলিত উদ্রিক্ত অবস্থায় বড় আকারের পুরুষাঙ্গ আরও বৃহদাকৃতির হয়ে আসে আর ছোট আকারের পুরুষাঙ্গের আকার তেমন বেশি পরিবর্তন ঘটে না। পুরুষ সদস্যদের একাংশের ওপর চালানো গবেষণাতে এটি ভ্রান্ত প্রমাণিত হতে দেখা গেছে। গবেষণার জন্য চলিস্নশ সদস্য বিশিষ্ট দুটো গ্রুপ নেয়া হয়-প্রথম গ্রুপের লোকদের শিথিল অবস্থায় পুরুষাঙ্গের আকার ৭.৫-৯ সেন্টিমিটার ছিল। আর দ্বিতীয় গ্রুপের পুরুষাঙ্গের আকার ১০-১১.৫ সেন্টিমিটার ছিল। মোটামুটি সতর্কতার সাথে এ পরিমাপ নেয়া হয়েছিল। অতঃপর যৌনাঙ্গের উত্তেজিত অবস্থায় ঊর্ধ্বস্থিতি পর্যায়ে উদ্রিক্ত পুরুষাঙ্গের আকার নেয়া হয়। ছোটো আকৃতির পুরুষাঙ্গ গ্রুপে (৭.৫-৯ সেন্টিমিটার) যৌন শিহরণের ঊর্ধ্বস্থিতি পর্যায়ে গড় হিসেবে ৭.৫-৮ সেমি পরিমাণ বাড়তে দেখা গেছে। হিসেবটা শিথিল অবস্থায় প্রায় দ্বিগুণের সমান। অপরদিকে বৃহদাকৃতির পুরুষাঙ্গ গ্রগ্রুপে (১০-১১.৫ সেমি) ঊর্ধ্বস্থিতি পর্যায়ে পুরুষাঙ্গের আকার ৭-৭.৫ (সেমি পরিমাণ) বাড়তে দেখা গেছে।
পুরুষাঙ্গের পরিমাণ খুবই সতর্কতার সাথে নেয়া হয়েছিল। এ সময়ে ব্যক্তির মনে কোনো ধরনের প্রাক উদ্দেশ্য কাজ করেনি। বর্ণনার খাতিরে পরিমাপগুলোকে ০.৫ সেমি পর্যন্ত হিসেব করা হয়। পুরুষাঙ্গের গোড়ার দিককার পিউবিক সিমকায়োসিম অগ্রবর্তী মার্জিন হতে পুরুষাঙ্গের পৃষ্ঠ বরাবরে পুরুষাঙ্গ অগ্রভাগ পর্যন্ত মাপা হয়। ৮০ জন লোকের পুরুষাঙ্গ শিথিল আর উদ্রিক্ত অবস্থায় একজন লোক দ্বারা পরিমাপ করিয়ে নেয়া হয়েছিল ও পরপর তিনবার এটি করা হয়েছিল। একজন লোক দিয়ে সমস্ত পরিমাপ করা হয়েছিল, যে কোনো ব্যক্তিনির্ভর সক্ষ্ম বিভ্রান্তি থাকলে তা যেনো সবার বেলাতে ঘটে থাকে। তিনটি পরিমাপের একটা নেয়া হয়েছিল হস্তমৈথুনকালে অপর দুটো পরিমাপ সক্রিয় সঙ্গমের ঊর্ধ্বস্থিতি পর্যায়ে ফান্ড দিয়ে পুরুষাঙ্গের মাপ নেয়া হয়। মাপ নেয়ার বেলাতে লক্ষ্য রাখা হয়েছিল পুরুষাঙ্গের ঊর্ধ্বস্থিতি পর্যায়ের শেষ বিন্দু না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়। এ কারণে একই পুরুষাঙ্গের বার বার মাপ নেয়া হয়েছে।  এ সমস্ত পরিমাপ হতে যেটি বের হয়ে আসে-শিথিল অবস্থায় বৃহদাকৃতির পুরুষাঙ্গ শিথিল ক্ষুদ্রাকৃতির পুরুষাঙ্গ অপেক্ষা তেমন বেশি মাত্রায় স্ফীতি ঘটে না। উত্তেজনাজনিত স্ফীতির গড় আকার ছোটো বড় পুরুষাঙ্গের মাঝে তেমন একটা পার্থক্য দেখা যায়নি।
গবেষণাতে আরও কিছু দিক খুবই উল্লেখযোগ্য। পুরুষদের মাঝে পুরুষাঙ্গের সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল অপর এক পুরুষের মাঝে যাকে এ গবেষণা দলে অন্তর্ভুক্তি করা হয়নি। শিথিল অবস্থায় তার পুরুষাঙ্গের আকার ছিল ৭.৫ সেন্টিমিটার। উদ্রিক্ত অবস্থায় পুরুষাঙ্গের আকার ৯ সেমির বেশি বৃদ্ধি পেতে দেখা যায়। এক্ষেত্রে উদ্রিক্ত অবস্থায় পুরুষাঙ্গ শিথিল অবস্থার আকারকে দ্বিগুণ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পুরুষাঙ্গের আকারের সবচেয়ে কম পরিমাণ বৃদ্ধি ঘটেছিল এমন এক পুরুষের বেলাতে যার পুরুষাঙ্গ মোটামুটি বৃহদাকৃতির ছিল। শিথিল অবস্থায় তার পুরুষাঙ্গের আকার ছিল প্রায় ১১ সেন্টিমিটার। উদ্রিক্ত অবস্থায় তার পুরুষাঙ্গ মাত্র ৫.৫ সেমি বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়েছিল। এ দুটো পুরুষাঙ্গের পরিমাপও আগের পদ্ধতি মোতাবেক করা হয়েছিল।
গবেষক পিয়ারসল আগেই অভিমত দিয়েছিল দেহের অন্যসব অঙ্গের মত সাধারণ দৈহিক বিকাশের সাথে যে একটা মোটামুটি স্থির আনুপাতিক সম্পর্ক দেখা যায় তা পুরুষাঙ্গের বেলাতে তেমন একটা দেখা যায় না। আমাদের চারপাশে এমন কিছু অন্ধবিশ্বাস প্রচলিত আছে। নানান সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করা হয়ে থাকে একজন মানুষের কঙ্কালতন্ত্র আর মাংসপেশি যত বেশি বিকাশপ্রাপ্ত হবে মানে দেহ গড়ন বৃহদাকৃতির হবে তার পুরুষাঙ্গও তত বৃহদাকৃতির হবে। এ বাড়তি আকৃতির হিসেব শিথিল আর উদ্রিক্ততা দু’অবস্থাতেই। গবেষণায় অংশ নেয়া ২১-৮৯ বছর বয়সের ৩১২ জন পুরুষের পুরুষাঙ্গের আকার পিয়ারসলের অভিমতেরই সমর্থন দেয়- দেহের গড়ন আর পুরুষাঙ্গের আকারের মাঝে কোনো যোগসত্রতা নেই। এসব পুরুষদের মাঝে সর্ববৃহৎ পুরুষাঙ্গের আকার শিথিল অবস্থায় ছিল ১৪ সেমি কিন্তু পুরুষটি লম্বায় ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি আর ১৫২ পাউন্ড ওজন বিশিষ্ট ছিল। শিথিল অবস্থায় সবচেয়ে ছোটো আকারের পেনিসের আকার ছিল ৬ সেন্টিমিটারের সামান্য বেশি। এ পুরুষটির উচ্চতা ছিল ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি আর ওজন ছিল ১৭৮ পাউন্ড।
যদিও শিথিল বৃহদাকৃতির পুরুষাঙ্গ উদ্রিক্ত অবস্থায় শিথিল অবস্থায় ক্ষুদ্রাকৃতির পুরুষাঙ্গ অপেক্ষা বাড়তি মাত্রায় প্রসারিত হয় এর কোনো অবকাশ না থাকলেও ক্ষুদ্রাকৃতির পুরুষাঙ্গ দিয়ে কতটা সার্থকভাবে সঙ্গম করা যাবে তার তাত্ত্বিক শঙ্কা থাকতে পারে। যদিও ক্ষুদ্রাকৃতির পুরুষাঙ্গ (৯ সেমির কম দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট্য বৃহদাকৃতির পুরুষাঙ্গ ১০ সেমির বেশি দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট্য) মত সমানভাবে সঙ্গম করা যায়। শিথিল অবস্থায় যে পুরুষাঙ্গ ক্ষুদ্রাকৃতির তা উদ্রিক্ত অবস্থাতেও ক্ষুদ্রাকৃতির থাকে। তাত্ত্বিক পর্যালোচনায় পুরুষাঙ্গের সঙ্গম ক্ষমতার বেলাতে যেটিকে প্রায়ই কোনো গুরুত্ব দেয়া হয় না তা হল- যোনি পুরুষাঙ্গকে ধারণ করে একটা বিশেষ ভূমিকা রাখে। এ সম্পর্কে পরবর্তীতে  আলোকপাত করা হবে।

পর্দার অন্তরালে (পায়ুকাম চর্চা )

পঞ্চাশের দশক হতে আলফ্রেড কিসে মানুষের যৌনাবরণের উপর যে গবেষণা শুরু করেছিলেন, তা আমাদের সামনে প্রতিনিয়ত নানান নতুন নতুন তথ্য উন্মোচিত করছে। তা আমাদেরকে এমন সব তথ্যের মুখোমুখি করছে যার অনেকগুলো আমরা কখনো কল্পনাতেই আনিনা। হোমোসেক্সুয়ালিটি বা সমকামিতা সম্পর্কে আপনার ধারণা কি? সবারই একদম বদ্ধমল বিশ্বাস সমকামিরা পায়ুকাম চর্চা করে থাকে আর এটিই তাদের একমাত্র যৌনতা। যৌনসমীক্ষকদের চালানো গবেষণাতে দেখা গেছে, পায়ুকাম কিন্তু্তু সমকামিদের মুখ্য বা একমাত্র যৌনতা নয়, যে যৌনতা তাদের মাঝে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় তা হল মাস্টারবেশন পক্রিয়াতে পরসপরকে উত্তেজিত করে তোলা। এটিকে যৌন বিজ্ঞানের পরিভাষাতে ‘মিউচুয়াল মাস্টারবেশন’ বলা হয়। সমীক্ষণে আরেকটি লক্ষণীয় দিক হলো পায়ুকাম চর্চা কেবলমাত্র সমকামীদের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়, সাধারণ দম্পতিদের অনেকেই এটির কমবেশি চর্চা করে থাকেন। অন্তত গবেষণাতে এটি দেখা গেছে। সমকামীদের যে পারসপরিক স্বমেহন বা মিউচুয়াল মাস্টারবেশনে- এটিতো পুরুষ আর নারী সমকামী দু’জনার বেলাতে সমভাবেই চর্চা করতে দেখা যায়। নারী সমকামিদের বেলায়তো পায়ুকামের কোনো অবকাশ নেই, সুতরাং ওদের নিয়ে আমাদের ধারণাটি নিয়ে পুনর্বার বিবেচনা করা উচিত।


সাধারণদের মাঝে যারা এ পায়ুকাম চর্চা করে থাকেন তারা কারা? তাদের সংখ্যাই বা কেমন? আমেরিকার বহুল প্রচারিত নারী পত্রিকা বেডবুক ম্যাগাজিন পরিচালিত গবেষণাতে এক লক্ষ মহিলার সমীক্ষণ নেয়া হয়। এতে অংশ নেয়া মহিলাদের তেতালিস্নশ শতাংশ স্বীকার করেছে তারা দাম্পত্য যৌনতায় অন্তত একবার এটির চর্চা করেছেন। যারা এটির চর্চা করেছেন তাদের চলিস্নশ শতাংশের অভিমত- এ পায়ুকাম যৌনতা বেশ উপভোগ্য, অন্তত ভিন্ন স্বাদের। পঞ্চাশ শতাংশের ভাষ্য-তারা এর মাঝে কোনো বিশেষ স্বাদ পাননি। দশ শতাংশের অভিমত তারা নিতান্ত অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কেবলমাত্র স্বামীদের পীড়াপিড়িতে এতে প্রবৃত্ত হয়েছিলেন। এ সমীক্ষণ তথ্য আশা করি পাঠকদের পর্দার অন্তরালের কিছু তথ্য সম্পর্কে অবগত করে তুলবে।

গোপন এক স্পট!


অপরাধ জগত, কালোবাজার বা খুন রাহাজানির কোনো গোপন সপট এটি নয় অথবা নয়নাভিরাম সৌন্দর্যমন্ডিত কোনো পিকনিক সপট এটি নয়। ডঃ লাডাস, ডঃ পেরি আর ডঃ ইতপলি নামের তিনজন গবেষক এ সপটকে বিশ্বজনতার কাছে পরিচিত করে তোলেন। নারী দেহ মানচিত্রে এর অবস্থান। অবশ্যই গোপনীয় কারণ গোপনাঙ্গে এর অবস্থিতি। কৌতূহল মানব মনে এ সপটের আবিষকার তোলপাড় করে তোলে সারা বিশ্বজুড়ে। এ সপটের নাম ‘জি সপট’ সাংকেতিক নাম। গবেষক নারী যৌনাঙ্গের যোনি গাত্রে লুকানো অতিমাত্রায় সংবেদনশীল জায়গা খুঁজে পান। যখন যৌনাঙ্গের এ অংশটি উদ্দীপিত করা হয় তা নারীর মাঝে চরমপুলকের অনুভূতি আর শিহরণ জাগায়। গবেষকত্রয় এর অবস্থানের একদম সক্ষ্ম হিসেব বাতলে দিয়েছেন-এটি যোনির অগ্রবর্তী গাত্রের মাঝে অবস্থান করে যা মুখ হতে পাঁচ সেঃমিঃ পরিমাণ ভেতরে থাকে। আকারে শিমের বিচির মত হলেও যৌন উত্তেজনায় এর আকার বেড়ে যায়। এ সপটের আবিষকার এতদিনকার প্রচলিত নানা তত্ত্বকে পাল্টে দিয়েছে। অর্গাজমকে ঘিরে মনোগবেষক সিগমন্ড ফ্রয়েড দেয়া যে তত্ত্ব আলফ্রেড কিংসে পঞ্চাশের দশকে বাতিল করে দেন আশির দশকে এ জি সপট আবিষকার ফ্রয়েড তত্ত্বকে নতুন গ্রহণযোগ্যতা দান করেছে। এতো গেলো এক দিকের ব্যাপার। অপরদিকে যৌন সমীক্ষকদের মাঝেও এ নিয়ে চলছে তুমুল বিতর্ক। একদল তো এ সম্পর্কিত সপটের উপস্থিতিই মানতে রাজি নন। অন্যদের অভিমত নারী যৌনাঙ্গে এ জি সপট থাকতে পারে কিন্তু্তু সবার মাঝে নেই। এক গবেষক মাত্র দশ শতাংশ মহিলাদের বেলাতে এর উপস্থিতির কথা বলেছেন। অপর একদল বলেন প্রতি তিনজনে দু’জন মহিলার বেলাতে এর উপস্থিতি দেখতে পাওয়া যায়। গবেষকত্রয় এ নানান বিতর্ক সম্পর্কে অভিমত দেন ঠিক এভাবে কোনো নারীর যৌনাঙ্গে এর উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রব্য করতে গেলে প্রথমেই দেখতে হবে তার যৌন দৃষ্টিভঙ্গি আর যৌন সচেতনতা কেমন? এ কারণেই যতই দিন যাচ্ছে এ বিশেষ সপট অধিকারিনী নারীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। এবার নামের রহস্য? এত নাম বাদ দিয়ে জি সপট নাম হলো কেনো? জি নামেরও রহস্য আছে কারণ গ্রাফেন বাজ নামের একজন ফরাশী গাইনোকলজিস্ট সর্বপ্রথম এর ধারণা দিয়েছিলেন। গ্রাফেনবাজ পুরুষ ছিলেন নারী নন।

Saturday, September 10, 2011

দেশী মাল দেশী দুধ দেশী ভোদা

Star0059.jpg


Star0058.jpg


now0063.jpg


now0101.jpg

Tuesday, September 6, 2011

যৌন মিলনের সকল সমস্য ও সমাধান!

পুরুষের দুর্বলতা বলতে যৌন অক্ষমতা বা যৌন আচরণে অতৃপ্তি, যৌন অসন্তোষ ইত্যাদি বোঝানো হয়ে থাকে। মূলত যৌন আচরণের যে দিকটি পুরুষের জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর তা হলো পুরুষাঙ্গ বা লিঙ্গের উত্থানে ব্যর্থতা। এটিকে আমরা অনেক সময় ইরেকটাইল ডিসফাংশন বলে থাকি। অবশ্য মেডিকেল টার্ম হিসেবে একে ইম্পোটেন্স বা পুরুষত্বহীনতাও বলা হয়ে থাকে। একজন পুরুষ যখন যৌন সঙ্গম বা যৌনমিলনের জন্য মনোশারীরিকভাবে প্রস্ততি লাভ করে তখন যদি তার লিঙ্গ বা পুরুষাঙ্গ সঙ্গমের জন্য উপযুক্তভাবে উত্থিন না হয় তবে তা তার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সন্তোষজনকভাবে সেক্স করার জন্য ইরেকশন বা লিঙ্গের পর্যাপ্ত উত্থান একটি বাধ্যতামূলক আচরণ। এর ফলশ্রুতিতে পুরুষের যৌন আগ্রহ বা যৌন ইচ্ছার যেমন ঘাটতি দেখা যায় তেমনি চরমপুলক অনুভূতি লাভও তার ভাগ্যে জোটে না। যে পুরুষ এর ভুক্তভোগী তিনিই কেবল জানেন এর কেমন মর্মপীড়া। অথচ মেডিকেল স্বাস্থ্য বিজ্ঞানে পুরুষত্বহীনতার অনেক আধুনিক কার্যকারী চিকিৎসা রয়েছে। এখানে উল্লেখ্য যে,ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা লিঙ্গ উত্থানজনিত নানা সমস্যা যে কোনো বয়সের পুরুষের ক্ষেত্রেই হতে পারে। হঠাৎ করে দুই একবার লিঙ্গ উত্থিন না হওয়া কোনো বড় সমস্যা নয় এটি আপনাআপনি দূর হয়ে যায়।



ফিজিশিয়ানরা সাধারণত ইম্পোটেন্স বা পুরুষত্বহীনতার টার্মটির পরিবর্তে ইরেকটাইল ডিসফাংশন টার্মটি বেশি ব্যবহার করে থাকেন , কেননা এটি ইম্পোটেন্সির চেয়েও অনেক ব্যাপক অর্থ বহন করে। পুরুষের যৌন কর্মের মানে যে কেবলমাত্র পুরুষাঙ্গের ইরেকশন বা উত্থান হওয়া তা কিন্তু নয় এর সঙ্গে মনোগত এবং আবেগজনিত অনেক ফ্যাক্টরই জড়িত। পুরুষত্বহীনতা শব্দটির সঙ্গে যেহেতু অনেক নেতিবাচক ধারণা জড়িত তাই ইরেকটাইল ডিসফাংশন টার্মটি আমরা ব্যবহার করব। শারীরিক বা দৈহিক নানা কারণে যেমন লিঙ্গ উত্থানে সমস্যা হতে পারে ঠিক তেমনি মানসিক সমস্যার কারণে বা আবেগজনিত বা সাইকোসেক্সুয়াল (মানসিক যৌন সমস্যা) ইত্যাদির কারণেও পুরুষত্বহীনতা হতে পারে। যে কারণেই হোক না কেন ডায়াগনোসিস বা রোগ নির্ণয় হচ্ছে সবার আগে। সঠিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার জন্য পুরুষত্বহীনতার জন্য উপযুক্ত কারণ খুজে বের করে তবেই তার চিকিৎসা করতে হবে। এ নিবন্ধে আমরা লিঙ্গ উত্থানজনিত নানা সমস্যা যেমন-

* কেন হয়?
* এসমস্যার কি কি উপসর্গ রয়েছে?
* কখন এ সমস্যা বেশি হয়?
* কোন কোন ক্ষেত্রে এ সমস্যার ঝুঁকি বেশি থাকে?
* কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত?
* ইরেকটাইল ডিসফাংশনের জন্য কি কি পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন?
* এর আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা?
* এটি কি ভাবে প্রতিরোধ করবেন?
* প্রচলিত মেডিকেশন/ওষুধ?
* সার্জারির মাধ্যমে চিকিৎসা এবং অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে আলোকপাত করব?

লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যার কারণ-

ইরেকশন প্রবলেমের জন্য মূলত দুই ধরনের কারণ দায়ী। ফিজিক্যাল বা শারীরিক কারন-

(এটি সাধারণত রক্তনালী সম্পর্কীয় বা নার্ভের সাথে সম্পর্কিত) সাইকোলজিক্যাল বা মনোগত কারণ ঃ- নানা ধরনের মানসিক বিকারজনিত কারণে পুরুষত্বহীনতা অনেকক্ষেত্রেই ঘটে থাকে।

আবার অনেকের লিঙ্গ উত্থানজনিত নানা সমস্যার পেচনে রক্তনালী, লার্ভ বা স্নায়ু, নানা ধরনের সাইকোলজিক্যাল বা মানসিক কারণজনিত ফ্যাক্টর দায়ী থাকতে পারে।

শারীরিক নানা কারণের মাঝে রয়েছে দীর্ঘ মেয়াদি অসুস্থতা, ইনজুরি বা আঘাত, অপারেশনজানত কারনে জটিলতা যেমন-প্রস্টেট সার্জারিজনিত সমস্যা ইত্যাদি। এসকল সমস্যার কারণে পেনিসে পর্যাপ্ত পরিমাণে স্নায়ুবিক সংবেদী তাড়না ও রক্তপ্রবাহ বিঘ্নতা ঘটে থাকে। এখানে একটি কথা বলে রাখা প্রয়োজন ইরেকশন হলো এক ধরনের ভাসকুলার বা রক্তনালীতে পর্যাপ্ত রক্ত সংবহনজনিত ঘটনা। যদি স্নায়ুতন্ত্র যৌনশিহরণের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ সিগন্যাল বা সংকেত পাঠাতে না পারে তাহলে পেনিসের রক্তনালীগুলোতে ইরেকশনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণে রক্ত আসে না ফলে লিঙ্গ উত্থান ঘটে না। গবেষণা সমীক্ষায় প্রতীয়মান হয়েছে যে, শতকরা ৪৮ ভাগ ক্ষেত্রে পুরুষত্বহীনতার মূল কারণ ভাসকুলারবা রক্তনালী সম্বন্ধীয় নানা সমস্যা শতকরা ১৪ ভাগ ক্ষেত্রে পুরুষত্বহীনতার ক্ষেত্রে নার্ভকে দায়ী করা হয়েছে। নানা ধরনের নিউরোলজিক বা স্নায়ুবিক সমস্যার কারণে যৌন অক্ষমতা ঘটতে পারে।

শতকরা ৩ ভাগ ক্ষেত্রে পেনিসের কাঠামো অথবা এর পার্শ্ববর্তী কোষকলাকে ইরেকশনের প্রবলেমের জন্য দায়ী করা হয়েছে।

কতক ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত কারণে যেমন-যারা উচ্চ রক্তচাপবিরোধী ওষুধ সেবন বা করছেন বিষন্নতাবিরোধী ওষুধ সেবন করছেনতাদের ক্ষেত্রেও সাময়িক যৌন অক্ষমতা ঘটাতে পারে।

হরমোনাল ফ্যাক্টরস বা হরমোনের তারতম্যজনিত কারণে পুরুষত্বহীনতা শিকার অনেকেই হতে পারে।

জিষ্কের স্বল্পতাজনিত কারণে অনেকের পুরুষত্বহীনতা হতে পারে। সাধারণত শতকরা ৫০ ভাগ ক্ষেত্রে পুরুষত্বহীনতার কারণ হিসেবে শারীরিক অসুস্থতাগুলোকেই দায়ী করা হয়ে থাকে। দৈহিক বা শারীরিক অসুস্থতার জন্য যেমন ইরেকশন বা লিঙ্গ উত্থানের সমস্যা হতে পারে। ঠিক তেমনি মনোগত নানা সমস্যায়ও যৌন অক্ষমতা হতেই পারে। এগুলোর মাঝে রয়েছে ডিপ্রেশন বা বিষন্নতা এ্যাংজাইটি বা দুশ্চিন্তা, মনোদৈহিক চাপ বা স্ট্রেস, দীর্ঘমেয়াদি অনুশোচনাবোধ অথবা নারী-পুরুষের আন্তঃসম্পর্কজনিত নানা সমস্যা। এসকল নানা সমস্যায় যৌন সঙ্গম বা যৌনমিলনের সময় পুরুষ একটু অন্যমনস্ক হয়ে থাকে ফলে স্বাভাবিক যৌনতার জন্য যে শিহরণ লাভ করা উচিত তার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কমে যায়। ফলে ইরেকশন বা লিঙ্গ উত্থান ঘটে না।

সাইকোলজিক্যাল নানা সমস্যার জন্য শতকরা ৪০ ভাগেরও বেশি ক্ষেত্রে ইরেকশন বা লিঙ্গ উত্থানে সমস্যা হয়:
যেসব পুরুষের বয়স ৫০ বছরের নিচে তাদের ইরেকশন বা লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যার মূল কারণ সাইকোলজিক্যাল বা মানসিক সমস্যা।
নারী – পুরুষের মাঝে আন্তঃসম্পর্কজনিত নানা দ্বন্দ্ব ,দাম্পত্য কলহ দুজনের সাঝে অন্তরঙ্গ সম্পর্কের অনুপস্থিতি,একজন আরেকজনের নিকট নানা ব্যক্তিগত বিষয় গোপন করা ইত্যাদি নানা কারণে যৌন পার্টনারদের মাঝেও নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার এটাও ঠিক যে, কোনো পুরুষ যদি নির্দিষ্ট কোনো নারীর প্রতি যৌন আগ্রহ বা যৌন ইচ্ছা হারিয়ে ফেলে তার ক্ষেত্রেও ইরেকশনের সমস্যা হতে পারে। যে পুরুষের হঠাৎ করে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে তারও লিঙ্গ উত্থানে সমস্যা হতে পারে।

কতক পুরুষের আবার স্ত্রীর প্রথম সন্তান জন্মের পর সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্সে কতক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যার নানা উপসর্গ
পুরুষের পুরুষঙ্গ যখন উত্থিত না হয় তখন লিঙ্গ সম্পর্কীয় কতক উপসর্গ দেখা দিয়ে থাকে। এগুলো হলোঃ

* পুরুষ ইচ্ছা করলে পার্টনারের উপস্থিতিতে বা অনুপস্থিতিতে লিঙ্গ উত্থান ঘটাতে পারে না। এর মানে হলো পুরুষ যদি পার্টনারের অনুপস্থিতিতে হস্তমৈথুন করতে চায় তথাপিও তাদের লিঙ্গ উত্থিত হয় না।
* একবার ইরেকশন বা লিঙ্গ উত্থান হলেও উত্থানজনিত অবস্থা একেবারে ধরে রাখতে না পারা। এর ফলে লিঙ্গ একবার শক্ত হলেও একটু পরে আবার আগের মত স্বাভাবিক নরম অবস্থায় চলে যায়
* যৌন সঙ্গম বা ইন্টারকোর্সের সময় সঙ্গমকে পরিপূর্ণতা দান করতে বা সঙ্গমে সন্তুষ্টি লাভ করতে যে পরিমাণ ইরেকশনের প্রয়োজন তা না হওয়া।
* যৌন আগ্রহ বা যৌন ইচ্ছা ইত্যাদিতেও ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
* পুরুষের চরমপুলকজনিত ব্যর্থতা এবং বীর্যস্খলনজনিত নানা সমস্যাও একই সঙ্গে বিরাজ করতে পারে।

কখন এ সমস্যা বেশি হয়
বেশিরভাগ পুরুষের প্রফেশনাল বা হঠাৎ করে দু-একবার লিঙ্গ উত্থানের সমস্যা হতে পারে। কিন্তু এই লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যা যখন দীর্ঘমেয়াদি রূপ লাভ করে এবং অব্যাহত থাকে তখনই তা ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের ওপরে এবং ব্যক্তির যৌন জীবনে নানা ধরনের শষ্কা ও নেতিবাচক অনুভূতির জন্ম দেয়। এখানে একটি কথা বিশেষভাবে বলা দরকার একবার যাদের লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যা হয়ে পড়ে তারা বারবার মনে করতে থাকে পরের বার যৌনমিলনে সমস্যাটি বুঝি আবার হবে এই অতিরিক্ত আগাম যৌন দুশ্চিন্তার কারণে যৌনমিলনের সময় লিঙ্গ উত্থান নাও ঘটতে পারে একে আমরা বলি পারফরমেন্স এ্যাংজাইটি। এই এ্যাংজাইটিজনিত কারণে সমস্যা অনেক বেড়ে যেতে পারে। আবার অনেক পুরুষ রয়েছে যাদের যৌন সঙ্গমকালীন সময়ে লিঙ্গ ঠিকই উত্থিত হল কিন্তু বর্ধিত যৌন চাপের কারণে সাথে সাথেই বীর্যস্খলিত হয়ে গেল। এরও মূল কারণ এ্যাংজাইটি, এটাকে বলে প্রি-ম্যাচিউর ইজাকুলেশন। আবার কতক পুরুষ রয়েছে যাদের সন্তোষজনক যৌন সঙ্গমের জন্য অনেকক্ষণ লিঙ্গকে যোনির ভেতরে ক্রমাগতভাবে ঢুকাতে এবং বের করতে হয়। অনেকের ক্ষেত্রে এটি পুরুষাঙ্গে ব্যথার উদ্রেক করতে পারে। যেহেতু এ ধরনের পুরুষদের ইজাকুলেশন বা বীর্যস্খলনে অনেক সময় প্রয়োজন হয় তাই তারা এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। কেননা বীর্যস্খলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এরা চরমপুলক লাভ করতে পারে না।

এত কিছুর পরেও সৌভাগ্যের কথা এই যে, পুরুষত্বহীনতা বা যৌন অক্ষমতার জন্য শারীরিক ও মানসিক যে কারণেই দায়ী হোক না কেন উপযুক্ত এবং বর্তমানে প্রচলিত আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়।

কোন কোন ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি থাকে
অনেকগুলো মেডিকেল ফ্যাক্টর রয়েছে যেগুলো পুরুষের মাঝে উপস্থিত থাকলে যৌন অক্ষমতা বা পুরুষত্বহীনতার ঝুঁকি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বাড়ে। একটু আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, পুরুষত্বহীনতার জন্য রক্তনালী সম্পর্কীয় নানা অসুখ বা øায়ুবিক বা নার্ভ সম্পর্কীয় অসুখ ইত্যাদি দায়ী থাকতে পারে। যেসকল শারীরিক কারণে পুরুষত্বহীনতার

ঝুঁকি বাড়ে সেগুলোর কয়েকটি নিচে উল্লেখ করা হলঃ
ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগঃ যেসকল পুরুষের ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ রয়েছে তাদের অনেকেই পুরুষত্বহীনতায় ভুগে থাকে। গবেষণা সমীক্ষায় প্রতীয়মান হয়েছে যে ডায়াবেটিস রোগ নির্ণীত হওয়ার ৫ বছরের ভেতরে প্রায় শতকরা ৫০ ভাগ ক্ষেত্রে পুরুষত্বহীনতার অভিজ্ঞতা লাভ করে।
উচ্চ রক্তচাপঃ-যেসকল পুরুষ উচ্চ রক্তচাপে ভোগে তাদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রক্তনালীর ভেতরের লুমেন্ট বা গহ্বরে কোলেস্টেরল জাতীয় পদার্থ জমা হয়ে ভেতরে স্পেস বা জায়গা কমিয়ে দেয়। ফলশ্র“তিতে পর্যাপ্তপরিমাণ রক্ত এর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে না। এ কারণেও ইরেকশন সমস্যা দেখা দিতে পারে:

* রক্তনালী সম্পর্কীয় অসুখ।
* স্ট্রোক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ।
* রক্তে উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল বিশেষত অল্প ঘনত্বমাত্রার কোলেস্টেরল এখানে উল্লেখ্য যে, যেসকল কোলেস্টেরল বেশি ঘনত্বের মাত্রার হয়ে থাকে সেগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ভালো ।
* যৌন অঙ্গগুলোর স্বাভাবিক বিকাশ এবং কার্যকারীতার জন্য যেসকল হরমোনের প্রয়োজন সেগুলোর লেবেল যদি কম থাকে এ মেডিকেল জটিলতাটিকে আমরা বলি হাইপোগনাট ডিজাম। এর ফলে রক্তে টেস্টোস্টেরন হরমোনের লেবেলে আশষ্কাজনকভাবে কমে যায়। ফলশ্র“তিতে ইরেকশনে নানা ধরনের সমস্যার হতে পারে।
* থাইরয়েড গ্রন্থি বা গ্ল্যান্ডের নানা ধরনের সমস্যার জন্য ইরেকশনে সমস্যা হতে পারে।
* মাল্টিপল ক্লোরোসিস নামক স্নায়ুবিক অসুখটিতেও পুরুষত্বহীনতা একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
* পেনিস বা পুরুষাঙ্গের কোনো ধরনের আঘাত বা শ্রোণী চক্রের কোনো ধরনের ইনজুরির জন্য এ সমস্যা হতে পারে।
* পেলভিস বা শ্রোণী চক্রের সার্জারি বা অস্ত্রোপচার।
* রেডিয়েশন ট্রিটমেন্ট বা রঞ্জনরশ্মির সাহায্যের চিকিৎসা
* উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য যেসকল ওষুধ সেবন করা হয় তাদের কতকগুলোতে যৌন অক্ষমতা দেখা দিতে পারে।
* এন্টিডিপ্রেসেন্ট বা বিষন্নতারোধী কতক ওষুধ সেবনেও ইরেকশনের সমস্যা হতে পারে।
* ডাইইউরেটিক বা মূত্রবর্ধক ওষুধ সেবনেও সাময়িকভাবে ইরেকশনের সমস্যা হতে পারে।
* যারা দীর্ঘমেয়াদি এ্যালকোহল এবিউজ বা মদ্যপান করে থাকেন তাদের কতকের যৌন অক্ষমতা দেখা দিতে পারেশ
* ড্রাগ এডিক্স বা মাদকাসক্তের মাঝেও যৌন অক্ষমতার প্রবণতা অপেক্ষাকৃত বেশি।
* যারা অতিমাত্রায় ধূমপান করেন তাদের ক্ষেত্রেও পুরুষত্বহীনতা বিরল ঘটনা নয়।

এতক্ষণ আমরা পুরুষত্বহীনতা যেসব শারীরিক কারণে ঘটে সেগুলোর কথা বললাম এবার আসা যাক সাইকোলজিক্যাল বা মনোগত কি কি সমস্যায় ইরেকশনের ঝুঁকি বাড়ে।

ডিপ্রেশন বা বিষন্নতাঃ

* এ্যাংজাইট বা দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগরোগ।
* আন্তঃসম্পর্কজনিত দ্বন্দ্ব সমস্যা(রিলেশনশিপ প্রবলেম)।
* সাম্প্রতিক জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তী যেমন-বাচ্চার জন্মদান, চাকরি থেকে অবসর গ্রহন, চাকরি পরিবর্তী, কোনো অন্তরঙ্গ পার্টনারকে হারানো, অন্তরঙ্গ পার্টনারের মৃত্যু, বিবাহ বিচ্ছেদ ইত্যাদি কারণেও ইরেকশনের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন-

ইরেকশন বা লিঙ্গ উত্থানে সহায়তা করে এরকম কোনো মেডিকেশন বা ওষুধ সেবনে (ইনজেকশন বা অন্য কোনো ওষুধ) চার ঘন্টার চেয়ে বেশি স্থায়ীভাবে ইরেকশন থাকে তবে জরুরি ভিত্তিতে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

নিন্মোক্ত মেডিকেল জটিলতায় ইরেকশনের সমস্যা হতে পারেঃ

* পা, পশ্চাদদেশে বা পেনিসে অথবা শুক্রাশয়ে কোনো ধরনের ইনজুরি ।
* যৌনঙ্গ এলাকায় চুল বা বগলের নিচে হঠাৎ করে চুলের পরিমানে হ্রসি পেলে এবং স্তরের বৃদ্ধি ঘটলে। ওপরের জটিলতাগুলোতে ফিজিশিয়ানের পরামর্শ নেয়া অত্যন্ত জরুরি।
* যদি এক থেকে দুই সপ্তাহের মাঝে শতকরা ২৫ ভাগ ক্ষেত্রে আপনার ইরেকশন না হয় এবং সাথে নিচের উপসর্গ বা লক্ষণগুলো থাকে তাহলেও ভালো ফিজিশিয়ানের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।
* ইরেকশনের সমস্যাটি যদি পশ্চাদদেশে অবিরত ব্যথাসহকারে হয়ে থাকে।
* লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যা যদি নতুন কোনো ওষুধ সেবনজনিত কারণে অথবা ওষুধের ডোজের পরিবর্তনজনিত কারণে হয়ে থাকে।
* যে কোনো ধরনের সমস্যা যাতে আপনার আত্ম ইমেজ পরিবর্তিত হয়/নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা জন্মে।

পর্যাপ্ত পরিমাণ য্তন নেয়ার পরেও যদি সমস্যার কোনো সাবধান না ঘটেঃ
আপনার যদি ইরেকশন প্রবলেমের সাথে সমন্বিত হয় মূত্রতন্ত্র সম্পর্কীয় কোনো সমস্যা, তলপেটে ব্যথা বা পশ্চাদদেশের নিচের দিকে ব্যথা, জ্বর অথবা আঘাতজনিত কারণে অন্য কোনো উপসর্গ থাকে তাহলেও জরুরি ভিত্তিতে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।

হঠাৎ করে দুই এবার ইরেকশন বা লিঙ্গ উত্থান না ঘটা সাময়িক হতে পারে। এটি আশা করা যায় ধীরে ধীরে অবস্থায় ফিরে যাবে। তাই এক্ষেত্রে আগেই ধারণা করা উচিত নয় যে, উত্থানজনিত সমস্যাটি আবারও ঘটবে যদি সম্ভব হয় তবে উত্থানজনিত যে সমস্যাটি ঘটেছিল সেটির কথা ভুলে যান এবং পরবর্তীতে আপনি আরো সুখকর যৌনানুভূতি লাভ করবেন মনে মনে এমন ধারণাটি পোষণ করুন। যৌন পার্টনারের সঙ্গে আপনার সমস্যা নিয়ে, যৌন আচরণে আপনার কোনো ভয়-ভীতি বা দুশ্চিন্তা থাকলে একেবারে খোলামেলা আলাপ-আলোচনা করুন। এতে অনেক বিষয়ে ডাক্তারের সাহায়তা ব্যতীত একটি ভালো পারস্পারিক সমঝোতায় পোঁছানো যায়।

যদি দুই সপ্তাহের ভেতরে আপনাদের সমস্যাটির সমাধান না হয় এবং প্রতি চারবারে একবার করে ইরেকশনের সমস্যা হয় তবে এ বিষয়ে কোনো প্রফেশনাল বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিত। একটি গবেষণা সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, অনেক পুরুষ তাদের পুরুষত্বহীনতা বা যৌন অক্ষমতার বিষয়টি সেক্স পার্টনারের নিকট কৌশলে এড়িয়ে যেতে চান এবং অনেকদিন ভোগার পর গোপনে গোপনে ডাক্তারের পরামর্শ নেন। এ বিষয়ে সঠিক পরামর্শ হল আপনার যদি ইতিমধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ইরেকশন বা উত্থানজনিত সমস্যা থাকে তাহলে সবরকম লাজ লজ্জা ঝেড়ে আপনার সেক্স পার্টনারকে খুলে বলুন এবং প্রথমে একজন ই্উরোলজিস্ট ও তাতে কোনো শারীরিক কারণ খুঁজে না পাওয়া গেলে সাইকিয়াট্রিস্ট বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অতি সত্ত্বর নিন।

এ বিষয়ে কতক হেলথ প্রফেশনাল রয়েছে। যেমন- সাধারণ ফিজিশিয়ান, মেন্টাল হেলথ প্রফেশনাল। কতকক্ষেত্রে দেখ যায় যৌনতা বিষয়ক এবং ইরেকশন সম্পর্কিত নানা আলোচনায় তারা এসব প্রফেশনালদের সামনে এক ধরনের অস্বস্তি এবং অস্বাচ্ছন্দ্যবোধে ভুগে থাকে।ফলশ্র“তিতে তারা তাদের মূল যৌন সমস্যার কথা ডাক্তারের কাছে মুখ খুলে বলতে পারেন না। অবশ্য এটা ঠিক যে, ডাক্তার এবং রোগী উভয়ের কিছু ক্রটি বিচ্যুতি থাকতে পারে। অনেক সাধারণ ফিজিশিয়ানসহ মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ রয়েছেন যারা নিজেরাও যৌনতা নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যভাবে খোলামেলা আলাপ-আলোচনা করতে পারেন না।

আপনার ইরেকশন প্রবলেম বা লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যা যদি সাইকোলজিক্যাল বা মানসিক সমস্যার কারণে হয়ে থাকে তবে আপনার নিম্নোক্ত হেলথ প্রফেশনালের পরামর্শ নেয়া উচিত।

* সাইকিয়াট্রিস্ট বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ
* সাইকোলজিস্ট বা মনোবিজ্ঞানী
* সেক্স কাউন্সিলর
* কাপল বা মেরিটাল থেরাপিস্ট(দাম্পত্য সম্পর্কীয় বিশেষজ্ঞ)।

ইরেকশন ডিসফাংশনে কি কি পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন-
ইরেকশন বা লিঙ্গ উত্থানঘটিত সমস্যা দূরীকরণে প্রথমত যা দরকার তা হচ্ছে উত্থানে ব্যর্থতার সঠিক কারণ খুঁজে বের করা। একটু আগেই উল্লেখ করেছি সাইকোলজিক্যাল বা মনোগত কারণ এবং ফিজিক্যাল বা শারীরিক কারণ যে কোনটিতেই ইরেকশন সম্পর্কীয় সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেহেতু মনোদৈহিক নানা কারন এর সঙ্গে জড়িত তাই এর সঠিক রোগ নির্ণয় একটু জটিল।

সঠিক মূল্যায়নের জন্য একজন অভিজ্ঞ হেলথ প্রফেশনাল সাধারণভাবে নিম্নোক্তভাবে এগিয়ে থাকেন-

* আপনার লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যা থাকলে তার সাথে সমন্বিত হয়ে কি কি ঝুঁকিজনিত ফ্যাক্টর রয়েছে তা খুঁজে বের করা।
* আপনার সম্পূর্ণ সেক্সুয়াল বা যৌনতার ইতিহাস নেয়া।
* সম্পূর্ণ শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা (বিশেষত পেট, পেনিস বা পুরুষাঙ্গ,প্রস্টেট বা পুরুষগ্রন্থি, রেক্টাম/মলাশয় এবং শুক্রাশয় ইত্যাদি।
* রক্তের টেস্টোস্টেরন, প্রোলাক্টিন এবং থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা পরীক্ষা করা।
* ডায়াবেটিস রয়েছে কিনা রক্তের গ্লুকাজের মাত্রা ও প্রস্রাব পরীক্ষা করা।
* নিদ্রাকালী লিঙ্গ উত্থান ঘটে কিনা এবং লিঙ্গ পর্যপ্ত পরিমাণে দৃঢ় থাকে কিনা তা পরীক্ষা করা। এটিকে পূর্বে স্ট্যাম্প টেস্ট বলা হতো।
* বড় কোনো ধরনের সাইকোলজিক্যাল বা মনোগত কারণ রয়েছে কিনা তা জানার জন্য সম্পূর্ণ মানসিক বা সাইকোলজিক্যাল মূল্যায়ন পরীক্ষা করে দেখা দরকার।

এসকল নানা পরীক্ষ-নিরীক্ষার মাধ্যমে ডায়াগনোসিস করা সম্ভবপর হবে আপনার পুরুষত্বহীনতার বা যৌন অক্ষমতার পেছনে মূলত কোন কারণেটি দায়ী। এর ওপর ভিত্তি করে আপনার ডাক্তার মেডিকেশন বা ওষুধ বা অপারেশন (শল্য চিহিৎসা) কোনটি নিতে হবে তা নির্ধারণ করবেন।

কতক পুরুষের আবার পেনিসে রক্তসংবহনকারী ধমনি এবং শিরা পরীক্ষা করতে হয়। এসব পরীক্ষা এক ধরনের ইন্ট্রাকেভার্নাস বা ইন্ট্রাইউরেথ্রাল ইনজেকশন দেয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

স্নায়ুতন্ত্র সম্পর্কীয় কোনো ধরনের জটিলতা রয়েছে কিনা তাও ভালোভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। আলট্রাসনোগ্রাফি এবং রক্তনালীর একটি পরীক্ষা যাকে এনজিওগ্রাফি বলে তার মাধ্যমে মোটামুটি একটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে। পেনিসে সংবহনকারী রক্তনালীগুলোকে যদি মেরামত করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে তাহলে সার্জারির মাধ্যমে তা করা সম্ভবপর।

তবে এটা ঠিক যে, পুরুষত্বহীনতার সঠিক কারণটি খুঁজে বের করা একটি জটিল প্রক্রিয়া। এটি করার জন্য আজ পর্যন্ত সরাসরি কোনো স্ক্রিনিং টেস্ট বা পরীক্ষা আবিস্কৃত হয়নি।

ইরেকটাইল ডিসফাংশনে ট্রিটমেন্টঃ
লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যা বা ইরেকশন প্রবলেমের জন্য নানা ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা রয়েছে তবে এটি নির্ভর করে পুরুষত্বহীনতা কি কারণে হল তার ওপর। যদি মনোগত কারণে লিঙ্গঘটিত সমস্যা হয় তবে মনোরোগ বিশেষজ্ঞই এর সঠিক চিকিৎসা করতে পারে। শারীরিক বা ফিজিওলজিক্যাল কারণে যদি ইরেকশন সম্পর্কীয় সমস্যা হয় তাহলে তার মূল চিকিৎসা করেন ইউরোলজিস্ট বা মূত্র ও জননতন্ত্র বিশেষজ্ঞ। কতক রোগীদের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, ইরেকশনের সাথে জড়িত রয়েছে মনোদৈহিক উভয় রকমের মেডিকেল জটিলতা। সেক্ষেত্রে সার্বিকভাবে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং ইউরোলজিস্টের তত্ত্বাবধানে একত্রে চিকিৎসা নেয়া বাঞ্ছনীয়।

শুরুতে আমার উল্লেখ করেছিলেন ডাক্তাররা ইম্পোটেন্স বা পুরুষত্বহীনতার পরিবর্তে ইরেকটাইল ডিসফাংশন টার্মটিকে বেশি উল্লেখযোগ্য মনে করেন। একজন পুরুষের যৌনক্রিয়া কেবলমাত্র পেনিসে ইরেকশন নয় এর সঙ্গে মনোদৈহিক নানা জটিলা যৌন আচরণ জড়িত। পুরুষত্বহীনতার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অনেকগুলো নেতিবাচক ধ্যান ধারণা।

চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় অনেক দিক বিবেচনা করে দেখা হয় রোগীর বয়স কত, রোগের তীব্রতা কেমন, যৌনতা সম্পর্কে রোগীর দৃষ্টিভঙ্গি কেমন, যৌন পার্টনারের সাথে তার সম্পর্ক, তারা কি কি যৌন আচরণ করে থাকে, যৌন সঙ্গমের পূর্বে তারা সঙ্গম বহির্ভূত যৌন আচরণ করে কিনা ইত্যাদি সবকিছু মূল্যায়ন করে উপযুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা প্রয়োগ করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডাক্তাররা চেষ্টা করেন ননসার্জিক্যাল বা অপারেশন না করে ওষুধ দিয়ে বা মানসিক কারণ দায়ী থাকলে সেক্স থেরাপি দিয়ে চিকিৎসা করতে। অগত্যা যদি সার্জারি অত্যাবশ্যকীয় হয়ে দাঁড়ায় সেক্ষেত্রে ইউরোলজিস্টরা শল্য চিকিৎসা করে থাকেন।

নানা ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার মধ্যে রয়েছে-

ইরেকশন বা লিঙ্গ উত্থানের জন্য কেভারজ্যাক্ট নামক ইনজেকশন অথবা মিউস নামক এক ধরনের পদার্থ যা পেনিসে ঢোকাতে হয় এগুলোর মাধ্যমে খুব সহজেই লিঙ্গ উত্থান ঘটে থাকে।

আপনি যদি কোনো ওষুধ সেবন করে থাকেন এবং ওষুধ সেবনজনিত কারণে ইরেকশনের সমস্যা দেখা দেয় তবে ডাক্তার আপনার জন্য ওষুধটি বদলিয়ে অন্য কোনো ওষুধ প্রেসক্রাইব করতে পারেন।

* নানা ধরনের ভ্যাকুয়াম বা খালিকরণ সংকোচনক্ষম ডিভাইস দিয়ে চিকিৎসা।
* পেনাইল ইমপ্ল্যান্টস(সার্জারির মাধ্যমে একপ্রকার চিকিৎসা)।

মনোগত কারণে যদি আপনার পুরুষত্বহীনতা ঘটে থাকে তবে অবশ্যই আপনার প্রয়োজন পর্যাপ্ত পরিমাণ সেক্সুয়াল কাউন্সিলিং। অবশ্য ফিজিক্যাল ডিসঅর্ডারের জন্য যৌন অক্ষমতায় ভুগছে এমন অনেক পুরুষের জন্যও সাইকোথেরাপি বা আচরণগত চিকিৎসার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রায় সময়ই দেখা যায় শারীরিক কারণের পাশাপাশি সাইকোলজিক্যাল পুরুষত্বহীনতার সাথে জড়িত থাকতে পারে।

তবে এটা ঠিক যে, ইরেকশন প্রবলেম বা লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যার সঠিকভাবে সংজ্ঞায়িত করা এবং পরিমাপ করা যেহেতু জটিল তাই কোন চিকিৎসা পদ্ধতি কতটুকু কার্যকারী তার সঠিক পরিসংখ্যান এখনো পর্যন্ত নির্ধারিত হয়নি। তবে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে গড়পড়তা হিসেবে দেখা গেছে ইনজেকশন দিয়ে চিকিৎসা শতকরা ৮০ ভাগ ক্ষেত্রে কার্যকর হতে পারে। তবে সাইকোলজিক্যাল চিকিৎসা যেহেতু দীর্ঘমেয়াদি তাই উচিত রোগীর পর্যাপ্ত ধৈর্য্যসহকারে মনোরগ বিশেষজ্ঞের সার্বিক তত্ত্বাবধানে থেকে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া।

অনেক পুরুষেরই আবার যৌনতার এই ব্যাপারটি নিয়ে একটু ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে । তারা একবার লিঙ্গ উত্থান ঘটার পরেও সাবলীলভাবে যৌন সম্পর্ক চালিয়ে যেতে পারে না। পঠকদের জানার জন্য ভলা হয় যে, একবার যৌনসঙ্গম করার পর পুরুষের পেনিস কিছু সময়ের জন্য আপাত ঘুমন্ত অবস্থায় বিরাজ করে। এসময়ে লিঙ্গ উত্থত হয় না তাই এটিকে কেউ যদি যৌন অক্ষমতা মনে করেন তাহলে তিনি মারাক্তক ভুল করছেন। এই সময়টিতে সেক্স পার্টনারকে নিয়ে আউটার কোর্স বা সঙ্গম বহির্ভূত যৌন আচরণে যেমন- চুমু দেয়া, একজন অন্যজনকে অন্তরঙ্গভাবে জড়িয়ে ধরা,স্তনে এবং শরীরের নানা অংশে মেসেজ করা,মৃদু চাপ্পড় ইত্যাদি করতে পারেন। দেখা যাবে একটু সময় পেরিয়ে যাবার পর পেনিস ধীরে ধীরে আবার উত্থিত হবে। তাই পুরুষদের এ ব্যাপারটি নিয়ে মাথা না ঘামানোই উচিত। সেক্স থেরাপি বা সেক্সুয়াল কাউন্সিলিং এক্ষেত্রে যদিও পুরুষকে ঘিরে তথাপি সেক্স পার্টনারের সহযোগিতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণও একটি উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। সেক্স পার্টনারের সঙ্গে কলহ, মনের মিল না থাকা,একজন অন্যজনকে তীব্রভাবে সন্দেহ করা, ঘৃণা,বিদ্বেষ,ক্ষোভ ইত্যাদি থাকলে অবশ্যই মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিত।

লিঙ্গ উত্থাজনিত সমস্যার প্রতিকার

লিঙ্গ উত্থানজনিত নানা সমস্যার প্রতিকারের ক্ষেত্রে প্রথমত বা করা দরকার তা হল অন্তরঙ্গ সম্পর্ক স্থাপন বা যৌনমিলনের পূর্বে রিলাক্সড বা শিথিল থাকা। যৌন দুশ্চিন্তা এড়িয়ে চলা। বিবাহের প্রারম্ভিক পর্যায়ে স্ত্রীর সঙ্গে নানা ধরনের যৌন আচরণে পুরুষের মনে অনেত ধরনের ভয়-ভীতি বিরাজ করতে পারে। তাদের উচিত সম্পর্কে স্বাচ্ছন্দ্য,সাবনীল এবং স্বাস্থ্যকর দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা। যৌনতা সম্পর্কে নেতিবাচক অনুভূতিগুলো এবং মনোভাবগুলো যৌন সম্পর্ক স্থাপনের পূর্বে ধীরে ধীরে মন থেকে সরিয়ে ফেলা দরকার। সেক্সূয়াল অন্তরঙ্গতা বা যৌনমিলনের পূর্বে স্ত্রীর সঙ্গে যৌন উত্তেজনাকর নানা ধরনের খোলামেলা আলাপচারিতা, সোহাগী ভঙ্গিতে স্ত্রীকে আদর করা এবং একে অপরের সঙ্গে সবকিছু শেয়ার করা ইত্যাদি লিঙ্গ বা পেনিসের উত্থানকে দৃঢ় করবে।

যে কথাটি মনে রাখা প্রয়োজন তা হলো -যৌন আচরণ মানে কেবলমাত্র যৌন সঙ্গম নয়। এটি যৌন আচরণের একটি অংশ। আপনি এবং আপনার সেক্স পার্টনার যদি যৌনমিলনের পূর্বে প্রেম নিবেদনের সময় একে অপরের সঙ্গে খোলামেলা যৌন আলাপে এবং হাল্কামাত্রার হাসি-ঠট্রামূলক খেলাচ্ছলে যৌনক্রীড়া করেন তবে এটি আপানাদের স্ট্রেসবা মনোদৈহিক চাপ এবং যৌন দুশ্চিন্তা কমাতে অনেক সহায়তা করবে। এতে করে আপনি এবং আপনার পার্টনার যৌনমিরনের আগের চেয়ে অনেক বেশি সুখবর অনুভূতি সঞ্চার করতে পারে।

বয়োঃবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ইরেকশনে একটু সমস্যা হওয়া বা একবার ইরেকশন হওয়ারপর তা ধরে রাখা একটু কষ্টকর হতে পারে। তথাপি যৌনমিলনের পূর্বে ফোরপ্লে বা যৌনক্রীড়া বা যৌনক্রীড়া এবং যৌনমিলনের উপযুক্ত মানসিক পরিবেশ আপনার লিঙ্গ উত্থানকে অব্যাহত রাখবে।

লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যার মেডিকেশন বা ওষুধ-

যেসকল মেডিকেশন বা ওষুধের মাধ্যমে লিঙ্গ উত্থান ঘটতে পারে সেগুলো মূলত পুরুষত্বহীনতার মূল ডায়াগনোসিস বা কারণে ওপর নির্ভর করে। রক্তসংবহনতন্ত্র বা ভাসকুলার,হরমোনাল স্নায়ুতন্ত্র সম্পর্কীয় বা সাইকোলজিক্যাল (মনোগত কারণ) যে কারণে লিঙ্গ উত্থানে সমস্যা হয় এদের প্রত্যেকটিরই খুব ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা রয়েছে। আমরা দীর্ঘ চিকিৎসা জীবনে দেখেছি ওষুধ চিকিৎসা পাশাপাশি বেশিরভাগ রোগীকে সেক্সুয়াল কাউন্সিলিং(সাইকোথেরাপি) এবং সেক্স থেরাপি বেশ ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখে। অবশ্য এসব ক্ষেত্রে দৈহিক কারণের পাশাপাশি মানসিক কারণও দায়ী থাকতে পারে।

লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যাটি যদি ওষুধ সেবনজনিত কারণে হয়ে থাকে তবে আপনার ডাক্তার ওষুধের ডোজ পরিবর্তনের কথা ভাবতে পারেন অথবা ওষুধ বদলিয়ে অন্য কোনো গ্র“পের মেডিকেশন প্রেসক্রাইব করতে পারেন। ওষুধ সেবনজনিত কারণে যদি সাময়িকভাবে আপনার লিঙ্গ উত্থানে সমস্যা ঘটে তবে হুট করে ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতীত ওষুধ সেবন বন্ধ করে দেবেন না। প্রকৃত অর্থেই ওষুধ সেবনের জন্য এই সমস্যা হচ্ছে কিনা তা অভিজ্ঞ ডাক্তারই বলতে পারবেন।

ওষুধ দিয়ে চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য হলঃ

* মেডিকেশন বা ওষুধজনিত কারণে ইরেকশন বা লিঙ্গ উত্থানের তারতম্য ঘটলে ওষুধ নতুন করে এডজাস্ট করতে হবে বা নতুন কোনো ওষুধ দিয়ে তাতে পরিবর্তন আনতে হবে।
* ইরেকশন বা লিঙ্গ উত্থান ঘটাতে সহায়তা করে এমন ওষুধ দিয়ে পেনিস বা লিঙ্গে রক্ত প্রবাহ বাড়াতে হবে।
* যৌনমিলনের পূর্বে লিঙ্গের উত্থান নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বিশেষত পারফরমেন্স এ্যাংজাইটি কমাতে হবে। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে সেই বিশেষকালীন কি দুশ্চিন্তায় লিঙ্গ উত্থান নাও হতে পারে।
* আপনার রক্তে হরমোনের লেবেল বিশেষত টেস্টেস্টেরন থাইরয়েড হরমোন ইত্যাদি পরীক্ষা করে দেখা দরকার। পরীক্ষা করে যদি অস্বাভাবিক হরমোন লেবেল পরিলক্ষিত হয় তাহলে হরমোনাল
* থেরাপির প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। অবশ্য হরমোনের তারতম্যজনিত কারণে লিঙ্গ উত্থানের সমস্যা খুব বেশি একটা পাওয়া যায় না।

ডাক্তার আপনাকে যেসকল মেডিকেশন প্রেসক্রাইব করতে পারেন সেগুলো হলোঃ



* লিঙ্গ উত্থানে সহায়তাকরী মেডিকেশন যেমন-কেভারজ্যাক্ট, মিউস ইত্যাদি।
* হরমোনাল থেরাপি বা বাইরে থেকে হরমোন দিয়ে চিকিৎসা।
* ভায়াগ্রা বা সিলডেনাফিল হাইড্রোক্লোরাইড।
* ইয়ামবিন দিয়ে চিকিৎসা।
* অবশ্য ডাক্তার খালিকরণ ডিভাইস বা যন্ত্র এবং ইনজেকশন থেরাপি কোনটি দিয়ে চিকিৎসা চালাবেন তা তিনি নিজেই নির্ধারণ করবেন।

ইরেকশনের চিকিৎসা (সার্জারি)

ইরেকশন বা লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যায় যখন মেডিকেশন বা ওষুধ সাইকোথেরাপি বা আচরণগত চিকিৎসা ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয় এবং রোগীর দৈহিক কোনো কারণ নির্ধারণ করা সম্ভবপর হয় তখন ডাক্তার আপনাকে সার্জারির পরামর্শ দিতে পারেন।এই সম্পর্কিত সার্জারি বা শল্যচিকিৎসাগুলো করে থাকেন ইউরোলজিস্টে বা মূত্র এবং জননতন্ত্র বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি পরিচালিত আমেরিকান ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে,পিনাইল ইমপ্ল্যান্টস(প্রতিস্থাপন) শতকরা ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। কতক পুরুষের ক্ষেত্রে আবার পেনিস বা লিঙ্গে রক্ত সংবহনকারী নালীতে এক ধরনের চিকিৎসা করা হয় এটিকে আমরা রিপেআর থেরাপি বলে থাকি। যদি রক্ত সংবহননালীর কোনো অসুখের জন্য এমনটি হয়ে থাকে তাহলে সেটিকে শল্য চিকিৎসার মাধ্যমে সারানো যেতে পারে। অনেক যুবকদের ক্ষেত্রে দেখা যায় কোনো ধরনের ইনজুরি বা আঘাতের কারণে রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হলে যেমন-বাস বা মোটরসাইকেল এক্সিডেন্ট তখন এ ধরনের সার্জারি খুব কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই ধরনের রিপেআর শল্য চিকিৎসা অভিজ্ঞ ইউরোলজিস্টের হাতে করানোই সমীচীন। অন্যথায় হিতে অহিত হওয়ার যথেষ্ঠ সম্ভবনা রয়েছে।

তাহলে দেখা যাচ্ছে সার্জারির মাধ্যমে মূলত ইরেকশনের যে চিকিৎসা প্রয়োগ করা হয় সেগুলো হলোঃ
পেনাইল ইমপ্ল্যান্টস (প্রতিস্থাপন)।
পুরুষাঙ্গে রক্ত সংবহন নালীতে সার্জারি (রিপেআর থেরাপি)।
সবরকমের মেডিকেশন বা ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা ও সাইকোথেরাপি বা আচরণগত চিকিৎসা প্রয়োগ করার পর সার্জারির বিভিন্ন ধরনের বিপজ্জনক ঝুঁকি চিন্তা করে তবেই ডাক্তার আপনাকে শল্য চিকিৎসার পরামর্শ দেবেন। রক্ত সংবহন নালীর রিপেআর থেরাপির নামে যে সার্জারির কথা বলা হল সেগুলো কেবলমাত্র রিভাসকুলারাইজেশন স্পেশালিস্টারাই করে থাকেন।

ইরেকটাইল ডিসফাংশনের অন্যান্য চিকিৎসাঃ
ইতিমধ্যে লিঙ্গের উত্থানজনিত সমস্যায় অনেক চিকিৎসা পদ্ধতি উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো মূলত পূর্বের চিকিৎসার পদ্ধতিগুলোরই সামান্য রূপান্তর বা মোডিফিকেশন। এগুলোর মাঝে রয়েছে বিশেষ ধরনের খালিকরণের বা ভ্যাকুয়াম ডিভাইস এবং বিশেষ সাইকোথেরাপি(সেক্স থেরাপি)।

ভ্যাকুয়াম ডিভাইস বা খালিকরন যন্ত্রের মাধ্যমে সব প্রকারের লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যার চিকিৎসা করা সম্ভব (ফিজিক্যাল বা শারীরিক, মনোগত সমস্যা এবং মিশ্র সমস্যা)।

যেসকল পুরুষের ইরেকশন বা লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যা ,মূলত মনোগত কারণে হচ্ছে তাদের ক্ষেত্রে সাইকোথেরাপি বা আচরণগত চিকিৎসা অত্যন্ত কার্যকরী। এই চিকিৎসা থেরাপি অন্যান্য মেডিকেশন দিয়ে চিকিৎসা বা খালিকরণ ডিভাইসের পাশাপাশি চলতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন প্রচুর সেক্সুয়াল কাউন্সিলিং। আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত সেক্সুয়াল কাউন্সিলিংয়ের জন্য আলাদাভাবে সেক্স থেরাপিস্ট গড়ে ওঠেনি। এজন্য সেক্স সমস্যার কাউন্সিলিং এখানে করে থাকেন অভিজ্ঞ মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞরা।এক ধরনের শারীরিক ব্যায়াম রয়েছে যাকে বলা হয় পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজ। এ সম্পর্কে আমরা নানা প্রবন্ধে আলোচনা করেছি। এটি অনেকটা কেজেল এক্সারসাইজের মত, অনেক পুরুষের লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যায় এটি ভালে কাজ করে থাকে। সবচেয়ে বড় কথা হল এই ব্যায়ামগুলোর বিপজ্জনক ঝুঁকি নেই। তবে এতে কাজ না হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত। তাহলে অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতিতে মূলত যা দাঁড়ায় তা হলঃ

* ভ্যাকুয়াম ডিভাইস বা খালিকরণ যন্ত্র।
* সাইকোথেরাপি বা সেক্সুয়াল কাউন্সিলিং।
* সেক্স থেরাপি।
* আপনার জন্য কোন চিকিৎসা পদ্ধতি কার্যকরভাবে ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখবে তা আপনার ফিজিশিয়ানই নির্ধারণ করবেন।

ইরেকশন বা উত্থানঘটিত সমস্যা দূরীকরণে প্রথমত যা করা দরকার তা হচ্ছে উত্থানে ব্যর্থতার সঠিক কারণ খুঁজে বের করা। একটু আগেই উল্লেখ করেছি সাইকোলজিক্যাল বা মনোগত কারণ এবং ফিজিক্যাল বা শারীরিক কারণ যে কোনোটিতেই ইরেকশন সম্পর্কী সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেহেতু মনোদৈহিক নানা কারণ এর সঙ্গে জড়িত তাই এর সঠিক রোগ নির্ণয় একটু জটিল।

Sunday, July 31, 2011

লিঙ্গ

পুরুষের প্রধান যৌনাঙ্গ হলো লিঙ্গ লিঙ্গের দৃঢ়তার উপর নির্ভর করে পুরুষের যৌন মিলনে অংশ গ্রহণের ব্যাপারটি এই লিঙ্গের মধ্য দিয়ে বীর্য এবং মূত্র বের হয় লিঙ্গ হলো পুরুষের বহিঃ যৌনাঙ্গের মধ্যে অন্যতম লিঙ্গের সামনে একটি আবরণ ত্বক থাকে খতনার দ্বারা একে কেটে ফেলা ইংরেজীতে এই ত্বককে বলে ফোর স্কিন লিঙ্গে অসংখ্য কোষ কলা রয়েছে এগুলোর প্রভাবে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় পুরুষের লিঙ্গের ভেতর সবচেয়ে পুরু কৌষিক ঝিল্লির নাম হলো করপরা কে ভারনোসা
অন্ডথলি-
অন্ডকোষ হলো দুটো বলের মতো থলি যেখানে শুক্র তৈরী হয় এগুলোর স্বাভাবিক পরিমাপ হলো দেড় ইঞ্চি এগুলো লিঙ্গের নিচে ঝুলে থাকে পুরুষের যৌন হরমোন এবং বীর্য ৎপাদনই হলো অন্ডকোষ দুটোর কাজ
এপিডিডাইমিস-
প্রতিটি অন্ডকোষের উপরের অংশকে এপিডিডাইমিস বলে এপিডিডাইমিস হলো বীর্যের সংরণের স্থান টিউব এবং অন্যান্য নালী বেয়ে বীর্য এপিডিডাইমিস থেকে অন্ডকোষে চলে আসে
ভাস ডিফারেন্স-
প্রোস্টেট গ্ল্যন্ড থেকে দুটো সেমিনাল কোষ সেমিনাল তরলের মিশ্রণ নিয়ে এপিডিডাইমিসে এসে পৌঁছায়। এই চলাচলের নালী হলো ভাস ডিপারেন্স।এটি পুরুষের আভ্যন্তরীণ যৌনাঙ্গ
প্রোষ্টেট গ্ল্যান্ড
মূত্র থলির উপরে প্রোস্টেট গ্ল্যান্ডের অবস্থান এই গ্ল্যান্ডের প্রোস্টেট তরল ৎপাদিত হয় শতকরা ৩৮ ভাগ এবং সেমিনাল তরল ৎপাদিত হয় ৬০-ভগ,বাকি এক ভাগ বীর্যে ৎপাদিত হয়

নারীর অভ্যন্তরীণ যৌনাঙ্গ

নারীকে পুরুষের চাইতে আরো যে বিষটি স্বতস্ফূর্তভাবে পৃথক করেছে ,তা হলো নারীর অভন্তরীণ যৌনাঙ্গ ,তথা যোনি পুরুষের লিঙ্গ বহিঃমুখী অথচ নারীর যৌন লিঙ্গ নেই , তবে যৌনাঙ্গ হিসেবে রয়েছে যোনি এই যোনির মাধ্যমেই নারী পুরুষের সাথে যৌন মিলনে মিশে যায়। যোনি যৌন উত্তেজনার সময় পিচ্ছিল হয়ে উঠে। কেননা যৌন উত্তেজনার সময় নারীর ভেতর তরলের রণ হতে থাকে নারীর যৌন স্বাভাবিক আকারে সেঃমিঃ প্রায় সাড়ে তিন ইঞ্চি। তবে এটি বিভিন্ন সময়ে পরিবর্দিত হয় যেমন যৌনমিলনের সময় , সন্তান জন্মের সময় এমনকি হস্তমৈথুনের বা স্বমেহনের সময়। যোনির সাথে সম্পর্কযুক্ত একই মাত্রার অঙ্গ হলো সারবিঙ যোনিতে প্রায় ত্রিশ রকমের কৌশিক কলা রয়েছে এগুলো গভীর এবং যৌনমিলনের সময় লিঙ্গের চাপ এটি সহ্য করে নিতে পারে যোনি থেকে সাধারণত ল্যাকটিক এসিড রিত হয়। একে যৌনরস বা মিউকাস বলা হয় এটি যৌন উদ্দিপক এক প্রকার তরল নারীর যৌন উত্তেজনার চূড়ান্ত পর্যায়ে এই তরল যোনি বেয়ে বাইরে চলে আসতে পারে। নার অপরাপর আভ্যন্তরীণ যৌনাঙ্গগুলো হলো , জরায়ু , পেলভিস, ওভারি ইত্যাদি। জরায়ুবা ইউটেরাস নারীর যৌন জীবনের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় একই সাথে এটি গুরুত্বপূর্ণ বটে নারীর যৌন জীবনের ততোথিক গুরুত্বপূর্ণ যৌনাঙ্গ হলো ওভারি বা ডিম্বাসয় যৌনমিলনের পরে পুরুষের লিঙ্গ নিঃসৃত বীর্য নারীর ওভারিতে ডিম্বাশয়ে জমা হয় এবং তার পরে এটি ফ্যালোপিয়ান টিউব বেয়ে উপরিস্থিতি অংশ হলো ওভিডাক্ট। এটি ফ্যালোপিয়ান টিউবের সাথে সম্পর্কযুক্ত একটি অঙ্গ মোটা মুটি এই হচ্ছে নারীর অভ্যন্তরীণ যৌনাঙ্গ যার দ্বারা নারীর যৌন জীবন পূর্ণাঙ্গ হয়

যৌনতার নানা সমস্যা

যৌনতার প্রতি নারী এবং পুরুষের আকর্ষণ একেবারে প্রাকৃতিক নারীর যৌনাতা বিষয়ে অনেকেরই ধারণা যে, নারীর যৌন উপলদ্ধি কেবলমাত্র পুরুষের সংস্পর্শে এলেই বিকশিত হয়। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ একটি ভুল ধারণা নারী বয়ঃপ্রাপ্তির পর থেকেই যৌনতার ব্যাপারে আকাঙিত থাকে। পুরুষের যেমন একটা সুবিধা আছে যে,যৌনমিলনের হাতে খড়ি তার খুব সহজেই করতে পারে,কিন্তু নারীর ক্ষেত্রে এই ব্যাপাটি সম্ভব হয় না। অধিকাংশ নারী বিয়ের মাধ্যেমে যৌনজীবনে তথা দাম্পত্য জীবনে প্রবেশকরে এবং যৌনতার স্বাদ গ্রহণ করে। মানুষ মাত্রই যৌন জীবনের একটা প্রয়োজন রয়েছে। তবে এই যৌন জীবনের ফলস্বরূপ কেবল মাত্র প্রজননের তাগিদে যৌনতায় অংশ নেয় না। মানুষ জগতের আর দশটা প্রাণীর চাইতে আলাদা এবং উন্নত।প্রজনন ছাড়াও যৌনতার দ্বারা শারীরিক এবং মানসিক অপার আনন্দ নারীর কাম্য হয়ে উঠে। নারীর যৌন জীবনে একটি অবগুন্টিত ভাব রয়েছ তার কারণ নারী ধীরে ধীরে উদগ্রীব হয়ে উঠে।এক্ষেত্রে নারী পুরুষের মতো অতি দ্রুত উত্তেজনায় পৌঁছে যেতে পারে না। বরং নারীর উত্তেজনা আসে ধীরে ধীরে নারীর শরীরে প্রায় সবটুকু যৌন উদ্দীপক। পুরুষের মতো নারী শুধু যৌনাঙ্গে উত্তেজনা ধরে রাখে না। নারীর ঠোঁট, স্তন, নিতম্ব, তলপেট, স্তনবৃন্ত, উরু ইত্যাদি স্থানে চুমু , মৃদু দংশন এবং সোহাগের দ্বারা নারী উত্তেজিত হয়ে উঠে। একে যৌন ক্রীড়া বলে। যৌনক্রীড়া যৌনমিলনের আনন্দকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। বিয়ের ফলে একজন নারী যৌন জীবনে পদার্পণ করে। বিয়ে হচ্ছে একটি সমাজিক বন্ধন। একজন পুরুষ এবং একজন নারী একত্রে সহাবস্থানকে বিয়ে বলা হয় নারী জীবনে বিয়ের প্রথম রাত একটি গুরুত্বপূর্ন ঘটনা। অনেক নারী এই রাতটিকে ভয় পায়। বিষেশ করে যারা ধর্মীয় কুসংস্কার দ্বারা আচ্ছন্ন তারা বিয়ের প্রথম রাতে নানা প্রকার অপ্রীতিকর কর্মকান্ড ঘটাতে পারে। আমাদের এই উপমহাদেশের বিয়ের সময় নানা প্রকার অনুষ্ঠানের আড়ম্বর থাকলেও বিয়ের পরবর্তী যৌন জীবনে নানা প্রকার শারীরিক এবং মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই জাতীয় সমস্যাগুলো জেনেটিক বা বংশগত হতে পারে। আবার অনেক সময় এর কারণ নিতান্তই শারীরিক হয়ে থাকে। তবে যৌন জীবনে যে কোনো প্রকার সমস্যাই নারী এবং পুরুষ উভয়কেই ভাবিয়ে তুলতে পারে

নারী পুরুষের কামলিলা দুনিয়া

বাৎসায়ন কামসূত্র

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More