This is default featured post 1 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 2 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 3 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 4 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

This is default featured post 5 title

Go to Blogger edit html and find these sentences.Now replace these sentences with your own descriptions.This theme is Bloggerized by Lasantha Bandara - Premiumbloggertemplates.com.

Showing posts with label যৌন শিক্ষা. Show all posts
Showing posts with label যৌন শিক্ষা. Show all posts

Tuesday, May 29, 2012

প্রয়োজনীয় কিছু সেক্স স্টাইল (SEX Style)

প্রয়োজনীয় কিছু সেক্স স্টাইল (SEX Style)

কিছু প্রয়োজনীয় সেক্স স্টাইল (SEX Style)
 
সাধারণত সব শ্রেণীর মানুষের মধ্যে এমন ধারণা বিদ্যমান যে, মোটা সঙ্গীর সাথে যৌন সঙ্গম করা অসম্ভব সুখপ্রদ নয়। আসলে এক্ষেত্রে শরীরের মেদের চেয়ে মানসিক উৎকণ্ঠাই সঙ্গমের আনন্দকে বেশি ব্যাহত করে। প্রত্যাখ্যানের ভয়, যৌনসঙ্গীর যৌন চাহিদা মেটাতে অক্ষম বা যৌন সঙ্গম করতে অক্ষম এমন ধরনের কিছু সাধারণ দুশ্চিন্তাই যৌনসুখকে সবচেয়ে বেশি বাধাগ্রস্ত করে। পাশাপাশি যৌন সঙ্গমের ঠিক কৌশল সম্পর্কে অজ্ঞতা, সঙ্গমের পুর্বে সঠিকভাবে উত্তেজিত করতে না জানা, যৌন উত্তেজক স্থানসমূহ না চেনা ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে সঙ্গমের চূড়ান্ত সুখ লাভ করা সম্ভব হয় না। আসলে মোটা লোকদের সম্পর্কে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি অনেকাংশেই নেতিবাচক। ডায়েটিং করা বা দীর্ঘদিন ধরে আংশিক উপোস করার কারণে মোটা লোকদের যৌন বাসনা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি যেসব মহিলাদের ওজন কমতে শুরু করে, তাদের স্বাভাবিক মাসিকচক্রও অস্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে। মোটা বা মেদবহুল মহিলারা সাধারণত এমন ধারণা পোষন করে থাকে যে, তাদের পক্ষে কোনো পুরুষকে যৌনসুখ দেয়া সম্ভব নয় বা তাদেরকে কেউ পছন্দ করে না। ফলে তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা দেয়। এই ধরনের আত্মবিশ্বাসহীনতা তাদের যৌনজীবনকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত করে।

মোটা পুরুষদের বেলায়ও এ ধরনের সমস্যা দেখা যায়। প্রত্যাখ্যান হবার ভয়, যৌন সঙ্গম করতে অক্ষম, বা সঙ্গিণীকে যৌনতৃপ্তি দানে অক্ষম বা তাদেরকে কেউ পছন্দ করে না এমন ধরনের ধারণা তাদেরকে যৌনসঙ্গম থেকে বিরত রাখে। এ ধরনের মানসিক দুশ্চিন্ত ও সামাজিক দৃষ্টভঙ্গি বা সুযোগের অভাব ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে দীর্ঘদিন ধরে যৌনসঙ্গম থেকে বিরত থাকলে তারা যৌন সঙ্গমে অক্ষম হয়ে যেতে পারে। আসলে এটি বর্তমানে একটি সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এ বিষয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনেক গবেষণাও হয়েছে। গবেষণায় কিছু ফলাফল উল্লেখ করা হলো-

মোটা মানুষের বেলায় শারীরিক যৌন চাহিদা স্বাভাবিক পর্যায়ে থাকে। তবে সঙ্গমের বেলায় অতিরিক্ত মোটা হওয়ার কারণে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিবাহিত জীবনে ও যৌন সঙ্গমই মোটা লোকদের আনন্দলাভের গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

অবিবাহিত মোটা লোকদের বেলায়ও দেখা যায় তাদের স্বাভাবিক যৌন বাসনা রয়েছে। তবে মানসিক দুশ্চিন্তার কারণে অর্থাৎ তাদের সাথে কেউ যৌনসঙ্গম করতে পছন্দ করে না এমন ধারনা তাদের যৌনজীবনকে বাধাগ্রস্ত করে।

মোটা লোকদের যারা যৌনসঙ্গী খুঁজে পায় না তারা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হস্তমৈথুনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।

অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় মোটা লোকেরা যৌন সঙ্গমে অধিক পারদর্শী এবং তাদের যৌনবাসনাও বেশি।

মোটা লোকদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো-তারা সঙ্গমের ক্ষেত্রে কোন আসনে যৌনসঙ্গম করলে তাদের জন্য সুবিধাজনক হবে তা নির্ধারন করতে পারে না। তবে সঠিক আসন বেছে নিয়ে যৌনসঙ্গম করলে তারাও স্বাভাবিক আনন্দ লাভ করতে পারবে।

আসলে মোটা মানুষের ক্ষেত্রে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে পারলে মোটা লোকদের স্বাভাবিক আত্মবিশ্বাস থাকলে তাদের যৌন জীবনের অনেক সমস্যাই কেটে যাবে।

যৌন সঙ্গমের কিছু আসন

অনেকক্ষেত্রে দেখা যায়, মোটা লোকেরা তাদের যৌন সঙ্গমের ক্ষেত্রে সঠিক আসন বেছে নিতে পারে না। মনে রাখা প্রয়োজন, মানুষের শরীর মোটা হলে বা শরীরের বিভিন্ন স্থানে মেদ জমলেও যোনিপথ বন্ধ হয়ে যায় না বা পুরুষাঙ্গ অতিরিক্ত মোটা হয়ে যায় না। আসলে মোটা হলেও প্রকৃতিগতভাবেই সব যৌনসঙ্গমের জন্য উপযুক্ত। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটা জানা দরকার তা হলো- সঙ্গমের উপযুক্ত আসন বা কৌশল। প্রয়োজন মনে করলে আপনি এক্ষেত্রে একজন যৌন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন।

নিুে প্রয়োজনীয় কিছু যৌন আসনের কৌশল উল্লেখ করা হলো-

পুরুষপ্রধান আসন

এই আসনটিকে সাধারণত মিশনারি আন বলা হয়ে থাকে। সাধারণত মহিলাটি তার পুরুষ সঙ্গীর চেয়ে মোটা হলে এ ধরনের আসন বেশি কার্যকর হয়। এক্ষেত্রে মহিলাটি চিৎ হয়ে শুয়ে দুই পা কটির দিকে বাঁকিয়ে রাখবে এবং হাঁটু সম্পূর্ণ বাঁকিয়ে দুই উরু যতটা সম্ভব ফাঁক করে ধরবে। এতে করে তার যোনিমুখ সম্পূর্ণভাবে সঙ্গম উপযোগী হবে। তার ভুড়ি খুব বড় হলে এ সময় সে দুই হাতে যোনিমুখ থেকে তা ওপরের দিকে টেনে ধরতে পারে। অন্ততপক্ষে পুরুষ সঙ্গীটি তার উরুর মধ্যে সঙ্গম উপযোগী আসন নেয়ার আগ পর্যন্ত এমনটি করা যেতে পারে। এতেও যদি সঙ্গম করা কষ্টকর হয় তবে মহিলাটি একটি বা একাধিক বালিশ তার নিতম্ব বা পাছার নিচে রাখতে পারে। এক্ষেত্রে সঙ্গম করা সহজতর হয় কারণ এতে করে যোনিমুখ ওপরে উঠে আসে। নিতম্বের নিচে একাধিক বালিশ স্থাপন করলে শুধু সঙ্গম করাই সহজ হয় না বরং সঙ্গমের ক্ষেত্রে ভিন্নতাও আসে। সঙ্গমকালে পা দুটি বিভিন্ন উচ্চতায় উঠালে সঙ্গমের ভিন্ন রকম স্বাদ পাওয়া যায়। যৌন বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন মাত্র তিন ইঞ্চি পরিমাণ উচু নিচু করলে যৌন সঙ্গমের অনেক পরিবর্তন আসতে পারে। এই আসনটিকে মেইল আপারেইট আসন ও বলা যেতে পারে। প্রয়োজন মনে করলে সঙ্গমের সময় পুরুষটি তার নিতম্বের ওপর বসে নিতে পারে। এক্ষেত্রে দুই হাত দিয়ে শরীরের উত্তেজক অংশগুলোতে শৃঙ্গার করতে পারে।

এই আসনের মাধ্যমে সঙ্গম করার সময় পুরুষটি মোটা হলে কতগুলো সাধারণত নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন। সঙ্গমের পূর্বে সে তার শরীর ওপরে তুলে ধরবে এবং দুই হাতে ভুড়ি ওপিরে টেনে ধরবে, এতে করে মহিলাটি তার সঙ্গীটির পুরুষাঙ্গ সহজে তার যোনিপথে প্রবেশ করাতে পারবে। এক্ষেত্রেও মহিলাটি তার নিতম্বের নিচে বালিশ দিয়ে নিতে পারে। এসময় প্রথমেই মহিলাটির ওপর তার শরীরের সম্পূর্ণ ওজন ছেড়ে দেয়া উচিত নয়। দ্ ুহাতের ওপরে শরীরের ভর রেখে, আস্তে আস্তে চাপ প্রয়োগ করা বাঞ্ছনীয়। তবে মজার ব্যাপার হলো- উত্তেজনার চূড়ান্ত পর্যায়ে একজন চিকন বা শুকনো মহিলাও অনেক মোটা শরীরের চাপ সহজেই সহ্য করতে পারে।

আরেকটি বিষয় এখানে মনে রাখা প্রয়োজন তাহলো, মোটা পুরুষের ক্ষেত্রে কিভাবে সে তার শরীরের ওজন মহিলা সঙ্গীটির ওপর প্রয়োগ করবে, তা আসলে নিজেরাই পারস্পরিক বোঝা পড়ার মাধ্যমে ঠিক করে নিতে পারে। যদিও যৌনসঙ্গমের সময় যোনিপথে পুরুষাঙ্গ চাপ দিতে শরীরের ওজন প্রয়োগ করা জরুরি নয় তবে অনেক সময় দেখা যায় শরীরের ওজন কৌশলে কেন্দ্রীভূত করে শুধু যৌনাঙ্গের ওপর প্রয়োগ করলে অধিক আনন্দ পাওয়া যায়।

মহিলাপ্রধান আসন

যৌনসঙ্গী অতিরিক্ত মোটা হলে বা দুজনেই মোটা হলে এ ধরনের আসন বেশি কার্যকর বলে যৌন বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন। এই আসনে পুরুষটি চিৎ হয়ে শুয়ে পা সোজা করে রাখবে। এসময় হাঁটু দুটো হাল্কা বাকিয়েও রাখা যায়। ভুড়ি মোটা থাকলে তা দুই হাতে ওপরে টেনে ধরা বাঞ্ছনীয়। এসময় মহিলা তার হাটু বাকিয়ে পুরুষটির যৌনাঙ্গের ওপর মুখোমুখি বসে পুরুষাঙ্গ সহজেই যোনিতে প্রবেশ করিয়ে যৌনসঙ্গম করতে পারে। তবে এই ধরনের আসনে মহিলাটি অতিরিক্ত মোটা হলে কিছু সমস্যা হতে পারে বলে কিছু লোক মনে করে থাকেন। যেমন এতে মহিলাটির অতিরিক্ত চাপে পুরুষটি আহত হতে পারে। তবে অধিকাংশ যৌন বিশেষজ্ঞরা এই আসনটিকে একটি আদর্শ আসন বলে থাকেন। গবেষনায় দেখা যায়, অধিকাংশ মোটা মহিলারা এই আসনটিকে বেশি পছন্দ করে। তবে এই আসনে যৌনসঙ্গম করতে কিছুটা চর্চা ও সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

বিপরীতমূখী নারীপ্রধান আসন

পুরুষ ও নারী উভয়েরই অতিরিক্ত ভুড়ি থাকলে এই আসনে যৌনসঙ্গম করা যেতে পারে। এই আসনে পুরুসটি চিৎ হয়ে বা পা দুটো সোজা রাখবে বা হাটু হাল্কা বাকিয়ে রাখতে পারে। এসময় মহিলাটি পুরুষটির মুখের দিকে পিঠ দিয়ে হাটু বাঁকিয়ে পুরুষটির উরুর ওপর বসে সহজেই পুরুষাঙ্গ তার যোনিপথে প্রবেশ করাতে পারে। এই ধরনের আসনে দুজনের তলপেট একসাথে হয় না বলে সহজেই সঙ্গম করা যায়। এসময় পুরুষটি তার মোটা ভুড়ি ওপরে টেনে ধরে মহিলাটিকে সঠিকভাবে বসতে দেয়া প্রয়োজন। তবে এতে সঠিকভাবে সঙ্গম উপযোগী অবস্থান নিতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

পেছনের দিক সঙ্গম করার আসন

পুরুষ ও মহিলা অধিক মোটা হলে বা মহিলাটি গর্ভবতী হলে এই আসনে সঙ্গম করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে মহিলাটি হাটু বাকিয়ে সামনের দিকে ঝুকে পা দুটো হাল্কা ফাক করে ধরবে এবং শরীরের ওপরের অংশ নিচু করবে। ফলে যোনিমুখ ওপরে উঠে আসবে। এ সময় পুরুষটি পা বাকিয়ে হাটুর ওপর ভর দিয়ে ভুড়িটি ওপরে টেনে ধরে মহিলাটির পেছন দিক দিয়ে পুরুষাঙ্গ যোনিপথে প্রবেশ করাতে পারে। পুরুসাঙ্গ যোনিপথে প্রবেশ করাতে পারে। পুরুষাঙ্গ প্রবেশ করিয়ে তলপেট মহিলাটির নিতম্বের ওপর চেপে রেখে সহজেই সঙ্গম করা যায়। তবে পুরুষাঙ্গ আকারে ছোট হলে বা যোনিমুখ ও যৌনাঙ্গের ভেতরের গঠন অস্বাভাবিক হলে পেছন দিক দিয়ে সঙ্গম করতে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। আবার মহিলাটির উরু অত্যাধিক মোটা হলে তার হাটু গেড়ে বসতে সমস্যা হতে পারে।

সিম’র আসন

এই আসনটিও পেছন দিক দিয়ে যৌনসঙ্গম করার মত এক ধরনের আসন। এক্ষেত্রে মহিলাটি একদিকে ফিরে শুয়ে হাটু বাকিয়ে ওপরে পা যতটা সম্ভব মাথার দিকে টেনে তুলবে এবং নিচের পা সোজা থাকবে। এতে করে যোনিমুখ ওপর দিয়ে বা পেছন দিয়ে সঙ্গমের উপযোগী হবে। এ সময় পুরুষটি তার দুটি পা মহিলাটির নিচের পায়ের দু দিকে রেখে হাটু গেড়ে বসে পেছন দিকে দিয়ে যৌনসঙ্গম করতে পারে। প্রয়োজন হলে পুরুষটি তার হাটুর নিচে বালিশ দিয়ে নিতে পারে। মহিলাটি পুরুষটির চেয়ে অধিক মোটা হলে এ ধরনের আসনে যৌনসঙ্গম করা যেতে পারে। এ আসনটি একটু জটিল তবে চেষ্টা করলে বা চর্চা করলে এই আসনে সঙ্গম করা যেতে পারে।

উল্টা আসন (অপসাইড ডাউন পজিশন)

এতে পুরুষ ও মহিলা এমনভাবে বিছানায় কাৎ হয়ে শোবে যাতে একজনের পা অন্যজনের মাথার দিকে থাকে। এভাবে আস্তে আস্তে যৌনাঙ্গ সঠিকস্থানে এনে এই আসনে যৌনসঙ্গম করা যেতে পারে। এতে দুজনের পেটে কোনো সংযোগ ঘটে না।

টি-বর্গ আসন

এই আসনে মহিলাটি তার পা দুটি যতটা সম্ভব ফাঁক করে পিঠের ওপর যথারীতি শোবে। পুরুষটি তার কটির ওপর কাৎ হয়ে শুয়ে মহিলাটির পা দুটি ওপরে তুলে ধরে সহজেই সঙ্গম করতে পারে। এতে তলপেটের সংযোগ ঘটে না।

এক্স-আসন

এটি অনেকটা টি-বর্গীয় আসনের মতই। এক্ষেত্রে মহিলাটি চিৎ হয়ে শুয়ে পা দুটি বাকিয়ে উরুদ্বয় যতটা সম্ভব ফাক করে ধরবে। এই সময় যোনিপথে পুরুষাঙ্গ প্রবেশ করাবার পর মহিলাটি তার পা দুটি একসাথে করবে এবং পুরুষটির শরীরে তখন ৪৫ ডিগ্রি কোণ সৃষ্টি করবে। এতে করে দুইজনের অবস্থান ইংরেজি বর্ণমালা এক্স-এর আকারের হবে। তবে এটি করার সময় মহিলাটির যোনির পেশি এমনভাবে চেপে রাখা প্রয়োজন যাতে পুরুষাঙ্গ বের হয়ে যায়। এই আসনে পরস্পরের ভুড়ি সঙ্গমের বেলায় বাধা সৃষ্টি করে না।

দাঁড়িয়ে সঙ্গম করার আসন

এক্ষেত্রে মহিলাটি কোনো বিছানা বা টেবিলের কিনারায় বসে হাল্কা হেলান দিয়ে পা দুটি ফাক করে দুটি চেয়ারের ওপর রাখতে পারে। পুরুষটি তখন মহিলাটির পায়ের মাঝে দাড়িয়ে বা প্রয়োজন হলে হাটু গেড়ে বসে যৌন সঙ্গম করতে পারে। প্রয়োজন হলে মহিলাটি শুয়ে থাকতেও পারে। এরপর মহিলাটি দাড়িয়ে তার পা দুটি পুরুষটির পায়ের দুদিকে দিয়ে যোনিপথে পুরুষাঙ্গ প্রবেশ করিয়ে সঙ্গম করতে পারে। এসময় প্রয়োজন হলে পুরুষটি তার পিঠের নিচে বালিশ দিয়ে নিতে পারে। সুতরাং এই আসনটি দুইভাবে চর্চা করা যায়। তবে এই আসনে যৌনসঙ্গম করতে গেলে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের প্রয়োজন হয়। অনেক সময় মহিলাটি সামনের দিকে ঝুকে হাত দুটি বিছানার ওপর রাখলে পিছন দিক দিয়ে যৌনসঙ্গম করা যায়। এসময় এক পা ওপরে তুলে রাখলে সঙ্গম আরো সহজতর হয়।

অতিরিক্ত মোটা হলে যৌন সঙ্গমের বেলায় তাদের সঙ্গমকে সফল করতে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। যেমন-প্রয়োজনীয় বিছানা, টেবিল, চেয়ার ইত্যাদি।

ওরাল সেক্স 

ওরাল সেক্স উপভোগ করতে জানলে অত্যন্ত আনন্দদায়ক হতে পারে। সাধারণত মোটা মহিলারা ওরাল সেক্সের বেলায় বেশ পটু হয়ে থাকে। তবে যে জিনিসটি মনে রাখা প্রয়োজন তা হলো- ওরাল সেক্স আসলে এক তরফা কিছু নয়। মুখ মেহনের মাধ্যমে যৌনসঙ্গী দুজনই পরস্পরকে আনন্দ দিতে পারে। যৌন বিশেষজ্ঞরা ৬৯ পদ্ধতির ওরাল সেক্সের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। মুখ মেহন বা ওরাল সেক্স যৌনসঙ্গমের অংশও বটে। এর মাধ্যমে যৌনসঙ্গমকে আরো অধিক আনন্দময় করা যেতে পারে।

সঙ্গমবিহীন যৌনতা

যোনিপথে পুরুষাঙ্গ প্রবেশ না করিয়েও অনেক সময় যৌন আনন্দ লাভ করা যায়। যেমন- যোনিপথে কৌশলে আঙ্গুল প্রবেশ করিয়ে মহিলাটিকে যৌন আনন্দ দেয়া যায় যৌন উত্তেজক আলোচনা, শৃঙ্গার, হাসি ঠাট্টা, স্পর্শ করা, উত্তেজক বই পড়া বা উত্তেজক ছবি দেখা ইত্যাদি বিভিন্ন ভাবে যৌন আনন্দ লাভ করা যায়। মনে রাখা প্রয়োজন পরস্পর খুব কাছাকাছি থাকার ফলে সঙ্গমের আনন্দ লাভ না করতে পারলেও অন্তত ভালোবাসার আনন্দ পাওয়া যায়।
 
সত্র: ওয়েব দুনিয়া.কম


Wednesday, March 28, 2012

পুরুষের যৌনতা নিয়ে কিছু কথাঃ অবশ্য পাঠ্য

যৌনতার নানা সমস্যা থাকলেও সেক্স থেরাপিস্টার ইদানীং নতুন এক সমস্যার ব্যাপকতা দেখতে পাচ্ছেন। এটি হলো যৌনতার ইচ্ছার অভাব এবং পরবর্তীতে শারীরিক সমস্যা। এই ধরনের সমস্যা যেমন যৌন ক্ষুধার অভাব এবং যৌনকর্মের অনীহার বিষয় নিয়ে তারা বর্তমানে বেশ চিন্তিত। নতুন নতুন রোগীদের কেসহিস্ট্রিগুলো প্রায় একই ধরনের হচ্ছে। অবশ্য কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরুষেরা নিজেদের এই সমস্যা মেটানোর বিভিন্ন উপায় বাতলে দিচ্ছেন নিজেরাই। পরবর্তীতে তারা যৌনসুখ এবং সুখী যৌন জীবন উপভোগ করছে। তবে এই হার খুবই নগণ্য। ধারণা করা হচ্ছে অনুভূতির ব্যাপারে পুরুষেরা খুবই সন্তুষ্ট না হলেও যৌনমিলনে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে।
ইচ্ছা সংক্রান্ত সমস্যা-
দুই ধরনের ইচ্ছা এবং সমস্যা আলোচনায় আসে যেমন-
১. ব্যক্তিগত যৌনতার ক্ষেত্রে। যেমন কোনো পুরুষের একা একা যৌনতার ব্যাপারে অনীহা থাকতে পারে। সেই ক্ষেত্রে এটি হলো ব্যক্তিগত যৌনতার ইচ্ছার অভাব।
২. দম্পতিদের ক্ষেত্রে। দম্পতিদের যে কোনো একজনের বিশেষ করে পুরুষের যৌন ইচ্ছার অভাব। যার ফলে যৌনমিলন সšত্তষ্টজনক হয় না।

উত্থানের ইচ্ছা-
উত্থান সংক্রান্ত ইচ্ছা এবং সমস্যার ব্যাপারে পাশ্চাত্যে নানা গভেষণা চলছে। চারটি মূল কনসেপ্ট এই ব্যাপারে সাহায্য করে যে, সমস্যাটা মূলত কোন পর্যায়ের। অনেক সময় মানসিক আবেগ, ভয়-ভীতির জন্য উত্থান দৃঢ় হয় না। অনেক সময় আবার এও দেখা যায় যে, অতি সুন্দরী রমণী দেখেও মৈথুন ইচ্ছা জাগ্রত হয় পরবর্তীতে আবার উত্থান স্তিমিত হতে পারে। অনেকের আবার যৌন ইচ্ছা খুব বেশি তীব্র থাকে না। এটা জন্ম থেকেই হতে পারে। অনেকে শৈশবকালীন সময়ে যৌন যে কোনো ভীতির জন্য পরবর্তী জীবনে অভ্যস্ত হতে পারে না। নারীদের ক্ষেত্রে উত্থান সমস্যা নেই। তবে সমস্যাটা হলো নারীর ভেতরে কোনো উত্তেজনা থাকে না তারা একেবারেই যৌন ইচ্ছা অনুভব করে না। আবার মাসিক চলাকালীন সময়ে নারীর কোনো কোনো সময় তীব্র যৌন ইচ্ছা জাগে পরবর্তীতে আবার তা ঝিমিয়ে পড়ে। তবে পুরুষ এবং নারী উভয়েই বয়সের সাথে সাথে যৌনতার ব্যাপারে ন্যুব্জ হতে থাকে। এটা শারীরিক বা মানসিক কারণে হতে পারে। আবার মনোদৈহিক উভয় কারণেই হতে পারে। পাশ্চাত্যে এনিয়ে নতুন নতুন গবেষণা চলছে।
ইচ্ছা কেন-
মূলত খুবই মূল্যবান প্রশ্ন হলো ইচ্ছা কেন জাগবে। পুরুষের ক্ষেত্রে যৌন ইচ্ছা জাগবে নারীর সাথে মনের নানা সুখের কথা চিন্তা করে। কিন্তু এটা স্থিতিস্থাপক ব্যাপর নয়। পুরুষের এমনিতেও লিঙ্গ দৃঢ় হতে পারে। যেমন দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব জমে থাকলে কিংবা প্রাতঃকালীন সময়ে দেখা যায় যে লিঙ্গ শক্ত হয়ে আছে। এটা হলো পৌনপুনিকতা। পুরুষের ইচ্ছার সাথে এক্ষেত্রে পুরুষ সন্তুষ্ট হয় না, যার ফলে স্বমেহনের পথ বেছে নেয়। এতে করেও ইচ্ছার একটি বিষয় জড়িত থাকে। অনেক ক্ষেত্রে যৌনতার ইচ্ছার শেষ কথা যৌনমিলন থাকে না। অন্য কারণেও ইচ্ছা প্রকাশ পেতে পারে। পাশ্চাত্যের সেক্স থেরাপিস্টার মনে করেন, যৌনতা হলো মূলত ইচ্ছার ব্যাপার, তবে অনেক ক্ষেত্রেই মূলত ইচ্ছার উপরে নির্ভর করেই যৌনতা এগিয়ে চলে না।
নারী বা পুরুষের যৌনতার তীব্রতা তাদের ইচ্ছার ওপর প্রভাব ফেলে। ব্যাপার স্বাভাবিক। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইচ্ছা বেশি থাকলেও তীব্রতা ততোটা থাকে না যার ফলে য়ৌন সমস্যার উদ্ভব হতে পারে।
সঙ্গিনীর মাধ্যমে লিঙ্গের উত্তেজনা-
আপনার সঙ্গিনী হাতে পিচ্ছিল পদার্থ নিয়ে আপনার যৌনাঙ্গ স্পর্শ করবে। শরীরের অন্যান্য স্থানে মর্দন করা হলেও মূলত যৌনাঙ্গ হবে প্রধান টার্গেট। অনেক পুরুষ এইভাবে উত্তেজিত হতে পছন্দ করে। তারা নারীর একান্ত স্পর্শগুলো চায় তাদের যৌনাঙ্গে। মূলত চুমু কিংবা মুখের লেহন তাদেরকে অতিমাত্রায় উত্তেজিত করতে পারে। দেখুন এইভাবে যদি আপনার উত্তেজনা চূড়ান্ত না হয় তবে আপনার যৌন সমস্যা রয়েছে। মূলত সমস্যাটি যৌন অনুভূতি কেন্দ্রিক। চেষ্টা করুন কিংবা সঙ্গিনীর সাহায্য নিন। একবার অথবা বারবার। এভাবে করতে থাকলে যৌনতার ইচ্ছা বেড়ে যাবে। আপনি এভাবে যদি স্পর্শকাতরতা অনুভব করেন এবং অধিক মাত্রায় তা অনুভব করেন তবে বুঝতে হবে আপনার উত্তেজনা একেবারে ফুরিয়ে যায়নি। আপনি যৌন সক্ষম এবং এটি যৌন সক্ষমতা বাড়ানোর একটি বিশেষ কৌশল।
যৌনাঙ্গ স্পর্শ ছাড়া শরীর স্পর্শ-
এটি ব্যাপক উত্তেজনা বাড়ানোর কৌশল । সঙ্গিনী তার শরীর দিয়ে, চুল দিয়ে,হাত দিয়ে, মুখ দিয়ে আপনার শরীর উত্তেজিত করে তুলবে। কিন্তু আপনার যৌনাঙ্গে স্পর্শ করবে না। এতে করে আপনার যৌন উত্তেজনা চূড়ান্ত হবার সম্ভাবনা আছে। আপনি যদি দেখেন আপনার সঙ্গিনীর এসব স্পর্শে আপনার লিঙ্গ একাই দৃঢ় এবং শক্ত হচ্ছে, তবে বুঝতে হবে আপনি যৌন সামর্থ্য হারাননি। বিষয়টি কিন্তু খুবই ইতিবাচক। এভাবে সঙ্গিনীর মাধ্যমে যৌন স্পর্শের দ্বারা যৌনানুভূতি তুমুল করে তুলতে চেষ্টা করুন।
উত্থানকে বাড়ানো কমানো-
এটি অন্য একটি কৌশল যা সঙ্গিনীর দ্বারা বা আপনি নিজের হাতেই করতে পারেন। শরীরকে সম্পূর্ণ উত্তেজিত করে আবার অনুত্তেজনা অবস্থায় ফিরে আসতে হবে। এতে করে শরীরে উত্থান কমে যাবে। এরপর আবার শরীরকে উত্তেজিত করতে হবে। এটি স্বমেহনের মাধ্যমে বা সঙ্গিনীর স্পর্শের মাধ্যমে হতে পারে। যৌন অনুভূতি চূড়ান্ত হতে থাকলে আবার শরীরকে উত্তেজনাহীন করতে হবে। মনে হয় এটি সবচেয়ে স্মিক্স প্রক্রিয়া শরীরে যৌনতা বাড়ানোর কৌশল হিসেবে। অনেক ক্ষেত্রেই এটি খুব কষ্টকর হতে দেখা গেছে। আপনাকে সবসময় মনে রাখতে হবে যৌনতা এক ধরনের খেলা এতে হারজিতের কিছু নেই। সুষ্ঠুভাবে অংশগ্রহণ করতে পারাই মূল বিষয়। চেষ্টা করুন এবং সফল হন। যৌনতার ইচ্ছা বাড়ানোর জন্য এই কৌশলটি খুবই উপকারী।
আপনার লিঙ্গে উত্তেজনা কোথায়-
আপনাকে খুজে দেখতে হবে আপনার লিঙ্গে কোথায় উত্তেজনা লুকিয়ে আছে। অনেকে মনে করেন লিঙ্গের পুরোটাতেই উত্তেজনা থাকে। ব্যাপারটি কিন্তু পুরোপুরি সত্যি নয়। পরীক্ষা করে দেখুন, হাতে পিচ্ছিল পদার্থ নিয়ে লিঙ্গে ঘষতে থাকুন। লিঙ্গের কোনো এক অংশে তুমুল উত্তেজনা লুকিয়ে আছে। আপনি বুঝতে চেষ্টা করুন যৌনমিলনের সময় এই অংশটাতেই অধিক চাপ এবং স্পর্শ পাবার চেষ্টা করুন। এতে করে উত্তেজনা স্থায়ী হবে। এভাবে কৌশলটিকে রপ্ত করার চেষ্টা করুন।
লিঙ্গের মুখের লেহন-
অনেক দম্পতিই হয়তো এটি পছন্দ করেন না। বিশেষ করে নারীরা এটি অপছন্দ করেন বেশি। পুরুষ সঙ্গীর লিঙ্গ মুখে নিয়ে চুষে, চেটে দেয়া এবং আলতো কামড় দিতে থাকলে পুরুষের উত্তেজনা সীমাহীন পর্যায়ে পোঁছে যায়। অনেক দম্পতি অবশ্য একে অরুচিকর মনে করেন। আপনার সঙ্গিনী যদি এটি পছন্দনা করেন তবে জোরাজুরি করবার দরকার নেই। অনেক ক্ষেত্রেই তা সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। বুঝতে চেষ্টা করুন যে, যৌনমিলন হলো পারস্পারিক সৌহার্দ্য এবং সম্প্রীতির বিষয়ে যেমন তার হাতের সাহায্য নিতে পারে।
যৌনিতে আস্তে আস্তে লিঙ্গ সঞ্চালন-
যৌনমিলনের সময় প্রথমেই লিঙ্গ যোনিতে ঢোকানো উচিত নয়। এতে করে পুরো তৃপ্তি অনেক সময়ই পাওয়া যায় না। অন্যান্য যৌনক্রীড়ার পরে চূড়ান্ত উত্তেজনার পূর্বে পর্যন্ত যোনিতে লিঙ্গ প্রবেশের প্রয়োজন নেই। নারীকে উত্তেজিত করে তুলুন এবং নিজে উত্তেজিত হোন। তারপর যোনিতে ধীরে ধীরে লিঙ্গ সঞ্চালন করুন। এর ফলে যৌনতৃপ্তি ঘনীভূত হবে বেশি। লক্ষ্য রাখবেন যৌনমিলনের কোন আসনে বা কোন পর্যায়ে আপনার স্খলন দ্রুত হয়। সেই আসন বা পর্যায়গুলো পরিত্যাগ করুন। এতে করে যৌনমিলন অধিক সুখকর হবে।
যৌনিতে লিঙ্গ সঞ্চালন-
দেখা যেতে পারে যোনির ভেতর আপনি কতক্ষণ অবস্থান করতে পারেন। প্রথমে আলতোভাবে আপনার লিঙ্গ তার যোনিতে স্থাপন করুন। চাপ দিন এবং ধীরে ধীরে সঞ্চালন শুরু করুন। খুব মৃদুভাবে লিঙ্গকে যাতায়াত করাতে থাকুন। এতে করে উত্তেজনার মাত্রাকে পর্যবেক্ষণ করা সহজ হবে। আস্তে আস্তে যাতায়াতের পরিমাণ বাড়াতে থাকুন এবং দ্রুতলয়ে লিঙ্গ যাতায়াত করাতে থাকুন। আপনি আপনার স্ত্রীর যোনিতে যত বেশি সময় অবস্থান করতে পারবেন ততো আপনার যৌন ক্ষমতা বেশি তা প্রমাণ হবে। এই কৌশলে প্রথম প্রথম ব্যর্থ হলেও এটিকে রপ্ত করতে থাকুন। লিঙ্গ দৃঢ় করার পরে তার যোনিতে কিছু সময় রাখার পরে তা বের করে আনুন। নিস্তেজ হোন, আবার সক্রিয় হোন। এই ভাবে দীর্ঘক্ষণ যৌনমিলনের কৌশল আয়ত্ত করুন।
জোর ইচ্ছা-
পূর্বের আলোচনারই ধাপ এটি। যৌনতার ইচ্ছা হলো বিশেষ এক ধরনের শক্তি। ধারণা করা হয় ইচ্ছা ছাড়া যৌনতা সম্ভব নয়। যৌনমিলনের পূর্বে নানা রকম শারীরিক ক্রীড়া বা যৌনক্রীড়া পুরুষ এবং নারীকে অতি মাত্রায় উত্তেজিত করতে পারে। এগুলো হলো যৌনতা সহায়ক। আর যৌনতার সহায়ক হলো ইচ্ছা। এটি ছাড়া মূলত যৌনমিলন কখনোই সম্ভব হতে পারে না।
যৌনতার ইচ্ছা বা আগ্রহের বিষয়ে কিছু বাধা-
কিছু কিছু সমস্যা এবং বাধা যৌনতার ইচ্ছা বা আগ্রহের ব্যাপারে বিশাল কারন হয়ে দাঁড়ায়।
সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সাথে যৌনতার অসামঞ্জস্যতা-
অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় যে, যে কোনো একজন অন্যজনের ওপর যৌনতার ব্যাপারে সন্তুষ্ট। এর ফলে আগ্রহ বা যৌন ইচ্ছা কমে যেতে পারে। আবার অনেক স্বামীর অভিযোগ এমন থাকে যে, তার স্ত্রী খুব একটা আবেদনময়ী নয়, যার ফলে তার যৌনমিলনের ইচ্ছা জাগে না। এরকম অভিযোগ অনেক স্ত্রীদের কাছ থেকেও শোনা যেতে পারে।
অসন্তোষমূলক যৌনতা-
সঙ্গিনী অধিকাংশ সময় মনে করে এবং কার্যত দেখতে পায় যে, তার সঙ্গী তার প্রতি অধিক মনোযোগী নয়। যা আদৌ তার পছন্দ নয়। এর ফলে অসন্তোষ সৃষ্টি হয় যৌনমিলনের ক্ষেত্রে।
ওষুধ-
অনেক আছে যা গ্রহনের ফলে যৌনতার ইচ্ছা হ্রাস পায়। এ সম্বন্ধে সচেতন হওয়া উচিত।
শারীরিক সমস্যা-
শারীরিক নানা সমস্যার জন্যও যৌনতার ইচ্ছায় ভাটা পড়তে পারে। যেমন-অনেক ক্রমিক রোগ আছে যা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকার ফলে শরীরের অন্যান্য অঙ্গ এবং ইন্দ্রয়গুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রায় ক্ষেত্রেই যৌনমিলনের আকাক্সক্ষা নিস্তেজ হয়ে পড়ে। হার্টের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের প্রকোপ ইত্যাদি কারণে যৌন ইচ্ছা দূরীভূত হতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে মাসটেকটোমি ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং তারা যৌনমিলনে অনাগ্রহী হয়।
ডিপ্রেশন-
পৃথিবীব্যাপী লক্ষ লক্ষ লোক এই সমস্যায় ভোগে এবং এর ফলে যৌনতার ইচ্ছা হারায় অনেকে। যদি কেউ ডিপ্রেশনের জন্য যৌনতার ইচ্ছা হারায় তবে সেক্স থেরাপির পরিবর্তে আগে ডিপ্রেশনের চিকিৎসা করা উচিত।
মনোদৈহিক চাপ-
অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং মনোদৈহিক চাপের কারণে অনেকে যৌনতার ইচ্ছা হারায়। তারা কোনো কিছুতেই মন বসাতে পারে না এমনকি যৌনতাতেও নয়।
অতিরিক্ত কাছাকাছি থাকার ভয়-
অনেক নারী এবং পুরুষ বেশি মাত্রায় কাছাকাছি চলে আসার পর দেখা যায় যে তারা যৌনমিলনে স্পৃহ হারায়। এই রকম ভীতির জন্য তারা যৌনমিলনে অপারগতা হয় । এটি এক ধরনের মানসিক রোগ। থেরাপি এবং যৌনতার কৌশল পরিবর্তনে এ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
যৌন ভীতি-
অনেক নারী বা শিশু নানা রকম নির্যাতনের মুখোমুখি হবার পর যৌনতার ব্যাপারে ভীতি, ভয়ে ভুগতে থাকে। ফলে যৌনমিলনে তারা কখনোই সঠিকভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে না। এটিও এক ধরনের মানসিক সমস্যা। উঁচু মাত্রার থেরাপিতে এটি আরোগ্য হতে পারে

Monday, August 1, 2011

মিলনের আকর্ষণ

শারীরিক মিলন প্রত্যেক পুরুষ এবং নারীর কাছেই কাম্য৷ জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল শারীরিক সম্পর্ক৷ স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক অনেকাংশে দের শারীরিক সম্পর্কের ওপরেও নির্ভরশীল হয়৷
শারীরিক সম্পর্কের দিকে পুরুষ এবং নারীর দৃষ্টি ভঙ্গী, মানসিকতা বা চাওয়া কিন্তু এক নয়৷ দুজনের পরিতৃপ্তির পথও একরকম নয়৷ শারীরিক মিলন কালীন বিভিন্ন পর্যায় পুরুষ এবং নারীকে পৃথক ভাবে আকর্ষন করে৷
সাম্প্রতিক একটি গবেষন দ্বারা জানা গেছে, শারীরিক মিলনের বিভিন্ন পর্যায় গুলির মধ্যে মহিলাদের কাছে সব থেকে বেশী আকর্ষণীয় হল মিলনের পরবর্তী সময়ে সঙ্গীর সান্নিধ্য৷ অর্থাত foreplay, intimate interaction পর্যায়ের থেকেও তাদের বেশী ভালো লাগে cuddle time অর্থাত মিলনের পরে সঙ্গীকে অনেক ক্ষণ জড়িয়ে ধরে রাখতে মহিলারা বেশী পছন্দ করেন৷
প্রায় বেশীর ভাগ মহিলারাই যৌন মিলনের পরে একান্ত ঘনিষ্ঠ মুহুর্ত চায়৷ সে চাহিদায় তারা পরিতৃপ্ত না হতে পারলে তাদের সঙ্গীর শারীরিক সংসর্গ তাদের খুশী করতে পারে না৷ এই অতৃপ্তির কারণে বেশীর ভাগ মহিলারই তার পুরুষ সঙ্গটিকে selfish বলে মনে হয়৷ কারণ তাদের মতে যৌন পরিতৃপ্তির সঙ্গে মানসিক সান্নিধ্যও সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ৷ আর মানসিক ছোঁয়া তারা অনুভব করেন মিলন পরবর্তী সান্নিধ্য মাধ্যমে৷

যৌন মিলনের তৃপ্তি

কিছুদিন আগেই বৃটেনে সেক্স নিয়ে একটা সমীক্ষা চালানো হযেছিল৷ সমীক্ষার মূল বিষয়টা ছিল দম্পতিরা কোন সময়ে তাদের যৌন মিলনে পরম তৃপ্তি লাভ করেছেন? এতে বিভিন্ন প্রেমিক-প্রেমিকা এবং দম্পতিদের মতামত ভোটের মাধ্যমে জানা হয়৷ এতে বেশীরভাগই জানিয়েছেন একসঙ্গে চার বছর কাটানোর পরেই তারা জীবনে যৌন মিলনের চরম তৃপ্তিটা লাভ করেছেন৷ এই সমীক্ষায় মোট 3000 ভোট পড়েছে৷
এতে এক চতুর্থাংশ এর মতে কয়েক বছর একসঙ্গে কাটানোর পরেই তারা শারীরিক মিলনের ক্ষেত্রে বেশী পারদর্শী হতে পেরেছেন৷ অপরদিকে 60 শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন তারা এখনও নতুন জিনিস শেখার চেষ্টা করছেন৷ এক দশমাংশের মতে বিয়ের পরেই যৌন মিলনের বিষয়ে তারা বেশী পরিমাণে শিখতে পেরেছেন৷
এই প্রসঙ্গে সার্ভের অধিকর্তা জানিয়েছেনসেক্স হল জীবনের অন্যান্য সম্পর্কের মত একটা অংশ৷ সময়ের উপরেই এর বৃদ্ধি এবং উন্নতি নির্ভর করে৷

Sunday, July 24, 2011

দি আর্ট অব সেক্সুয়াল এক্সটাসি-2

প্রস্তুতি
এই অনুশীলনের জন্য তরতাজা শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রয়োজন। সুতরাং শুরু করার পূর্বে কিছুটা সময় নিন; দাঁত ব্রাশ করুন এবং জিহ্বার উপর কয়েক ফোঁটা পুদিনার সুঘ্রাণ রেখে দিন।
অনুশীলন
একে অন্যের মুখোমুখি হয়ে বসুন। জাপানি স্টাইলে হাঁটু গেড়ে বসুন। শরীরকে ঢিলা করুন এবং পেটকে ঢিলেভাবে ঝুলে থাকতে দিন। আপনি আপনার সঙ্গীর সাথে একটা শ্বাস-প্রশ্বাসের যোগাযোগ তৈরি করতে যাচ্ছেন সুতরাং এই সমস্ত পদ্ধতিটাতেই মুখ দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস করুন। কয়েক মুহূর্তের জন্য একে অন্যের দিকে তাকান। তারপর অন্তরের অভিবাদন জানান। চোখ দুটো ব করুন। বস্তির দোলদোলা শুরু করুন এবং তা তিন মিনিট পর্যন্ত চালু রাখুন। যখন আপনাদের মনে হয় আপনারা একটা উত্তম ছন্দে পৌঁঁছতে পেরেছেন এবং নিজেদের মধ্যে কেন্দ্রস্থ অনুভব করছেন তখন চোখ খুলুন, একে অন্যের দিকে তাকান কিন্তু বস্তিদেশের দোলদোলা চলতেই থাকবে। এতো তাড়াতাড়ি বস্তিদেশের দোলদোলায় ঐকতান আনার প্রয়োজন নেই। নিজেকে যে কোনো প্রকার সমালোচনার বা তুলনার ভয়ভীতি থেকে অনাক্রান্ত রাখুন ‘সে আমার চেয়ে ভালো করছে’ অথবা ‘আজ আমার চেহারাটা ভালো দেখা যাচ্ছে না’ যা আপনার মনে উঁকি দিচ্ছে এটা একটা হাস্যরসিকতাপূর্ণ একটা ভাব গম্ভীরহীন অনুশীলন। যেনো আপনারা এক শিশু দম্পতি আনন্দ করছেন অথবা ঘোড়ায় চড়া খেলছেন। যখন আপনারা সহজবোধ করেন তখন নিজেদের মধ্যে ছন্দের ও শক্তির গ্রন্থনা শুরু করুন।
পথের সান করুন কিভাবে দোলদোলার সমতায় পৌঁছে এক সাথে শ্বাস-প্রশ্বাস ও দোলদোলা চালিয়ে যেতে পারেন। এ বিষয়ে সজাগ থাকুন যে, কার শ্বাস-প্রশ্বাস দীর্ঘ বা হ্রস্ব হচ্ছে এবং একে অন্যের জন্য কিছুটা ছাড় দিন, সুতরাং যাতে করে দুজনেই একটা সমতার ছন্দে পৌঁছাতে পারেন যেটা হবে আরামদায়ক ও সুখপ্রদ। নিজেদের ইচ্ছা মতো সময় নিন এবং শিথিল থাকুন। এই অভ্যাসের সময় কোনো বিষয়ে বুঝতে অসুবিধা হলে কখনো তা বলতে লজ্জাবোধ করবেন না, যেমন আপনি বা তুমি একটু পো করো বা তুমি কি একটু আস্তে করতে পার? অথবা অনুগ্রহ করে তোমার শ্বাস-প্রশ্বাসকে আমার সাথে মিলাও। তারপর সন্নিকটে সরে আসুন এবং একে অন্যের হাত ধরুন। এই পদ্ধতির মধ্যে একে অন্যের সাথে একটা বিশ্বাসের অনুভব গড়ে তুলুন। আপনার অন্তরের মধ্যে আপনার সঙ্গীর জন্য একটা জায়গা করে নিয়ে একাত্মতাবোধ করতে পারেন কি না দেখুন। আত্মদর্শনের ধ্যান শুরু করুন যেটা আপনারা শিখেছেন ৪র্থ অধ্যায়ে। একে অন্যের চোখে চোখ রেখে এক সাথে শ্বাস গ্রহণ করুন, আপনাদের বস্তিদেশসমূহকে পেছনের দিকে দোলা দিন এবং অনুভব করুন যে আপনার সঙ্গীকে যেনো ‘পান করে’ নিজের মধ্যে নিয়ে নিচ্ছেন। একসাথে শ্বাস ত্যাগ করুন এবং আপনাদের বস্তিদেশসমূহকে সামনের দিকে দোলা দিন এবং অনুভব করুন যে, আপনি যেনো নিজেকেই নিজের শক্তি সামর্থ্যকেই আপনার সঙ্গীর মধ্যে দিয়ে দিচ্ছেন। এভাবে পাঁচ মিনিট পর্যন্ত চালিয়ে যান।
উল্টানো শ্বাস-প্রশ্বাস
যখন আপনারা একটা আনন্দপ্রদ চলাচল গঠন করতে পেরেছেন তখন শ্বাস-প্রশ্বাস এর পদ্ধতি উল্টো করে চেষ্টা করুন। সঙ্গী ‘ক’ তার পেলভিককে পেছনের দিকে নিয়ে শ্বাস গ্রহণ করবেন এবং পিসি মাসলকে সংকুচিত করবেন এবং কল্পনা করবেন যে তার পুরুষ সঙ্গীর ‘খ’ এর শক্তিকে তিনি পান করছেন। একই সময়ে সঙ্গী ‘খ’ শ্বাস ত্যাগ করবেন সামনের দিকে দোলা দেবেন। পিসি মাসলকে শিথিল করবেন এবং তার শক্তি সঙ্গী ‘ক’ এর মধ্যে ঢেলে দেবেন। এই উল্টানো শ্বাস-প্রশ্বাসের মধ্যে আপনারা যখন সামঞ্জস্যে পৌঁছে যাবেন, মনে করুন যেনো আপনারা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ভালোবাসা করছেন। ভালোবাসা করছেন দৃষ্টি ও চলাচলের মাধ্যমে। সঙ্গী ‘খ’ যখন আপনি শ্বাস ত্যাগ করবেন মনে করুন আপনি যেনো ঠোঁট বাঁকা করে আপনার সঙ্গী ‘ক’-এর চারদিকে একটা চুনো উড়িয়ে দিচ্ছেন এবং তার ঠোঁটের দিকে বাতাস প্রবাহিত করে দিচ্ছেন, যেভাবে একটা বড় খড়ের মধ্য দিয়ে বাতাস প্রবাহিত করে দিচ্ছেন। অনুভব করুন যে আপনি আপনার শ্বাস-প্রশ্বাস, আপনার শক্তি, আপনার ভালোবাসা সবকিছু তার মধ্যে ফুক দিয়ে প্রবেশ করিয়ে দিচ্ছেন।
সঙ্গী ‘ক’ যখন আপনি শ্বাস গ্রহণ করা শুরু করেন তখন অনুভব করুন সঙ্গী ‘খ’ এর শ্বাস আপনার দিকে প্রবাহিত করে দেয়া হচ্ছে এবং সেটাকে ভেতরে গ্রহণ করুন। যেমন আপনি তাকে পান করতেন। আপনার শ্বাসের সাথে আপনার সঙ্গীর শ্বাসটাও ভেতরে নিন। আপনার গলার মধ্য দিয়ে প্রবেশ করিয়ে ভেতরের বাঁশির সংযোগে বুকের মধ্য দিয়ে মধ্যচ্ছদা হয়ে নাভি, তলপেট হয়ে নিচে একদম যৌনাঙ্গের মধ্যে নিয়ে যান।
শ্বাস গ্রহণ শেষ হয়ে গেলে এক মুহূর্তের জন্যে সেটাকে সেখানে ধরে রাখুন, তখন পিসি মাসলকে টাইট করে রাখবেন শ্বাস ত্যাগ করার সময় আপনার বস্তিদেশকে সামনের দিকে দোলা দিন এবং কল্পনা করুন যে আপনার যৌনাঙ্গের মধ্যে যে শক্তি সঞ্চিত ছিল তা ভেতরের বাঁশির মধ্য দিয়ে উপরের দিকে উঠতে শুরু করেছে এবং মুখের মধ্য দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে এবং তা গিয়ে সঙ্গীর ঠোঁটে উড়ে পড়ছে, যিনি পর্যায়ক্রমে তা গিলে খেয়ে ফেলছেন বা শ্বাসের মধ্য দিয়ে ভেতরে টেনে নিচ্ছেন। এটা পাঁচ মিনিট পর্যন্ত চালিয়ে যেতে থাকুন। অনুভব করুন যে আপনি একজন আন্তরিক বুর সাথে একটা শক্তিকে একই অনুভূতিকে একটা অন্তরকে ভাগ করে উপভোগ করছেন। আমি এটা ‘আত্মার চুম্বন’ (The kiss of the spirit) বলে আখ্যা দিতে পছন্দ করি।
কারণ এটা এতই সূক্ষ্ম এবং উন্নততর কম পক্ষে হলেও পাঁচ মিনিট পর্যন্ত চালিয়ে যান খুবই আস্তে এবং শান্তভাবে। শ্বাস-প্রশ্বাসকে গভীর এবং শরীরকে শিথিল হতে দিন। আপনার উন্নতির সাথে সাথে দোলদোলার ছন্দ এবং লয় বাড়িয়ে বা কমিয়ে দিতে পারেন। আপনার আবেগকে অনুসরণ করুন। শুধু ঘটে যেতে দিন নিজের শক্তিকে নিজে অনুসরণের চেষ্টা করুন। তারপর ধীর গতিতে আসুন এবং দোলদোলা ব করে দিয়ে শেষ প্রান্তে চলে যান। চোখ ব করুন এবং এক মিনিটের জন্য আপনার মনোযোগ শরীরের মধ্যে নাভির নিচে তলপেটের একটা কেন্দ্রে ফোকাস করুন এটাই আপনার শক্তি কেন্দ্র। একজন সঙ্গীর সাথে যখন অভ্যাস শেষ করেন তখন এটা জরুরি যে আপনাদের একত্রতা থেকে নিসঙ্গতার দিকে চলে যান, যাতে করে আপনি স্বাধীনভাবে অন্যের ছাড়া নিজের ব্যক্তিত্ব ও ক্ষমতা অনুভব করতে পারেন। অনুভব করুন কিভাবে আপনার শক্তি পরিবর্তিত হয়েছে এবং প্রসারিত হয়েছে, কারণ এই অনুশীলনীতে আপনি এটা আপনার সঙ্গীর সাথে ভাগ করে উপভোগ করেছেন।
সবশেষে একটা অন্তরের অভিবাদন লেনদেন করুন। আপনারা কি অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন সে বিষয়ের উপর আলোচনা করতে ১৫ মিনিট সময় নিন। বর্ণনা করুন যে, শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে দু’জনের মধ্যে একটা সূক্ষ্ম আন্তরিকতার সৃষ্টি হয়েছে কি না। শ্বাস-প্রশ্বাস করাটা খুব কঠিন না খুব কোমল হয়েছিল; আপনাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের ছন্দ সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল কি না। যদি আপনারা কোনো কষ্ট বা অসুবিধার সমমুখীন হয়ে থাকেন-যেমন ধরুন, শ্বাস-প্রশ্বাসের ছন্দের মধ্যে পার্থক্য যেটা আপনারা ঐকতানে আনতে পারেননি- সে বিষয়ে কথা বলুন, আলোচনা করুন সেটা থেকে আপনারা কি শিখলেন এবং কিভাবে পরবর্তী সেশনে সেটাকে পরিবর্তন করতে পারবেন। এই পর্যালোচনাটা ইতিবাচক মন্তব্য দিয়ে শেষ করুন। একে অপরকে বলুন কোন কোন জিনিস এই বিনিময়ের মধ্যে আপনাদের বেশি পছন্দ হয়েছে বা ভালো লেগেছে।

নির্দেশিকা
আপনি এই অনুশীলনীতে যদি সরাসরি শ্বাস-প্রশ্বাস বিনিময় করতে না চান তাহলে নাক দিয়ে শ্বাস নিন। অথবা আপনি আপনার সঙ্গীর পাশে মিশে বসতে পারেন। আপনার ঠোঁট আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনীর ডান কানের কাছে রাখুন এবং কানের মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাস করুন যাতে করে আপনি শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি প্রবাহ শুনতে ও অনুভব করতে পারেন। হঠাৎ করে কমন রিদম-এ পৌঁছে যাওয়া সবসময় হয়ে ওঠে না। এর জন্য প্রয়োজন ঘন ঘন অনুশীলনের। যদি নিজেকে উত্তেজনায় কঠিন মনে হয়, অধৈর্য অথবা ভয়ানক মনে হয়; তাহলে এর অর্থ এই দাঁড়াবে যে আপনি কৌশলটির উপরে অত্যধিক বেশি মনোযোগ দিয়ে ফেলেছেন এবং ক্রিয়াকর্মের লাক্ষণিক জটিলতায় (Performance Syndrome) এ সঠিকভাবে কাজ করতে গিয়ে জড়িয়ে পড়েছেন। এই টানটান অবস্থার মধ্যে কোনো কিছুই হচ্ছে না। আরাম করুন একটু অবসর নিন, আপনার হাস্য কৌতুক ও স্বতঃস্ফূর্ততার জ্ঞান পুনরায় ফিরিয়ে আনুন এবং নতুন করে আবার শুরু করুন।
এই অধ্যায়ে আপনি আবিষকার করেছেন যে, কিভাবে আপনার যৌন শক্তিকে ভেতরের বাঁশির সহায়তা চক্রসমূহের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত করে উপরে নিচে আনা নেয়া যায় এবং কিভাবে পিসি পাম্পের মাধ্যমে আপনার যৌনপুলক শিহরণ শক্তিকে আরও বেশি উত্তেজক ও প্রসারক করতে সমর্থ হন। এছাড়া আরো আপনি দেখতে পেয়েছেন যে, যৌন শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে আপনি সমস্ত দেহের মধ্যে একটা যৌনপুলক শিহরণ এর সৃষ্টি করতে তাদেরকে র্রে র্রে ছড়িয়ে দিতে এবং সমস্ত পথ অতিক্রম করে মস্তিষক পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারছেন। যার ফলে অন্তরের ভালোবাসার জাগরণ ঘটিয়ে তাকে উৎফুল্ল ধ্যানমগ্নতার ইন হিসেবে ব্যবহার করতে পারছেন। আপনি আরো আবিষকার করেছেন যে কিভাবে আপনার সঙ্গীর সাথে একত্রে প্রথম পদক্ষেপেই শক্তিকে ভেতরের বাঁশির মধ্য দিয়ে একটা যৌথ সাধারণ ছন্দে প্রবাহিত করা যায়। এটা জেনে আপনি অনুপ্রেরণা লাভ করতে পারেন যে উঁচু শ্রেণীর তন্ত্র মতে দেহের মধ্য দিয়ে শক্তিকে উপরের দিকে প্রেরণের এই অভ্যাসকে দেখা হয় শেষ মুহূর্তে শিব ও শক্তির মিলন হিসেবে। শক্তি হচ্ছে বিশ্বব্রহ্মান্ডের বা জাগতিক শক্তির প্রতীক যা কুন্ডলিনী বেশে মেরুদন্ডের মূলে বসবাস করে। আর শিব হচ্ছে স্বর্গীয় আত্মজ্ঞানের মূলতন্ত্র। সে বাস করে মাথার চাঁদির মধ্যে। মেরুদন্ডের মূল থেকে কুন্ডলিনী শক্তির ভাইটাল এনার্জিকে প্রত্যেকটি চক্রের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করে বা চালিয়ে নিয়ে চাঁদি চক্র পর্যন্ত পৌঁছিয়ে নারী ও পুরুষের দুটি মেরু একত্রিত হয় এবং একটা স্বর্গীয় মহানন্দ লাভ করে।
পরবর্তী অধ্যায়ে আসছে আত্ম আনন্দের অনুষ্ঠান। তখন আপনার সুযোগ হবে পূর্ববর্তী অনুশীলনগুলোকে একত্র করে অভ্যাস করার এবং আত্ম আনন্দের মধ্যদিয়ে যৌনতার সূচীতে পৌঁছে যাওয়ার। প্রত্যেকেই হস্তমৈথুন বা আত্ম আনন্দ সম্ব েঅবগত আছেন। কিন্তু কেউ কখনও ভেবেছেন যে, এটা একটা আরোগ্য লাভের কৌশল উপকরণ হতে পারে? সপ্তম অধ্যায়ে আপনি এই অভ্যাসগুলোকে ব্যবহার করুন যা এখানে শিখেছেন তাতে আপনার প্রেমোদ্দীপনা ও আনন্দ অনেকাংশে বেড়ে যাবে। আর আপনি আবিষকার করতে পারবেন যে আত্ম আনন্দ হচ্ছে আপনার ভেতরের প্রেমিককে জাগানোর অন্যতম কৌশল।
আত্ম-আনন্দ লাভের অনুষ্ঠান
আপনার মনে আছে কি, প্রথমবারের জন্য যখন আপনি আবিষকার করলেন যে যৌন অনুভূতিটা কতো আনন্দদায়ক হতে পারে? একজন বালিকা হিসেবে, আপনি কি স্মরণে আনতে পারছেন যে, কোনো গাছে ওঠার সময় দুই পায়ের মাঝে গাছের জালের ঘষায় একটা বিদ্যুৎ প্রবাহের মতো স্নায়বিক উত্তেজনা, উষ্ণ এবং জীবন্ত অনুভূতি লাভ করেছিলেন? অথবা আপনি কি মনে করতে পারেন যে নির্দোষভাবে কখনো আপনার গোসলের সময় গরম সাওয়ার (ঝর্ণা) টার নজেলটি আপনার পিউবিস (Pubis) এর উপর ধরেছেন এবং সেই ঝর্ণার গরম জল পিউবিসের উপর দিয়ে গড়িয়ে আপনার ভগাঙ্কুর এর উপর (Clitoris) পড়ে একটা উষ্ণ অনুভূতি জেগেছে, কতো সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে অপ্রত্যাশিত আনন্দ শিহরণ! ছেলে হিসেবে আপনি হয়তো কখনো অনুভব করেছেন স্কুলে ডেক্স এর পেছনেই আপনার শিশ্নটি উষ্ণতায় শক্ত হয়ে উঠেছে এবং জীবনে প্রথমবারের মতো আপনি সেটাকে ছুঁয়ে দেখেছেন। আপনার শরীরের রক্ত দৌড়াদৌড়ি করছিল, আপনার শক্তি চামড়ার মধ্য দিয়ে ফেটে পড়ছিল এবং বলছিল ‘হ্যালো! আমি এখানে আছি, এবং আমাকে যখনই তুমি সপর্শ করবে আমি তোমাকে আনন্দ পাইয়ে দেব।
আমার সেমিনারে যোগদানকারী অনেক লোকই এই বালক বয়সের নির্দোষ আনন্দঘন মুহূর্তগুলোর কথা স্মরণ করেন, যখন প্রথম জীবন নৃত্যের বুত্বপূর্ণ আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলেন। কিন্তু তা হতে পারে না, তা হওয়া উচিত নয়। এটা বড়দের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। এটা ছিল ভয়াবহ। না বলা ভয় এই ছিল যে, যৌন অঙ্গ সমূহই ভয়ানক ধরনের ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে যা একটা লাগামহীন সহজাত আবেগ এবং অনুভূতি যাকে কঠিন বাধা নিষেধের মধ্যে রাখতে হবে। অতএব আমাদের ওস্তাদগণ আমাদের মাতা-পিতা, আমাদের ধর্মযাজক ও স্কুল শিক্ষকগণ যৌন অঙ্গসমূহ সম্বন্ধে খারাপ মতামত প্রদান করতেন। ফেলে দেয়া অথবা একটি জীর্ণ শীর্ণ দেহের এই অঙ্গসমূহকে উৎসাহজনকভাবে দোষারোপ করা হয়েছে এবং যার ফলশ্রুতিতে তাদেরকে অশিষ্ট, বীভৎস নাম দেয়া হয়েছে যেমন- ছুঁচলো যন্ত্র, হাড়, পুরুষের অঙ্গের জন্য এক চক্ষু পাজামা-সাপ। স্ত্রীদের যৌনাঙ্গকে বলা হয়েছে-চেরা গর্ত, কান্ট (Cunt) নিশ্লেষণ যন্ত্র, পুসি ইত্যাদি। তাদের মর্যাদাকে অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের শক্তিকে নিষ্পেষিত করা হয়েছে এবং তার সাথে সাথে আপনার শরীরের যে প্রকৃতিগত স্বাভাবিক আনন্দ উপভোগ করার ক্ষমতা এবং যৌনাঙ্গসমূহের মাধ্যমে যৌনপুলক লাভের যে সহজাত প্রবৃত্তি তাকে অনেকাংশে কমিয়ে দেয়া হয়েছে।

অধ্যাপক ডাঃ এ এইচ মোহাম্মদ ফিরোজ
এমবিবিএস এফসিপিএস এমআরসিপি এফআরসিপি

মূল রচনাঃ মার্গো আনন্দ
যৌন পুলকের কলাকৌশল
পাশ্চাত্যের প্রেমিক-প্রেমিকাদের জন্য পবিত্র যৌন মার্গো
পূর্ব প্রকাশিতের পর.....

সেক্স এর সাতকাহন

সেক্স সম্পর্কে নানা মুনির নানা মত। এর কিছু ঠিক কিছু নয়। অনেকের ধারণা, পুরুষরা কেবল যৌনমিলনে উৎসাহী। কিন্তু একজন পুরুষের সেক্স সম্পর্কে আগ্রহ বয়স বা জীবন ধারার পরিবর্তনের সাথে পরিবর্তিত হয়। পুরুষদেরও হৃদয়ে গভীর অনুভূতি, আবেগ ও ঘনিষ্ঠতার আকাঙ্ক্ষা বিদ্যমান। নারীরাও এর ব্যতিক্রম নয়। তারা যৌন শিহরণ কামনা করেন। একই সঙ্গে চায়-
  • ভালোবাসা
  • আদর-সোহাগ
  • ঘনিষ্ঠতা
  • আন্তরিকতা
নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই চায় নিজের আগের অনুভূতি আর ভাবনার কথা একে অন্যকে জানাতে। এটা অবশ্য ইতিবাচক একটা দিক। কোনো সময় নারী-পুরুষ একটু বাড়াবাড়িও করে ফেলেন। তারা হয়তো সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে প্রভাবিত করতে চান বেশি মাত্রায়। আবার কোনো সময় তারা আবেগ-অনুভূতিবোধ গুলিয়ে ফেলেন। জীবনের প্রথম যৌনমিলন খুব রোমাঞ্চকর-শিহরণদায়ক যেমন হতে পারে আবার ঠিক তেমনি তার উল্টোটাও হতে পারে। অনেক নবদম্পতি বুঝতে পারেন না যে, তারা আসলে এখনো যৌনমিলনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়, হতে পারে যে এটা যৌনমিলনের সঠিক সময় না বা সঠিক পরিবেশ নয়। তারা এখনো একে অন্যকে ভালোভাবে জানেননি কিংবা তারা গর্ভসঞ্চারের ভয় এড়াতে চান। তারা আসলে সেক্স নিয়ে এক রকমের দ্বিধায় ভোগেন। যৌনমিলনের বিকল্পস্বরূপ বা এর সাথে গভীর চুম্বন যা কিনা ঠোঁটের সীমানা ছাড়িয়ে জিহ্বাকে সপর্শ করে শিহরণকে বাড়িয়ে তোলে রোমাঞ্চিত করে। গভীর নিবিষ্টতায় একে অপরকে জড়িয়ে ধরা বা মৃদুভাবে একে অপরের গোপনাঙ্গ সপর্শ করে উদ্দীপিত করে শিহরিত সুখের অপরূপ অনুভূতি লাভ করা যায়। এ ধরনের যৌন আচরণকে বলা হয় আউটারকোর্স বা মিলনবহির্ভূত যৌনক্রিয়া।
পুরুষের যৌনাঙ্গের সবচেয়ে সপষ্ট অংশ হচ্ছে লিঙ্গ। একজন লম্বা বা দীর্ঘাঙ্গী ও মাংসল পুরুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের সাথে লিঙ্গের আকার বা সাইজ মিলতে হবে এমন কোনো কথা নেই। পুরুষাঙ্গ যখন শিথিল ও নরম বা শান্ত থাকে তখন তার সাইজ ক্ষুদ্র থাকে কিন্তু যখন তা উত্তেজিত হয় বা অশান্ত হয়ে পড়ে তখন তার সাইজ ও দৈর্ঘ্য অনেক বৃদ্ধি পায়। তখন নারীদের কাছে তা পছন্দনীয় ও আদরণীয় হয়ে ওঠে। যে কোনো সাইজের পুরুষাঙ্গ দিয়ে স্বাভাবিক যৌনমিলন সম্ভব। তাই লিঙ্গের সাইজ নিয়ে অযথা চিন্তা-ভাবনা করা উচিত নয়। এতে লাভ তো কিছুই হবে না বরং মনোযাতনার সৃষ্টি হবে। পুরুষাঙ্গের সাইজ যাই হোক না কেন মনে রাখার মতো কথা হলো- সবারই প্রায় সমান পরিমাণে বীর্য বা শুক্রকীট থাকে। লিঙ্গের নিচেই থাকে শুক্রাশয়। এই শুক্রাশয় দুটি থাকে ঝোলামতো একটি জিনিসের মধ্যে যার নাম স্ক্রুটাম বা অণ্ডথলি। এর একটা ছোট আর আরেকটা বড় থাকে। কিশোর-পুরুষের বয়ঃসকিালে মনোশারীরিক নানা পরিবর্তন ঘটে।
বালকের শারীরিক পরিবর্তন শুরু হয় ১২ বছরের দিকে এবং তা ২০ বছর বয়স পর্যন্ত চলতে পারে। আবার কারো বয়ঃসকিাল একটু আগে বা একটু পরে শুরু হয়। মনোশারীরিক যে আমূল পরিবর্তন আসে তার মূল কারণ হচ্ছে পুরুষালি হরমোন, যাকে বলা হয় টেস্টোস্টেরন। এ হরমোন শুক্রাশয়ের ভেতরে তৈরি হয়। টেস্টোস্টেরন হরমোনের পরিমাণ যত বাড়ে অণ্ডথলির বর্ণ তত গাঢ় হয়। শুক্রাশয়ে শুক্রাণু উৎপন্ন হতে শুরু করে এবং এটা পরবর্তী পুরো জীবনব্যাপী ঘটতে থাকে। শুক্রকীট বা শুক্রাণু মূলত অবস্থান করে বীর্যে যা কি না এক ধরনের তরল জাতীয় রস। অনেক সময় নিদ্রাকালীন অবস্থায় পুরুষাঙ্গ উত্তেজিত হয়ে যায় এবং তা থেকে বীর্য বেরিয়ে আসে। এটাকে বলা হয় ওয়েট ড্রিম। এটা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় ব্যাপার। মাঝে মাঝে লিঙ্গের উত্থান হঠাৎ করে অপ্রত্যাশিত সময়ে হতে পারে। এটা একটা অস্বস্তিকর ব্যাপার হলেও স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় ব্যাপার।

জীবনের কোনো না কোনো সময় পুরুষের সেক্স নিয়ে নানা দুশ্চিন্তা দেখা দেয়। তারা চিন্তা করে সবসময় কেন উত্থানের ব্যাপারটা একইভাবে হয় না? কামরস কেন এত তাড়াতাড়ি বেরিয়ে আসে? পুরুষের যৌন আচরণ আর যৌন ইচ্ছার সুনির্দিষ্ট কোনো সীমা নেই। একেক জন একেক আসন, ভিন্ন ভিন্ন টেকনিক পছন্দ করে, কেউ হয়তো কোনো টেকনিকই পছন্দ করে না। যৌন জীবনের কোনো এক পর্যায়ে মনে হতে পারে উত্থিত লিঙ্গকে যৌন সুখ না পাওয়া পর্যন্ত কেন ধরে রাখা যাচ্ছে না। এর আসলে অনেক কারণ থাকতে পারে। যেমন- অসুস্থতা, ক্লান্তি, অবসন্নতা, বিষণ্নতা, মনোশারীরিক চাপ বা সঙ্গীকর্তৃক মনঃকষ্ট পাওয়া, মদ আসক্তি, নেশা এগুলোর ফলেও এমনটি হতে পারে। যৌন অসন্তোষ বা অতৃপ্তি এসব সমস্যাকে আরো বাড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে প্রচলিত যৌনাশঙ্কা হলো দ্রুত বীর্যস্খলন। এটা এক প্রকারের অর্জিত বা শিক্ষণীয় যৌন আচরণের সাহায্যে ঠিক করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে পুরুষটিকে জানতে হবে ও শিখতে হবে কীভাবে বীর্যস্খলনের সময়কে বাড়ানো যায় এবং যৌন অনুভূতি বা শিহরণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
নারীর যৌনাঙ্গ দেখতে পাওয়ার সুযোগ যেহেতু কম তাই অনেকেই এসব গঠন সম্পর্কে ঠিকমতো জানেন না। আবার অনেক মেয়েকেই কেউ হয়তো শিখিয়েছে যে এ জিনিসগুলো বিশ্রী, কাজেই এ সম্পর্কে কাউকে কিছু বলতে নেই বা জিজ্ঞাসা করতে নেই, কিন্তু এ জিনিসগুলো আসলেই কি বিশ্রী বা লজ্জার কিছু? শরীরের অন্যান্য অঙ্গগুলোর মতোই এগুলো কিভাবে কাজ করে তা জানা অবশ্যই দরকার- তবে এ জানা হওয়া দরকার বিজ্ঞানসমমতভাবে। নারীর যৌন অঞ্চলটিকে বলা হয় বহিঃজননদ্বার। এখানে দুই জোড়া ঠোঁটের মতো জিনিস দেখতে পাওয়া যাবে, যার নাম ল্যাবিয়া। যৌবনের সূচনায় বা বয়ঃসকিালে বাইরের ল্যাবিয়া ঘিরে চুল গজাতে শুরু করে। আর ভেতরের ল্যাবিয়া দুটোর আকার এবং রঙ বা বর্ণ একটু তারতম্য দেখা দিতে পারে। যেমন একদিকের ল্যাবিয়া আরেকদিকের চেয়ে একটু বড়। এই ঠোঁটের মতো দেখতে ল্যাবিয়ার ভেতরে থাকে ভগাঙ্কুর বা ক্লাইটোরিস। ভেতরের ল্যাবিয়া সামনের দিকে যেখানে মিলিত হয়েছে সেখানেই ভগাঙ্কুরের প্রকৃত অবস্থান। একজন পূর্ণবয়স্ক নারীর ক্লাইটোরিসের আকার হতে পারে পুরুষের লিঙ্গের পেছনের যে রাবারের মতো থাকে প্রায় তার সমান। কিছু কিছু নারীর ভগাঙ্গুর চামড়া দিয়ে ঢাকা থাকে।
ক্লাইটোরিস অত্যন্ত সপর্শকাতর, সংবেদনশীল আর যৌন আনন্দদায়ক। কিছু কিছু নারী এটাকে সপর্শ করাকে দারুণ পছন্দ করে। উপভোগ করে। তবে কিছু কিছু নারীর কাছে আবার ক্লাইটোরিসের সাথে সরাসরি ঘর্ষণ অসহ্য হতে পারে। তারা বরং ক্লাইটোরিসের চারদিকের অঞ্চলেই সপর্শ সুখ পেয়ে থাকে। নারীর যোনির ভেতরের দিকে একটি পাতলা পর্দা বিদ্যমান যা থেকে কোষ তৈরি হয়, তাকে বলে হাইমেন। টেম্পুন ব্যবহারে এবং প্রথমবার যৌনমিলনের সময় হাইমেন ছিঁড়ে যেতে পারে। কতক নারীর জন্য এটা খুব অস্বস্তিকর ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এতে কিছু রক্তপাতও হতে পারে। বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েরা অন্তর্বাসে তরল পদার্থ বা মিউকাস লক্ষ করে থাকে। এটা সম্পূর্ণ সুস্থ শারীরবৃত্তীয় ব্যাপার। এটা হলুদ বা দুধের মতো সাদা। অনেক নারী যৌনতা নিয়ে এক ধরনের চিন্তা বা অস্বাচ্ছন্দ্যতায় ভোগেন। তারা স্বাভাবিক শরীরের অধিকারী হলেও যৌনাঙ্গ নিয়ে অনেক বেশি অস্থির থাকেন। অবশ্য নারীরা চরমপুলক বা যৌন শিহরণমূলক অনুভূতি অথবা অন্যদের মতো যৌনতা তারা কেন করতে পারেন না এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগেন। হঠাৎ করে কোনো যৌন সঙ্গম একটু ব্যথাদায়ক হলে তাদের ভয়ের সীমা থাকে না। আসলে এ অবস্থাটা সব সময় থাকে না। এক সময় এ ধরনের কষ্টদায়ক অনুভূতি দূর হয়ে যায়। যৌন সঙ্গমের সময় নারী ঠিক যেভাবে বা যেরকম সপর্শ তার ভগাঙ্কুরে কামনা করে সে রকম হয় না। তাই সঙ্গমের সময় এমন একটা পথ বা আসন বেছে নিতে হবে যাতে কি না ক্লাইটোরিসের সাথে মৃদু বা মাঝারি ধরনের ঘর্ষণ নিশ্চিত হয়।
আরিফ মাহমুদ সাহাবুল
http://www.sunagro.info

শিশু, বালক ও বালিকাদের যৌন শারীরতত্ত্ব

আমাদের যৌনাঙ্গসমূহ আমাদের জন্মের পূর্বেই গঠন হয়। প্রথম দিকে যৌনাঙ্গ ও অন্য সব প্রজনন অঙ্গ সব মানুষেরই সমান থাকে। তাদের সবার অঙ্গকেই নারীর অঙ্গ বলে মনে হয়, যতক্ষণ পর্যন্ত ভ্রূণের জন্য পুরুষ জেনেটিক কোড না পায়। তবে ভ্রূণ নারীরূপেই বড় হতে থাকে। অন্যথায় সেই জেনেটিক কোড সিগনাল দ্বারা শরীরের হরমোন পরিবর্তিত হয়ে একটি পুরুষাঙ্গের সৃষ্টি হয়। যে টিস্যুগুলো অন্যথায় ভগাঙ্কুরে পরিণত হতো, তা-ই শিশ্নের রূপ ধারণ করে। যে টিস্যু দ্বারা ওষ্ঠ্য তৈরি হতো সেগুলো দ্বারা অণ্ডকোষ তৈরি হয়।
প্রাথমিক যৌন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য
আমাদের জীবনের প্রথম দিন থেকে সদ্যজাত শিশু হিসেবে আমাদের বড়দের মতোই সমস্ত প্রধান প্রধান যৌন অঙ্গ সব ধরনের কাঠামো থাকে। একটি শিশুর একই ধরনের অভ্যন্তরীণ ও বহির্গত সমস্ত যৌনাঙ্গ ও প্রজনন অঙ্গ থাকে। যা বড়দের হয়ে থাকে। এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলোকে বলা হয় প্রাথমিক যৌন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বা প্রাইমারি সেক্স ক্যারেকটারস্টিকস। আমাদের জন্মগত প্রাথমিক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে আমরা সারাটা জীবন বেঁচে থাকব।
দ্বিতীয় যৌন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য
যেমনি আমাদের শরীর বৃদ্ধি পেয়ে বড় হতে থাকে, আমাদের যৌনাঙ্গসমূহও বাড়ে। বালক-বালিকারা যখন বড় হতে থাকে তাদের শরীরেরও পরিবর্তন ঘটে, যার ফলে বালিকারা নারীর এবং বালকেরা পুরুষেরা মতো দেখতে শুরু করে। এই পরিবর্তনসমূহ ঘটে থাকে বয়ঃসরি সময় এবং তা আমাদের দ্বিতীয় যৌন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে প্রভাবিত করে।
বয়ঃসন্ধিকালে পরিবর্তন ঘটে
বয়ঃসন্ধিকাল এমন একটি সময় যখন হরমোন শরীরের সমস্ত অঙ্গের পরিবর্তনকে উত্তেজিত করে। এই পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় শরীরের অভ্যন্তরে যেসব কিছু ঘটে থাকে তার মধ্যে বালিকাদের রজঃস্রাব শুরু হয় এবং বালকদের শরীরে শুক্রকীট তৈরি হয় এবং তাদের বীর্যপাত ঘটে। এই পরিবর্তন আমাদের বাইরের শরীরেও দেখা দেয়। বালিকাদের স্তন উন্নত হতে থাকে এবং বালকদের মুখে দাড়ি, মোচ গজাতে শুরু করে। প্রত্যেক লোকেরই যৌনকাল আসে তবে কখন এবং কত তাড়াতাড়ি বয়ঃসন্ধিকাল এবং দ্বিতীয় যৌন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বেড়ে উঠবে তা প্রত্যেকটি লোকের জন্য আলাদা। বয়ঃসন্ধিকাল সাধারণত কয়েকটি বছরের জন্য স্থায়ী হয়। বয়ঃসন্ধিকাল বালক এবং বালিকার জন্য একই সময়ে আসে না। প্রায়ই দেখা যায় বালিকারা ৯ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে সাবালিকা হয়ে যায়। বালকরা সাধারণত তার ২ বছর পরে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে সাবালক হতে শুরু করে। বয়ঃসন্ধিকালের সময় সমবয়সী দুজন যুবক মানুষকে খুবই ভিন্ন রকমের দেখা যেতে পারে। তিনজন বুর একটি দল যাদের প্রত্যেকের বয়স ১৩ বছর প্রথমটির মধ্যে সম্পূর্ণ সাবালকের চিহ্ন ফুটে উঠতে পারে, দ্বিতীয়টির সাবালক মাত্র শুরু হতে যাচ্ছে মনে হতে পারে এবং তৃতীয়টির মনে হতে পারে যে তার বয়ঃসন্ধিকাল শুরুই হয়নি।

এই তিনটি মানুষের হতে পারে তিনটি আলাদা দ্বিতীয় যৌন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং তারা সবাই হতে পারে স্বাভাবিক মানুষ। যে সময় বয়ঃসন্ধিকাল শুরু হয় তখন এর দ্বারা বোঝা যায় না যে, শিশুরা বড় হয়ে অন্যদের মতো অনেক বড় না অনেক ছোট হবে। বয়ঃসন্ধিকাল নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই অপ্রস্তুতকারী হতে পারে। এ সময়ের শরীরের মধ্যে যে অসংখ্য পরিবর্তন দেখা দেয় তা খারাপ লাগতে পারে। শিশ্নের খাড়া হয়ে যাওয়া ও রজঃস্রাব পিরিয়ড শুরু হয়ে যেতে পারে যে কোনো অসময়ে। একজনের স্তন বড় হতে শুরু হলে সে আত্মসচেতন হতে শুরু করে। অনেক বেশি ঘাম দিতে পারে। শিশুকালের চেয়ে শরীরের ঘ্রাণ অনেক বেড়ে যেতে পারে। মুখের ওপর বরণ বা ছোট ছোট বিচি যা তৈরি হয় ‘ব্যাকটেরিয়া’ ও ‘ট্রাপেড অয়েল’ দ্বারা- তা একজনকে অনাকর্ষণীয় অনুভব এনে দিতে পারে





নারীর যৌন শারীরতত্ত্ব

নারীর বাইরের যৌনাঙ্গের গঠনপ্রণালী এবং অঙ্গসমূহ
Valva and Monspubis
বালিকা ও পূর্ণবয়স্কা নারীদের বহিরাগত যৌনাঙ্গসমূহ প্রায় মানব চক্ষুর অন্তরালে থাকে। একজন বালিকা দেখতে পারে তার শরীরের বহির্গঠনের কিছু অংশ। যেমন তার দুই পাশে দুটো ডিম্বাকৃতি টিস্যু স্তম্ভের অংশ তার বহিরাগত যৌনাঙ্গ ও প্রজননাঙ্গ এই স্থানের মধ্যে থাকে যাকে বলা হয়ে থাকে ভালভা বা যোনিকপাট। একজন পূর্ণ বয়স্কা নারী অথবা বয়ঃসকিালের বালিকা যদি একটি আয়না দিয়ে দেখে তবে সে তার ভালভা দেখতে পারবে। এটা তার যৌনকেশ দ্বারা আচ্ছাদিত থাকে। নারীর ভালভার উপরের অংশে থাকে মাংসল চর্বিযুক্ত টিস্যু যেটা তার যৌনাঙ্গ ও শরীরের মধ্যস্থিত প্রজনন অঙ্গকে সুরক্ষা করে। এটাকে বলা হয় Monspubis
ভালভা দেখার সবচেয়ে ভালো পথ হচ্ছে একটা আয়না ধরে নিজেকে নাড়াচাড়া করে এবং ভালভার দুই পাশ টেনে ধরে ভালভা দুটোকে আলাদা করে দেখা। ভালভার মধ্যস্থিত অংশগুলো হচ্ছে-
  • উপরের বা বাইরের ঠোঁট
  • ভেতরের ঠোঁট
  • ভগাঙ্কুর
  • যোনি মুখ বা যোনি
  • দুটি বার্থোলিনগ্রন্থি

লেবিয়া মেজরা ও লেবিয়া মাইনরা
লেবিয়া মেজরা ও লেবিয়া মাইনরা হচ্ছে দুটো ফোল্ডিং করা মাংসের পেশি বা টিস্যু যা ভালভার বহিরাংশে থাকে এবং সে দুটো উরুর সাথে মিশে থাকে। যোনি লোম প্রায়ই গজিয়ে ওঠে লেবিয়া মেজরার উপরে। এটা হয় বয়ঃসকিালে ও তৎপরবর্তী বয়স্কা নারীদের শরীরে। লেবিয়া মেজরার মধ্যে রয়েছে চর্বিযুক্ত টিস্যু, সুতরাং এটা লেবিয়া মাইনরার চেয়ে পুরু। এই চর্বিযুক্ত টিস্যু ভালভার অন্যান্য অংশকে সুরক্ষা করে। আপনি যদি লেবিয়া মেজরাকে উল্টে ধরেন তবে আপনি পরিষকারভাবে তার মধ্যে লেবিয়া মাইনরাকে দেখতে পাবেন।
লেবিয়া মাইনরা ভালভার অভ্যন্তরীণ অন্য অংশগুলোকে সুরক্ষার জন্য তার চারপাশ ঘিরে রাখে। তাদের ওপর যোনি লোম থাকে না। ভেতরে ও বাইরের ঠোঁট দুটো শেষ প্রান্তে গিয়ে মিশে গেছে যেমন উপরের দিকে তেমনি নিচের দিকের ভালভার সাথে। নারীদের লেবিয়ার আকার ও গঠন ব্যক্তি বিশেষে অনেক পার্থক্যপূর্ণ- অর্থাৎ ছোট- বড় হতে পারে, হতে পারে চ্যাপ্টা বা পাতলা।
ভগাঙ্কুর ও ভগাঙ্কুরের হুড
ভগাঙ্কুর ভালভার উপরিভাগে অবস্থিত। এটা যেখানে দুটো লেবিয়া এসে মিশেছে তার কোমল ফোল্ডের মধ্যে অবস্থান করে। এটা নারীর যৌনাঙ্গের মধ্যে অত্যন্ত মূল্যবান অঙ্গ। এটাকে ইংরেজিতে বলে ‘ক্লাইটোরিস’ বাংলা ‘ভগাঙ্কুর’। ভগাঙ্কুরের একমাত্র কাজ হচ্ছে বালিকা ও পূর্ণবয়স্কা নারীদের যৌন আনন্দ দেয়া। ভগাঙ্কুরের মাথাকে বলে গ্ল্যান্স। এক নারীর থেকে অন্য নারীর ভগাঙ্কুরের পার্থক্য থাকে তবে তারা প্রায়ই একই সাইজের হয়ে থাকে। যে স্যাফটটি ভগাঙ্কুরের গ্ল্যান্সকে সাপোর্ট দিয়ে রাখে তা ‘দুটো পায়ে’ বিভক্ত। সেগুলো নারীর শরীরের মধ্যে থেকে যোনির দুই পাশে পা ফাঁক করে দাঁড়িয়ে থাকে। স্যাফট এবং গ্ল্যান্সগুলো ভগাঙ্কুরের উপরে ‘ক্লইটরিয়াল হুড’ দ্বারা ঢাকা থাকে। ভগাঙ্কুরের গ্ল্যান্সগুলো অত্যধিক সপর্শকাতর ও যৌন সংবেদনশীল। সপর্শ করলেই তা সজীব হয়ে ওঠে। ভগাঙ্কুরের মধ্যে এক ধরনের টিস্যু আছে যাকে বলা হয় ‘করপাস কভারনোসা টিস্যু’ যার কারণে যৌন আচরণের সাথে তাতে রক্তে পরিপূর্ণ হয়ে গিয়ে ক্লাইটেরিস ফুলে ওঠে।
নারীদের খতনা
নারীদের খতনা করানো হয়ে থাকে দক্ষিণ আফ্রিকা, মিডল ইস্ট এবং দক্ষিণ এশিয়ার কোনো কোনো দেশে। আমেরিকাতে হয়ে থাকে ওইসব দেশের বসতি স্থাপনকারী নারীদের মধ্যে। যারা এখনো তাদের পুরনো সংস্কৃতিকে ধারণ করে আছেন। নারীদের খতনা করা হয় ভগাঙ্কুরের হুড বা মাথা কেটে ফেলে। কখনো কখনো পূর্ণ ক্লাইটোরিস ও লেবিয়াও কেটে ফেলা হয়।
নারীদের খতনার অভ্যাস চালু রয়েছে সংস্কৃতির কারণে। এটা প্রায়ই হয়ে থাকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। যার দ্বারা অত্যন্ত মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং এর দ্বারা যৌন সপর্শকাতরতা কমে যায়। এসব কারণে এই অভ্যাসকে ব করার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আন্দোলন চলছে। নারীর খতনাকে ইংরেজিতে প্রায়ই বলা হয়ে থাকে Clitoridectomy or FGM. খতনা করার স্বপক্ষে কোনো স্বাস্থ্যগত বা মেডিকেল কারণ নেই। যদিও এর পরেও তারা যৌন জীবন যাপন করতে পারেন। যেসব নারীর খতনা করা হয় তারা অন্যদের মতো একই ধরনের ভগাঙ্কুরের অনুভূতি যৌনমিলনের সময় পায় না।
ইউরেথ্রার মুখ
বালিকা ও নারীদের শরীরে প্রস্রাবের নালির মুখটি অবস্থিত হয় ভগাঙ্কুরের নিচে এবং যোনি মুখের উপরে। প্রস্রাবের নালীর মুখ দেখা সহজ নয় কারণ এটা থাকে দুটো ভালভা এরিয়ার মধ্যে লুকানো। অনেক বালিকা ভুলবশত বিশ্বাস করে যে, তাদের প্রস্রাব আসে যোনি নালীর মধ্য দিয়ে। অল্প বয়সী ছেলেমেয়েরা ইউরেথ্রার কাজ নিয়ে বিভ্রান্ত হতে পারে। প্রস্রাবের নালী বা ইউরেথ্রা নারীদের প্রজনন সিস্টেমের অংশ নয়। এর সম্পূর্ণ কাজ হচ্ছে প্রস্রাবের থলে থেকে প্রস্রাবকে বের করে বাইরে ফেলে দেয়া।
যোনিমুখ
যোনিমুখকে ইংরেজিতে বলে ‘ভ্যাজাইনাল ওপেনিং’। সরাসরি প্রস্রাবের নালীর মুখের নিচেই যোনিমুখ।
 যোনিমুখের চারপাশের টিস্যুকে বলা হয় introitus। যোনিমুখের রয়েছে তিনটি জরুরি কাজ।
  • এটা নারীর রজঃস্রাব বের করার পথ, যা তার শরীর থেকে নির্গত হয়
  • যোনির মাধ্যমে যৌন সঙ্গমের সময় এর মধ্যে শিশ্নকে প্রবেশ করানো হয়
  • এই নালীর ও যোনিমুখের মধ্য দিয়ে সন্তান প্রসব লাভ করে।
বার্থোলিনস গ্ল্যান্ড
যোনিমুখের দুই পাশে দুটো অভ্যন্তরীণ গ্ল্যান্ড রয়েছে লেবিয়া মাইনরার মধ্যে, তাদেরকে বলা হয় বার্থোলিনস গ্ল্যান্ডস। এরা নারীর যৌন উত্তেজনার সময়ে এক প্রকার তরল রস নিঃসরণ করে যেটা নারীর যোনিকে পিচ্ছিল করে দেয়।
স্তনযুগল
নারীর স্তনযুগল হচ্ছে খুব জরুরি শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক আনন্দের উৎস। পৃথিবীর প্রায় সব সংস্কৃতিতে তারা নারীদের আকর্ষণের প্রধান উপাদান বলে গণ্য হয়। স্তন দুটোর উত্তেজনা যৌনমিলনের সময় নারীকে প্রচুর আনন্দ দিতে পারে। নারীর স্তন দুটো শিশু জন্মদানের পর তার জন্য দুধ তৈরি করে জীবন বাঁচাতে সাহায্য করে। অনেক মা শিশুকে দুধ খাওয়ানোর সময় একটা সুখের অনুভূতি লাভ করেন।
স্তনের সর্বাগ্রে রয়েছে স্তনের চূড়া বা নিপল। নিপলের মধ্যে রয়েছে ছিদ্র যার মধ্য দিয়ে বুকের দুধ প্রবাহিত হয়। নিপলের চারপাশ ঘিরে রয়েছে এরিওলা। নিপল এবং এরিওলা এক ধরনের টিস্যু দ্বারা এবং পেশি দ্বারা তৈরি যা ঠাণ্ডার সময় কুঁচকে যায়, যৌন জাগরণের সাথেও কুঁচকে যায়। এটা পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে। স্তনের মধ্যে এক ধরনের বিশেষ কোষের মধ্যে দুধ তৈরি হয়- সেগুলোকে বলা হয় Alveoli sacs। এই স্যাক্সগুলো একসাথে দলবদ্ধ হয়ে থাকে যে এরিয়ার মধ্যে তাকে বলা হয় Lobes। এই কোষগুলো স্যাকস ও লোবেলসগুলো দুধ তৈরি করতে শুরু করে একজন নারী গর্ভবতী হওয়ার পর থেকেই। এই সময়ে শরীর এক ধরনের হরমোন তৈরি করে যা দুধ তৈরিকে উত্তেজিত করে। বাচ্চা যখন গর্ভের বাইরে চলে আসে নারী তখন আর গর্ভবতী থাকে না। তখন দুধ চলে আসে দুধের গর্তের মধ্যে। এগুলোকে বলা হয় Milk ducts। এগুলো হচ্ছে এক ধরনের টিউবের মতো খাঁচা যার সংযোগ রয়েছে নিপলের সাথে। শিশু যখন মায়ের নিপলে চোষা দেয় তখন সেই গর্ত থেকে দুধ নিপলের মধ্যে চলে আসে এবং শিশু স্বাচ্ছন্দ্যে দুধ পান করে।
নারীর অভ্যন্তরীণ যৌনাঙ্গ এবং প্রজনন অঙ্গ
এই অঙ্গসমূহের মধ্যে রয়েছে নিম্নোক্তগুলো-
  • যোনি বা ভ্যাজাইনা
  • গ্রীবা বা সার্ভিক্স
  • জরায়ু বা ইউটেরাস
  • জরায়ু নালী বা ফেলোপিয়ান টিউব
  • ডিম্বাশয় বা ওভারিস
এসব অঙ্গসমূহ একটি হাড়ের ও পেশির দ্বারা সাপোর্ট দেয়া আছে। সে কাঠামোটাকে বলা হয় Pelvic girdle. নারী-পুরুষ উভয়েরই পেলভিক গার্ডেল আছে। নারীদের শরীরে এটা বেশি উন্নত এবং চওড়া, কারণ গর্ভধারণের সময় এটাকে ভ্রূণের ভার সহ্য করতে হয়। এই কারণেই বালিকা ও নারীদের উরু বা নিতম্ব পুরুষের নিতম্বের চেয়ে প্রায়ই চওড়া হয়।
যোনি
যোনি হচ্ছে নারীদের যৌনাঙ্গ যা বাইরে থেকে ভেতরের প্রজনন অঙ্গসমূহের সাথে মিলিত করে। যোনির মুখ হচ্ছে দুটি কপাটিকার মাঝখানে, প্রস্রাবের নালীর নিচে। যোনি হচ্ছে একটি নরম পিচ্ছিল শিথিল পথ যা হচ্ছে ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি লম্বা। এর শিথল অবস্থায় নরম ভেজা ভেজা গর্তটির দুই পাশ এসে অন্যের সাথে মিশে থাকে যেমন বায়ুহীন বেলুন থাকে। বেলুনের মতো যোনিরও ক্ষমতা আছে তা অনেক বেশি বড় হয়ে যেতে পারে।
শিথিল যোনি যৌন সঙ্গমের সময় শিশ্নকে ধারণ করতে পারে এবং শিশুজন্মের সময় ভ্রূণ বা বাচ্চার মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারে। যোনিকে আবার জন্মনালীও বলা হয়। জন্মের সময় শিশু জরায়ুর গ্রীবা থেকে চলতে শুরু করে এবং যোনি নালীর মধ্য দিয়ে এসে নারীর শরীরের বাইরে চলে আসে। রজঃস্রাবের সময় রক্ত এবং টিস্যু এই পথ দিয়েই বেরিয়ে আসে।
হাইমেন বা সতীচ্ছদ
চামড়ার একটি পাতলা পর্দা যোনি মুখের উপরে থাকতে পারে, যাকে বলা হয় সতীচ্ছদ। ইংরেজিতে তাকে বলে হাইমেন। এর মধ্যের ক্ষুদ্র জালির মতো ছিদ্র রজঃস্রাবকে বাইরে চলে আসতে দেয়। প্রায় সব মেয়েই সতীচ্ছদ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে থাকে। অনেকের আবার জন্মকাল থেকেই সতীচ্ছদ থাকে না। সতীচ্ছদের অবস্থা তিনটি কারণে যৌন কৌমারিত্বের জন্য ভালো বলে প্রদর্শিত হয় না।
  • একটি বালিকা শিশুকালেই সতীচ্ছদ ছাড়া জন্ম নিয়ে থাকতে পারে
  • দৈনন্দিন দৌড়াদৌড়ি খেলাধুলা ও শারীরিক ব্যায়ামের সাথে সতীচ্ছদ অতি সহজেই ছিদ্র হয়ে যেতে পারে
  • অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত পোশাক যন্ত্র ব্যবহারের কারণেও সতীচ্ছদ ছিদ্র হয়ে যেতে পারে।
জি স্পট
যোনি নালীর মধ্যে একটি স্থান আছে যাকে বলা হয় গ্রাফেনবার্গ স্পট বা জি স্পট। এটা যোনিমুখ থেকে এক বা দুই ইঞ্চি ভেতরে যোনি প্রাচীরের সাথে যা নাভীমুখের সঙ্গে মিলিত থাকে। জি  স্পট যৌনতার জন্য খুবই সপর্শকাতর এবং যৌন সঙ্গমের সময় কিছুটা ফুলে ওঠে।
কৌমারিত্ব ও সতীচ্ছদ
অনেক লোকের কাছে সতীচ্ছদ হচ্ছে একটি জরুরি কৌমারিত্বের চিহ্ন। তারা বিশ্বাস করে যে, যে নারীর সতীচ্ছদ ছেঁড়া থাকে তার যোনিতে কোনো বালক বা পুরুষ তার শিশ্ন প্রবেশ করিয়েছে। কিন্তু তা সব সময় সত্য নয়। তার কারণ অনেক নারী হাইমেন ছাড়াই জন্মগ্রহণ করে। অন্যান্য অনেকেই খেলাধুলার ও ব্যায়ামের কারণে সতীচ্ছদ ছিঁড়ে যায়। হাইমেন ছিদ্র হওয়ার কারণে কিছু রক্তপাত ঘটতে পারে।
খেলাধুলার মতো সাধারণ কারণে যেমন ঘোড়ায় চড়া বা বাইসাইকেল চড়ায়ও সতীচ্ছদ ছিদ্র হয়ে যেতে পারে। একজন কনের কৌমারিত্বের অনেক বেশি মূল্য দেয়া হয় অনেক সংস্কৃতিতে, যারা বিশ্বাস করে যে একজন নারীর যৌনসঙ্গী হতে পারে একমাত্র তার স্বামীই। যৌন সঙ্গমের সময় রক্তপাত হলেই বিশ্বাস করা হয় যে এটা নারীর কৌমারিত্বের লক্ষণ। এসব সংস্কৃতিতে বিবাহের প্রথম ফুলশয্যার রাত শেষে কৌমারিত্ব পরীক্ষার জন্য দম্পতির বিছানার চাদরে রক্ত লেগে আছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখা হয়। যদি রক্ত দেখা যায় তবে নারীটিকে বিবেচনা করা হয় যে তার কৌমারিত্ব ঠিক আছে। যাই হোক একজন নারীর প্রথম যৌনসঙ্গমের পরে রক্তপাত না হলেও তিনি কুমারী বা তার কৌমারিত্ব সঠিক থাকতে পারে।
প্রস্রাবের নালী
প্রস্রাবের থলি থেকে প্রস্রাব এই নালীর মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসে এবং প্রস্রাবের নালীর মুখ দিয়ে শরীরের বাইরে বেরিয়ে যায়। বালিকা ও নারীদের প্রস্রাবের নালী বালক ও পুরুষের প্রস্রাবের নালী থেকে অনেক ছোট। কারণ পুরুষদের মতো নারীদের শিশ্ন নেই এবং তাদের প্রস্রাবের নালী তাদের মতো বাইরেও আসে না।
স্কেনেস গ্ল্যান্ডস
দুটো স্কেনেস গ্ল্যান্ড থাকে শরীরের মধ্যে প্রস্রাবের নালীর দুই পাশে। তাদের মুখ প্রস্রাবের নালীর সাথে। নারীদের জি সপটের উত্তেজনা বৃদ্ধি হলে স্কেনেস গ্ল্যান্ডস থেকে তরল রস ক্ষরণ হয় এবং এর দ্বারা নারীদের বীর্যপাত হতে পারে।
জরায়ু
জরায়ু হচ্ছে নারীর গর্ভে অবস্থিত নাশপাতির আকারের একটি প্রজনন অঙ্গ। যাকে সাধারণত মাতৃগর্ভ বলা হয়। এটা শক্তিশালী পেশির দেয়াল দিয়ে গঠিত হয় এবং তার গঠন হয় একজন নারীর মুষ্টি হাতের মতো।
জরায়ুর নিম্নাংশের চিকন ভাগ বা জরায়ুর গ্রীবাকে সারভিক্স বলে। প্রায় অর্ধেকের মতো সারভিক্স যোনি নালীর মধ্যে অবস্থান করে। সারভিক্সের একটি মুখ যাকে বলা হয় OS, যেটা একটা সংযোগ নালী, যা জরায়ুর ভেতর থেকে যোনি পর্যন্ত সংযোগ দেয়। এর সবচেয়ে চিকন অংশ হচ্ছে সারভিক্সের মুখ যা একটা পেন্সিলের শিষের মতো চওড়া।
সারভিক্সের মধ্য দিয়ে রজঃস্রাব প্রবাহিত হয়ে যোনির মধ্য দিয়ে বেরিয়ে যায়। বাচ্চা প্রসবের সময় সারভিক্সের আকার বেলুনের মতো প্রসারিত হয়ে যায়। যৌন সঙ্গমের সময় শিশ্নটি সারভিক্সের মধ্যে প্রবেশ করে না। শিশ্নটি সারভিক্সের মুখে আঘাত করতে পারে, যা কোনো কোনো নারীর জন্য আনন্দদায়ক হয়। অনেকে আবার এর উপরের আঘাতকে অস্বস্তিকর বলে মনে করেন। জরায়ুর মধ্যের গঠনটি একটি ত্রিভুজ আকারের স্থান। এটাকে ঘিরে আছে মোটা টিস্যুর দেয়াল ও রক্তপ্রবাহ। এর লাইনিংকে বলা হয় endometrium। নারী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর এটা হয়ে যায় উর্বর ডিমের জন্য পাখির বাসার মতো।
এন্ড্রোমেট্রিয়াম বিশেষভাবে মাসের মধ্যে কয়েকদিনের জন্য খোলা থাকে। যদি নারীর একটি ডিম্ব উর্বর হয় এই সময়ের মধ্যে তবে সেটা সরে এসে জরায়ুর দেয়ালে এন্ড্রোমেট্রিয়ামের সাথে লেগে যায়। এটা হয়ে গেলে গর্ভধারণ শুরু হয়ে যায় এবং এন্ড্রোমেট্রিয়াম সেই উর্বর ডিম্বটিকে সেবা-শুশ্রূষা শুরু করে বা ভ্রূণকে সেবা দান করে। যদি ফার্টালাইজেশন বা উর্বরতা না ঘটে অথবা যদি ভ্রূণ দেয়ালের সাথে না লেগে যায় তবে অন্তর্জরায়ুর অন্তবেষ্টিক বা এন্ড্রোমেট্রিয়াম ভেঙে ভেঙে স্রাব আকারে যোনির মধ্য দিয়ে বেরিয়ে যায়। এটাকেই রজঃস্রাব বা মেনস্ট্রুয়েশন বলে।
যদি গর্ভধারণের উন্নতি হয় এবং ভ্রূণ বাড়তে থাকে তবে প্রি-এমব্রায়ো বেড়ে গিয়ে পূর্ণ ভ্রূণে পরিণত হয়। যখন ভ্রূণ বড় হয়ে শরীরে বাইরে আসার সময় হয়, জরায়ুর পেশিগুলোতে খিঁচুনি হয় যাকে বলা হয় লেবার পেইন, এটা হচ্ছে জরায়ুর ভেতর থেকে ভ্রূণকে বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়া। তখন সারভাইক্যালের মুখ খুলে প্রশস্ত হয়ে যায় এবং OS আরো নিচে নেমে যোনি পর্যন্ত চলে আসে। তখন যোনির মুখ দিয়ে সন্তান শরীরের বাইরে চলে আসে।
ডিম্বাশয়
২টি ডিম্বাশয়ের মধ্যে নারীদের শরীরে ডিম্ব তৈরি হয় যখন তারা সাবালিকা হয়। ডিম্বাশয় দুটো তলপেটের দুইপাশে অবস্থিত থাকে। যদি আপনি অনুভব করতে চান যে ডিম্বাশয় দুটো কোন স্থানে আছে তাহলে আপনার একটি আঙুল নাভির উপরে রাখুন এবং সরাসরি আঙুলটি টেনে এনে পায়ের উপরের অংশে লাগান। যখন আপনার আঙুলটি এই পথের অর্ধেক পর্যন্ত এসেছে তখনই আপনার আঙুলটি ডিম্বাশয়ের উপরে আছে। প্রত্যেক পাশে একটি ডিম্বাশয় আছে একটি ডান পাশে একটি বাম পাশে। প্রত্যেকটি অভারি একটা আলমন্ড বা আলুবোখারা বা বাদামের মতো। একটি শিশু বালিকার ডিম্বাশয়ের মধ্যে জন্মের সময় এক মিলিয়ন অপরিপক্ব ডিম থাকে।
জি স্পট এবং নারীর বীর্যস্খলন
মনে করা হয় যে জি সপট নারীর যৌন উত্তেজনা ও নারীর বীর্যপাতকে প্রভাবিত করে। একসময়ে বিশ্বাস করা হতো যে একমাত্র প্রস্রাবই চলাচল করে নারীদের প্রস্রাবের নালীর ভেতর দিয়ে। যাই হোক গবেষকগণ অধুনা গবেষণায় দেখতে পেয়েছেন যে, এর মধ্য দিয়ে নারীদের বীর্যপাত ঘটে। কোনো কোনো মেয়েলোকের যৌন উত্তেজনা এবং চরমপুলকের সময় ইউরেথ্রার মধ্য দিয়ে তীব্র বেগে বীর্যস্খলন ঘটে। কিছু কিছু নারীর মধ্যে এই তরল পদার্থটি শুধু প্রস্রাব এবং বীর্য নয়। অন্য নারীদের ক্ষেত্রে এই তরল পদার্থটি পুরুষদের প্রোস্টেটের মধ্যে তৈরি তরল পদার্থের মতো। এটা ধারণা করা হয় যে, প্রায় ১০% মেয়েলোক এই ধরনের বীর্যপাতের অভিজ্ঞতা লাভ করে থাকে।
ফেলোপিয়ান টিউব
একটি করে ফেলোপিয়ান টিউব জরায়ুর দুই পাশের সাথে ও ডিম্বাশয়ের সাথে যোগ করা থাকে। যার মধ্য দিয়ে ডিম্ব চলে এসে জরায়ুতে পড়ে। এই টিউবটির একমাথা খোলা থাকে জরায়ুর মধ্যে অন্য মাথা খোলা থাকে ডিম্বাশয়ের অত্যন্ত কাছে। যখন একটি ডিম ছাড়া হয় তখন ডিমটি অতি সহজে ফেলোপিয়ান টিউবের খোলা মুখে প্রবেশ করতে পারে। প্রত্যেকটি টিউবের মাথায় সুন্দর চুলের মতো ফ্রিনজেস আছে, যেটা একটি পাকাপোক্ত ডিমকে টেনে ওভারি থেকে টিউবের মধ্যে নিয়ে আসে। ফেলোপিয়ান টিউবের সংকোচন ও সিলিয়ার নড়াচড়ার কারণে ডিমটি সরে এসে জরায়ুর মধ্যে প্রবেশ করে।
সাধারণত ফেলোপিয়ান টিউবের মধ্যেই শুক্রকীট ও ডিমের মিলন হয়। শুক্রকীটগুলো প্রথমে বীর্যের সাথে যোনি নালীর মধ্যেই জমা হয়, তারপর সেগুলো সারভিক্সের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতার সাঁতার শুরু করে এবং জরায়ুর মধ্য দিয়ে গিয়ে ফেলোপিয়ান টিউবের মধ্যে প্রবেশ করে। যদি একটি ডিম শুক্রকীটের দেখা পায় এবং তার সাথে মিলিত হয়ে তাকে গ্রহণ করে, তবেই তাকে ফার্টিলাইজেশন বা উর্বরতা বলা হয়। ডিম বা ডিম্ব হচ্ছে মানব দেহের সর্ববৃহৎ কোষ। এটা ‘i’ এর উপরের ডটের মতো আকারের। ডিমগুলো ডিম্বাশয়ের মধ্যে জমা থাকে। যে স্থানটিতে ডিম থাকে তাকে বলা হয় follicles। প্রত্যেকটি ফলিকেলের মধ্যে এক একটি অপরিপক্ব ডিম থাকে। প্রত্যেক মাসে অনেকগুলো ফলিকেলের জন্ম হয়। মাত্র একটি বা দুটো ডিম পরিপক্ব হয়ে প্রতিমাসে সেখান থেকে মুক্ত হয়ে বেরোয়। বছরের যে কোনো সময়ে এই ডিম্ব ক্ষরণ ও তার শুক্রকীটের সাথের মোলাকাত হলেই একজন নারী গর্ববতী হয়। এই প্রসেসকে বলা হয় Ovulation এবং এটা শুরু হয় সাবালিকা হওয়ার পর।
ডিম্বাশয়ের মধ্যে হরমোনও তৈরি হয়, যা ডিম্বক্ষরণের জন্য প্রয়োজন হয় এবং প্রয়োজন হয় একটি বালিকার সাবালিকা হওয়ার জন্য বৃদ্ধিতে। ডিম্বাশয়ের মধ্যে যে হরমোন তৈরি হয় তা হচ্ছে ইস্ট্রোজেন এবং প্রজেস্টেরোন। এগুলো অন্যান্য হরমোন যা ডিম্বক্ষরণকে প্রভাবিত করে। জরায়ু পর্যন্ত ডিম চলাচলের পথকে এবং সর্বশেষে প্রত্যেক মাসে রজঃস্রাবের মাধ্যমে জরায়ুর মধ্যে লাইনিংগুলোকে শেষ করাকেও প্রভাবিত করে। এই ছাঁচকে বলা হয় রজঃস্রাব চক্র বা menstrual cycle। এটাও একজন নারীর গর্ভধারণ অবস্থায় হয় না, তবে তার সারা জীবনভর প্রজনন ক্ষমতার সময়কাল পর্যন্ত চলতে থাকে। কিছু কিছু নারী অনুভব করতে পারেন যে, তাদের ডিম্বাশয় ডিম্বক্ষরণের সময় কিছুটা নরম হয়েছে। এটার ডাক্তারি নাম হচ্ছে Mittes chmerz. নারীরাই অনুর্বর ডিম্ব ঝরে যাওয়ার ও জরায়ুর লাইনিং ক্ষরণ হওয়ার বিষয়ে সজাগ থাকে। এই মাসিক ঘটনাকে বলা হয় রজঃস্রাব।
রজঃস্রাব
রজঃস্রাব চক্রকে নাম দেয়া হয়েছে একজন নারীর শরীরের হরমোন ওঠানামা করার প্রক্রিয়াকে বোঝানোর জন্য। যার কারণে নারীর অন্তর্জরায়ুর মধ্যে রক্ত জমা হয় ও ক্ষরণ হয়। এই চক্রের অংশবিশেষকে যখন নারীর গর্ভবতী হওয়ার সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা থাকে বলা হয় উর্বর সময়। এটা সাধারণত শুরু হয় ডিম্বক্ষরণের ছয় দিন পূর্ব থেকে। এই চক্রের অন্য সময়ে তার গর্ভধারণ করার সুযোগ অনেকটা কম থাকে এবং এই সময়টায় নারী অনেক কম উর্বর বা অনুর্বর থাকেন।
Menarche, ঋতু আরম্ভের কাল। এটা হচ্ছে সেই সময় যখন প্রথম রজঃস্রাব শুরু হয় এবং Menopause সংজ্ঞাটি ব্যবহার করা হয় রজঃস্রাব চক্রটি শেষ হওয়ার পথে যখন সর্বশেষ রজঃস্রাব হয়। প্রত্যেকটি নারীর শরীরই আলাদা এবং এই ঘটনাগুলো প্রত্যেক নারীর মধ্যে একই বয়সে ও সময়ে ঘটে না। সাধারণত মেয়েদের ৯ বছর বয়স থেকে ১৪ বছরের মধ্যে রজঃস্রাব শুরু হয় এবং মেনোপজ ঘটে ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে।
একজন নারী যদি জানে যে, তার রজঃস্রাব চক্র কী করে হয় তা তাকে বুঝতে সাহায্য করবে কীভাবে উর্বরতা এবং গর্ভধারণ সংঘটিত হয় এবং কীভাবে গর্ভ পরিকল্পনা করা অথবা গর্ভধারণ পরিহার করা যায়। রজঃস্রাবের প্রথম দিন থেকে পরবর্তী রজঃচক্র স্রাবের প্রথম দিন পর্যন্ত এক রজঃস্রাব চক্র। এই চক্রের দৈর্ঘ্য এক এক নারীর জন্য এক এক রকম এবং তা এক মাস থেকে অন্য মাসে পরিবর্তিতও হতে পারে। একটি বিশেষ ধরনের রজঃস্রাব চক্র দীর্ঘায়িত হতে পারে ২১ থেকে ৩৫ দিন পর্যন্ত। রজঃস্রাব চক্র নির্ভর করে একটি ডিম্বের ডিম্বকোষ থেকে নিঃসরণের পর তার কী অবস্থা হয়, তার উপরে। এর দুটো স্তর আছে- ডিম্বক্ষরণের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অবস্থাসমূহ। এই সমস্তটা আশ্চর্য ঘটনা মস্তিষেকর মধ্যে অবস্থিত একটি ছোট গ্রন্থি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়; তাকে বলা হয় পিটুইটারি গ্ল্যান্ড। পিটুইটারি গ্ল্যান্ডের মধ্যে একপ্রকার তরল রস তৈরি হয় তাকে বলে হরমোন। সেই হরমোন ডিম্বাশয় ও জরায়ুকে উত্তেজিত করে নারীর রজঃস্রাব চক্রের মাধ্যমে। চারটি হরমোন যা রজঃস্রাব চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করে তা হচ্ছে-
  • প্রোজেস্টেরন (Progesterone)
  • L. H (Iuteinizing hormone)
  • F. S. H (Follicle Stimulating hormone)
রজঃস্রাবের প্রথম চক্র যোনি থেকে ১ম দিনের রক্ত ও টিস্যু নির্গমনের মুহূর্ত থেকে চিহ্নিত হয়। প্রথম দিন হচ্ছে গত মাসের ক্ষরিত ডিম্বটির কী অবস্থা হয়েছে তারই ফলাফল। যদি ক্ষরিত ডিম্বটি উর্বর না হয়ে থাকে, তবে যে এন্ড্রোমেট্রিয়াম উর্বর হওয়া ডিম্বটিকে অভ্যর্থনার জন্য তৈরি হয়েছিল সেগুলো ঝরে যাবে। একবার এটা হয়ে গেলে নতুন করে আবার প্লাস টিস্যু লাইনিং জরায়ুর মধ্যে তৈরি হবে নতুন আর একটি ডিম্বকে গ্রহণের জন্য।
পুরাতন লাইনিংয়ের ঝরে যাওয়াকে বলা হয় রজঃস্রাব বা তার পিরিয়ড চলছে। এটা দুদিন থেকে সাতদিন পর্যন্ত চলতে পারে। যে টিস্যুগুলো ঝরে যায় তাকে বলা হয় রজঃ বা রজঃস্রাবের প্রবাহ, কারণ এটা শরীরের বাইরে প্রবাহিত হয়ে যায়। রজঃস্রাব প্রবাহিত হয় সারভাইক্যাল-এর মুখ দিয়ে নিচের যোনির দিকে এবং যোনি মুখের মধ্য দিয়ে শরীরের বাইরে চলে যায়। রজঃস্রাবের মধ্যে রয়েছে তরল রস, টিস্যু, তিন থেকে চার টেবিল চামচের মতো রক্ত। যখন বালিকারা তাদের প্রথম রজঃস্রাব চক্র শুরু করে তারা রক্ত দেখে ঘাবড়ে যেতে পারে। এর কারণ পূর্বে তাদের যত রক্ত দেখার অভিজ্ঞতা ছিল তা ছিল কোনো কাটা ছেঁড়ার বা অসুস্থতার রক্ত দেখার। অনেকের বিশ্বাস যে এই রক্তটা অপরিষকার, ময়লা এবং অস্বাস্থ্যকর। এটা সত্য নয়। এই রক্তস্রাবের ব্যাপারটা একটা স্বাস্থ্যকর শরীরের চিহ্ন।
অনেক সময় রজঃস্রাবের রক্ত দেখা যায় বেগুনি রঙের, কিছু নারী তা দেখে চিন্তিত হয়। বেগুনি রক্তের প্রবাহ সঠিকভাবে স্বাভাবিক হতে পারে এটা তখনই দেখা যায়, যখন রক্তের প্রবাহ হয়, তরুণ বালিকা সাধারণত পিরিয়ডের প্রথম অথবা শেষের দিকে এরূপ হয়ে থাকে। এটা বেগুনি হওয়ার কারণ রক্তকে গর্ত থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং সেখান থেকে খুব তাড়াতাড়ি টেনে বের করে আনা হয়নি, যখন রজঃস্রাব ধীরে ধীরে প্রবাহিত হতে থাকে, তারা যোনি প্রদেশ ত্যাগ করার পূর্বেই বেগুনি রঙ ধারণ করতে পারে।
যোনির নিচে যখন সেনেটারি প্যাড বা তোয়ালে ব্যবহার করা হয় অথবা নিচলবাসের সাথে থাকে, তা যোনির নিচে এমনভাবে মিশে থাকে যে রক্ত বের হওয়ার সাথে সাথে তা চুষে নেয়। এগুলো এমন সপঞ্জিও পদার্থে তৈরি হয় যে, সেগুলো রক্তের প্রবাহকে গ্রহণ করে নেয় এবং জামা কাপড় খারাপ হওয়া থেকে বাঁচায়। পিরিয়ড শেষ হয়ে যাওয়ার একটু পরেই একজন নারীর শরীরে একটি ডিম্ব ডিম্বাশয় ত্যাগ করার জন্য তৈরি হয়ে যায়। মস্তিষেকর মধ্যস্থিত পিটুইটারি গ্রন্থি FSH (follicle stimulating hormine) ছাড়তে শুরু করে যেটা ডিম্বাশয়ের মধ্যস্থিত folliclcs কে উত্তেজিত করে। সাধারণত একটি ফলিকেল পাকাপোক্ত হয় এবং সেই ফলিকেলের মধ্যের ডিম্বটি পাকাপোক্ত হয়ে সুগঠিত হয়। পরিপক্বতা প্রাপ্তিকালে ফলিকেলটি একটি হরমোন তৈরি করে, যাকে বলা হয় এস্ট্রোজেন। এস্ট্রোজেন একটি বার্তা প্রেরণ করে যা এন্ড্রোমেট্রিয়ামকে রক্ত ও টিস্যুর দ্বারা পুরু করে। ডিমটি কবে রিলিজ হবে সেই দিনটি জানা খুবই কষ্টকর। কারণ এটার ক্ষরণ আগে-পিছে হতে পারে।
তবে ২৮ দিনের চক্রের মধ্যে রজঃস্রাবের পরের ১৩ থেকে ১৬ দিনের মধ্যে একটি নতুন ডিম ক্ষরণ হবে। ডিম্বাশয় থেকে নতুন ডিম ক্ষরণকে বলা হয় ডিম্বক্ষরণ বা ওভালুয়েশন। এটা লেটিনাইজিং হরমোন-এর একটি তরঙ্গ থেকে ঘটে থাকে, যাকে পরিচালনা করে পিটুইটারি গ্ল্যান্ড। যদিও এটা বলা কষ্টকর যে, কবে কখন একটি ডিম ক্ষরণ হবে, তবে আমরা জানি যে ডিমটি রিলিজ হওয়ার পরে পরবর্তী রজঃচক্রের প্রথম দিন আসতে আর ১৪ দিন লাগবে। এটা সব ধরনের নারীর ঋতুচক্রের জন্য সত্য। তাতে তাদের চক্র হতে পারে ২১ দিনের বা ৩৫ দিনের দীর্ঘ। ডিম্বকোষের ফলিকেল দ্বারা যখনই ডিমটি ক্ষরিত হয়ে যায় তখন এটাকে টেনে ফেলোপিয়ান টিউবের মধ্যে নিয়ে যাওয়া হয় এবং জরায়ুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়। যে ফলিকেল ডিম্বটিকে ক্ষরণ করে দেয় সেটি ডিম্বকোষের মধ্যে থেকে যায়। এটাকে বলা হয় Corpus luteumh. এটা ধারাবাহিকভাবে এস্ট্রোজেন তৈরি করতে থাকে এবং প্রোজেস্টেরন তৈরি করতে শুরু করে, যা জরায়ুর মধ্যে লাইনিং তৈরি করতে সাহায্য করে।
ডিম্ব ফেলোপিয়ান টিউবের মধ্য দিয়ে জরায়ুর দিকে চলতে শুরু করে। যাত্রাপথে একটি ডিম্ব একটি শুক্রকীটের সাথে মিলে গিয়ে ডিম্বটিকে উর্বর করে তোলে। যদি উর্বরতা ঘটে যায় তখন উর্বর কোষটি জরায়ুর দেয়ালের সাথে লেগে যায়। যদি উর্বরতা না ঘটে তবে ইউটেরাসের লাইনিংগুলো ভাঙতে শুরু করে। জরায়ুর লাইনিংগুলো ভেঙে যায়। এটা জরায়ুর মধ্য থেকে বের হয়ে যায়। সারভিক্সের মধ্য দিয়ে যোনি নালী হয়ে যোনি মুখ দিয়ে বের হয়ে যায়। এটাই হলো পরবর্তী চক্রের প্রথম দিন এবং তা চিহ্নিত হয় রজঃস্রাব প্রবাহের দ্বারা। তারপর সম্পূর্ণ প্রোসেসটি পুনরায় শুরু হয়।
রজঃস্রাব চক্র চলতেই থাকে যতদিন পর্যন্ত একজন নারীর বয়স ৪৫ থেকে ৫৫ বছর না হয় এবং মেনোপজ স্তরে না পৌঁছায়। মেনোপজের পরে কোনো ডিম্ব পরিপক্ব হয় না এবং ফলিকেলস হরমোন তৈরি ব করে দেয়। সুতরাং হরমোন পরিবর্তনের চক্র বাধাপ্রাপ্ত হয়। এটা একজন নারীর শরীরে পরিবর্তন আনে। এই পরিবর্তনটা অতি তাড়াতাড়ি বা অতি ধীরে ধীরে হতে পারে।
অধ্যাপক ডা. এ এইচ মোহাম্মদ ফিরোজ
এমবিবিএস এফসিপিএস এমআরসিপি এফআরসিপি

http://www.sunagro.info/

নারী পুরুষের কামলিলা দুনিয়া

বাৎসায়ন কামসূত্র

Twitter Delicious Facebook Digg Stumbleupon Favorites More